| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আলোড়ন
মন বলে লিখি .......
একটা কাজে উত্তরা গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বাসায় ফেরার সময় মালিবাগ রেলগেট থেকে ১ টা বুড়া লোক উঠল। সাদা পাঞ্জাবি পরা। মাথায় সাদা টুপি। আমি একটু পরেই বাস থেকে নেমে যাব এমন টাইম এ লোকটা আমাকে বলছে- বাবা। এই ঠিকানাটা একটু দেখে বলে দিবা??
আমি দেখলাম পোস্তগোলার একটা ঠিকানা। চিনি না আমি কিছুই ঐখানের। আমি বললাম-"না, চিনতে পারছি না।"
বলেই নেমে যাব ভেবে উঠে দাঁড়ালাম। লোকটা আমাকে বলল বাবা আমি পিরজপুর থেকে এসেছি। এই ঠিকানায় আমার ছেলে থাকে। তুমি আমাকে একটু নিয়ে যাবা প্লিজ।
লোকটাকে দেখে খুবই ভাল মানুষ মনে হল।
আব্বুকে ফোন দিলাম। আব্বু বলল যাত্রাবাড়ীতে আছে। কেন যেন ইচ্ছে হল আব্বুর সাথে বাসায় ফিরব। আব্বুকে যাত্রাবাড়ীতেই wait করতে বলে আমি ওনার সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম।
যেতে যেতে-
আমিঃ"আপনার ছেলে কি করে?
-১ টা প্রাইভেট ব্যাংক এ চাকরি করে।
আমিঃ"কতদিন পর যাচ্ছেন ছেলের কাছে?"
-"প্রায় ১০ বছর।
ছেলে ঢাকায় আসার পর থেকে আর দেখি নি।
আমি গ্রামের পশুর ডাক্তার। জীবনে ঢাকায় আসিনি। কিন্তু এতদিনে ১ বারও আমার ছেলে আমাকে দেখতে যায় নি। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকায় এসেছি। আমাকে ঠিকানা দিয়ে দিছে। বলছে চলে আসতে।
কিন্তু ঢাকায় এসে কিছুই চিনতে পারছি না। তোমার মত ১ জনের সাহায্যে মালিবাগ পর্যন্ত এসেছি। এখন আর চিনতে পারছি না। একটু help কর বাবা প্লিজ"
আমি শুধু বললামঃ
"চিন্তা করবেন না। আমার বাবা যাত্রাবাড়ীতে আছে। আব্বুকে বললে আব্বু চিনবে অবশ্যই""
যাত্রাবাড়ী যেয়ে আব্বুকে দেখলাম খুব রেগে আছে আমার উপর। এত রাতে আমি গিয়েছি বলে। আব্বুকে বললাম উনি বাইরে থেকে এসেছেন ছেলের কাছে। বাসা চিনেন না। একটু পৌঁছে দিতে। ভাবলাম আব্বু হয়ত রাগই করবে। কিন্তু আব্বু রাজি হয়ে গেল। ১ টা CNG নিয়ে চললাম অজানা ঠিকানায়।
যা বুঝলাম আব্বু ঐ জায়াগাটা চিনে। কিছুক্ষণের মাঝে পৌঁছে গেলাম। যেয়ে দেখি ওনার ছেলে বাসায় ঘুমাচ্ছে। কলিং বেল চাপার প্রায় ১০ মিনিট পর উনি দরজা খুললেন। ১০ বছর পর বাবাকে দেখে তার কোন ফিলিংস ই নাই। লোকটা বললেন-"এরা না থাকলে আমি আসতে পারতাম না"
শুনে ছেলেতা টা thnx বলে ভিতরে চলে গেল। লোকটা আমার মাথায় হাত দিয়ে বলল-"বেচে থেক বাবা। আমার ছেলের মত কখনো হবা না প্লিজ" বলতে বলতে উনি কেঁদে ফেলছিলেন।
ওখান থেকেই সেই CNG তেই বাসায় ফিরলাম।
ফিরতে ফিরতে আব্বুকে বললাম-"তুমি খুব রেগে আছ আমার উপর। তাই না??"
আব্বু-না
আমি- কেন??
আব্বু-আমার ছেলে যদি আমার সাথে এমন করত আমি হয়ত বাচতামই না। আর যাই করিস বাবা এমন করিস না কখনো। দেখলাম আব্বুও কাঁদে কাঁদে ভাব।
পাছে আমি না কেঁদে ফেলি এই ভেবে CNG র খাচার ভিতর থেকে রাত 11:45 এর ঢাকার ঠাণ্ডা বাতাস অনুভব করতে লাগলাম।
ভালই তো বাতাসটা। কেমন যেন একটা বাবার আদর মিশে আছে।
এ রকম বাবা কয়জন পায়??
আজও বলতে ইচ্ছে হচ্ছে-"আব্বু তোমাকে অনেক ভালবাসি"
কিন্তু বলব না। সব কথা বলে বোঝাতে হয় না।
২|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৩
আলোড়ন বলেছেন: হুম। এটা করার জন্য সরকারকে সাধুবাদ। কিন্তু, এর প্রয়োগ জরুরী
৩|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৮
আিম এক যাযাবর বলেছেন: আপনার এই ভাল কাজের জন্যে আপনাকে সালাম। মহান আল্লাহ আপনার উপর রহমত বর্ষণ করুন।
৪|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫০
আলোড়ন বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা
৫|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:১২
আজমান আন্দালিব বলেছেন: টাচি লেখা। প্রতিটি সন্তান যেনো বাবা-মায়ের সাহচর্যে থাকে।
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:২৬
আলোড়ন বলেছেন: সঠিক বলেছেন। অন্তত পক্ষে বৃদ্ধ বয়সে
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৫
মোঃ আনারুল ইসলাম বলেছেন: আর এইসব কারনেই সরকার পিতামাতার ভরনপোষন আইন করেছেন ।যাতে করে জন্মদাতা পিতামাতার শেষ বয়ষ টা ভালভাবে কাটে ।