| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মানুষ কেন লিখে?
অত্যন্ত দার্শনিক প্রশ্ন। বহুবিচিত্র উত্তর হতে পারে এ জিজ্ঞাসার। কেউবা লিখে কোন প্রশ্ন দ্বারা তাড়িত হয়ে, প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আশায়। কেউ লিখে নিজের সাথে কথোপকথনের উদ্দেশ্যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অন্তর্জগতের প্রতিচ্ছবি দেখার আশায়। অনেক আবার লিখে চিন্তার তাড়া খেয়ে। চিন্তা যেন কোন হিংস্র পশু, যা আমাদের প্রতিনিয়ত-প্রতিক্ষণে তাড়া করে বেড়ায়। চিন্তার হাত থেকে পালিয়ে বেড়ানোর জন্যে আমরা লিখি। আবার কারো না লিখলে আঙুল ব্যথা করে বলেই লিখতে বসে।
আমাকে এই মুহূর্তে জিজ্ঞেস করলে আমি শেষোক্ত কারণের কথাই বলতাম। অর্থাৎ কিছু একটা লেখার জন্যে রীতিমতো আঙুল ব্যথা করার কারণেই লিখতে বসা।
দীর্ঘদিন কোন লেখালেখি করা হয়না। এমন অবস্থায় কী লেখা যায়? কোন গল্প-উপন্যাস-কবিতা লেখার সূত্র যখন পাওয়া যায় না? রাইটার্স ব্লক কাটানোর একটা ভালো উপায় হতে পারে নাকি অনুবাদ করা। কিন্ত অনুবাদ করার মতন কৌতূহলোদ্দীপক লেখা খুঁজে না পেলে কী করা যেতে পারে? কোন বই বা চলচ্চিত্রের পর্যালোচনা করা যায়। কিন্তু সেটা যেন বড় বেশি অন্যের। নিজের আনন্দের ভাগ বা আত্মার প্রশান্তি তাতে খুব অল্প। যখন কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়না তখনই বোধহয় অর্থহীন কিছু লিখতে বসতে হয়।
কিছু লিখতে পারলে আমাদের শান্তি লাগে। লেখা আমাদের প্রশান্তি দেয়। তা সে যত তুচ্ছ লেখাই হোক না কেন। কিন্ত কেন প্রশান্তি দেয়? কীভাবে প্রশান্তি দেয়? এর উত্তর আমার জানা নেই। হয়তোবা লেখা আমাদের কোনভাবে অবিনশ্বরতার ইঙ্গিত দেয়, অমরত্ত্বের স্বপ্ন দেখায়, মনে আশা জাগায় যে, লেখাটি হয়তো কোনভাবে মহাকালের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ পরিক্রমণ করেও টিকে যাবে। লেখার মাধ্যমে থেকে যাবে আমার ভাবনা। এভাবে আমার না থাকার দিনেও আমি থেকে যাব । কারণ, দিনশেষে আমার ভাবনা মানে তো আমিই।
যাই হোক, আজকের মতন এ প্রলাপ শেষ করি।
©somewhere in net ltd.