নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন আমল, পর্ব- দুই

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৩৩



গতকালের পর ....

দ্বীনের খেদমতগার উলামায়ে হক এর গীবত শেকায়েত করা থেকে বেঁচে থাকুন

দেখতে আকার আকৃতিতে ছোট মনে হলেও গীবত এমনিতেই মস্ত বড় অপরাধ। আবার সেই অপরাধটি যদি সংঘটিত হয় আলেম উলামাদের বিরুদ্ধে তাহলে গীবতের গোনাহর সাথে আরেকটি অপরাধ যুক্ত হল। রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রেখে যাওয়া এই দ্বীনের জিম্মাদারিতে নিয়োজিত উলামায়ে হক এর অর্থহীন সমালোচনা থেকে বেঁচে থাকুন। কারণ, জেনে রাখা বিধেয়, এই কাজটিতে কোনো লাভের আশা তো করাই যায় না, বরং নিজের আমলনামা ভারী হওয়ার পাশাপাশি এতে নিজের দ্বীন এবং ঈমানের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। হ্যাঁ, তারাও যেহেতু মানুষ, ভুল ভ্রান্তি তাদেরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে থাকতেই পারে। ভুল ত্রুটি মুক্ত থাকতে হলে তো ফেরেশতা হওয়ার প্রয়োজন। তাদের কোনো ভুল যদি আপনার চোখে ধরা পড়ে, তাহলে সম্ভব হলে তাদের সাথে সাক্ষাত করে বিনীতভাবে তাকে বিষয়টি অবহিত করুন। আপনার পরামর্শ তাকে শোনান। যদি তা সম্ভব না হয়, মোবাইল ইন্টারনেটের এই যুগে তার নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে ফোনে বিষয়টি জানাতে পারেন, যাতে তাদের সেসব ভুলের সংশোধন হয়ে যায়। এরকম সম্ভব আরও যেসব পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো এপ্লাই করা যেতে পারে। কেন বেহুদা গীবত শেকায়েত করে অন্যের পাপের বোঝা নিজের ঘাড়ে তুলতে যাবেন?

ইদানিংকালে অনেক লোককেই দেখা যায়, নিজে আলেম না হয়েও যত্রতত্র আলেম উলামাদের ভুল ধরে বেড়ান। তাদের শানে অকথ্য শব্দপ্রয়োগ করে তাদের সম্মানহানির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেও পিছপা হন না। এটা খুবই গর্হিত কাজ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, কিছু লোক যেন শুধুমাত্র আলেম উলামাদের দোষ তালাশেরই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা এই বিষয়ে সদা সতর্ক। অতিরঞ্জন, মিথ্যাচার, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াসহ আলেম উলামাদের সাথে শিষ্টাচার পরিপন্থী ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে তারা কি সত্যিই অন্যের ভুল সংশোধনের ইচ্ছে পোষন করছেন? না কি নিজেদেরই বিপথগামীদের কাতারে যুক্ত করে নিচ্ছেন? ইদানিং এমনটাও লক্ষনীয়, অনেকে নিজের ইচ্ছের মাপকাঠিতে উলামায়ে কেরামের ভুল ধরতে চান। যদিও ইসলাম ধর্মের নিয়মানুসারে কোনটা যে ভুল আর কোনটা সঠিক তা-ও তার জানা নেই। জানা না থাকলেই কি? একা একা গবেষণা করেই কিংবা আল্লাহওয়ালাদের সুহবত-সাহচর্য বঞ্চিত দলছুট তথাকথিত আধুনিকমনা টেডি টাইপের শর্টকাট লাইনের মিডিয়াপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদদের অনুসরণ করে দীনদার হতে চান। এই পথ সঠিক পথ নয়। এই পথ মদিনার পথ নয়। এই পথ স্পষ্টতই গোমরাহী ও বিপথগামীতার। তাই হকপন্থী আলেম উলামাদের সুহবত-সাহচর্য-সান্নিধ্য পরিহার করে দ্বীনের শেকড় কাটা নব্য কোনো ফিরকার ফাঁদে পা দেয়ার আগে আপনাকে ভাবতে হবে শতবার।

মালফুজাতে ইলিয়াস রহ. থেকে

হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন, একজন সাধারণ মুসলমানের প্রতিও অকারণে কুধারণা করা ধ্বংস টেনে আনে। আর আলেমদের সমালোচনা তো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তাবলিগের নিয়মে মুসলমানের ইজ্জত ও আলেমদের সম্মান মৌলিক বিষয়। প্রত্যেক মুসলিমকে ইসলামের কারণে সম্মান করা উচিত এবং ইলমের কারণে আলেমদের অনেক সম্মান করা উচিত। [মালফুজাতে ইলিয়াস রহ. : ৫৬]

মুবাল্লেগগণ ‘আলেম ও আহলে জিকির’ এর সোহবতে উপকৃত হবে

হজরত আরও বলেন, ইলম ও জিকিরের কাজ এখন পর্যন্ত আমাদের মুবাল্লেগদের আয়ত্তে আসেনি। এটি আমাকে অনেক চিন্তিত করে। তা অর্জনের পথ হলো, এদের আলেম ও আহলে জিকিরের কাছে পাঠাতে হবে। তাহলে এরা তাদের তত্ত্বাবধানে তাবলিগ ও করবে এবং তাদের ইলম ও সোহবতে উপকৃতও হবে। [মালফুজাতে ইলিয়াস রহ. : ৫৬]

(যেমন-আমরা ছয় সিফতের ‘ইলম ও জিকিরের সিফতের’ আলোচনায় বলি, ফাযায়েলের ইলম আমরা তালিমের হালকায় বসে শিখি আর মাসায়েলের ইলম আমরা হক্কানি আলেমদের কাছে গিয়ে শিখি।)

হাদিসে এসেছে, প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

‘কুন আলিমান, আও মুতাআল্লিমান, আও মুহিব্বান, আও মুত্তাবিয়ান, ওয়ালা- তাকুন খামিছান ফাতুহলাকু।' (আল মুদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা বায়হাক্বী।

অনুবাদ: 'তুমি আলেম হও অথবা আলেমের ছাত্র হও অথবা আলেমকে মুহব্বত করো অথবা আলেমের অনুসারী হও। কিন্তু পঞ্চম ব্যক্তি হবে না, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে। অর্থাৎ হক্কানী আলেমের অনুসারীও যদি না হও, তবে শয়তান তোমাকে ধ্বংস করে দিবে।

হকপন্থী আলেম উলামাদের সাথে মুহাব্বত রাখা ঈমানেরও পরিচায়ক। যেহেতু আলেম উলামাগন রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ারিস তথা উত্তরসূরী। প্রিয় নবীজীকে যারা ভালোবাসেন আলেম উলামাদের প্রতিও তাদের রয়েছে অন্তরের গভীর মুহাব্বত। এই মুহাব্বতই কিয়ামতের কঠিন দিনে তাদেরকে রাসূলের পাশে দাড় করিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।

কথায় বলে না-

যার সাথে যার মুহাব্বত ,
তার সাথে তার কিয়ামত।

এই কথাটি মূলত: একটি হাদিসেরই প্রতিধ্বনি। হাদিসখানা হচ্ছে-

'মান তাশাব্বাহা বিকওমিন ফাহুঅ মিনহুম।'

যে যার অনুসরণ অনুকরণ করবে, সে তাদের ভেতরের গন্য হবে।

ইনশাআল্লাহ চলবে .... ।

ছবি: গুগল।

প্রথম পর্ব দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন আমল, পর্ব-এক

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবা্দ। ভালো থাকুন সব সময়। ভালো কাজে সাথে থাকুন সব সময়।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:২৪

নতুন নকিব বলেছেন:



শুকরিয়া। জাজাকুমুল্লাহ।

অনেক অনেক ভালো থাকুন।

২| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:১২

হাবিব স্যার বলেছেন: আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমাল করার তাওফিক দিন

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:২৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার দুআ আল্লাহ পাক কবুল করে নিন।

ভালো থাকুন সারাক্ষন।

৩| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৪৮

মোগল সম্রাট বলেছেন: আপনার কথা মানলে তো চোখ বুজে অন্ধ ভাবে তথা কথিত আলেম ওলামারা যা বলে তাই পালন করে যেতে হয়। কিছু বলা যাবেনা প্রশ্ন করা যাবেনা কোন প্রশ্ন মনে আসলেও তা গীলে ফেলতে হবে। এসব কই পাইছেন?

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৪২

নতুন নকিব বলেছেন:



সম্রাট বলে কথা! তাও আবার মোঘল!

একটু মজা করলুম।

ধন্যবাদ, সাহসের সাথে মুখের উপর এমন প্রতিবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায়।

চোখ বন্ধ করে কাউকে অন্ধ অনুসরণ করা আমিও পছন্দ করি না। তথাকথিত আলেমদের পরিহার করলেই পারেন। সমাজে ফিতনা ফাসাদ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী লোকদের কারণে হক্কানি আলেম উলামাগনও আজ কিছু কিছু মানুষের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হয়েছেন। মূলতঃ এ বিষয়টিই বলতে চেয়েছি।

ভালো থাকবেন।

৪| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৮

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর পষ্ট।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:২০

নতুন নকিব বলেছেন:



অশেষ ধন্যবাদ।

৫| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট।

৬| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫৫

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাই,


খুবই সুন্দরভাবে গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় আলোকপাত করার জন্য। আশাকরি জ্ঞানীরা আপনার লেখা থেকে শিক্ষা নিবেন। আর জ্ঞানপাপীদের হবে হেদায়াত।


আলিমরা পারতেন মাসিক বা ত্রিমাত্রিক কোন একটা কনফারেন্সের আয়োজন করতে, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের ভেতরে জেগে উঠা প্রশ্নগুলো করার মাধ্যমে গীবত থেকে বাঁচতে পারতো। এটা প্রতিটি থানায় থানায় করা যেত।


আবারো ধন্যবাদ আপনাকে।


৭| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৮

ওমেরা বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন । পাপ কাজ থেকে বিরত থেকে ফরজ আমল গুলো সঠিক ভাবে পালন করলে আমাদের অন্যান্য যাবতীয় কাজই ইবাদত হিসাবে গন্য হবে এক ইসলামী স্কলারের আলোচনায় শুনে ছিলাম । আমি এটাই মেনে চলার চেষ্টা করি যদিও ভুল ভ্রান্তি হয়েই যায় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.