নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী ভোগ বিলাস নয়, মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতের চিরস্থায়ী শান্তির জীবন; আল কুরআনে বর্ণিত মৃত্যু পরবর্তী অন্তহীন জীবনের ধারাবাহিক চিত্র, পর্ব-০১

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫৫



পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়:
পৃথিবী!
নয়নাভিরাম পৃথিবী! বিপুলা সৌন্দর্য্যের আধার, ফুলে ফলে পরিপূর্ণ, সবুজ শ্যামলে ছাওয়া, বিমুগ্ধ ছন্দ-আনন্দ-হাসি-আলো-প্রভায় বিমোহিত বিকাশিত মায়াময় ভূমি, চক্ষু শীতলকারী মনোরম শোভায় মন আলোড়িত বিশালায়তন পৃথিবী! কত ভালোবাসা এই পৃথিবীর জন্য! কত স্বপ্ন এখানে বেঁচে থাকার জন্য! কত মেধা-শ্রমের বিনিয়োগ এই পৃথিবীর ক্ষনিকের জীবনকে সাজিয়ে নেবার জন্য! অথচ ভেবে দেখি না, পৃথিবী থাকার স্থান নয়! এখানে থাকা যায় না! কেউ থাকেননি! থাকতে পারেননি! থাকতে পারবেন না! থাকা সম্ভব নয়! তারপরেও আমরা স্বপ্ন দেখি! অলিক স্বপ্নে বিভোর আত্মভোলা মন! আসল ঠিকানা-গন্তব্য বিস্মৃত ভুলো অন্তর! কোন পথে চলার কথা ছিল, আর চলছি কোন পথে! কোন্ জীবন বেছে নেয়ার কথা ছিল, আর নিয়েছি কোনটা! পরকালের অন্তহীন জীবনে সুখ শান্তি আর কামিয়াবির লক্ষ্যে কোন্ স্বপ্ন, কোন্ চেতনা, কোন্ সে আদর্শের রঙে রঙিন করার কথা ছিল নিজেকে! তা কি করতে পেরেছি? আজ ভুলেই গেছি, পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়!

হে বিস্মৃত অন্তরাত্মা আমার, হে পার্থিব মোহে নিমগ্ন মন, ওঠো! জাগো! তোমার প্রভূর সামনে বিনীত অবয়বে দন্ডায়মান হও! সিজদায় মস্তক অবনত কর! অশ্রুপাত করো! রোদন করো! আহাজারিতে বুক ভাসাও! তাঁর অন্তহীন ক্ষমার সাগরে ভাসিয়ে দাও তোমার পাপের নাও! ডুবিয়ে দাও! নিজেকে নিজের ভেতরে জ্বালিয়ে! পুড়িয়ে দাও! জ্বালিয়ে পুড়িয়ে স্বর্ণরেনুর মত শুদ্ধ করো নিজেকে! বিশুদ্ধতায় নেয়ে ওঠো! মন, ভুলে যেয়ো না, দুনিয়া তোমার আসল ঠিকানা নয়! আখিরাতের অনন্ত জীবন ভুলে যেয়ো না! সেই জীবনের সীমাহীন শান্তি আর অনন্ত নাজ নেআমতের কথা স্মরন করো! জান্নাতের কথা ভাবো! জান্নাতের অকল্পনীয় অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্য-সৌকর্য-সুরম্যতার কথা স্মরন করো! মন, তুমি তো বুঝো না! কিংবা বুঝেও না বোঝার ভান করো! সরলপথ থেকে বারবার আমাকে টেনে নিয়ে যেতে চাও অন্য পথে! ভুলিয়ে রাখতে চাও আমার আসল গন্তব্যকে! তোমার চেষ্টা তুমি চালাও! আমার চেষ্টাও আমাকে করতে দাও! তুমি যত বাঁকা হবে, আমিও ততখানি বেঁকে বসবো! তুমি যেমন আমাকে টানো, আমিও তোমাকে টানি! তোমাতে আমাতে কি গভীর বন্ধুত্ব, দেখো! এসো, তোমাকে নিয়ে ঘুরে আসি পারকালীন জীবনের অলিগলিগুলো! আসল সফরের পূর্বেই সফর করে নিই, যাতে পথ চলতে সহজ হয় সেই জীবনে প্রান্তরের পর প্রান্তর!

আল কুরআনে বর্নিত মৃত্যু পরবর্তী অন্তহীন জীবনের ধারাবাহিক চিত্র

হে মন, ভুলে যেয়ো না, পৃথিবীতে আমার আবির্ভাবের ক্রমধারা

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলার ইরশাদ: ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ

“এরপর তাকে এক হেফাযত করা জায়গায় বীর্য হিসেবে রেখেছি।” (সূরা মু’মিনূন: আয়াত ১৩)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলা আরও ইরশাদ ফরমান: وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ وَالْجَآنَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ

“আমি পচা মাটির শুকনা খামির থেকে মানুষকে বানিয়েছি। এর আগে জিনকে আমি আগুনের শিখা থেকে পয়দা করেছি।” (সূরা হিজর: আয়াত,২৬-২৭)

মন, এই পৃথিবী তোমার আসল ঠিকানা নয়

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ করেন:

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ
যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,
When the sun (with its spacious light) is folded up;

وَإِذَا النُّجُومُ انكَدَرَتْ
যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে,
When the stars fall, losing their lustre;

وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ
যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে,
When the mountains vanish (like a mirage);

وَإِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ
যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে;
When the she-camels, ten months with young, are left untended;

وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ
যখন বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে,
When the wild beasts are herded together (in the human habitations);

وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ
যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,
When the oceans boil over with a swell;

وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ
যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে,
When the souls are sorted out, (being joined, like with like);

وَإِذَا الْمَوْؤُودَةُ سُئِلَتْ
যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে,
When the female (infant), buried alive, is questioned -

بِأَيِّ ذَنبٍ قُتِلَتْ
কি অপরাধে তাকে হত্য করা হল?
For what crime she was killed;

وَإِذَا الصُّحُفُ نُشِرَتْ
যখন আমলনামা খোলা হবে,
When the scrolls are laid open;

وَإِذَا السَّمَاء كُشِطَتْ
যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে,
When the world on High is unveiled;

وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعِّرَتْ
যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে
When the Blazing Fire is kindled to fierce heat;

وَإِذَا الْجَنَّةُ أُزْلِفَتْ
এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে,
And when the Garden is brought near;-

عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا أَحْضَرَتْ
তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। (সূরাহ আশশামছ/ তাকভীর, আয়াত, ০১-১৪)

আল্লাহ্ পাক অন্যত্র বলেন:

إِذَا السَّمَاء انفَطَرَتْ
যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,
When the Sky is cleft asunder;

وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انتَثَرَتْ
যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,
When the Stars are scattered;

وَإِذَا الْبِحَارُ فُجِّرَتْ
যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,
When the Oceans are suffered to burst forth;

وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ
এবং যখন কবরসমূহ উম্মোচিত হবে,
And when the Graves are turned upside down;-

عَلِمَتْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ
তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে। (সূরা ইনফিতার: আয়াত, ১-৫)।

আল্লাহ্ পাক আরেক স্থানে বলেন:

أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ
একে অপর থেকে বেশি (পাওয়ার ধান্দা) তোমাদেরকে ভুলের মধ্যে ফেলে রেখেছে।

حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ
এমনকি (দুনিয়া পাওয়ার এ চিন্তা-ধান্দা নিয়েই) তোমরা কবরে পৌঁছে যাও। (সূরা তাকাসুর: ১-২)

আল্লাহ্ পাক বলেন:
بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا
কিন্তু তোমরা দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দিচ্ছো।

وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
অথচ আখিরাত অনেক ভালো ও চিরস্থায়ী। (সূরা আ‘লা: ১৬-১৭)

আল্লাহ্ পাক বলেন:

اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
ভালো করে জেনে রাখো যে, দুনিযার এ জীবনটা খেল-তামাাশা, মন-ভোলানোর (উপকরণ), সাজ-সজ্জা, তোমাদের একে অপরের উপর গর্ব করা এবং ধনে-জনে একে অপরের চেয়ে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এর উদাহরণ এ রকম, যেমন এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেলো, (এর ফলে) যে গাছগাছড়া পয়দা হলো তা চাষীকে খুশি করে দিলো। তারপর ঐ ফসল পেকে গেলো এবং তোমরা দেখলে যে তা হলদে হয়ে গেলো। তারপর তা ভুসিতে পরিণত হয়ে যায়। (সূরা হাদীদ: ২০)

الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا
এই ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সাময়িক সাজসজ্জা মাত্র। আসলে তো টিকে থাকার মতো নেক আমলই আপনার রবের নিকট পরিণামের দিক দিয়ে ভালো এবং এ বিষয়েই ভালো কিছু আশা করা যায়। (সূরা কাহাফ: ৪৬)

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ
হে মানুষ! আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যই সত্য। কাজেই দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে। আর ঐ বড় ধোকাবাজ (শয়তান) যেন আল্লাহর ব্যাপারে তোমাদেরকে ধোকা দিতে না পারে।

إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
নিশ্চয় শয়তান তোমাদের দুশমন। তাই তোমরাও তাকে তোমাদের দুশমন মনে করো। সে তো তার দলকে তার পথে এ জন্যই ডাকছে, যাতে তারা দোযখীদের মধ্যে শামিল হয়ে যায়। (সূরা ফাতির: ৫-৬)

মানব জীবনে আখিরাতে বিশ্বাসের প্রভাব

আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ
প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ,
Woe to every (kind of) scandal-monger and-backbiter,

الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ
যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে
Who pileth up wealth and layeth it by,

يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ
সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে!
Thinking that his wealth would make him last for ever!

كَلَّا لَيُنبَذَنَّ فِي الْحُطَمَةِ
কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে।
By no means! He will be sure to be thrown into That which Breaks to Pieces, (সূরা হুমাযাহ: ১-৪)

মৃত্যু অবধারিত

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তিকেই মওতের স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। এরপর আমার দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সূরা আনকাবূত: ৫৭)

أَيْنَمَا تَكُونُواْ يُدْرِككُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِ اللّهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ قُلْ كُلًّ مِّنْ عِندِ اللّهِ فَمَا لِهَؤُلاء الْقَوْمِ لاَ يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا (৭৮)
তোমরা যেখানেই থাকো, যত মযবুত দালানেই থাকো না কেন, মওত তোমাদের নাগাল পাবেই। যখন তারা কিছু সুযোগ-সুিবধা পায়, তখন তারা বলে যে, এটা আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে। কিন্তু যখন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তারা বলে যে, (হে রাসূল!) আপনার কারণেই এটা হয়েছে। (হে রাসূল!) আপনি বলে দিন যে, সবকিছু আল্লাহর তরফ থেকেই আসে। কী ব্যাপার এদের কী হয়েছে যে , কোন কথা তাদের বুঝে আসে না?” (সূরা নিসা: ৭৮)

নির্ধারিত হায়াত শেষেই সকলের মরণ হয়

مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ
কোন কাওম এর নির্দিষ্ট সময়ের আগে যেমন ধ্বংস হতে পারে না, তেমনি পরেও রেহাই পেতে পারে না। (সূরা হিজর: ৫)

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلاَّ بِإِذْنِ الله كِتَابًا مُّؤَجَّلاً وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ
কোন প্রাণী আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না। মওতের সময় তো লিখিতই আছে। যে দুনিয়ার ফলের আশায় কাজ করবে তাকে আমি দুনিয়া থেকেই দেবো এবং যে আখিরাতের ফলের আশায় কাজ করবে সে আখিরাতের সুফল পাবে। আর শোকর আদায়কারীরদেকে আমি তাদের প্রতিফল অবশ্যই দান করবো। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৫)

وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاء أَجَلُهُمْ لاَ يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلاَ يَسْتَقْدِمُونَ
প্রত্যেক কওমের জন্য অবকাশের একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তারপর কোন কাওমের মেয়াদ পুরা হয়ে গেলে এক মুহূর্তও দেরি হতে পারে না এবং এক মুহূর্ত আগেও হতে পারে না। (সূরা আরাফ: ৩৪)।

দ্বিতীয় অবস্থা

মৃত্যু আখিরাতের পথে যাত্রার নাম


يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ
হে প্রশান্ত মন,
(To the righteous soul will be said) "O (thou) soul, in (complete) rest and satisfaction!

ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।
"Come back thou to thy Lord,- well pleased (thyself), and well-pleasing unto Him!

فَادْخُلِي فِي عِبَادِي
অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
"Enter thou, then, among My devotees!

وَادْخُلِي جَنَّتِي
এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
"Yea, enter thou My Heaven! (সূরা ফজর: ২৭-৩০)

মৃত্যুর পূর্বক্ষণে

আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

كَلَّا إِذَا بَلَغَتْ التَّرَاقِيَ
কখনও না, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে।
Yea, when (the soul) reaches to the collar-bone (in its exit),

وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ
এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে
And there will be a cry, "Who is a magician (to restore him)?"

وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ
এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষণ এসে গেছে।
And he will conclude that it was (the Time) of Parting;

وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ
এবং গোছা গোছার সাথে জড়িত হয়ে যাবে।
And one leg will be joined with another:

إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ
সেদিন, আপনার পালনকর্তার নিকট সবকিছু নীত হবে।
That Day the Drive will be (all) to thy Lord! (সূরা কিয়ামাহ: ২৬-৩০)

সাকারাতুল মাওত তথা মৃত্যুকষ্ট সত্য, হে মন প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই!

মৃত্যু কষ্ট যে সত্য তার সপক্ষে কুরআনে বর্ণিত আয়াত-

وَجَاءتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ
(তারপর দেখো) মওতের কষ্ট সত্য সত্যই এসে গেছে। এটাই ঐ জিনিস, যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে। (সূরা কাফ: ১৯)

প্রার্থনা:
আল্লাহ পাকের দরবারে বিনীত ফরিয়াদ, তিনি যেন আমাদের দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় জগতের কল্যানদানে ধন্য করেন! পৃথিবীর ক্ষুদ্র হায়াতে বেঁচে থাকার সকল উপায় উপকরণকে তিনি আমাদের জন্য সহজ করে দিন! পারকালীন অনন্ত জীবনে জাহান্নামের অগ্নি থেকে নিষ্কৃতি দিন!

ছবি: গুগল।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:০৭

সাফাত আহমদ চৌধুরী বলেছেন: ভালো লিখেছেন ।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:১৬

নতুন নকিব বলেছেন:



মোবারকবাদ। মন্তব্যে আসায় কৃতজ্ঞতা।

অনেক ভালো থাকুন।

২| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৪২

রাজীব নুর বলেছেন: আল্লাহ আমাদের দুনিয়াতে হাসি তামাশা বা সুখ বিলাস করতে পাঠান নি।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



সঠিক কথা বলেছেন। আপনার উপস্থিতি ভালো লাগলো।

শুভকামনা সবসময়।

৩| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দিন। আমিন।

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:২২

নতুন নকিব বলেছেন:



আমিন। সুন্দর প্রার্থনা। আল্লাহ পাক কবুল করে নিন।

৪| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৫:৪৫

বলেছেন: আল্লাহ আপানার প্রার্থনা কবু করুন - আমীন।



আলোকিত লেখা ++++

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:২৪

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার উপস্থিতি প্রেরনা যোগায়।

কৃতজ্ঞতা নিরন্তর। কল্যানের দুআ অনি:শেষ।

৫| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:৩৪

অগ্নিবেশ বলেছেন: এই দুনিয়া আপনাদের জন্য উপযুক্ত নহে।

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:২৯

নতুন নকিব বলেছেন:



সুন্দর বলেছেন।

আপনার দৃষ্টিতে আমরা যারা এই পৃথিবীতে থাকার অনুপযুক্ত তাদের একটা লিস্ট তৈরি করে এই পৃথিবী থেকে পর্যায়ক্রমে সবাইকে বহিষ্কার করা যেতে পারে। এই গুরুদায়িত্ব শুরু করার জন্য আপনার চেয়ে উপযুক্ত কাউকে আপাতত দেখছি না।

কেমন আছেন, ভাই? একটু মজা করলুম। প্রায়শ আপনার উপস্থিতি উপভোগ করি। আপনার জন্য কল্যান কামনা। অনেক অনেক ভালো থাকুন।

৬| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৪২

অগ্নিবেশ বলেছেন: আমি চাই কালা ধলা ন্যালা ভুলা সবাই এই পৃথিবীটারে ভাগযোগ করে উপভোগ করুক। আপনারাই শুধু একসাথে থাকতে চান না। শুধু নিজোগোই সেরা ভাবেন, নিজোগো সেরা ভাবলে অন্যগোর সাথে কিভাবে বন্ধুত্ব হইবো? আপনিও অনেক ভালো থাকুন, বেহস্ত যতই সুন্দরই হোক আমাদের ছেড়ে যাইয়েন না।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:০৬

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার চাওয়ার সাথে দ্বিমত করে কে? আমরা কবে আপনার সাথে থাকতে চাইনি? আচ্ছা, এমন মানবিকতার নামই তো ইসলাম। হৃদয়ে দাগ কেটে যাওয়া আপনার এই মন্তব্যটি আমার কী যে ভালো লেগেছে, বুঝাতে পারবো না।

সেরা আমরা ভাবি না- এর পেছনের কথা দীর্ঘ আলোচনা সাপেক্ষ। সংক্ষেপে বলি, এযাবতকাল (গত প্রায় ১৪৫০ বছর) এর আস্তিক-নাস্তিক, বিজ্ঞানী-ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার-গবেষক, মুহাদ্দিস-মুফাসসির, ধর্মবেত্তা, প্রমুখ সকলের গবেষনায় এটি সুপ্রমানিত যে, কুরআনের মত গ্রন্থ কোনো মানুষের পক্ষে রচনা করা আদৌ সম্ভব নয়। সকলেরই সরল স্বীকারোক্তি- কুরআন সৃষ্টিকর্তার বানী। সৃষ্টিকর্তার বানী হিসেবে কুরআনকে আমরাও মানি। মানি বলেই এতে বর্নিত বিষয়াবলীকে বিনা প্রশ্নে সত্য বলে স্বীকার করে নিই। কুরআন এক আল্লাহতে বিশ্বাসী, শিরক বা অংশীবাদমুক্ত থেকে আল্লাহতে আত্মসমর্পনকারী এই আখেরী নবীর অনুসারীদের শ্রেষ্ঠ জাতি বলে আখ্যায়িত করেছে। এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণও সে আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আয়াত এবং তার সংক্ষিপ্ত তরজমা আপনার অনুধাবনের জন্য উপস্থাপন করছি-

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّهِ

'তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।' সূরাহ আলে ইমরান, আয়াত-১১০

তিনটি গুণের অধিকারী হওয়ার শর্তসাপেক্ষে এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের ঘোষনা দেয়া হয়েছে। সে তিনটি হচ্ছে- ১) সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ২) অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং ৩) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। সত্যিকারার্থে এই তিনটি কাজ কি আজকের মুসলিম দাবিদার এই আমরা করে থাকি? করলেও সমাজের কত পার্সেন্ট মানুষ তা করে থাকি? এই তিন কাজ করলে তো সমাজে কোনো অনাচারই অবশিষ্ট থাকার কথা নয়।

মূলত: একজন সত্যিকারের মুসলিম ব্যক্তির নিকট প্রত্যেক আদম সন্তানই সম্মানের পাত্র। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানব তথা গোটা প্রাণীকুলের প্রতি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা না থাকলে তার মুসলিম দাবি করার অধিকার নেই।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত চমকপ্রদ একটি মন্তব্য রেখে যাওয়ায়।
অনেক অনেক ভালো থাকুন সবসময়।

৭| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২০

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী হলেও মানুষ দুনিয়ার জন্যই বেশি ব্যস্ত।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:১৯

নতুন নকিব বলেছেন:



সত্য কথা বলেছেন।

অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি সুন্দর লিখে থাকেন। সোনালী ব্যাংকের আপনার সেদিনের সেই অভিজ্ঞতার দারুন বর্ণনাটা আজও যেন চোখে ভেসে আছে।

বরাবরই আপনার জন্য শুভকামনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.