নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

https://www.facebook.com/mekailimroz

মিকাইল ইমরোজ

মিকাইলীয় উপপাদ্য – অংকে আমি ভয়ংকর কাঁচা থাকা সত্তেও দু’একটা উপপাদ্য মস্তিষ্কে ঢুকে যেত, এখন ঢোকে জীবনের আর্তি। তা যখন প্রকাশিত হয়, তা হয়ে উঠে আমার, একান্ত মিকাইলীয় উপপাদ্য।

মিকাইল ইমরোজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

গ্রিক মিথ: মহাশূণ্য থেকে বৈচিত্রময় পৃথিবীর উত্থান।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৫২



নিক্স নামের এক পাখি বাস করতো মহাশূণ্যে। তার কালো ডানা প্রতিনিধিত্ব করতো মহাশূণ্যের সীমাহীন অন্ধকারকে। কিন্তু তার ডিমের রং ছিল সোনালী। পাখিটি ভাবতো একদিন এই অসীম শুন্যতা থাকবে না যখন তার এই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে, যে জ্বালবে আলো। অসীম শুন্যতার মাঝে সৃষ্টি করবে নান্দনিক সব বিস্ময়। একদিন তার অপেক্ষার অবসান হয় ডিম ফেটে জন্ম নেয় এরোস, ভালোবাসার দেবতা। ডিমের পরিত্যক্ত খোসাটি উড়তে শুরু করে মহাশূণ্যে, হঠাৎ থেমে ডিমের খোসা চিরদিনের জন্য স্থীর হয়ে যায়। ভালোবাসার দেবতা স্থীর ডিমের খোসাটির নাম দিল আকাশ আর অবস্থানের নাম দিল পৃথিবী। অসীম সময় ধরে পৃথীবি শূন্যে মিশে ছিল দেবতার অশির্বাদের অপেক্ষায়। পৃথিবী দেবতার আশির্বাদ পুষ্ট হয়ে প্রকাশলাভের পর আকাশের প্রেমে পড়ে যায়। তারপর জন্ম নিল অনেক সন্তান, নাতিপুতি।

কোন কিছুই সমন্তরাল যেতে পারে না, যাই নি সৃষ্টির আদিকালও, সন্তানদের মধ্যে চরম বদমাশ ছিল ক্রোনাস, মহাবিশ্বের প্রথম খলচরিত্র। কৌশলে তার বাবা আকাশকে খোঁজা করে দিয়ে সে দেবতাদের রাজা বনে যায়। জবরদস্তি করে বিয়ে করে সুন্দরী বোন রিয়াকে কিন্তু ঝামেলা বাধল রিয়ার গর্ভের অনিন্দ্য সুন্দর আর সুঠমদেহী সন্তানদের নিয়ে। ক্রেনাসের মনে জাগতে থাকে সীমাহীন ক্ষমতার ইচ্ছা। সে অনন্তকাল ধরেই থাকতে চাই একক অধিপতি তার সব ভাইয়েরাও এখন সাবই তার অনুগত কিন্তু তার ঔরস জাতরা যদি তাকে না মানে, সন্তানদের অনিন্দ্য সৌন্দর্য্য তাকে আতঙ্কিত করে তুলতো। ঠিক করলো তার কোন সন্তানকেই সে বাচতে দেবে না, খেয়ে ফেলবে নিজেই। মায়ের মন তা মানতে চায় না কিন্তু জন্ম দেওয়ার পরে সন্তানকে তুলে দিতে হতো স্বামীর খাদ্য হিসেবে। রিয়া একদিন ঘুরে দাড়ালো। সর্বশেষ জন্ম নেয়া সন্তানের পরিবর্তে সে কম্বলে মোড়ানো এক টুকরা পাথর তুলে দিলো স্বামীর হাতে। নির্বোধ ক্রেনাস তাই পেটে পুরে সন্তষ্ট হলো। রিয়া সন্তানের নাম রাখলো জিউস। জিউস বড় হয়ে তার ভাই বোনদের দানব পিতার হাত থেকে রক্ষা করতে শুরু করলো। একদিন পিতাকে হত্যা করে তার বোন হিরাকে বিয়ে করে সূখে বসবাস করতে লাগলো। তাদের ঘরে এলো প্রমিথিউস আর ইপিমেথিউস। জিউস সবাইকে নিয়ে মহাবিশ্ব সাজানোর কাজে মনোযোগ দিলো, আকাশের চারপাশ সাজালো অসংখ্য গ্রহ আর নক্ষত্র দিয়ে, পৃথিবীতে বিচিত্র সব প্রাণী ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দিল দুই ছেলেকে।



পৃথিবীকে সাজানোর দায়িক্ত পেয়ে প্রমিথিউস সৃষ্টি করলো মানুষ, যা ঠিক দেখতে দেবতাদের মতো। এপিমিথিউস সৃষ্টি করলো বাকি সব প্রানী। একদিন তাদের দু ভাইয়ের সৃষ্টি করার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেল ফলে প্রমিথিউস তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে কিভাবে কোন কিছু উপহার দিবে তা খুজে পেল না। সকাল হতেই তার মাথায় এক বুদ্ধি খেলা করলো সুর্য্য থেকে অল্প আগুন চুরি করে এনে দিলো মানুষকে, তার প্রিয় সৃষ্টিকে। এর জন্য প্রমিথিউসকে চরম মূল্য দিতে হয়। করন আগুন ছিল শুধুমাত্র দেবতাদের ব্যবহারের জন্য, মানুষকে তা দিয়ে ঘোরতর অন্যায় করেছে প্রমিথিউস। জিউসের নির্দেশে তাকে পাহাড়ের সাথে বেধে রাখা হলো অনন্ত কাল ধরে শকুন এসে তার লিভার ঠুকরে ঠুকরে খায়। সেই থেকে মানুষ আগুনের সাহায্যে এগিয়ে যায় সভ্যতার দিকে।

* গ্রীক মিথ এর উপর নিয়মিত লেখা চলবে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:০৪

আশরাফ ও নীল বলেছেন: জিউস তার মা রিয়াকে বিয়ে করে সন্তানের জন্ম দিয়েছে - একথা সত্যি নয়। জিউসের ঠাকুরদা অরেনাস তার মা গায়াকে বিয়ে করে ক্রোনাস সহ আরও ১৬ টি সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। জিউস বিয়ে করেছিল তার বোন হিরাকে। তাদের সন্তান হল এরিস আর আফ্রোদিতি - যারা আবার বিয়ে করে ৪/৫ টি সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। জিউসের বাবা ক্রোনাস এবং মা রিয়া ভাইবোন ছিল।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৩৮

মিকাইল ইমরোজ বলেছেন: ঠিক করে দিচ্ছি। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.