নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো নির্বাচন করতে হয়। কখনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় ক্যারিয়ার নিয়ে, কখনো ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে, কখনো বা জীবনসঙ্গী নির্বাচন কিংবা পারিবারিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে।

এমন সময় অনেকেই দোটানায় পড়ে যান। কী করবেন, কোন পথ বেছে নেবেন-তা বুঝে উঠতে পারেন না। কেউ কেউ ইস্তিখারা করার পরও মনের ভেতর পূর্ণ প্রশান্তি বা নিশ্চিততা অনুভব করেন না। এই ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতার মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য রেখে গেছেন একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া।

জীবনের দোলাচলে নবীজির উপহার

হজরত আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন-

«اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي»

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ দেখান এবং সঠিকতার ওপর অবিচল রাখুন।” -সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৫

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ কোনো দোয়ার তালিকা শেখাননি। মাত্র দুটি শব্দের এই ছোট্ট দোয়ার মধ্যেই তিনি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চাহিদা একত্রিত করে দিয়েছেন- সঠিক পথের সন্ধান এবং সেই পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাকার শক্তি। পরবর্তী জীবনে হজরত আলি (রা.) একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ বিচারক ও আদর্শ অভিভাবক হিসেবে অসংখ্য জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাঁর প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও ন্যায়পরায়ণতার পেছনে আল্লাহর সাহায্য ও হিদায়াত ছিল অন্যতম শক্তি। আর সেই হিদায়াত প্রার্থনার অন্যতম মাধ্যম ছিল রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর শেখানো এই দোয়া।

দোয়াটির গভীর তাৎপর্য

এই দোয়ার অর্থ আরও স্পষ্ট করে বোঝানোর জন্য রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চমৎকার উপমা ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি বলেন-

“যখন তুমি ‘হেদায়েত’ চাইবে, তখন সঠিক ও সরল পথের কথা মনে করবে। আর যখন ‘সাদাদ’ চাইবে, তখন এমন একটি তীরের কথা কল্পনা করবে, যা ধনুক থেকে ছুটে গিয়ে কোনো দিকে না বেঁকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।” -ইবনে হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি, ১১/৯৬

অর্থাৎ, একজন মুমিন শুধু সঠিক পথের দিকনির্দেশনাই চান না; তিনি চান সেই পথে অবিচলভাবে এগিয়ে যাওয়ার তাওফিকও। কারণ পথ জানা যথেষ্ট নয়, সেই পথে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কখন ও কীভাবে আমল করবেন?

এই দোয়াটি পাঠের জন্য হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। তাই জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্তের মুহূর্তে, ছোট কিংবা বড়-যখনই দ্বিধা ও সংশয়ে পড়বেন, তখনই এই দোয়াটি পড়তে পারেন।

তবে নিয়মিত আমলের জন্য এমন কিছু সময় বেছে নেওয়া যেতে পারে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে-

১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশে

রাতের শেষ ভাগ আল্লাহর কাছে প্রার্থনার অন্যতম উত্তম সময়। এ সময় বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল হওয়ার আশা করা যায়।

২. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে

হাদিসে এসেছে, এ সময়ের দোয়া সাধারণত প্রত্যাখ্যাত হয় না।

৩. ফরজ নামাজের শেষ বৈঠকে

সালাম ফেরানোর আগে, যখন মন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকে, তখন এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত উপকারী।

৪. সেজদার অবস্থায়

সেজদা হলো বান্দার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার মুহূর্ত। তাই এই সময়ে হিদায়াত ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য আল্লাহর কাছে মিনতি করা উত্তম।

শেষকথা

জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমাদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। অনেক সময় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শও যথেষ্ট হয় না। তখন প্রয়োজন হয় সেই মহান সত্তার সাহায্য, যিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ-সবকিছুই জানেন।

তাই যখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়বেন, বারবার এই দোয়াটি পড়ুন-

اللَّهُمَّ اهْدِنِي وَسَدِّدْنِي

“হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ দেখান এবং সঠিকতার ওপর অবিচল রাখুন।”

আশা করা যায়, এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটিই আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে আল্লাহর বিশেষ হিদায়াত ও সাহায্যের দরজা খুলে দিতে পারে।

মনে হচ্ছিল, যেন একসময়ের জনাকীর্ণ এক মহা শোরগোল ধীরে ধীরে থেমে গেছে। সেই কোলাহলে ভরা সময়ের পর এখন চারপাশে নেমে এসেছে এক গভীর নীরবতা। আমি যেন একা দাঁড়িয়ে আছি কোনো জনশূন্য, বিজন প্রান্তরে, যেখানে আর আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য নেই। এই পরিবর্তনটা খুব কষ্টের, বিশেষ করে যখন সেই সময়ের স্মৃতিগুলো বারবার মনে পড়ে। হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করে, যা সহজে পূরণ হয় না। তবুও মনে একটা প্রত্যাশা থেকে যায়। হয়তো আবারও ফিরে আসবে সেই সোনালী অধ্যায়, সেই পুরনো উচ্ছ্বাস আর প্রাণের স্পন্দন। সামুর প্রথম পৃষ্ঠার সাম্প্রতিক স্ক্রিনশট যেন সেই হারানো সময়েরই একটি নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে আছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.