নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পেশা ব্যবসা ও চাকুরি। জ্ঞানভিত্তিক জীবনদর্শনে বিশ্বাসী। নির্জনে ও নীরবে প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে ভালোবাসি। বই পড়তে, ভ্রমণ করতে, একলা চলতে এবং জটিল চরিত্রের মানুষ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি। –এম. জেড. ফারুক

এমজেডএফ

কথায় নয় কাজে বিশ্বাস

এমজেডএফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

দেশ-বিদেশের আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব ৬ - মাস্কাট উৎসব

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৫

[শব্দ ১১০০; ছবি ১৬টি; ভিডিও ১টি; পড়তে সময় লাগবে প্রায় ১০ মিনিট]


আরবের রক্ষণশীল দেশগুলোর মধ্যে উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে সর্বসাধারনের জন্য কোনো উৎসবে নারীদের অংশগ্রহণ খুব একটা দেখা না গেলেও ওমানের রাজধানী মাস্কাটে স্থানীয় নারীদের নাচগানে অংশগ্রহণসহ আমোদ-প্রমোদের ব্যতিক্রমধর্মী আন্তর্জাতিক মানের উৎসব "মাস্কাট ফেস্টিভল" (Muscat Festival)। প্রতি বছর জানুয়ারির ৩য় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারির ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত অর্থাৎ এক মাস ব্যাপী চলে এই উৎসব। এই উৎসবকে সবদিক দিয়ে সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্য ওমানের সরকারি, বেসরকারি এবং সামাজিক সংঘটনগুলো একসাথে কাজ করে।


মাস্কাট ওমানের রাজধানী ও প্রধান শহর। ছয়টি এলাকা নিয়ে গঠিত মাস্কাটের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ, মেট্রোপলিটন এলাকার আয়তন ১,৫০০ বর্গকিমি। এই শহরটি প্রথম শতাব্দী থেকে পূর্ব ও পশ্চিমের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে ওইলায়েট নামে পরিচিত ছিল। সুদূর অতীতে মাস্কাট বিভিন্ন জাতি দ্বারা শাসিত হয়েছে, যার মধ্যে পার্সিয়ান ও পর্তুগীজরা উল্লেখযোগ্য। গালফ সাগরের গুরুত্বপুর্ন বন্দর নগরী হওয়ায় মাস্কাট ব্যবসা-বাণইজ্যের জন্য একটি আকর্ষনীয় শহর। ১৯৭০ সালে কাবুস বিন সাঈদ সুলতান হবার পর ওমানের অর্থনৈতিক এবং বহু সাংস্কৃতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। জলবায়ু সাধারণত গ্রীষ্মকালে খুব উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৫° সেলসিয়াস (১০৪° ফারেনহাইট) পৌঁছে যায়। ২০০৩ সাল পর্যন্ত ওমানীরা মাস্কাটের মোট জনসংখ্যার ৬০% ছিল, এবং প্রবাসীরা প্রায় ৪০%। শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৬২ জন ছিল।

       এক নজরে মাস্কাট

মাস্কাট ৬টি ওয়াইলিয়েটে (মাস্কাটের গভর্নরেট) বিভক্ত; মুত্তারাহ, বাওয়াশ্বর, সীব, আল আমরাত, মাসকাট এবং কুরায়াত। জনসংখ্যার প্রায় ৭১% হল ১৫-৬৪ বছর বয়সের মধ্যে, যেখানে ওমানীর গড় বয়স ২৩ বছর হয়। জনসংখ্যার প্রায় ১০% নিরক্ষর। প্রবাসীরা শ্রমশক্তির ৬০% এর বেশি, শ্রমবাজারে পুরুষদের আধিপত্য লক্ষ করার মত, যারা শহরের মোট শ্রমের ৮০% ছিল। প্রতিরক্ষা খাত ওমানীদের বৃহৎ অংশ এবং নির্মাণ, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য খাতে সর্বাধিক সংখ্যক প্রবাসী নিযুক্ত রয়েছে। মাস্কাটের অর্থনীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। শহরের ঐতিহ্যবাহী রফতানি পন্যের মধ্যে খেজুর, মুক্তার ঝিনুক, শামুক এবং মাছ অন্যতম।

ওমানের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য

জানুয়ারীর ৩য় সপ্তাহ থেকে এক মাস ধরে মাস্কাট উৎসব স্থানীয় মানুষ এবং কাছের ও দূরের পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ। এটি আল কুরম প্রাকৃতিক উদ্যানের বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবটি বেশ কয়েকটি মূল ভেনু এবং এগুলোর আশেপাশে আয়োজিত হয়। উৎসবটির উল্লেখযোগ্য দুটি ভেনু হচ্ছে - আল আমেরাত পার্ক এবং নাসিম উদ্যান। এখানে স্থানীয় ঐতিহ্য, প্রথা, শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রদর্শনীর পাশাপাশি খেলাধূলো এবং বিভিন্ন রকমের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে সব বয়সের মানুষ। এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নগদ অর্থ ও মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হয়।


     ওমানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পড়ে মহিলারা কাপড়ে নকশা করছেন

স্থানীয় হস্তশিল্পের বিভিন্ন দ্রব্য, হাতে তৈরি পোশাক ও অলংকার ছাড়াও একটি ফানফায়ার, আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন, ক্র্যাফট বিক্রি, দর কষাকষি করে পোশাক ও বিছানাপত্র কেনা এবং চীন থেকে সস্তা আমদানি করা দ্রব্য থেকে শুরু করে পাকিস্তানের আসবাব পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের আইটেম রয়েছে। উৎসবে বহুজাতীয় কোম্পানীর শোরুম, বড় ও ছোট দোকানপাট এবং স্থানীয় হকারদের জন্য রয়েছে বেচাকেনার বিশেষ স্থান। এই উৎসবে এমনকি স্থানীয় পর্দাশীন মহিলারাও তাদের হাতে নকশা করা বা তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদি বিক্রি করার জন্য রাস্তার পাশে পসরা সাজিয়ে বসে।

নাসিম উদ্যানের ভেনুতে গান পরিবেশন করছেন ওমানের জনপ্রিয় শিল্পী নাসমা আল রায়েসি এবং সালিম কুইট

গান ও নাচের দেশীয় শিল্পী ও আন্তর্জাতিক দলগুলি আউটডোর স্টেজে পারফর্ম করে এবং ইনডোরে হয় ফ্যাশন শো, ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শন ইত্যাদি। ব্যাপক এরিয়া জুড়ে হয় সাইকেল, মোটর সাইকেল ও কার চালনা প্রতিযোগিতা।

ওমানের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি রান্না

রেঁস্তোরাগুলোতে অতিথিদের সামনে বিভিন্ন রকমের খাবার রান্না করছে পরিবেশন করা হয়। ওমানের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি (বিশেষত হালওয়া, খেজুর রস, গোলাপ জল এবং এলাচ দিয়ে তৈরি একটি মিশ্রণ) গরম কড়াই থেকে নামিয়ে সরাসরি পরিবেশন করা হয়। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এসব রান্না দেখে আর বিভিন্ন রকমের খাবারের স্বাদ উপভোগ করে।


এই উৎসবে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষিত করার জন্য থাকে বিশেষ ব্যবস্থা, যেমন ইংরেজি ভাষার বিশেষ সংবাদপত্র, স্থানীয় রেডিওতে ইংরেজি বুলেটিন এবং ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা। ইউরোপ-আমেরিকার মেয়েরাও তাদের নিজস্ব পোশাক পড়ে এই উৎসবের নাচ-গান ও কার্নিভালে অংশগ্রহণ করতে পারে। তাই ইউরোপ-আমেরিকা থেকে বিশেষ করে সপরিবারে অনেকে এই উৎসবে আসে।

এক নজরে মাস্কাট উৎসবের বিভিন্ন ইভেন্ট

Venue: Amerat Park

The Heritage Village:
20 Omani wilayahs to compete in the field of heritage, traditional arts, handicrafts, Folk games (Urban, Bedouin or agricultural environment, traditional arts or food, handicraft marketplace, frankincense and perfume ).

Park’s divisions:
The trade exhibition , Oman’s maps gallery,, government participation, corner of embassies, communities and civil associations, electric games, air games, the cultural corner, restaurants, sponsors corner, fireworks, and the carnival.

Event square:
Trampoline show, motorcycle ball, trapeze + arrows show, pet shows, and the rope walk.

Theater:
Acrobatic shows, balance shows + Juggling, children theater, folkloric shows.


Venue: Naseem Park

Park’s divisions:
– Trade Fair
– The Heritage Village
– Entertainment park (Electric Games).
– Open Theater Shows.
– Skill Square Shows.
– Child Theater
– Government & Civil Associations Participation.
– Folklore.
– Concerts.
– Fireworks shows
– Stalls and restaurants .

Cultural Events

The Nahma Sea shanty (Lecture & cultural night).
Muscat Festival poetry contest.
Three exhibitions of photography and fine art.
Oman International Sculpture Forum, Memory of the Silk Road.
Workshop (Omani ornaments with modern touches).
Lecture (Human need to religion).
Oman’s labor market “”Between educational outcomes and market requirements”.”
Dinner experience in the darkness of night
Graffiti contest
An exhibition “Oman in the historical maps of the world”.
The book fair.

Sports Events

Healthy life festival.
SWS Go-Karting race (Round two).
Oman Rally Championship (third round) .
Baby kart (Round three).
Oman international drift championships (first round).
Gulf endurance challenge of go-kartign race for 6 hours.
Oman international drift championships (second round).
Rotax max go-carting challenge.
Oman’s gymkhana cup.
Oman international drift championships (third round).

Muscat Festival annual shooting contest.

The Rahba horse-racing pitch:
Jumping over barriers.
Ardha traditional horse sport
Tent pegging

5-A-side world football championship for hobbyist

The Sultan Qaboos sport complex
– Muscat Festival third rapid international chess championship (First-second).
– Muscat Festival third rapid international chess championship (Fourth-seventh).

Tour of Oman.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশের একমাস ব্যাপী বইমেলা আয়োজন করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খায়, রথী-মহারথীদের বিভিন্ন পর্যালোচনা-পরিকল্পনার পরও মেলায় বিশৃঙ্খলা আর দর্শনার্থীদের অভিযোগের শেষ থাকে না। অথচ মাস্কাট উৎসবে বইমেলাসহ আরো শতাধিক বহুমূখী ইভেন্ট থাকার পরও আরবের লোকেরা উৎসবটি বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আয়োজন করে যাচ্ছে।

সুলতানের মৃত্যু এবং মাস্কাট উৎসব ২০২০ বাতিল

ওমানের সুলতান ক্বাবুস বিন সাইদ আল সাইদ

এ বছর ১৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১ দিন ব্যাপী মাস্কাট উৎসব ২০২০ উদযাপিত হওয়ার কথা ছিল। এর জন্য ব্যাপকভাবে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উৎসব শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ১০ জানুয়ারি প্রায় ৫০ বছর ধরে ওমানের রাজনৈতিক অঙ্গন নিয়ন্ত্রণে রাখা ৭৯ বছর বয়সী সুলতান ক্বাবুস বিন সাইদ আল সাইদ-এর মৃত্যুতে দেশটিতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। ওমানের জনপ্রিয় সুলতানের মৃত্যুর কারণে মাস্কাট মিউনিসিপালিটি কতৃপক্ষ মাস্কাট উৎসব ২০২০ বাতিল ঘোষণা করে।

মাস্কাট উৎসবের ফটো গ্যালারি

১। ওমানের মোনালিসা

২। উটের সার্কাস

    ৩। অস্থায়ী থীম পার্ক

    ৪। বেদুঈনদের ঐতিহ্যবাহী তাঁবু

৫। হরেক রকমের দোকান

৬। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অংশগ্রহণে যেমন খুশি তেমন সাজে কার্নিভাল

   ৭। উৎসবের রাতে আতসবাজির চোখ ধাঁধানো খেলা

ভিডিও - Muscat festival in Oman


তথ্য ও ছবিসূত্র:
১। ইন্টারনেট
২। Lonely Planet
৩। Times Of Oman
৪। http://en.muscat-festival.com/

◄ আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব ৫ - উইন্টারলুড

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:০৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন: দারুণ । শুভেচ্ছা সতত ।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:১৬

এমজেডএফ বলেছেন: ধন্যবাদ অবিরাম +++

২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: ব্রাজিলে সামবা নাচ হয় কি একটা উৎসব আছে না?? সেটা নিয়ে লিখেবন আশা করি।
এই পোষ্টে ছবি গুলো চমৎকার বাছাই করেছেন।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৭

এমজেডএফ বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ব্রাজিলের কার্নিভালের কথা ভুলেই গেছিলাম! মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সামবা নাচের উৎসব এ মাসেই শুরু হবে।

৩| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৩০

শের শায়রী বলেছেন: ভালো লাগা জানবেন।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৭

এমজেডএফ বলেছেন: অবশ্যই, প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

৪| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৪৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




বাংলাদেশ ২১শে বই মেলাতে বিদেশী কয়জন আসেন বেড়াতে আমার আমার সঠিক জানা নেই তবে মাস্কটে সুদূর অষ্ট্রেলিয়া থেকে পর্যটক আসেন আর ইউরোপীয়, বৃটিশ, মার্কিন তো অভাব নেই। পর্যটকগণ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নয় আর তাদের ছবিও কেউ তুলেন না।

প্রসঙ্গ মাস্কট তথা ওমান। ওমানের রুপচাঁদা মাছ বিশ্ব বিখ্যাত। ওমান সামুদ্রিক মাছের দেশ। তাদের সামুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার আমরা শুধু কল্পনা করতে পারি আর ছবিতে দেখতে পারি। এতো বড় সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরে আমাদের সরকার কখনো নিরাপত্তা দেবেন না। আগামী ১০০ বছরেও হয়তো নিরাপত্তা দিতে পারবেন না।

আরবদের খাবার অত্যন্ত উন্নত, সুস্বাদু ও লোভনীয় যা হলিউড পাড়াতেও নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব এরাবিয়ান রেষ্টুরেন্ট আছে আর আরব দেশের স্থানীয় রেষ্টুরেন্ট মিনারেল ওয়াটার আর ডাবের পানি পার্থক্য।

দুর দুরে অবস্থিত এক একটি বিশালাকার মসজিদ, খুবই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য শিল্প। মসজিদে শুক্রবার জুম্মার নামাজে খুতবা পড়া হয় সাউন্ড বক্স জাতীয় ছোট ছোট রেগুলার স্পিকারে যার শব্দ শুধুমাত্র মসজিদ প্রাঙ্গনেই থেকে যায় কারণ তারা মাইক ব্যবহার করেন না হয়তো মাইক চেনেন ও না।

(২ নং মন্তব্যটি দয়াকরে মুছে দিন, বানানগত ভুল আছে তাতে)

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০০

এমজেডএফ বলেছেন:
ঠাকুরমাহমুদ ভাই,
আপনার চিন্তাভাবনার সাথে একমত। এই একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশের এত উন্নয়নের পরেও একজন বিদেশীকে ঢাকা শহরে শুধুমাত্র ভিখারীদের হাতে যেভাবে নাজেহাল হতে হয় তা কল্পনা করা যায় না! আবার অনেকে এসব বিদেশীদের সাথে ছবি তুলে জাতে উঠতে চায় :)। আরবদের অনেক খাবার আমি খেয়েছি, এগুলো আমার কাছে ইউরোপ-আমেরিকার খাবারের চেয়ে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। তবে ওমানের বিশ্ব বিখ্যাত রুপচাঁদা মাছ মিস করেছি :( , সুযোগ পেলে খেয়ে দেখতে হবে।

পোস্টে আমাদের বইমেলার প্রসঙ্গটি আনার কারণ হলো - ইউরোপ-আমেরিকার কথা বাদ দিলাম, আরব দেশের লোকেরাও যেখানে শতশত জটিল ইভেন্টের সমন্বয়ে এত বড় উৎসব সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারে সেখানে আমাদের দেশে বইমেলার মতো সহজ-সরল একটি উৎসব সুন্দরভাবে করতে পারে না। অথচ এই বইমেলার উদ্যোক্তা-আয়োজক থেকে শুরু করে পাঠক-ক্রেতা-দর্শনার্থী সবাই শিক্ষিত এবং সুশীল শ্রেণীর অন্তর্গত!

মাইক দিয়ে আজান-খুৎবা পড়ে শব্দদূষণ সৃষ্টি করা উচিত নয় - এটা খোদ আরবের লোকেরা বুঝলেও আমাদের দেশের মুসলমানেরা তা মানতে রাজী নয়। কারণ আমাদের বেশিরভাগ লোকের ধর্ম-কর্ম হচ্ছে লোক দেখানো। তাই আজান ও খুৎবা যে যেখানে থাকুক না কেন, এমন কি টয়লেটে থাকলেও শুনতে হবে :P। উনারা সেই ঈমানী দায়িত্বটা পালন করে যাচ্ছেন।

৫| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: এমজেডএফ,





দৃষ্টিনন্দন ছবি সহ চমৎকার একটি পোস্ট হয়েছে। মাস্কাট উৎসবের পাশাপাশি মাস্কাট সম্পর্কেও জানা হলো।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:০২

এমজেডএফ বলেছেন: জী এস ভাই, সময় নিয়ে পোস্টটি পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

৬| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩৭

সোহানী বলেছেন: চমৎকার কিছু ছবি দেখলাম সাথে নতুন কিছু তথ্য...। কোন একদিন হয়তো যাবো........

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৫৭

এমজেডএফ বলেছেন: আপা, অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আরব দেশগুলোর নাম শুনলে আমাদের চোখে ভেসে উঠে রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থা! তবে কিছু কিছু দেশ বিশেষ করে দুবাই, কাতার ও ওমান পশ্চিমা দেশগুলোর পর্যটক আকর্ষণের জন্য এখন এসব ব্যাপারে অনেক উদার।

৭| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:২৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




এমজেডএফ ভাই,
যেই দেশে যে খাবার প্রাচীন সে দেশে সেই খাবার বিখ্যাত। বাংলাদেশে পান্তাভাত বিখ্যাত সাথে শুটকি, ভর্তা, পেঁয়াজ, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। আর আরব দেশে বিরিয়ানি, রুটি, কাবাব, গ্রিলড, সামুদ্রিক মাছ এসব।

খুবই লজ্জাজনক বিষয় বাংলাদেশীরা বিদেশীদের আড়ালে তাদের ছবি তুলে নিতে গিয়ে অসংখ্যবার অপমানিত হয়েছে তারপরও শুধরাবার নয় এই জাতি।

বই মেলা প্রবেশপথে একদল লম্পট থাকে, তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে সেখানে দাড়িয়ে বই মেলাতে আগত নারীদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করা - এই লম্পট গুলো সব ঢাবি, জগন্নাথ, ঢামেক ও সলিমুল্লাহ সহ আশে পাশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ! - শিক্ষা একটি জাতিকে কি উপহার দিয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে বই মেলা থেকে। আইন করে এসব পরিবর্তন হবে না, প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক ও প্রাতিষ্টানিক সুশিক্ষা।

আমার জীবনে বই মেলাতে ৯০ এর দশকে ২-৩ বার গিয়েছি এখন পর্যন্ত আর যাইনি।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৪৯

এমজেডএফ বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ ভাই,
২য় মন্তব্যের জন্যও ধন্যবাদ। বিদেশের অনেক খাবার আছে যার পুষ্টিমান আমাদের দেশের ভালো খাবারের চেয়েও বেশি। কিন্তু আমরা খেয়ে স্বাদ পাই না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আমরা কড়া মসল্লার রান্না খেতে অভ্যস্থ। তাই কম মসল্লার খাওয়া খেয়ে তৃপ্তি পাই না। বইমেলায় আমিও গিয়েছি অনেক বছর আগে, তাই বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেই। মহল্লার যেসব পোলাপাইন গলির মুখের চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিত ওরাও এখন আড্ডা দিতে যায় বইমেলায় :)। এটি খুব দুঃখজনক। আপনার কথাই ঠিক:
আইন করে এসব পরিবর্তন হবে না, প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক ও প্রাতিষ্টানিক সুশিক্ষা।
ভালো থাকুন ভাই, কথা হবে আবার।

৮| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:০৬

ইসিয়াক বলেছেন: খুবই চমৎকার একটি পোষ্ট।
নিরন্তর শুভকামনা।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫২

এমজেডএফ বলেছেন: ধন্যবাদ,
কবিতায়, গল্পে, সবসময়, সবখানে শুভকামনা।

৯| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ব্রাজিলের কার্নিভালের কথা ভুলেই গেছিলাম! মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সামবা নাচের উৎসব এ মাসেই শুরু হবে।

আশা করি একটি পোষ্ট পাবো।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

এমজেডএফ বলেছেন: সামবা নাচের উৎসব এ বছর শুরু হবে ২১ ফেব্রুয়ারি।
পোস্ট দেওয়ার আগে চিন্তার বিষয় - সামবা নাচের দৃশ্যে ব্লগের পবিত্রতা নষ্ট হবে না তো :P ?

১০| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩৬

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: ভালো লাগলো।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫৮

এমজেডএফ বলেছেন: আপনার ভালো লাগায় খুশি হলাম, ধন্যবাদ।

১১| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:২৭

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
বেশ লাগলো।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫৯

এমজেডএফ বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:০৫

অজ্ঞ বালক বলেছেন: দেখার সাধ পড়ে মিটাই =p~

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:১১

এমজেডএফ বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
প্রথমে জানতে হবে, পড়তে হবে, তবেই সৃষ্টি হবে স্বপ্ন ও সাধ। এরপর চেষ্টা করতে হবে সেই স্বপ্ন ও সাধকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার। আপনার সব স্বপ্ন ও সাধ পূর্ণ হউক - শুভকামনা রইলো।

১৩| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:০১

আহসানের ব্লগ বলেছেন: ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্যে।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:১৯

এমজেডএফ বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১৪| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:১৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: আগ্রহ নিয়ে পড়লাম আপনার এ লেখাটা, কারণ পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল! আমি আশি-নব্বই এর দশকে একটানা সোয়া পাঁচ বছর কাটিয়ে এসেছি ওমানের মাস্কাটে। আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে দেশটি।
গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ওমান তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলে। তারা সউদিদের মত উগ্র নয়। তাদের মাথার পাগড়ি এবং তা পরার স্টাইল আমার খুব ভাল লাগে। জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে ওমান সবার শেষে তেল উত্তোলন শুরু করলেও বিচক্ষণ শাসকের নিখুঁত পরিকল্পনার কারণে ওরা দেশটিকে ধীরে ধীরে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পেরেছে, তাদের অনন্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে আপোষ না করেই। উত্তর-পূর্বের মাস্কাট এবং দক্ষিণ পশ্চিমের সালালাহ, এ দুটোই ওমানের প্রধান দুটো শহর, এবং দুটোর প্রাকৃ্তিক বিন্যাস, জলবায়ু, ভূপ্রকৃ্তি ভিন্ন। সালালাহ সবুজ ও বৃষ্টিপ্রাপ্ত, তাই এর ভূ প্রকৃ্তি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের মতই।
ওমানের প্রয়াত সুলতানের নাম সুলতান ক্বাবুস বিন সাইদ আল সাইদ। আরবের প্রথা অনুযায়ী ক্বাবুস তার নিজের নাম, সাইদ তার বাবার নাম এবং আল সাইদ বংশের নাম, শেষেরটা আপনি সম্ভবতঃ ভুল করে "আল বুসাইদি" লিখেছেন, যা ঠিক নয়। 'আল বুসাইদি' অন্য আরেকটি বংশের নাম।
চমৎকার কিছু ছবি, চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ এ পোস্টে নবম প্লাস + রেখে গেলাম। পোস্টের শুরুতে শব্দসংখ্যা, ছবি ও ভিডিও সংখ্যা, পড়ার আনুমানিক সময় ইত্যাদি তথ্য সংযোজন করাটা অভিনব এবং পাঠক সহায়ক, তাই ভাল লেগেছে। ভিডিও ক্লিপের উপস্থাপনার ভাষাটা জানা থাকলে আরো ভালো লাগতো।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৫৫

এমজেডএফ বলেছেন: বড় ভাই, আপনার অভিজ্ঞতা ও ওমান সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য যোগ করে চমৎকার মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনার দেয়া তথ্যগুলো পোস্টটিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। প্রয়াত সুলতানের নামটি সংশোধন করে দিলাম। ভিডিও ক্লিপ নির্বাচনে সমস্যা হয় সবদিক দিয়ে মনপুতঃ ক্লিপ পাওয়া যায় না। আমি সাধারণত তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও ক্লিপ সংযোজনের চেষ্টা করি।
ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা জানবেন।

১৫| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:১৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:

[শব্দ ১১০০; ছবি ১৬টি; ভিডিও ১টি; পড়তে সময় লাগবে প্রায় ১০ মিনিট]

পরিপাটি , পরিচ্ছন্ন , তথ্যবহুল... অসাধারন !
১০ মিনিটের বেশি সময় নিয়ে পড়লাম।এবং বেশি সময় নিয়ে পড়ার মত পোস্ট। অনবদ্য !! ++
আপনার সিরিজটা অফলাইনে পড়েছি , তাই মন্তব্য রাখা হয়না।
এই সিরিজে আপনার পরিশ্রমকে শুধু ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করার সাহস নেই। স্যালুট গ্রহণ করবেন।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:০৯

এমজেডএফ বলেছেন: দেরীতে হলেও কষ্ট করে এসে চমৎকার মন্তব্য রেখে যাওয়ার জন্য অফুরন্ত ধন্যবাদ।
ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সিরিজটি নিয়মিত লিখতে পারছি না। তারপরেও সিরিজটি চালিয়ে যাবো। প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইলো, ভালো থাকুন।

১৬| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:২০

করুণাধারা বলেছেন: পোস্টটি অন্তত চারবার পড়েছি, ছবি আর ভিডিও এত ভালো লেগেছে। অথচ এই কথাটা জানানো হয়নি। পরিশ্রমসাধ্য, অতি চমৎকার পোস্টে লাইক।

আশাকরি সিরিজ শেষ করে সবগুলোর লিঙ্ক দিয়ে একটা পোস্ট দেবেন। শুভকামনায়।

০২ রা মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:২৪

এমজেডএফ বলেছেন: আপনি পোস্টটি চারবার পড়েছেন জেনে খুবই আপ্লুত হয়েছি! যদিও লেখাটি আহামরি তেমন কিছু নয়। চমৎকার ও উৎসাহিত মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। সিরিজ শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত উৎসবগুলো লিখলেও প্রায় দুইশতের উপরে হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন দেশ-জাতি-ধর্মের মানুষের জীবনযাপন-রীতি-আচার-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে উৎসাহী। তাছাড়া মনে করলাম ব্লগে কিছুটা বৈচিত্রতা আনার উদ্দেশ্যে একটু ভিন্নধর্মী বিষয়ে লেখা উচিত। তাই এই সিরিজটা শুরু করেছি। আসলে সময়ের অভাবে নিয়মিত লিখতে পারি না। তারপরেও ব্লগের সাথে সম্পর্কটা ধরে রাখার চেষ্টা করা।
আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা, ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.