| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাসুদ রানা শাহীন
এক পশলা বিশুদ্ধ আনন্দ পেলে লক্ষ জনম এমনিতেই পাড়ি দিতে পারি।এই আনন্দ খোঁজাতেই আমার আনন্দ
শরৎচন্দ্র বাংলা সাহিত্য আকাশে কেবল নন্দিত কথাশিল্পী নন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের এক শাশ্বত আবেগের নাম। এক অমর যুগের নাম। অনুপম এক অনুভূতির নাম।
দেড়শো বছর পেরিয়েও শরৎ সৃষ্ট চরিত্রগুলো আজও আটপৌরে বাঙালির মনের কথা বলে, ঘরের কথা বলে। শরৎবাবুর হাতের জাদুতে বেড়ে ওঠা কাহিনীকাব্যগুলো আজও আমাদের সুখ-দুঃখের নীরব সঙ্গী হয়ে আছে। সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত, প্রান্তিক মানুষের গুমোট আর্তনাদগুলো তাঁর ধারালো কলমের জ্বলন্ত আখরে ফুটে উঠেছে বইয়ের পাতায় পাতায়। নিঃশব্দে কাঁদতে থাকা উপেক্ষিত হৃদয়ের মানুষগুলো আজও শরৎচন্দ্রে ভাষা খুঁজে বেড়ায়। আজও শরৎচন্দ্রে আশ্রয় খুঁজে বেড়ায়।
শরৎচন্দ্র কেবল গল্প বলে যাননি, না-বলা কথাগুলোকেও তিনি করেছেন মহান, মর্যাদাপূর্ণ।
নারীর অবদমিত আকাঙ্ক্ষা, মানুষের অসহায়ত্ব, ভালোবাসার অপূর্ণতা তিনি যেভাবে কলমে ধারণ করেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে এক বিরল সংযোজন।
সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে সমাজের চেহারাটাও। কিন্তু মানুষের প্রেম, বিরহ, বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা একটুও বদলায়নি। তাই তো শরৎচন্দ্র সৃষ্ট চরিত্রগুলো আজও এত জীবন্ত, এত গতিময়। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবনে শরৎ-সাহিত্য আজো ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক।
স্রোতের প্রবাহময়তায় শরৎ-সাহিত্যের মানবিক আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি। বাঙালির মন ও মননের জগতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এক কালজয়ী নাম।
শরৎ কেবল অতীতের নন, ভবিষ্যতের নন, আমাদের শরৎ চিরকালীন বর্তমানের
©somewhere in net ltd.