নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলো ছায়ায় আমার ভূবন

আমি কনফিউসড চরিত্রের মানুষ।অগোছালো সবকিছুতে দোদূল্যমনতা আমার বৈশিষ্ট্য।টু বী অর নট টু বী এই দ্বন্ধে চলছে জীবন।

আরজু মুন জারিন

নিজের সম্পর্কে বলার মত কিছু করা হয়ে উঠেনি এখন। ব্লগ এ লেখা টা প্রথমে ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা। মেসেজ শেয়ার করা। তবে লিখতে লিখতে এখন লেখার ভালবাসায় পড়ে গিয়েছি। নিজে যেমন লিখতে পছন্দ করি অন্যের লেখা ও একই পছন্দ নিয়ে পড়ি। লেখালিখির আরেকটা বড় উদ্দেশ্য হল (অন্যের দৃষ্টিতে তা ফানি মনে হবে ) সামাজিক বিপ্লব করা , মানুষের জীবনে স্বাছন্দ্য আনয়ন করা মূলত আমার দেশের মেয়েদের লেখিকাদের আমি বড় প্ল্যাটফর্ম এ দেখতে চাই। আমাদের দেশে ভাল লেখিকা অনেক কম। অথচ আমার মন বলে অনেক ট্যালেন্ট মেয়েরা আছে। অনগ্রসর সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মেয়েরা এক বৃত্তে বন্ধী হয়ে আছে। আমি খুব চাই ওই বাধা সরিয়ে আলোয় ,সাহিত্যে জ্ঞানে আমাদের মেয়েরা পথ চলুক। প্রচলিত দৃষ্টিতে সমাজে চলতে মেয়েদের বাধা গুলি চিহ্নিত করা আমার লেখালিখির আরেকটি উদ্দেশ্য। প্রগতির কথা বলতে চাই ভদ্রতায় , শালীনতায় এবং মর্যাদায়। সামাজিক আভ্রু ভেঙ্গে নয় যা তসলিমা নাসরিন করেছিলেন। বেগম রোকেয়া আমার পথ প্রদর্শক। তিনি মেয়েদের পাদ প্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছিলেন ঠিক ই রক্ষনশীলতার ঢাল ভেঙ্গে নয় , মর্যাদায় থেকে আলোতে নিয়ে এসেছেন মেয়েদের।

আরজু মুন জারিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

আলবার্তোর এর চেতনায় ধর্ম সমাজ পরিবার(গল্প)

০৯ ই মে, ২০১৪ রাত ১০:২৯

চার্চ এর প্রাত্যহিক কাজ সেরে প্রতিদিন চার্চ এর সামনে যে ছোট গাছ টা আছে তার পাশে ছোট্ট বসার জায়গায় বসা ও আলবার্তো র প্রাত্যহিক কাজ lএই সময় সম্পূর্ণ আপনাতে বুদ হয়ে যায়. মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় তার অতীত বর্তমান, ভবিষ্যত l সে চলে যায় তার অতীতে, বুদ হয়ে থাকে বাবা মা, ভাই বোন্. সেচ্ছায় সে তার অতীত বিসর্জন দিয়েছে পুরানো রাস্তায় সে ভুলে ও পা মাড়ায় না, পরিচিত কারো সাথে দেখা হওয়ার আগে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়. সে জন্য তার চেহারা আচরণ গেট আপ এ করেছে কিছু পরিবর্তন সাধন তবু ও সব কিছু হয়নি এখনো বিলীন মনের কুঠুরিতে সযত্নে রক্ষিত আছে সব মূল্যবান স্মৃতি রা। l



নাহিদ বাবা এদিকে আয় তো এখন বেশ স্পষ্ট করে শুনতে পায় মায়ের গলার আওয়াজ.।

শীগ্রই নামাজ পড়ে পড়তে বস, শোনা যায় রাশভারী বাবার গম্ভীর কন্ঠের আওয়াজ ।

আদরের বোন্ আনা এর ডাক ভাইয়া কোথায় তুমি?



আহ ওরা আজ কত দুরে ?



ফাদার আলবার্তো কাছে এসে ডাকলেন সিস্টার রোসালীন



আপনি আজকে ইভনিং এ ফ্রি আছেন?



হা কেন বলুনতো?



আজকে আমাদের সঙ্গে ডিনার করতেন খুব খুশি হতাম. আমার মেয়ে আসছে বেড়াতে অনেকদিন পরে



আলবার্ট কিছুটা ইতস্তত আর বিব্রত ফিল করে কি জবাব দেওয়া যায় সেটা মনে করে. সে আসলে ভিড়, হৈ চৈ, পার্টি এগুলি থেকে অনেক দুরে সরে এসেছে. এসব পার্টি হৈ চৈ ড্রিংক করা তার লাইফ এর পার্ট ছিল. এখন সে আর তার ডার্ক অতীত নিয়ে ভাবতে চায়না. আজকে তার জীবন টা অনেক পবিত্র, ডিসিপ্লিনড, এখনো তার জীবনে আছে অপূর্ণতা, বিষন্নতা, তবু সে এ জীবন টাকে সে আকড়ে থাকতে চায় l



কিছুটা বিব্রত হয়ে জবাব দেয়. আসলে সন্ধার পরে আমি ঘরে থাকতে লাইক করি.আমি পার্টি নাচ গান এর সঙ্গে এডজাস্ট করতে পারিনা, কিছুটা ওল্ড ফ্যাশনড l



আপনার বিব্রত হওয়ার মত বড় পার্টি হবেনা. সুধু আমার মেয়ের কিছু বন্ধু বান্ধব আর চার্চ এর কিছু ব্রাদার সিস্টার খুব ই ঘরোয়া পার্টি l



সিস্টার রোসালীন এর দৃষ্টির সামনে আলবার্তো সবসময় বিব্রত বোধ করে. সিস্টার রোসালীন এর কাছে ফাদার আলবার্তো এক বিস্ময় l



তার মায়া ভরা চোখ সবসময় আলবার্তো কে অনুসরণ করে

অবাক হয়ে ভাবে এত অল্প বয়সে কিভাবে ফাদার হলো. তার কোনো রিলেটিভ কে কোনদিন দেখা যায়নি. তার কে কে আছে, কোথা থেকে এসেছে এসব জিজ্ঞাসা করে কোনো সদুত্তর কোনদিন পায়নি.



ঠিক আছে আমি ট্রাই করব,



সিস্টার রোসালীন বাসায় অনেক জমজমাট আড্ডা চলছে . রোসালীন এর মেয়ে এভেলিন আর তার বন্ধুরা হৈ হুল্লোর এ মেতে আছে. এভেলিন এর বয়স চব্বিশ, সে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তে M B A পরছে.২ন্দ সেমেস্টার শেষ করে ছুটিতে মাকে দেখতে এসেছে, এভেলিন এর বন্ধু ফ্রাঙ্ক ফুর্তিবাজ এবং মজার পুরা পার্টি হৈ হুল্লোর করে সে একাই জমিয়ে রেখেছে l



আচ্ছা অন্টি র বয়স কত রে ? সে জিজ্ঞাসা করে



আমার এজ এর সাথে এড ২০



u মিন ৪৪. ওহ মাই লর্ড বলিস কি অন্টি কে ইজিলি আমার গার্ল ফ্রেন্ড বানানো যায়

she still লুকিং so young & attractive

এই মা খুব গম্ভীর, উল্টা পাল্টা কথা বলিসনা মায়ের সামনে l



রাত প্রায় ৯ টা এভেলিন কেক কাটতে চাচ্ছে , রোসালীন বার বার অনুরোধ করছে একটু অপেক্ষা করার জন্য, ফাদার আলবার্তো আসবে.



কই মা তোমার ফাদার কোথায়? আমার বন্ধুরা তো বাসায় ফিরবে, ওদের দেরী হয়ে যাচ্ছে l



রোসালীন একবার বারান্দায় এসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে খেয়াল করার চেষ্টা করে, কখনো বা দরজা খুলে সিড়ি দেখার চেষ্টা করে, একবার সে ভাবছে হয়তবা ফাদার বাসা খুঁজে পাচ্ছেনা .



অস্থিরতা দমন করতে না পেরে ফাদার এর বাসায় ফোন দিল. না বাসায় তো নাই, ভয়েস মেইল এ চলে গেছে.



ফাদার আলবার্তো অনেকক্ষণ ধরে রোসালীন এর বাসা খুজ্চ্ছে, পাচ্ছেনা, সম্ভবত বাসার নম্বর টা ভুল লিখেছে , এটা কি ৩০১ না ৩১১ , ওকে ৩১১ এ নক করা যাক ..



দরজা খোলা ই আছে হৈ হুল্লোড় এর শব্দ ভেসে আসছে ,দরজায় নক করে ঠেলা দিতে সিস্টার রোসালীন এর সাথে চোখা চোখি হয়ে গেল l



আনন্দে রোসালীন এর হৃদপিন্ড লাফ দিয়ে উঠলো. অনেক কষ্টে ভাবাবেগ দমন করে স্বাভাবিক স্বরে বলল.আসুন আসুন ফাদার বাসা চিনতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো?



ঘরে সব কোলাহল মুহুর্তের মধ্যে থেমে গেল. ফাদার এর সৌন্দর্য্য আর বক্তিত্ব এ সবাই বশীভূত হয়ে গেল l



রোসালীন এভেলিন এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন l



ফাদার এর ঠান্ডা স্বভাব এর কাছে এভেলিন থতমত খেয়ে গেল. সে খুব উচ্ছল স্বভাব এর মেয়ে.



তার বন্ধু সান্ড্রা জিজ্ঞাসা করে হাত টিপে কে রে এই হিরক সৌম্মকান্তি



আমাদের এখানের চার্চ এর ফাদার



পিছন থেকে পিঠে চাপড় দিয়ে বলল একজন কেমন আছিস নাহিদ"



চমকে গেল ফাদার আলবার্তো "কে তাঁকে এই নাম ধরে ডাকছে?



রোসালীন সামনে এসে বলল এই ছেলে কাকে কি বলছ, ইনি আমাদের এখানে চার্চ এর ফাদার .



সারা টা সময় আবার ফাদার আলবার্তো অন্যমনস্ক থাকলেন



মনে মনে বিড় বিড় করে বললেন "ফাহাদ আমাকে তুই মাফ করে দিস l

২প্রতিদিন ভোর পাচটায় ঘুম থেকে উঠা আলবার্তোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের l খুব ছোটবেলা থেকে বাবার সাথে ভোরে উঠে মসজিদ এ যেতে যেতে পরে এটা এখন তার ডেইলি রুটিন হয়ে গিয়েছে l যদিও পর পর দুইটা সানডে তে এবার কিছুটা ব্যতিক্রম হয়ে গেল সিস্টার রোসালীন আর তার মেয়ে এভেলিন এর জন্য l দুই মা মেয়ে যেন পন করে বসেছে তার স্থবিরতা কাটিয়ে ছাড়বে l শুক্র, শনি, রবি একদিন মিস নেই, মাঝে মাঝে উইক ডে তে তারা বানিয়ে নিয়ে আসে অনেক ধরনের খাওয়ার, তারপর চলে জম্পেশ আড্ডা l আলবার্তো হাপিয়ে যায় মাঝে মাঝে কিন্তু মা মেয়ে কে কিভাবে নিবারণ করবে তা তার মাথায় আসেনা l



আলবার্তো আপনার ফ্যামিলি তে কে কে আছে ? জিজ্ঞাসা করে এভেলিন l



ফ্যামিলি র কথা জিজ্ঞাসা করলে সে সবসময় গম্ভীর হয়ে যায় l ফ্যামিলি র কোনো কিছু নিয়ে কারো সাথে কথা বলেনা, শেয়ার করতে ও পছন্দ করেনা l



আমাকে লালন পালন করেছে এই চার্চ এর আগের ফাদার ইগ্নিশিয়াত, বলতে পারো উনি আমার বাবা, আমার মা সব, আমার মা বাবা কে তা মনে ও পড়েনা এখন l কথাটা আংশিক সত্যি , কিন্তু পুরো সত্যি সে কার ও সাথে শেয়ার করতে চায় না l



ব্রাদার মরগ্যান এসে হই হুল্লোড় সুরু করে দেয় l



আসুন আসুন ফাদার আজকের আবহাওয়া অনেক চমত্কার, টেনিস খেলা যাক l এদের প্রাণচাঞ্চল্যে সাড়া না দিয়ে পারা যায়না l



মা মেয়ে কে আজকে খুব সুন্দর লাগছে , সাদা রজনীগন্ধা র মত তাইনা? জিজ্ঞাসা করলেন ব্রাদার মরগ্যান ,



আলবার্তো হেসে মাথা নেড়ে সায় দেয় l



দুজনে একইরকম বরফ সাদা জর্জেট এর মধ্যে গোলাপী ফুল তোলা সুন্দর ইভনিং ফ্রক পরেছে l



সিস্টার রোসালীন এর গাল লাল হয়ে গেল প্রশংসা শুনে l



আপনারা খেলুন আমরা দেখি, বলল রোসালীন



না না তা হবেনা আসুন আপনি আমার পার্টনার আর এভেলিন আলবার্তো র পার্টনার , বলল আমুদে ভাবে ব্রাদার মরগ্যান , আমরা ওল্ড দুজন একদিকে নবীন রা আরেক দিকে l



তাকে ওল্ড বলাতে রোসালীন এর মন খারাপ হয়ে গেল , বরাবর সে কখনো শুনেনা যে তার বয়স হয়েছে, বরং এভেলিন এর সাথে বাহিরে গেলে সবাই বলে ওরা দুই বোন, কেউ মনে করেনা ওরা মা আর মেয়ে l



আলবার্তো হেসে হালকা গলায় যা বলল তাতে রোসালীন এর হৃদপিন্ড আনন্দে আর খুশিতে যেমন লাফ দিয়ে উঠলো, তেমনি একইসঙ্গে বিস্ময় অভিবুত হয়ে পড়ল , আলবার্তো এধরনের কথা বলতে পারে l



আমার তো সিস্টার রোসালীন কে আমার চেয়ে ও অল্প বয়সী মনে হয়, এটা বিশ্বাস করা কষ্ট তার এভেলিন এর বয়সী একটা মেয়ে আছে l



এভাবে হাসি ঠাট্টা য় এখন আলবার্তো র সময় বেশ কেটে যাচ্ছে l আজকে বিকাল এ চার্চ এ ফাদার ডে উপলক্ষে একটা অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়েছে l অনেক সিস্টার রা কিছু কিছু ফুড তৈরি করে নিয়ে এসেছে যে যার পছন্দ মত l



এই মেয়েটা কি নাম যেন এশা সে দেখি আজকে ও এখানে l এত অল্প বয়সী মেয়ে সে এখানে তার মা বাবা ছাড়া কি করছে আলবার্তো ভেবে পায়না l মেয়েটা কে কড়া গলায় কিছু বলতে হবে l

অনুষ্ঠান এর শুরু তে আলবার্তো কে ফাদার ডে এর তাত্পর্য, ফাদার রোল কি হওয়া উচিত, একজন সন্তান এর জীবনে ফাদার এর ভূমিকা কিরকম, এসব নিয়ে কথা বলতে বলতে ভাবলো তাহলে আমার বাবা তো প্রপারলী লালন পালন করেছে , তার কোনো দোষ আমি কেন দেখছি, আমার ও সন্তান হিসাবে একটা দায়িত্ব আছে , আমি কত টুকু পালন করছি ? এসব ভাবতে ভাবতে সে খুব বিষন্ন হয়ে পড়ে l



"Love.....is a perfect bond of union " Colossinns 3:14.



বাইবেল এর স্ক্রিপ্চার্স সবসময় যেন তার মনের কথা ই বলে



হটাত পিছন থেকে একজনের কথা বলার আওয়াজ পেয়ে তাকাতে দেখল এশা দাড়িয়ে, আজকে তার মধ্যে কোনো জবু থবু ভাব সে বেশ স্মার্ট আর সাবলীল l কথা ও বলছে বেশ সপ্রতিভ ভাবে হাসি মুখে l



ফাদার আমি চিন্তা করছি ব্যাপটিসম করলে কেমন হয় l বলল হাসি মুখে কৌতুকের সুরে



আলবার্তো খুব ই বিরক্তি বোধ করলো এশার কথা বলার স্টাইল এবং তার টপিকস এ .



উত্তর দিল সে অনেক কড়া ভাবে যাও তুমি বাসায় চলে যাও, মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা কর l এসব নিয়ে চিন্তা করার বয়স এখন ও তোমার হয়নি l



আয়েশা খুব ই দমে গেল আলবার্তো র কড়া কথা শুনে, কিন্তু সে আজকে পিছু হটে গেলনা l সে যেন আজকে জেদ ধরে বসে আছে আলবার্তো র সব ঘটনা শুনে ছাড়বে l



আমি তো ব্যাপটিসম অনেক লাইক করি ফাদার, একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার মনে হয় আমার কাছে l আপনি কবে করেছেন?



এটা সিনেমা নভেল না যে তুমি রোমাঞ্চ ফীল করবে, এটা তোমার জীবন বোধ আদর্শ বোধ বা লাইফ স্টাইল, ধর্ম আমাদের বেস টা কে মজবুত করে , তুমি যেখানে আছ, যেই রিলিজিওন এ আছ আমি মনে করি আগে ওখানে থেকে পুরা জ্ঞান আহরণ কর, তারপর যদি তোমার ভিতরে র আদর্শের সাথে দন্ধ হয়, তখন চিন্তা করবে রিলিজিওন চেঞ্জ করা বা কনভার্ট হওয়ার l



সরি ফাদার আমি ঘুনাক্ষরে ও কনভার্ট হওয়ার চিন্তা করিনি, আমি আমার ইসলাম ধর্মে সুখী, আমার জীবন নিয়ে একস্পেরিমেন্ট বা ধর্ম সার্চ করার কোনো ইচ্ছে নেই , আমি সুধু ব্যাপটি সম এ আগ্রহী l



তবে তুমি প্রতি দিন চার্চ এ আস কেন?



ব্যাপটি সম তখন ই তোমাকে করা হবে যখন তুমি ক্রিশ্চান হতে চাও l



আপনার জন্ম কি খ্রীষ্টান ফামিলি তে ?



না সংক্ষিপ্ত জবাব আলবার্তো র



তাহলে আপনার ফামিলি মা বাবা তারা কোথায় ?



এবার সত্যি আলবার্তো বেশ রেগে গেল, মেয়ে টা আসলে কৌশলে তার পারিবারিক হিস্ট্রি শুনতে চাচ্ছে l



আমি একজন কনভার্টেড ক্রিশ্চান, মুসলিম ফামিলি তে আমার জন্ম, আমি আমার বাবা মাকে ছেড়ে এসেছি এক পারিবারিক কারণে, তোমার কৌতুহল কি মিটাতে পারলাম, কথাটা কৌতুকের স্বরে বললে গলার স্বরে রুক্ষতা গোপন রইলোনা আলবার্তো র l



আলবার্তো কোথায় আপনি এভেলিন এসে খুব অন্তরঙ্গ ভাবে তার হাত ধরল, বলল চলুন আমার ফ্রেন্ড এর ব্যাপটিসম, আপনি দেখবেন না l



অবশ্যই বলল আলবার্তো অনেক আন্তরিকতার সুরে, সে ও হাত বাড়িয়ে চাপড়ে দিল এভেলিন এর কাধ , তারপর বলল চল



দুজন কে খুব সুন্দর মানিয়েছে মনে মনে ভাবলো আয়েশা, তার মন অসম্ভব বিষন্ন হয়ে গেল l সে তো আসলে এখানে আসে আলবার্তো কে দেখতে, তার না আছে কোনো আগ্রহ ক্রিশ্চান ধর্ম নিয়ে বা ব্যাপটিসম নিয়ে l



তার আর ও বেশি মন খারাপ হয়ে গেল যখন আলবার্তো তাকে বিদায় সম্ভাষণ না করে হাসতে হাসতে এভেলিন এর হাত ধরে সামনের রুম এ চলে গেল l



বিষন্ন মনে সে তাদের গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো

আলবার্তো র সময় এখন কাটে সবসময় পড়াশোনা আর প্রাথ্রনায়। লাইব্রেরি থেকে যত ধর্মের বই আর প্রাচীন সভ্যতার যত বই সে পেয়েছে নিয়ে এসেছে আর দিন রাত দরজা জানালা বন্ধ করে সুধু পড়ছে আর পড়ছে। তার নাওয়া খাওয়ার ঠিক নাই, ঘুমানোর ঠিক নাই। একবেলায় খেলে আরেকবার খেতে ভুলে যায়। রাত তিন চার টা বেজে যায় পড়া থেকে উঠতে। কোনো হালকা নভেল বা উপন্যাস কখনো পড়েনা ,তার পড়ার বিষয়বস্তু কঠিন দর্শন শাস্র ,বিভিন্ন পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ। সম্প্রতি যে বইটা তার নাওয়া খাওয়া ভুলিয়ে দিয়েছে তা হছে বুধ্ব জীবনাবলী স্বম্বলিত বই তথাগত। পৃথিবীতে যত মহা মানব ,যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে,বিভিন্ন ধর্মে এসেছেন আলবার্তো কে যে মহামানব সবচেয়ে আকর্ষণ করে তিনি হলেন রাজা সিদ্বার্থ বুদ্ধ। যদিও সে আগে মুসলিম ছিল,পরে কনভার্ট হয়ে খ্রীষ্টান হয়েছে হজরত মুহাম্মদ(সব) অথবা জেসাস খ্রীষ্ট এর চেয়ে বুধহ এর প্রতি আবেগে মাথা বেশি নত হয়। তার এই বক্তব্য ক্ষুন্ন হয় তার মুসলিম বন্ধুরা, আলেম ওলিরা, চার্চ এর ফাদার রা। অনেক এর সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে এ কারণে। তার সেই বন্ধু দের এখনো মিস করে কিন্তু সে তার হৃদয়ের বড় সত্য কে গোপন করে কিভাবে?



রাজা সিদ্বার্থ র উদারতা, ত্যাগ , স্বার্থহীনতা সব তাকে এত বেশি টানছে কয়দিন ধরে সে সারাদিন ধ্যানে বসে সিদ্বার্থ কে ধ্যানে তার মেন্টর হিসাবে কল্পনা করে। তার মতে পৃথিবীর সবচেয়ে আধ্যাতিক পুরুষ কিং সিদ্বার্থ। এই পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক মহামানব এসেছে, সাধক , অনেক পুত পবিত্র লোক এসেছে কোনো সন্দেহ নাই তাতে, তার মতে আল্লাহ অথবা ঈশ্বর এর সুন্দর রূপ তিনি সবচেয়ে বেশি অবলোকন করেছেন যার কারণে পার্থিব সব জিনিস তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল। যার কারণের সাধারণ মানবের সব চাহিদার বিলাস সামগ্রী অতি অবহেলায় পরিত্যাগ করতে পেরেছিলেন। আলবার্তো র খুব ইচ্ছে বুধ্হর মত সব জাগতিক জিনিস ছুড়ে ফেলে হিমালয় এ চলে যেতে। তবে এখনো সে সম্পূর্ণ মোহমুক্ত হতে পারেনি পারিবারিক আর সামাজিক বন্ধন থেকে। অতি শিগ্রই সে সব মোহ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে আশা করে। এ সংসার,বন্ধন, সব খুব হীন জিনিস, এখানে মন বড় রাখা যায়না। কাওকে ভালোবাসলে স্বাভাবিক ভাবে মনে ঈর্ষা চলে আসে, সংকীর্ণতা চলে আসে। সুখী পার্থিব এর মানুষ এর পক্ষে রিপুর কন্ট্রোল করা অসম্ভব।



একদিন গভীর রাতে



সে হাটছে শুন্যে।অপূর্ব একজন স্বর্গীয় মানুষের হাত ধরে।স্বর্গীয় মানুষটি জিজ্ঞাসা করছে



কোথায় ব্যাথা তোমার?



সে তলপেটে হাত দিয়ে দেখাল।মানুষটি তার হাত রাখল যন্ত্রনার জায়গায়।আহ কি শীতল হাত শীতল অনুভূতি।আর কোন ব্যাথা নেই।এই অবস্থায় সে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসল।পরপর কয়েকদিন হল সে এক আজানা মানুষকে স্বপ্নে দেখছে।মিরাকলের মত ই স্বপ্নের আগন্তক তার ব্যাথায় স্থানে স্পর্শ দিয়ে যায় এর পরের দিন আর তার কোন ব্যাথা বোধ হয়না।



সে এখন শুয়ে আছে হসপিটালের বেডে অনেকটা অচেতনের মত।পেইনকিলার ও স্লিপিং পিলের বদৌলতে।সিভিয়ার আলসারের ব্যাথায় অসহ্য হয়ে আগের সপ্তাহে এই হসপিটালে ভর্তি হয়েছে। হসপিটাল ডাক্তার এদের রকম সকম দেখে সে ভীষন নার্ভাস হয়ে পড়েছে।প্রথমে মনে করেছিল যেটাকে হালকা আলসারের পেইন ডাক্তারদের হাজার রকমের টেষ্টে সে ভীষন ঘাবড়ে গিয়েছে।অবশ্য তার কলিগ এর কাছে শুনেছে হসপিটালে ভর্তি হলে প্রাইমারী সব ব্লাড টেষ্ট তারা করে নেয়।এতে নাকি নার্ভাস হওয়ার কিছু ই নাই।সে আছে এখন টরন্টো ইষ্ট জেনারেল হসপিটালে।



পরেরদিন তাকে দেখতে আসল গ্যাষ্ট্রোলজি ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে বড় ডক্টর জেন প্রেসলী।

কথায় কথায় যা জানল তার কোলন ক্যানসার।তার আয়ু বেধে দেওয়া হয়েছে আর মাত্র একবছর।



সারা পৃথিবী বিস্বাদ হয়ে গেল তার মুহূর্তে।অতি ভয় মৃত্যূ কে মৃত্যূ যন্ত্রনা।তাকে বলা হল এই বছরখানিক এই হসপিটালের নিয়মানুযায়ী চলতে পারে বা দেশে ও ফিরে যেতে পারে।তবে এখানে থাকলে ভাল হবে।



মাঝে মাঝে আপনার অনেক পেইন হবে ইনফেকশনের স্থানে ।সারভাইবের জন্য এই হসপিটালে থাকলে আপনার জন্য ভাল বললেন সমবেদনার স্বরে ডাক্তারটি।



ব্যাথার কথা শুনে ভয়ে সে কেদে ফেলল।মানসিক দৈহিক ভাবে সে অতি নরম মনের এক মেয়ে।সে যেমন অন্যের সামান্য কষ্ট ও দেখতে পারেনা তেমনি নিজের সামান্য দুঃখ কষ্টে অতি কাতর হয়ে পড়ে।সামান্য মাথা ব্যাথা হলে অস্থির হয়ে পড়ে।ক্যান্সার এর ক্ষত ব্যাথা কেমন হবে কে জানে ভয়ে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল অঝোর ধারায়।



ডাক্তার তার পাশে বসে পড়ল।



মিস শান্ত হোন।আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।অনেক সময় এই ধরনের পেশেন্ট অনেক দিন বেচে ও যায়।সায়েন্স চিকিৎসা বিজ্ঞান দিন দিন উন্নত হচ্ছে।খুব শীঘ্রই হয়তবা এমন রেমেডী আসবে আমাদের হাতের কাছে ক্যান্সার কিউর করে ফেলা যাবে সেকেন্ডে।



কোন কথায় তার মনে শান্তনা আসছেনা।সে আকূল হয়ে কেঁদে চলেছে।তার ছোট মেয়েটির কি হবে?কে তাকে দেখবে?তার মা বাবা ভাই বোন একে একে সবার কথা মনে পড়তে লাগল।



মেয়েকে রেখে এসেছে গত কয়েকদিন হল পাশের এক ভাবীর বাসায়।একে একে সবাইকে ফোন করে খবর নিল।কাওকে তার বর্তমান দুঃসংবাদ টি জানাল না।সে মানুষকে খারাপ খবর কখন ও জানাতে পারেনা।তার দূঃখ কষ্ট যন্ত্রনা শেয়ারের একমাত্র সাথী তার মহাপ্রভূ আল্লাহ।সে আল্লাহ কি সবসময় তার পৃথিবীতে অবস্থান করছে?নাহলে এই বয়সে তার কেন এত বড় রোগ?



হে প্রভূ আমার অবর্তমানে আমার মেয়েকে দেখে রাখ।ঢুকরে উঠে কাঁদতে থাকে সে।অসহায়ের মত প্রার্থনায় সমর্পন করে নিজেকে মহাপ্রভূর কাছে।আর তার কিই বা করার আছে?



বেশ কয়েকদিন পরে মেয়েকে দেখল।পাশের ভাবী নিয়ে এসেছে।মেয়ে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছে



ইউ নো লাভ মি।হোয়ার ইউ হ্যাড বিন?



হসপিটাল থেকে তাকে সূট ধরনের কেবিন দেওয়া হল তাতে বাচ্চার বেড দেওয়া হল।আপাতত বাচ্চা তার সাথে থাকবে কিছু দিন।মাকে পাশে পেয়ে সে বেশ উৎফুল্ল।খুশী হয়ে ছোটাছুটি করছে ।বিভিন্ন প্রশ্নে মাকে মাতিয়ে রাখছে।



আহ এত সুন্দর জীবন।দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভাবে সে।এই জীবন ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হবে তার।



এর পরের মাস টা কাটল অনেক যন্ত্রনায়।যন্ত্রনায় যখন সে চোখে মুখে অন্ধকার দেখে তখন তাকে দেওয়া হয় চেতনানাশক ইনজেকশন এবং হাইডোজের পেইনকিলার।একইসঙ্গে চলছে কেমোথেরাপী।



এই যন্ত্রনার মধ্যে একরাতে দেখল অদ্ভুত স্বপ্ন।অদ্ভুত মনোরম এক প্লেস তাতে সাদা পোশাকের একজন মানুষের সাথে হাটছে হাটছে।ঘুম ভাঙ্গার পর বেশ প্রশান্তি অনুভব হয় শরীরে মনে।যেন কোন যন্ত্রনা অসুস্থতা কিছু ই নেই শরীরে মনে।



মাঝরাতে ডিউটি ডক্টর তাকে দেখতে এসে বিস্ময় বোধ করল।সে উঠে বসে পাশের কম্পিউটারে কাজ করছে।



হাই তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে গেট ফীল করছ?হাউ আর ইউ নাউ?



আই অ্যাম কমপ্লিট লী ওকে।মেয়েকে এনে দিল তার কাছে পাশের রুম থেকে।



বেশ অনেকদিন পরে সে নরমাল সব খাওয়ার খেল তৃপ্তি করে।খেয়ে বিশাল এক মগ কফি ও খেয়ে ফেলল।গত একমাস কোন হট ড্রিংকস মুখে দিতে পারেনি।খাওয়া শেষ করে আগেরমত স্বাভাবিকভাবে মেয়ে সহ তৃপ্তির ঘুমে তলিয়ে পড়ল কোন ধরনের সিডেটিভ ছাড়া ব্যাথানাশক ওষধ ছাড়া।



আধোঘুমে আধো জাগরনে দেখল তার বিছানা থেকে এক বিশাল ব্রিজ ঝুলে আছে।ব্রিজের শেষ মাথায় দাড়িয়ে আছে আলোক শিখার মত অপরুপ একজন মানুষ।হাত ইশারায় তাকে ডাকছে।সে আস্তে আস্তে জানালার উপরে উঠে বসল।আস্তে আস্তে ব্রিজ দিয়ে হেটে চলতে লাগল সে।শেষ মাথায় যাওয়ার পর লোকটি তার হাত ধরে টেনে ব্রিজ থেকে উপরে তুলে বলল খুব মায়াবী স্বরে



এই যে তোমার ঘরে পৌছে গেছ।যাও ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।



পরের দিন সকাল নার্স আসল যথারীতি তার কেমোর জন্য।



নো নার্স আই ফীল কমপ্লিটলী ওকে।নো পেইন নো হেডেক।



পুনরায় তাকে ল্যাবে নেওয়া হল সব ডায়গনষ্টিক টেষ্টের জন্য।রিপোর্ট শেষে সবার চোখে মুখে বিষ্ময়।



মিস ইউ আর কমপ্লিটলী কিউরড।ইটস আনবিলিভেয়বল।উই চেকড এভরিথিংস।নো সিকনেস নো উনড।হোপফুলী ইউ উইল ডিসচার্জ টুমরো আফটার এ ফাইনাল চেক।



ডক্টর নার্স সবাই একে একে জড়িয়ে ধরে অনেকে গিফট পর্যন্ত দিয়ে গেল।ফাইনালী হেড অব গ্যাষ্ট্রোলজি এসে সরি বলল ভূল ডায়াগনোসিস হয়ে গিয়েছিল।দেখছি তোমার কোন ডিসিস ছিলনা।



হসপিটাল থেকে ডিসচার্জের পর আজ প্রায় তিনবছর হতে চলল।আজ সে অনেক সুখী ।মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে মনে পড়ে যায় সেই অদ্ভুত রাতটির কথা।খুব বেশী গবেষনায় ও সে যেতে চায়না।সে বেঁচে আছে সুখী একজন পরিতৃপ্ত মানুষের মত।বড় অবদান মনে করে এবং এই বিশেষ রাত টি অলৌকিক রাতের মত ডায়রীর পাতায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছে দিনতারিখ সহ হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা সহ।



সমাপ্ত।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:০৭

হামিদ আহসান বলেছেন: চমৎকার গল্প। ধন্যবাদ লেখিকাকে সুখপাঠ্য গল্পটির জন্য...............

২| ২১ শে মে, ২০১৪ সকাল ৯:৩৮

আরজু মুন জারিন বলেছেন: হামিদ ভাই ধন্যবাদ সবসময় প্রেরনা আর পাশে থাকার জন্য।ভাল থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.