নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ছাত্র,আমি সত্যের ছাড়পত্র।আমি একাত্তরের গণতন্ত্র,আমি আঠেরোর রাজপুত্র।

মোঃ হাছান ইমাম নাফী

আমি ফেনীর রক্তো কিন্তু চট্টগ্রামে পক্রিয়াজাতকৃত। আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একজন। কারন, আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন খারাপ দলেও একজন ভালো নেতা থাকতে পারেন। সেই ভালো খোঁজে আমার হ্রদয়ের ভাজে সকলকে সমান মর্যাদা দিই।

মোঃ হাছান ইমাম নাফী › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবিতা: এক পয়সার সুখ

১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:৩৮

কবি: মোঃ হাছান ইমাম


দুয়ারে দাঁড়ায়ে ভিক্ষারি,
ডাকিছে অনুনয় করি।
চাহিতেছে দুটো খয়রাত,
একত্র করে দুটো হাত।

গৃহকর্তা বিরক্তো সুরে,
চাহিলেন তিক্তো ক্ষমা।
ভিক্ষারি আফসোস নজরে,
দাঁড়ায়ে তবুও দুয়ারে।

হঠাৎ গৃহকর্তার-
মনে জাগিলো মায়া,
তাই ভিক্ষারিরে-
দিলো এক পয়সা।
ভিক্ষারি খুশিতে-
ভুলিছে অজানা হতাশা।
অশ্রুসজল চোখে-
কাঁদিয়া করিলো মোনাজাত।
ইহা দেখিয়া-
গৃহকর্তা হইলেন অবাক,
কৃতার্থ হইয়া-
ভিক্ষারি করিলো প্রস্থান।

রাত্রিরে নিরলা-
গৃহকর্তা বসে ভাবিছে একলা।
ভিক্ষারি অবলা-
অল্প পয়সায় হইলো উতলা!
ভাবিছে গৃহকর্তা-
সে কেনো নয় তুষ্টো?
যদিও আছে-
তার সীমাহীন সম্পদের প্রাচুর্য!
কি সুখ আছে-
সে ধাতুর এক পয়সায়?
যে সুখ নেই-
তার বিশাল সম্পদের ডালায়!

পরদিবস গৃহকর্তা-
করিছে অসহ্য অপেক্ষা প্রত্যাশা।
নিত্যদিনের মতই-
আসিলো ভিক্ষারি চাহিলো পয়সা
ব্যাকুল গৃহকর্তা-
এক পয়সার সুখ চিনিতে চাইলো,
ভিক্ষারি জবাবে-
এক পয়সার স্বাচ্ছন্দ্য কহিলো।

কহিলো ভিক্ষারি-
যার ছাদ নগ্নো আকাশে চাঁদ,
তার বিছানা রাস্তাধারের ফুটপাত।
কহিলো ভিক্ষারি-
তার নাই কনো অট্টালিকা ঘর,
সত্যকারে তার নাই ডর।
কহিলো ভিক্ষারি-
তার নাই কনো স্বপ্ন,
তার নাই হীরা রত্ন।
কহিলো ভিক্ষারি-
যদি কেও করে প্রশস্ত হাত,
তবে দুবেলা জুটে দুমুঠো ভাত।
কহিলো ভিক্ষারি-
এভাবেই চলে আমার দিনগুলো,
কষ্টো শুধু ক্ষুধার বেদনাগুলো।
কহিলো ভিক্ষারি-
আমায় কেহ লুটবে না,
আমায় কেহ ধরবে না।
কহিলো ভিক্ষারি-
আমি স্বাধীন এই ফুটপাতে,
কাটিয়ে দিলাম জীবন তাতে।
কহিলো ভিক্ষারি-
আমি সকলের দৃষ্টে সুখি না,
সকলের অদৃষ্টে আমি অসুখি না।
কহিলো ভিক্ষারি-
মোর কাছে তাই এক পয়সা,
বিশাল বড় দোয়া ও ভালোবাসা।

সব শুনিবার পর,
গৃহকর্তা বুঝিছে, অর্থ বড় স্বার্থপর।

বুঝে আসিলো কর্তার-
এক পয়সার মূল্য,
তাতেও থাকা যায় প্রফুল্লো।
বুঝে আসিলো কর্তার-
সুখ মানে অট্টালিক নয়,
সুখে থাকাও শিখিতে হয়!
বুঝে আসিলো কর্তার-
অস্থায়ী বাড়ি, অস্থায়ী সম্পদ,
সবই হলো সুখের আপদ।
বুঝে আসিলো কর্তার-
সম্পদ বৃদ্ধির চেতনা,
বাড়িয়েছে তার যাতনা।

গৃহকর্তা সবকিছু বুঝিতে পারিয়া,
সম্পদের লালসা দিলো ছাড়িয়া।
আজ গৃহকর্তা হাসিছে চিন্তাহীন মুখে,
সবই ধাতুর এক পয়সার সুখে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.