নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাদিসের আলোকে দিবারাত্রির নফল নামাজ

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৪০



হাদিসের আলোকে দিবারাত্রির নফল নামাজ

মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত ফরজ। তবে নফলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর অধিকতর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করে। আর নফল ইবাদতের মধ্যে নফল নামাজ আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে। হাদিসে যেসব নামাজের ব্যাপারে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেমন—এক সাহাবি প্রশ্ন করেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কী? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘তুমি আল্লাহর জন্য বেশি বেশি সিজদা করবে (বেশি বেশি নফল নামাজ পড়বে); কারণ তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করো তখনই তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করেন।’ -সহিহ মুসলিম : ১/৩৫৩

নফল নামাজের পরিচয় ও প্রকারভেদঃ

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্তে সতেরো রাকাত ফরজ নামাজ, তিন রাকাত ওয়াজিব বিতির নামাজ, চার ওয়াক্তে বারো রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ, দুই ওয়াক্তে আট রাকাত সুন্নতে জায়েদা নামাজ ছাড়া অন্যান্য নামাজ হলো নফল নামাজ। নফল নামাজের মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত হলো নির্ধারিত নফল নামাজ; যথা: তাহাজ্জুদ নামাজ, ইশরাক নামাজ, চাশত নামাজ, জাওয়াল নামাজ, আউওয়াবিন নামাজ। এ ছাড়া রয়েছে আরও কিছু অনির্ধারিত নফল নামাজ। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ ছাড়া বাকি সব নামাজকেই নফল নামাজ বলা হয়। (কিতাবুস সালাত)।

নফল নামাজের নিষিদ্ধ সময়ঃ

সূর্যোদয়ের সময় সব নামাজ নিষিদ্ধ, সূর্য মাথার ওপর স্থির থাকা অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি, সূর্যাস্তের সময় চলমান আসর ব্যতীত অন্য কোনো নামাজ বৈধ নয়। এ ছাড়া ফজর নামাজের ওয়াক্ত হলে তখন থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর ওয়াক্তে ফরজ নামাজ পড়া হলে তখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো ধরনের নফল নামাজ পড়া নিষেধ। এই পাঁচটি সময় বাদে অন্য যেকোনো সময় নফল নামাজ পড়া যায়। (আওকাতুস সালাত)।

নফল নামাজের নিয়তঃ

নফল নামাজগুলো অধিকাংশই সুন্নত। তাই নিয়তে সুন্নত বলা যাবে, নফল বললেও হবে; সুন্নত–নফল কোনো কিছু না বলে শুধু তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে আরম্ভ করলেও হয়ে যাবে। দুই রাকাতের বেশি নফল নামাজের নিয়ত করে তা ছেড়ে দিলে বা যেকোনো জোড় সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পর বিজোড় সংখ্যায় নফল নামাজ ভেঙে গেলে; পরে এ জন্য শুধু দুই রাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবে। (হিদায়া)

নফল নামাজের সূরা কিরাআতঃ

নফল নামাজ যেকোনো সূরা বা আয়াত দিয়ে পড়া যায়। নফল নামাজে সূরার তারতিব বা ধারাক্রম জরুরি নয়। নফল নামাজের সূরা কিরাআত নীরবে পড়তে হয়; তবে রাতের নফল নামাজ ইচ্ছা করলে সরবেও পড়া যায়। বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্ন নফল নামাজের বিভিন্ন সূরা কিরাআত ও বিশেষ বিশেষ নিয়ম বর্ণিত আছে। সম্ভব হলে তা অনুসরণ করা উত্তম; তবে জরুরি নয়। নফল নামাজে যত ইচ্ছা তত দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করা যায়। এতে রাকাত দীর্ঘ করার জন্য এবং তিলাওয়াতের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য একই রাকাতে বিভিন্ন সূরা ও বিভিন্ন আয়াত পড়া যায় এবং একই রাকাতে একই সূরা বারবার পড়া যায়। নফল নামাজে কিরাআতে তিলাওয়াতের তারতিব বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়। নফল নামাজে রুকু, সিজদাসহ প্রতিটি রুকন বা পর্ব দীর্ঘায়িত করা সুন্নত ও মোস্তাহাব। এ জন্য রুকু ও সিজদায় তাসবিহ অনেকবার পড়া যায় এবং অন্যান্য পর্বে বেশি পরিমাণে বিভিন্ন দোয়া (যা কোরআন-হাদিসে আছে) পাঠ করা যায়। (কানজ)

বিভিন্ন প্রকারের নফল নামাজের বর্ণনাঃ

দিবারাত্রির নফল নামাজ মুমিন জীবনের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। আলহামদুলিল্লাহ, সত্যিকারের মুমিন, আবেদ, জাহেদগণ অত্যন্ত যত্নসহকারে দিন রাতের নফল নামাজগুলো লক্ষ্য রেখে আদায় করেন। নফল নামাজের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ফজিলত উপস্থাপন করছি-

সালাতুত তাহাজ্জুদঃ

ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। পবিত্র কোরআনে তাহাজ্জুদ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশঙ্কায়। আর আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ -সুরা : সিজদা, আয়াত : ১৬

মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।’ -মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩

সালাতুল ইশরাকঃ

সূর্য পরিপূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর ইশরাকের নামাজ আদায় করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করতেন। এ সময় দোয়া, তাসবিহ পাঠ ও দ্বিনি আলোচনা করতেন। সূর্যোদয়ের পর তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এই আমলের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যদেরও উৎসাহিত করেছেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকল; অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে একটি পরিপূর্ণ হজ ও ওমরাহর সওয়াব পাবে।’ -সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬

সালাতুদ দুহাঃ

সূর্য মধ্য আকাশে স্থির হওয়ার আগ মুহূর্তে ‘দুহা’র নামাজ আদায় করা হয়। পৃথকভাবে আদায় করার অবকাশ থাকলেও অনেকেই এটাকে ইশরাকের নামাজ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সময়ের শুরুতে আদায় করলে সেটা ইশরাক আর সময়ের শেষে আদায় করলে দুহা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয়তম (রাসুল সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, যেন আমি তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্যাগ না করি। প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, দুহার নামাজ ও ঘুমানোর আগে বিতর আদায় করা।’ -সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৭৮

সালাতুল আউয়াবিনঃ

মাগরিব ও এশার নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়কৃত ছয় রাকাত নামাজ ‘আউয়াবিন’ নামে পরিচিত। আল্লামা মাওয়ার্দি এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (মুগনির মুহতাজ : ১/৩৪৩)। তবে কেউ কেউ ‘দুহা’ নামাজকেই আউয়াবিনের নামাজ বলেছেন। নাম নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও এই সময় নামাজ আদায়ের গুরুত্ব হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং এগুলোর মধ্যে কোনো মন্দ কথা না বলে, তার আমলনামায় বারো বছর ইবাদতের সওয়াব লেখা হবে।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১১৬৭

তাহিয়্যাতুল অজুঃ

অজুর মাধ্যমে অপবিত্র অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ দুই রাকাত নামাজ আদায় করা হয়। এই নামাজকে বলা হয় তাহিয়্যাতুল অজু। নিষিদ্ধ সময়ের বাইরে যেকোনো সময় এই নামাজ আদায়ের অবকাশ রয়েছে। রাসুলে করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করল তার বেহেশত লাভ হওয়া অবধারিত।’ -সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৪, আবু দাউদ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি অজু ভাঙার পর অজু করল না, সে আমাকে অবজ্ঞা করল; আর যে ব্যক্তি অজু করার পর দুই রাকাত (নফল) নামাজ পড়ল না, সেও আমাকে অবহেলা করল। -হাদিসে কুদসি

তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলিল মাসজিদের নামাজঃ

মসজিদে প্রবেশ করার পর আদায় করার নামাজ। আল্লাহ মসজিদে আসতে পারার কৃতজ্ঞতা ও মসজিদের সময়টুকু ফলপ্রসূ হওয়ার প্রার্থনা হিসেবে এই নামাজ পড়া হয়। নিষিদ্ধ সময় ছাড়া অন্য সময়ে মসজিদে প্রবেশের পর তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যায়। তবে নামাজের জামাত ও ওয়াক্তের নির্ধারিত সুন্নত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়বে না। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করার পর বসে।’ -সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৬৭

তবে যদি মাকরুহ ওয়াক্ত হয়, তাহলে মাকরুহ ওয়াক্ত শেষ হলে পড়বে। এ জন্য বসে অপেক্ষা করতে পারবে। (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)।

সালাতুত তাওবাঃ

নামাজের সময় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই হাদিসে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশনা রয়েছে। সালাতুত তাওবা বিষয়টি আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদসহ অনেক গ্রন্থেই রয়েছে। কোনো গোনাহ হয়ে গেলে; দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে, তাওবা ইস্তিগফার করে, দরুদ শরিফ পড়ে কান্নাকাটিসহ আল্লাহর কাছে দোয়া ও মোনাজাত করলে আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করবেন। এই নামাজকে সালাতুত তাওবা বা তাওবার নামাজ বলা হয়।

আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা পাপ করে ফেলে, এরপর সে ভালোভাবে অজু করে এবং দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ -সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১

সালাতুস সফর এবং দুখুলিল মানজিল ও খুরুজুল মানজিলের নামাজঃ

বাড়ি থেকে সফরে বের হওয়ার আগে চার রাকাত নফল নামাজ পড়া অতীব বরকতময়। এই নামাজকে সালাতুস সফর বা সফরের নামাজ বলা হয়। সফর থেকে বাড়ি ফিরলে বা সফরে গন্তব্যে পৌঁছালে অথবা সফরে কোথাও অবস্থান করলে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে। এই নামাজকে সালাতু দুখুলিল মানজিল বা মঞ্জিলে প্রবেশের নামাজ বলে। একইভাবে বাড়ি থেকে সফরে বের হওয়ার সময় কিংবা সফর থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় বা সফরের মাঝে অবস্থান থেকে রওনা দেওয়ার সময় দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। এই নামাজকে সালাতুল খুরুজিল মানজিল বা মঞ্জিল থেকে প্রত্যাবর্তনের নামাজ বলে। -তান্বিহুল গাফিলিন

সালাতুল হাজাতঃ

সালাতুল হাজাত প্রসঙ্গটি বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মিশকাতসহ বহু হাদিস গ্রন্থে রয়েছে। পাক-পবিত্র হয়ে দোয়া, ইস্তিগফার ও কয়েকবার দরুদ শরিফ পড়ে একাগ্রতার সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষে ১১ বার ‘ইয়া কাজিয়াল হাজাত’ (হে প্রয়োজন পূর্ণকারী) পড়বে এবং আরও কয়েকবার দরুদ শরিফ পড়ে ভক্তি ও মহব্বতের সঙ্গে উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে।

সালাতু কাজায়িদ দাঈন বা ঋণ পরিশোধের নামাজঃ

হজরত আবু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার ঋণ আছে; কিন্তু তা পরিশোধ করার ক্ষমতা নেই। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি দুই রাকাত করে চার রাকাত নামাজ আদায় করো; ইনশা আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে।

সালাতুল ফাকাঃ

হজরত হুসাঈন (রা.) পুত্র আলী (রা.) কে বলেন, বত্স! শোনো, যখন তোমার ওপর কোনো বালা-মুসিবত আপতিত হয় অথবা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি চার রাকাত নফল নামাজ পড়বে। আলী ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি এই নামাজ পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার বিপদ ও অভাব দূর করবেন।

সালাতুস শোকরঃ

মনের কোনো আশা বা ইচ্ছা পূর্ণ হলে অথবা কোনো বিপদাপদ বা বালা-মুসিবত দূর হলে এবং আল্লাহর তরফ থেকে কোনো নিয়ামতপ্রাপ্ত হলে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করতে হয়। একে সালাতুস শোকর বা কৃতজ্ঞতার নামাজ বলে।

সালাতুল মাতারঃ

হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আকাশে মেঘ দেখে যদি কোনো ব্যক্তি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে; আল্লাহ তাকে বৃষ্টির প্রতি ফোঁটায় ১০টি করে নেকি দান করবেন। বৃষ্টির পানিতে গাছপালায় ও তৃণলতায় যত পাতা গজাবে প্রতি পাতার বিনিময়ে তাকে আরও ১০টি করে নেকি দেওয়া হবে।

সালাতুল নাউমঃ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শোয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তা তার জন্য এক হাজার দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও এক হাজার জামাকাপড় (পোশাক) দান করার চেয়ে উত্তম।

সালাতুল সাকরাতুল মউতঃ

হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি মাগরিব ও এশার মাঝখানে দুই রাকাত নামাজ পড়বে; তার মৃত্যুযন্ত্রণা কম হবে। -সূত্র: ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, খাজিনাতুল আসরার, নফল সালাতের ফজিলত

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের পূর্ণ ইখলাসের সাথে দিবারাত্রির নফল নামাজগুলোর পাবন্দি করার তাওফিক দান করুন। সুন্নাত তরিকা অনুযায়ী প্রতিটি নামাজ যথাযথ গুরুত্বের সাথে আদায় করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য হাসিল করার সৌভাগ্য নসিব করুন।

ছবিঃ অন্তর্জাল।

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৫২

নীল মনি বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ ,উত্তম পোস্ট। জাযাকাল্লাহ খায়রান।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২১

নতুন নকিব বলেছেন:



পোস্ট প্রিয়তে নেয়ায় এবং প্রথম মন্তব্যটি রেখে যাওয়ায় অশেষ শুকরিয়া। জাযাকিল্লাহ আহসানাল জাজা।

২| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৫৫

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: জাজাকাল্লাহ খাইরান উপকারী পোস্টের জন্য
আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন আপনাকে

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২০

নতুন নকিব বলেছেন:



উত্তম প্রতিদান আল্লাহ তাআলা আপনাকেও দান করুন। লাইকসহ মন্তব্যে আসায় এবং পোস্ট ভালোলাগায় কৃতজ্ঞতা।

৩| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:০৩

জাহিদ হাসান বলেছেন: ফরজ নামাজই নিয়মিত পড়তে পারি না। আবার নফল নিয়া আসছেন। :((

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১৭

নতুন নকিব বলেছেন:



অভ্যাস করতে থাকুন। ফরজ নফল সবই ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। শুধু নফল নামাজে যারা যত্নবান, দয়া করে তাদের সাথে একটু আধটু সংশ্রব এবং সম্পর্ক বজায় রাখুন, ওঠাবসা অব্যাহত রাখুন, সম্পর্কটা ধরে রাখুন- আল্লাহ চাহেন তো হয়ে যাবে। আর এমনিতেই আপনি তো মা-শাআল্লাহ, কওমি এবং আলিয়া। মানে, দুই ধারারই বরকত নিয়েছেন। শুকরিয়া।

সেই ক্ষেত্রে অনেকেরই এমন সুযোগ কিন্তু হয়ে ওঠে না। যেমন- আমিই তো কওমিতে কখনো ছিলাম না। অতি নগন্য যা ছিলাম, শুধু আলিয়া। আপনার কাছে দুআ চাই। 8-|

৪| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৩

জাহিদ হাসান বলেছেন: আমি কওমী মাদ্রাসায় ২ বছর আর আলিয়া মাদরাসায় ৫ বছর পড়াশোনা করেছি।

কওমীতে পড়েছি- ফরিদাবাদ মাদ্রাসায়। নাজেরা ও কিতাব বিভাগ।
আলিয়া থেকে ৬ এ পড়া শুরু করে দাখিল পাস করেছি- রাউৎকোনা ফাজিল (প্রস্তাবিত কামিল) মাদরাসা, কাপাসিয়া,গাজীপুর। থেকে।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৩১

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বি, শুকরিয়া পুনরায় এসে বিস্তারিত অবহিত করিয়ে যাওয়ায়। যদিও আপনার পূর্বের কোনো এক মন্তব্য থেকে আগেই জেনেছিলাম। B-)

গাজীপুরের সাথে কি আপনার আঁতুর ঘরের সম্পর্ক না কি? হ্যাঁ বা না বললেই হবে। ব্লগ কিংবা উম্মুক্ত সামাজিক মাধ্যমে পারসোনাল ডিটেইলস এড্রেস দেয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম মনে করি।

৫| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫০

জাহিদ হাসান বলেছেন: হ্যা। দাদাবাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:০২

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বি, শুকরিয়া।

অনেক ভালো থাকুন।

আমি খেজুর কেনার টাকা দিইনি বলে আমাকে কিপ্টে বলা হয়েছিল। কিন্তু নিজেই আবার আজ করোনার অযুহাতে মিস্টি খাওয়াতে অপারগতা প্রকাশ করলেন যে! এখন আপনাকে কি বলা উচিত? আপনিই বলে দিন! :)

অথবা, মিস্টির ব্যবস্থা করে ব্লগবাসীকে পোস্ট দিয়ে দাওয়াত দেন! :P

৬| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:১০

রাজীব নুর বলেছেন: হাদিসের আলোকে কোনো ব্যাটা চলে না। চারপাশ দেখে শুনেই এই কথা বললাম।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার ধারণা চমৎকার!

৭| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২১

জাহিদ হাসান বলেছেন: :(

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৬

নতুন নকিব বলেছেন:



B-)

৮| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:০৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ফরজ নামাজ নিয়মিত পড়ি । যেতটুকু সম্ভব ইসলাম মেনে চলতে চেষ্টা করি এবং চেষ্টা থাকবে। সকালে ইসলামের পক্ষে বিকালে বিপক্ষে যেন আল্লাহ না বলায়।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ফরজ নামাজ নিয়মিত পড়ি । যেতটুকু সম্ভব ইসলাম মেনে চলতে চেষ্টা করি এবং চেষ্টা থাকবে। সকালে ইসলামের পক্ষে বিকালে বিপক্ষে যেন আল্লাহ না বলায়।

-ভালো লাগলো আপনার আন্তরিক অভিব্যক্তি। সহজ সরল এবং অত্যন্ত সুন্দর আপনার জীবন। আল্লাহ পাক আপনার জীবনের প্রতিটি বিষয়ে বরকত দান করুন এবং আপনার নেক আমলের আগ্রহকে আরও বৃদ্ধি করে দিন।

৯| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০০

করুণাধারা বলেছেন: আমার জানায় কিছু ভুল ছিল; আমি সালাতুল ইশরাক আর সালাতুল দুহা এক বলেই জানতাম আর বেলা এগারোটার মধ্যে পড়তাম। আপনার এই পোস্ট থেকে সঠিক তথ্য পেলাম।

প্রতি মাসে তিন দিন নফল সিয়ামের উল্লেখ আরেকটি পোস্টেও করেছেন। মাসে বা সপ্তাহে পালনীয় আর কোন নফল সিয়াম নেই?

পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৩২

নতুন নকিব বলেছেন:



শুকরিয়া অশেষ। আপনি নফল নামাজগুলো খুঁজে খুঁজে আদায় করেন জেনে খুবই খুশি হলাম। আল্লাহ পাক আপনার জীবনে বরকত দান করুন। তাঁর সীমাহীন রহমতের চাদরে ঢেকে নিন আপনাকে ও আপনার পরিবারকে।

নফল ও ঐচ্ছিক ইবাদতের ফযীলতও এত বেশি যে, তা মুমিনকে উদ্দীপ্ত ও আগ্রহী করে তোলে। আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এখানে আমরা নফল রোযা সম্পর্কে কিছু জানার চেষ্টায় সামান্য আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ-

হাদীস শরীফে নফল রোযার অনেক প্রকার ও ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যেমন নফল রোযা রেখেছেন, উম্মতকেও এর ফযীলত শুনিয়ে এর প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এখানে কিছু নফল রোযার বৃত্তান্ত তুলে ধরছি, যাতে আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের আমল করতে সুবিধা হয়।

এক. শাওয়ালের ছয় রোযাঃ

হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمّ أَتْبَعَهُ سِتّا مِنْ شَوّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدّهْرِ.

যে মাহে রমযানের রোযা রাখল এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল এটি তার জন্য সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য হবে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৪

সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নববী রাহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমাদের মনীষীদের মতে, উত্তম হচ্ছে ঈদুল ফিতরের পরের ছয় দিন পরপর রোযাগুলো রাখা। তবে যদি বিরতি দিয়ে দিয়ে রাখে বা মাসের শেষে রাখে তাহলেও ‘রমাযানের পরে’ রোযা রাখার ফযীলত পাওয়া যাবে। কারণ সব ছুরতেই বলা যায়, ‘রমযানের পরে শাওয়ালের ছয় রোযা রেখেছে।’ -শরহু সহীহ মুসলিম, নববী

দুই. যিলহজে¦র নয় দিনের রোযা, বিশেষত ইয়াওমে আরাফা বা নয় তারিখের রোযাঃ

যিলহজে¦র নয় দিনের রোযার বিষয়ে হাদীস শরীফে এসেছে-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجّةِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজে¦র নয় দিন রোযা রাখতেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭

আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ.

আরাফার দিনের রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, (এর দ্বারা) বিগত বছরের এবং তার পরের বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৯

সহীহ মুসলিমে হযরত আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসেও এই ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২)

তিন. মুহাররম ও আশুরার রোযাঃ

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أَفْضَلُ الصِّيَامِ، بَعْدَ رَمَضَانَ، شَهْرُ اللهِ الْمُحَرّمُ، وَأَفْضَلُ الصّلَاةِ، بَعْدَ الْفَرِيضَةِ، صَلَاةُ اللّيْلِ.

রমযানের পর উত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা। আর ফরয নামাযের পর উত্তম নামায হচ্ছে রাতের নামায। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৩

হযরত আবু কাতাদা আনসারী রা. থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশুরার রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন-

يُكَفِّرُ السّنَةَ الْمَاضِيَةَ.

এই রোযা বিগত বছরের কাফফারা হয়ে যায়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২

আশুরার রোযার বিষয়ে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রা. বলেন-

كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فِي الْجَاهِلِيّةِ، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصُومُهُ، فَلَمّا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ، صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ، فَلَمّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قَالَ: مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ.

কুরাইশের লোকেরা জাহেলী যুগেও আশুরার রোযা রাখত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রাখতেন। এরপর যখন হিজরত করে মদীনায় এলেন, তখন নিজেও এই রোযা রাখলেন অন্যদেরও রাখার আদেশ দিলেন। এরপর যখন রমযানের রোযা ফরয হল তখন বললেন-

مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ

যার ইচ্ছে সে তা (আশুরার রোযা) রাখতে পারে, যার ইচ্ছে না-ও রাখতে পারে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫২; সহীহ বুখারী, হাদীস ২০০২

চার. শা‘বান মাসে নফল রোযাঃ

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصُومُ حَتّى نَقُولَ: لاَ يُفْطِرُ، وَيُفْطِرُ حَتّى نَقُولَ: لاَ يَصُومُ، فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ.

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অবিরাম) রোযা রাখতেন, যার কারণে আমরা বলতাম, আর বাদ দিবেন না। আবার (অবিরাম) রোযাহীনও থাকতেন, যার কারণে আমরা বলতাম, আর রাখবেন না। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ছাড়া অন্য কোনো মাসে পুরো মাস রোযা রাখতে দেখিনি। তেমনি দেখিনি শা‘বানের চেয়ে বেশি অন্য কোনো মাসে রোযা রাখতে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৬৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫৬

পাঁচ. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখাঃ

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেছেন-

كَانَ النبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَتَحَرّى صَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখার ইহতিমাম করতেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৫

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ، فَأُحِبّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ.

সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। তো আমার পছন্দ, আমার আমল যেন পেশ করা হয় আমি রোযাদার অবস্থায়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৭

ছয়. মাসে তিন রোযাঃ

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

شَهْرُ الصَبْرِ، وَثَلَاثَةُ أَيّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدّهْرِ.

সবরের মাস (রমযান) ও প্রতি মাসে তিন দিন সারা বছর রোযার সমতুল্য। -সুনানে নাসায়ী ৪/২১৮, হাদীস ২৪০৮; মুসনাদে আহমাদ ২/২৬৩, হাদীস ৭৫৭৭

হযরত আবু যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا صُمْتَ مِنْ شَهْرٍ ثَلَاثًا، فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَة.

তুমি যদি মাসে তিন দিন রোযা রাখ তাহলে তের তারিখ, চৌদ্দ তারিখ ও পনের তারিখ রোযা রেখো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৪৩৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৬১; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৪২৪

ইবনে মাজাহর বর্ণনায় আছে-

فَأَنْزَلَ اللهُ عَزّ وَجَلّ تَصْدِيقَ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ: مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا فَالْيَوْم بِعَشْرَةِ أَيّامٍ.

অর্থাৎ আল্লাহর কিতাবে এর সমর্থন রয়েছে, যে নেক কাজ করবে সে তার দশ গুণ পাবে। তো এক দিন সমান সমান দশ দিন। (দ্র. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭০৮)

সাত. এক দিন পর পর রোযাঃ

এই সওমকে হাদীস শরীফে ‘সওমে দাউদ’ বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর একটি চমৎকার ঘটনা হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটি একদিকে যেমন ইসলামী শিক্ষার ব্যাপ্তি, সহজতা ও স্বাভাবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তেমনি সাহাবায়ে কেরামের ইবাদত-প্রিয়তা ও আখিরাতমুখিতারও এক অনুপম নমুনা।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. তাঁর নিজের ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এবং বললেন, আমি কি শুনিনি যে, তুমি রাতভর নামায পড় আর দিনে রোযা রাখ? আমি বললাম, জী হাঁ! তিনি বললেন, এমনটা করো না। (নামাযে) দাঁড়াবে এবং ঘুমাবে, রোযা রাখবে এবং রোযা ছাড়াও থাকবে। কারণ তোমার শরীরেরও তোমার উপর হক আছে, তোমার চোখেরও তোমার উপর হক আছে, তোমার অভ্যাগতেরও তোমার উপর হক আছে এবং তোমার স্ত্রীরও তোমার উপর হক আছে। আর সম্ভবত তোমার আয়ু দীর্ঘ হবে। তোমার পক্ষে এ-ই যথেষ্ট যে, প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখবে, কারণ প্রত্যেক নেক আমলের পরিবর্তে আছে তার দশ গুণ। ফলে এটিই সারা বছরের রোযা হবে। তিনি বলেন, কিন্তু আমি কাঠিন্য অন্বেষণ করলাম, ফলে আমার উপরও কাঠিন্য বর্তাল। আমি বললাম, আমি তো এতদ্ভিন্নেরও সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে প্রতি সপ্তাহে তিন রোযা রাখ। আমি আরো কাঠিন্য অন্বেষণ করলাম, ফলে আমার উপর আরো কাঠিন্য বর্তাল। আমি বললাম, আমি তো এতদ্ভিন্নের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর নবী দাউদের (আলাইহি ওয়া আলা নাবিয়্যিনাস সালাতু ওয়াস সালাম) রোযা রাখ। আমি বললাম, আল্লাহর নবী দাউদের রোযা কী? তিনি বললেন, ‘নিসফুদ দাহর’। (অর্থাৎ একদিন পর একদিন রোযা রাখা।) -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬১৩৪

আল্লাহ পাক আমাদের এগুলোর প্রতি আমল করার তাওফিক দান করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.