নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

আসুন, খুব সহজেই শিখে নিই শুকনো বরইয়ের ঝাল-মিষ্টি আচার রেসিপি

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৩৭



ছবি সংগৃহীত

শুকনো বরইয়ের ঝাল-মিষ্টি আচার রেসিপি

এখন চলছে বরইয়ের সিজন। কিছুদিন পরই পাকা বরই শুকিয়ে অনেকে রেখে দিবেন। শুধু বরই রিজার্ভ করে না রেখে, শুকনো বরই দিয়ে তৈরি করতে পারেন মজাদার আচার। আর অন্য সব আচার থেকে এটা তৈরি করা অনেক সহজ।

তবে আচার বানানোর সাথে সাথে বরই সম্পর্কে কিছু তথ্যও জেনে নেয়া ভালো। মজার ব্যাপারই বটে! বরই -এর কিন্তু সরাসরি কোনো ইংরেজি নাম নেই! তবে সাধারণত একে Jujube বা Chinese date নামে ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ziziphus বা zizyphus। বরই শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। শুকনো বরই দিয়ে চমত্‍কার চাটনি ও আচার তৈরি করা যায়। কাঁচা বরইয়ের মতো শুকনো বরইয়েরও রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ।

বরই, বড়ই বা কুল আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটা ফল। যদিও এর আদি নিবাস আফ্রিকা, তবু বাংলাদেশে তো বটেই এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় বহুল পরিচিত একটি ফল। আমাদের দেশে ডিম্বাকার বরইকে সাধারণত 'কুল বরই' বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Zizyphus mauriti। বরই শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। শুকনো বরই দিয়ে চমৎকার চাটনি ও আচার তৈরি করা যায়। কাঁচা বরইয়ের মতো শুকনো বরইয়েরও রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ। শুকনো বরই দিয়ে তৈরি করা যায় মজার মজার আচার যা সংরক্ষণ করা যায় সারা বছর। রইলো শুকনো বরই দিয়ে ঝাল-মিষ্টি আচার তৈরির রেসিপি। এটা তৈরি করা যেমন সহজ, খেতে তেমনই মজা!

উপকরণ :
শুকনো বরই- ১ কেজি, চিনি- ৩৫০ গ্রাম, লবণ- স্বাদমতো, সরিষার তেল- ৫০০ মিলিলিটার, আদা বাটা- ১ টেবিল চামচ, রসুন কুচি- ২ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ- ৮টি, মরিচ গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়া- ১ টেবিল চামচ, জিরা ভেজে গুঁড়া করা- ১ টেবিল চামচ, ভিনেগার- ২৫০ মিলিলিটার

প্রস্তুত প্রণালী :
-শুকনো বরইগুলো আচার বানানোর আগের রাতে বোঁটা ফেলে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারারাত।
-পরদিন বরইগুলো থেকে পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে ফেলুন।
-শুকনো মরিচ ছাড়া বাকি সব মশলা একটি পাত্রে নিয়ে তাতে ভিনেগারটুকু ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
-একটি পাত্রে তেল নিয়ে চুলোয় বসান। তেল গরম হয়ে এলে এতে সবটুকু মশলা দিয়ে দিন।
-এরপর এতে চিনি ও লবণ দিয়ে ভালো করে কষান।
-কিছুক্ষণ পর এতে শুকনো মরিচ ও বরইগুলো দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।
-থকথকে হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন।
-আচার ঠাণ্ডা হলে বয়ামে তুলে ফেলুন।

এই আচার বয়ামে সারা বছর সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। চিনির পরিবর্তে গুড় দিয়েও এই আচার করা যায়। সেক্ষেত্রে গুড় আগেই গলিয়ে নেবেন।

তাই আসুন, দেরি না করে সুস্বাদু মুখরোচক বরইয়ের আচার বানিয়ে ফেলুন খুব সহজেই।

জেনে নেয়া যাক বরইয়ের কিছু গুণাগুণ:
বর্তমানে আমাদের দেশে নানা জাতের বরইয়ের চাষ হয়ে থাকে। চাষীদের নিকট অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি শীতের অন্যতম ফসল এই বরই।

চর্মরোগে বরই
আমাদের দেশে সহজলভ্য বিভিন্ন প্রজাতির বরইয়ে বিদ্যমান ভিটামিন সি গলার ইনফেকশন জনিত অসুখ যেমন-টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বাতে ঠাণ্ডাজনিত লালচে ব্রণের মতো ফুলে যাওয়া, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া রোধ করে।

যকৃতের কাজের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে
যকৃতের কাজের ক্ষমতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয় বরই।

বরই এর রস অ্যান্টি ক্যান্সার
বরই এর রস অ্যান্টি ক্যান্সার ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ফলে রয়েছে ক্যানসার সেল, টিউমার সেল, লিউকোমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ শক্তি।

বহু রোগের প্রতিষেধক বরই
উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই ফল যথেষ্ট উপকারি। রক্ত বিশুদ্ধকারক হিসেবে বরইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ডায়েরিয়া, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তের হিমোগ্লোবিন ভেঙে রক্তশূন্যতা তৈরি হওয়া, ব্রঙ্কাইটিস -এসব অসুখ দ্রুত ভালো করে বরই। খাবারে রুচি আনার জন্যও এই ফলটি দারুন ভূমিকা পালন করে।

মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বরই।

স্ট্রেস হরমোন আমাদের মনে অবসাদ আনে, দুঃখ-কষ্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, নিদ্রাহীনতা তৈরি করে। নিদ্রাহীনতা দূর করার পাশাপাশি স্ট্রেস হরমোন নিসরনের মাত্রা কমায় এই ফল।

বরইয়ের খোসা খাবার হজমে সাহায্যে করে।

উচ্চমানের ভিটামিন এ রয়েছে এই ফলে।

আর ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং কোলস্টেরল কমানোর জন্য রয়েছে এর চমকপ্রদ ক্ষমতা।

উৎসর্গঃ যার প্রেরণায় এই পোস্ট এবং অদ্য রাতেই যিনি তৈরি করেছেন মজাদার বরইয়ের আচার- আমার সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সেই প্রিয়তমা অর্ধাঙ্গিনীকেই।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৪৫

আখেনাটেন বলেছেন: দিলেন তো মাঝরাতে মুখে পানি এনে... :P

চমৎকার পোস্ট নতুন নকিব ভাই।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:৫২

নতুন নকিব বলেছেন:



বরইয়ের টক-ঝাল আচার সত্যি লোভনীয়। মুখে পানি আসার মতই।

আপনার আগমনে মুগ্ধতা।

কৃতজ্ঞতাসহ শুভকামনা।

২| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:০৮

মনিরা সুলতানা বলেছেন: চমৎকার উৎসর্গ !!
একদম ঠিকঠাক গুছিয়ে লেখা ভাইয়া।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:৫৬

নতুন নকিব বলেছেন:



তিনি অনেক ভালো রাধুনি। চমৎকার সব আচার বানাতে পারেন।

হৃদ্যতাপূর্ণ মন্তব্য পেয়ে আপ্লুত।

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক শুভকামনা।

৩| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৩

ব্লগ মাস্টার বলেছেন: ভালো লাগল মাঝরাতের বরইয়ের রেসিপি।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:১০

নতুন নকিব বলেছেন:



মাঝরাতের বরইয়ের রেসিপি? হ্যা, ঠিকই বলেছেন। পোস্ট তো মাঝরাতেরই।

ধন্যবাদ শুভকামনা।

৪| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:০১

রাজীব নুর বলেছেন: আচার আমার একেবারেই খাওয়া হয় না।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:০৮

নতুন নকিব বলেছেন:



অসংখ্য ধন্যবাদ।

অল্প অল্প করে খাওয়া উচিত। এটি অনেক উপকারী একটি ফল।

৫| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:২৮

জুন বলেছেন: প্রিয় বরই এর আচারের রেসিপি ভালোলাগলো নতুন নকিব। ভাবীকে ধন্যবাদ। এবার ওনার রেসিপি মত বানাবো :)

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:১৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ভাবীর রেসিপি ভালো লেগেছে এবং আপনার ট্রাই করার ইচ্ছেকে স্বাগত। ভাবীকে আপনার মন্তব্য দেখিয়েছি। তিনি আনন্দিত হয়েছেন এবং আন্তরিক মন্তব্যের জন্য আপনাকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

৬| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

হাবিব স্যার বলেছেন: মুখে জল চলে এলো :P

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:০৫

নতুন নকিব বলেছেন:



বেড়াতে আসার দাওয়াত থাকলো। সময় করে এসে পড়েন একবার ইনশাআল্লাহ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.