নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুরে ইসলামি সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ ও মুসলমানদের অবস্থা

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩১

প্রায় ২০ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১২০ কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত ‘মসজিদ মারুফ’ (Masjid Maarof)। ২০১৬ ইং সালের ১৯ আগস্ট শুক্রবার দৃষ্টিনন্দন চারতলা বিশিষ্ট মসজিদটি উদ্বোধন করেন সিঙ্গাপুরের তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী এবং মুসলিম ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ডক্টর ইয়াকুব ইবরাহিম। মসজিদটিতে একসঙ্গে সাড়ে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় পারবেন। মসজিদটি ২০ জুড়ং (Jurong) ওয়েস্টের, ২৬ নম্বর স্ট্রিট, পোস্টাল কোড সিঙ্গাপুর- ৬৪৮১২৫ এ নির্মাণ করা হয়েছে।

তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুরে ইসলামি সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ ও মুসলমানদের অবস্থা

আমাদের অনেকের ধারণা, তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশে মুসলমান নেই। কারও কারও ধারণা এরচেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে, তারা মনে করে থাকেন, মুসলিম অধ্যুসিত না হওয়ার কারণেই এসব দেশ উন্নতির শিখরে আরোহন করতে পেরেছে। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। তাদের ধারণা, ইসলাম এবং মুসলমান বৈশ্বিক উন্নয়ন, অগ্রতি ও অগ্রযাত্রার পথে অন্তরায়। বস্তুত: জানার চেষ্টা না করে অজ্ঞানতার অন্ধকারে থাকার ফলে হোক, অথবা অন্ধভাবে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই হোক, এইজাতীয় ভ্রান্ত ধারণা যারা পোষন করে থাকেন, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে যারা বৈশ্বিক অগ্রগতি ও প্রগতির অন্তরায় মনে করেন তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার জন্য সঠিক ইতিহাস ও বাস্তব অবস্থা মাঝেমধ্যে তুলে ধরা নিতান্তই প্রয়োজন বৈকি! সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মূলত: দক্ষিন এশিয়ার আয়তনে ছোট কিন্তু অর্থনীতি ও অন্যান্য সূচকে শক্তিমান তিনটি দেশের ইসলাম ও মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে বক্ষমান ক্ষুদ্র নিবন্ধ।

তাইওয়ানে মুসলিম ও ইসলামি সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ

তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ায় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটি দ্বীপ, যা চীনের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় মূল ভ‚খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। অতীতে পর্তুগিজরা এর নাম দিয়েছিল ‘ফরমোসা’, যার অর্থ ‘সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপ’। রাজধানী তাইপে। কাউসিয়াং, তাইবু ও তাইচেং উল্লেখযোগ্য শহর। তাইওয়ানের আয়তন ৩৬ হাজার ১৯৭ বর্গকিলোমিটার। উত্তরে পূর্ব চীন সাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর এবং পশ্চিমে তাইওয়ান প্রণালী। দ্বীপের দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে রয়েছে তিন হাজার মিটার উচ্চতাসম্পন্ন ১০০টি পর্বত। দুই কোটি ৩০ লাখ জনঅধ্যুষিত তাইওয়ানের সাক্ষরতার হার ৯৮.০৫ শতাংশ (২০২১) রাষ্ট্রীয় ভাষা চীনা মান্দারিন হলেও এর তাইওয়ানি ও হাক্কা ভাষা বেশ প্রচলিত। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ তাইওয়ান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই তাইওয়ান শিল্পায়নের পথে ধাবিত হয় এবং এশিয়ার সমৃদ্ধ চার দেশের (ঋড়ঁৎ অংরধহ ঞরমবৎং) মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করে নেয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অন্য তিনটি দেশ হচ্ছে হংকং, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাইওয়ানের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৩২.১২৩ ডলার (জিডিপি, নমিনাল)। বেকারের হার ৩.৭১ শতাংশ মাত্র। ইলেকট্রনিক, কেমিক্যাল, পেট্রো কেমিক্যাল, মেশিনারি, ধাতববস্তু, টেক্সটাইল ও পরিবহন যন্ত্রপাতি হচ্ছে তাইওয়ানের আয়ের মূল উৎস। ২০১০ সালে তাইওয়ানের বার্ষিক রফতানি আয় ২৭৪.৬ বিলিয়ন ডলার।

বহুত্ববাদী সমাজ ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মাঝে সম্প্রীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে চলতি ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তাইপে নগরে অনুষ্ঠিত হয় ১০ দিনব্যাপী মুসলিম শিল্পকলা প্রদর্শনী। সানিয়াৎসেন মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত প্রদর্শনী তাইওয়ানের জনগণের মাঝে ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারণাকে উচ্চকিত করে। অ্যারাবিক ক্যালিগ্রাফি, ইসলাম ধর্মের শান্তি ও সম্প্রীতির বৈশিষ্ট্য, ইসলামী সংস্কৃতির স্মরণচিহ্ন, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞান, স্থাপত্যশৈলী, তাইওয়ানে ইসলামের বিকাশ, মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে মুসলমানদের অবদান বিশেষভাবে গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দর্শন ও নৌচালনবিদ্যা ইত্যাদি প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়। প্রদর্শিত আইটেমগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক, ওমান, জর্দান, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই। এই প্রদর্শনী ইসলাম এবং অপরাপর সভ্যতা ও সংস্কৃতির পারস্পরিক বন্ধনকে মজবুত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা পালন করবে। মক্কাভিত্তিক রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর মহাসচিব ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ঈসা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান লাভের অনুসন্ধিৎসা জাগায় এই প্রদর্শনী। ধর্মীয় স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ মুসলিম পর্যটক ও দর্শকদের জন্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে প্রার্থনাগৃহ তৈরি করে দেন।

অগ্রগতির পথে তাইওয়ানের মুসলিমরা:

তাইওয়ানে ইসলাম জীবন্ত শক্তি। মুসলমানরা সরকারের প্রতি অনুগত। বহু কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাইওয়ানের মুসলমানরা সামনে এগিয়ে চলেছেন। অমুসলিম পরিবেশে ধর্মচর্চা ও প্রচার করা কঠিন। পর্যাপ্ত মসজিদ না থাকায় অনেক মুসলমানের পক্ষে জুমার নামাজ আদায়ে সমস্যা দেখা দেয়। হালাল খাদ্য সবখানে বিক্রি না করায় দৈনন্দিন জীবনে মুসলমানদের বিপাকে পড়তে হয়। সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম চীনে প্রবেশ করেছিল। মুসলিম ব্যবসায়ীরা চীনে এসে স্থানীয় মেয়েদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ‘হুই’ নামক নতুন মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর জন্ম দেন। চীন থেকে তাইওয়ানে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। সাংবিধানিকভাবে তাইওয়ানে যেকোনো মানুষের ধর্ম অনুশীলন, চর্চা ও প্রচারে কোনো বাধা নেই। ইসলামের বিধিবিধানের পূর্ণাঙ্গ ধারণা ও শিক্ষা তাইওয়ানের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো প্রতিফলিত হয়নি। তবে তারা বংশপরম্পরায় ইসলামের বোধ ও বিশ্বাসকে লালন করে চলেছেন। সীমিত আকারে মুসলিম মেয়েরা পর্দাপ্রথা মেনে চলে। মুসলমানদের স্বচ্ছ ও সুনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা, নৈতিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক সাম্যের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাইওয়ানের বহু মানুষ ইসলাম কবুল না করলেও, ইসলামকে ভালোবাসেন। পশ্চিমাদের অপপ্রচারের কারণে কিছু মানুষের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্তধারণা সৃষ্টি হয়; তবে স্থানীয় মুসলমানদের ইতিবাচক দাওয়াতি প্রচারের কারণে তা দূরীভ‚ত হয়ে যাচ্ছে।

তাইওয়ানে স্বীকৃত বহুধর্ম:

তাইওয়ানে সরকারস্বীকৃত ১৩টি ধর্ম রয়েছে। বৌদ্ধ, তাঈ, রোমান ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট, ইসলাম, লি-ইজম, বাহাই, ও থেনকিকিও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্ধেক জনগোষ্ঠী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাইওয়ানের ভ‚মিপুত্র মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার, যাদের ৯০ শতাংশ হুই নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বাকিরা বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসী। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাইওয়ানে মুসলমানদের সংখ্যা দুই লাখ ৫০ হাজার। তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বেশির ভাগ মুসলমান সুন্নি ও হানাফি মাজহাবের অনুসারী। তাইওয়ানে মসজিদ আছে ১১টি। তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদ হচ্ছে সবচেয়ে বড় মসজিদ। রাজধানী তাইপের দান জেলায় অবস্থিত এ মসজিদের আয়তন দুই হাজার ৭৪৭ বর্গমিটার। তাইপের নগর প্রশাসন ১৯৯৯ সালের ২৬ জুন ঐতিহাসিক মসজিদ হিসেবে এটিকে তালিকাভুক্ত করে।

তাইওয়ানে মুসলিম আগমন:

সপ্তদশ শতাব্দীতে মুসলমানরা সর্বপ্রথম তাইওয়ানে বসতি স্থাপন করে। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৬৬১ সালে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হতে ডাচদের বিতাড়িত করার উদ্দেশ্যে কক্সিঙ্গার নেতৃত্বে বহু মুসলিম পরিবার চীনের উপক‚লীয় প্রদেশ কুজিয়ান থেকে তাইওয়ানে আসে। তারাই তাইওয়ানের প্রথম মুসলিম অভিবাসী। ১৯৪৯ সালে চীনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ২০ হাজার মুসলিম পরিবার মূল ভ‚খণ্ড ত্যাগ করে তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়। শরণার্থীর মধ্যে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলের বিশেষত ইউনান, জিনজিয়াং, নিনগক্সিয়া ও গানচু এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিম সেনাসদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তাইওয়ানে এসে বসতি স্থাপন করে। ১৯৫০ সালের দিকে চীনের হান মুসলমানদের সাথে তাইওয়ানের মুসলমানদের যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

তাইওয়ানের বেশির ভাগ মুসলিম ধর্মান্তরিত:

১৯৮০ সালের দিকে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বিপুলসংখ্যক মুসলমান তাইওয়ানে পাড়ি জমায়। বর্তমানে তাইওয়ানের বেশির ভাগ মুসলমান নতুন ধর্মান্তরিত। ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশি। তারা ইসলাম কবুল করে মুসলমানদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এভাবে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

তাইওয়ানের কীর্তিমান কয়েকজন মুসলিম:

তাইওয়ানে জন্ম গ্রহণকারী অথবা তাইওয়ানে বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে বহু নামীদামি মুসলমান আছেন যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিচিত ও কীর্তিমান। তাদের মধ্যে বাই চংক্সি (১৮৯১-১৯৬৬) অন্যতম, যিনি চীনা সেনাবাহিনীতে জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা বুকিং (১৯০১-১৯৭৭) আরেকজন মুসলিম জেনারেল, যিনি ১৯৪২-৪৩ সালে চীনা সেনাবাহিনীর ৪০তম গ্রুপের ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মা চেং জিয়াং (১৯১৪-১৯৯১) আরেকজন মুসলিম জেনারেল, যিনি চীন সরকারের অধীনে ন্যাশনাল রেভ্যুলুশনারি আর্মিতে জেনারেল (১৯৪৪-১৯৬৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে পঞ্চম ক্যাভালরি ডিভিশনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ছিলেন। মা চিং চিয়াং নামক মুসলিম জেনারেল তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট চিয়াং কাই শেকের উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭০ সালে কম্বাইন্ড সার্ভিস ফোর্সেসের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইউলবার খান (১৯৫১-১৯৭০) জিনজিয়াং প্রদেশের গভর্নর ছিলেন। গভর্নর হিসেবে যোগ দেয়ার আগে ন্যাশনাল রেভ্যুলুশনারি আর্মির জেনারেল (১৯৪৪-১৯৫১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েতে রাষ্ট্রদূত ছিলেন মুসলিম ওয়াং সি মিং

ওয়াং সি মিং নামক আরেকজন মুসলমান তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েতে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। চীনা মুসলিম সমিতির ব্যবস্থাপনায় তাইওয়ানের মেধাবী মুসলিম শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মুসলিম দেশে বৃত্তি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে এগিয়ে চলেছে। রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থার সাথে তাইওয়ানের মুসলমানদের যোগাযোগ রয়েছে। সরকারি কোটায় মাত্র ২২ জন মুসলমান হজ করার অনুমতি থাকলেও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০ জনের মতো প্রতি বছর মক্কা নগরী সফর করে হজ পালন করেন। তাইওয়ানের রাষ্ট্রপ্রধান হাজীদের মক্কা যাত্রার প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি ভবনে স্বাগত জানান।

তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদ তাইওয়ানের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা:

তাইপে মসজিদে এসে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে থাকেন। ২০০০ সালে সৌদি বাদশাহ ফাহাদ ইবন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে তাইওয়ানের ৩২ জন মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালন করেন। তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদ তাইওয়ানের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা। আরবি ও পারস্য স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে তৈরি করা এ মসজিদে এক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদ কম্পাউন্ডে রয়েছে ৪০০ আসনের মিলনায়তন, যেখানে সেমিনার, ওয়াজ মাহফিল ও সিরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় নিয়মিত। নামাজ বা ইবাদতের পাশাপাশি প্রতিটি মসজিদে বিশেষত সাপ্তাহিক বন্ধ ও সাধারণ ছুটির দিনে কুরআন ও ধর্মীয় তা’লিম চলে।

তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শন করেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান:

১৯৬০ সাল থেকে স্থানীয় মুসলমান ও বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদ কাম ইসলামিক সেন্টার মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে আসছে। সৌদি আরবের তদানীন্তন বাদশাহ ফয়সাল, জর্দানের বাদশাহ হোসাইন ও মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট টুংকু আবদুর রাহমান তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শন করেন। তাইপে গ্র্যান্ড মসজিদে ৩০ জন নিবন্ধিত কিশোর শিক্ষার্থীকে শনি ও রোববার দুই ঘণ্টাব্যাপী ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলির ওপর পাঠদান করা হয়। তাইওয়ানে মসজিদকেন্দ্রিক যে সমাজ গড়ে উঠেছে সেখানে যেকোনো অপরাধের জন্য বয়োজ্যেষ্ঠদের একটি কাউন্সিল সর্বদা সতর্ক থাকে এবং অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হয়, যাতে সমাজ কলুষিত না হতে পারে। মুসলিম তরুণ-তরুণীরা যাতে শূকরের মাংস ও মাদকের প্রতি আসক্ত না হয়ে পড়ে সে জন্য রয়েছে রীতিমতো কাউন্সেলিং ও পারিবারিক দীক্ষা।

তাইওয়ানে দায়ী এবং আলেমের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন:

ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যের সাথে তাইওয়ানের বাণিজ্যসম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। তাইওয়ানের মুসলিম সমাজে আলেমের সংখ্যা একেবারে নগণ্য। উচ্চপর্যাযের মাদরাসা না থাকায় পর্যাপ্ত আলেম সৃষ্টি হচ্ছে না। ইসলামী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষার্থীকে বাইরে পাঠানো হচ্ছে, যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তাদের মধ্যে কিছু কূটনৈতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ লাভ করেন।

তাইওয়ানে দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা:

দাওয়াতি তৎপরতা জোরদার করার লক্ষ্যে রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী ও ওয়ার্ল্ড অ্যাসেমব্লি অব মুসলিম ইয়ুথের যৌথ উদ্যোগে মাঝে মধ্যে তরুণদের জন্য ক্যাম্প ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের স্কলাররা এতে প্রবন্ধ পাঠ করে থাকেন। চাইনিজ মুসলিম সমিতির সহায়তায় ইবরাহিম বাও সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে তাইওয়ানে শরিয়াহ প্রশিক্ষণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি রাবেতার কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

চীনা ও মান্দারিন ভাষায় কুরআন, হাদিস এবং ইসলামী বইয়ের অনুবাদে উদ্যোগ প্রয়োজন:

তাইওয়ানে চীনা ও মান্দারিন ভাষা প্রচলিত। মা-জুন চীনা ভাষায় পবিত্র কুরআন এবং চেন কি লি মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নির্বাচিত হাদিসগুলো তরজমা করেছেন। এ ছাড়া ছোটখাটো দ্বীনি পুস্তিকা চীনা ও মান্দারিন ভাষায় অনূদিত হয়। চীনা ও মান্দারিন ভাষায় আরো ইসলামী গ্রন্থ বিশেষত পূর্ণাঙ্গ তাফসিরে কুরআন, সিরাতে রাসূল, সাহাবাদের জীবনী, জীবন গঠনে সহায়ক ইসলামী ফিকহ প্রণয়ন ও অনুবাদ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য অনান্য দেশের মুসলমানদের এগিয়ে আসতে হবে। সেমিনার, ইসলামী সম্মেলন, ব্যক্তিগত দাওয়াত, সামাজিক জনহিতকর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাইওয়ানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শে গড়ে তোলা হচ্ছে এ মুহূর্তের বড় কাজ। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে মেহনতি প্রয়াস চালানো হলে আশপাশের দেশে ইসলামের মর্মবাণী পৌঁছিয়ে দেয়া সহজ হবে।

হংকংয়ে মুসলিম ও ইসলামি সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ

হংকংয়ের আয়তন ১১১০.১৮ বর্গ কিলোমিটার। দেশটির জনসংখ্যা ৭৫ লাখের বেশি। হংকং নিয়ে চীনের সঙ্গে বিশাল রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। বিশ্ব দরবারে হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আশার কথা হলো দেশটিতে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে ইসলাম।

গণচীনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই মহানগরটি পরিণত হয়েছে বহু মসজিদের নগরী হিসেবে। একটি নির্মাণাধীন মসজিদসহ বর্তমানে হংকংয়ে মসজিদের সংখ্যা সাতটি। এ ছাড়া মুসলিমদের জন্য ৭০টি স্বীকৃত হালাল রেস্টুরেন্ট, পাঁচটি ইসলামিক স্কুল, কয়েকটি মাদ্রাসা ও দুটি পৃথক কবরস্থান রয়েছে।

হংকংয়ে মুসলিম জনসংখ্যা ৩ লক্ষাধিক:

১৯৯৩ সালে এ অঞ্চলে মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার আর ২০১৬ সালে মুসলমানের সংখ্যা তিন লাখ অতিক্রম করে। ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান মতে হংকংয়ে মুসলিম জনসংখ্যা ৪.১ ভাগে উন্নীত হয়। বৌদ্ধ, তাওবাদ ও খ্রিস্ট ধর্মের পর ইসলাম হংকংয়ের চতুর্থ বৃহত্তম ধর্ম। তবে হংকংয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী। হংকংয়ে বসবাসকারী মুসলিমদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ান। এ ছাড়া ৪০ হাজার চীনা মুসলিম, ৩০ হাজার পাকিস্তানি মুসলিম রয়েছে। রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের মুসলমানও। হংকংয়ে কয়েকটি ইসলামি সংগঠন সক্রিয়। এসব সংগঠন সামাজিক ব্যাপক কাজ করে থাকে। সরকারের সঙ্গে মুসলমানদের স্বার্থ ও দাবি-দাওয়া নিয়ে দেন-দরবার করে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার বছর আগে হংকং ভূমির জন্ম হয় এবং ছয় হাজার বছর আগে সেখানে মানববসতি গড়ে ওঠে। খ্রিস্টপূর্ব ২১৪ সালে হংকংকে কিন সাম্রাজ্য হংকংকে চীনের অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ১৮৪১ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর আধুনিক হংকংয়ের যাত্রা শুরু হয়। স্বীকৃত ইতিহাস অনুযায়ী ব্রিটিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতীয় মুসলিমরা হংকংয়ে পদার্পণ করলে সেখানে ইসলাম বিকশিত হতে শুরু করে। ব্রিটিশ প্রশাসনই হংকংয়ে মসজিদ ও মুসলিম কবরস্থান নির্মাণের জন্য জায়গা প্রদান করে। সে সময় আসা বেশির ভাগ মুসলিমই ছিলেন সেনা সদস্য। তবে তাদের মধ্যে মুসলিম ব্যবসায়ীও ছিলেন।

হংকংয়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার:

১৮৫০ সালে মুসলমানরা প্রথম জামে মসজিদ নির্মাণ করেন ৩০ শেলি স্ট্রিটে। ‘জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত এই মসজিদের প্রথম ইমাম ছিলেন আলহাজ আবুল হাবিব সৈয়দ মোহাম্মদ নুর শাহ। ১৯১৫ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মিত হয়। হংকংয়ের দ্বিতীয় মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৯৬ সালে নাথান রোডে ভিক্টোরিয়া হার্বারের পাশে, যা কলিন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নামে পরিচিত। ১৯৭৬ সালে সিম শ সুইয়ের মধ্য দিয়ে রেললাইনের টানেল করার সময় মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৮০ সালে তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করা হয়। মসজিদে আম্মার হংকংয়ের তৃতীয় মসজিদ। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের নামের সঙ্গে ‘সাদিক’ শব্দটি পরে যুক্ত করা হয়। সাদিক ছিলেন এক চীনা মুসলিম স্থপতি। তিনি মসজিদে আম্মারের প্রতিষ্ঠাতা ও নকশাকারী। অন্য মসজিদগুলোর নাম চাই ওয়ান মসজিদ, স্ট্যানলি মসজিদ ও ইবরাহিম মসজিদ। সবগুলো মসজিদে নামাজের সময় মুসল্লিদের প্রচণ্ড ভিড় হয়। হংকংয়ের আরও কয়েকটি মসজিদ স্থাপন করা জরুরি, সে বিষয়ে মুসলিম সংগঠনগুলো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

হংকংয়ের অর্থনীতি বিশেষ করে ইসলামি সূচক বৃদ্ধিতে বেশ ভূমিকা রাখছে মুসলিমরা:

ব্রিটিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি ইসলামি অর্থব্যবস্থা (Islamic finance system) প্রবর্তন করে। ২০০৭ হংকংয়ে অবস্থিত ‘আরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ প্রতিষ্ঠা করে ‘এইচকে ইসলামিক ইনডেক্স।’ হংকংয়ের অর্থনীতি বিশেষ করে ইসলামি সূচক বৃদ্ধিতে বেশ ভূমিকা রাখছে মুসলিমরা। ইসলামিক ইউনিয়ন অব হংকং, ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, হংকং ইসলামিক ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, ইউনাইটেড মুসলিমস অ্যাসোসিয়েশন অব হংকং অত্র অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য ইসলামি সংগঠন। এসব সংগঠন থেকে রমজানের ঘোষণা, ফিতরার পরিমাণ ও আধুনিক বিভিন্ন মাসয়ালা প্রদানসহ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল:

হংকং বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। ২০২০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রসমূহের সূচক তালিকাতে হংকং ৬ষ্ঠ অবস্থানে এবং এশিয়ার মধ্যে ৪র্থ অবস্থানে ছিল (টোকিও, সাংহাই ও সিঙ্গাপুরের পরে)। হংকং বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রপ্তানিকারক ও ৯ম বৃহত্তম আমদানিকারক অঞ্চল। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে এর অবস্থান ছিলে চতুর্থ।

সিঙ্গাপুরে ইসলামি সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ ও মুসলমানদের অবস্থা:

সিঙ্গাপুরে ইসলাম সংখ্যালঘু ধর্ম। ২০১৫ সালের আদমশুমারি অনুসারে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৪% থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে তা ১৭% এ উন্নীত হয়েছে বলে জানা যায়। সিঙ্গাপুরের সিংহভাগ মুসলমানই সুন্নী এবং শাফিয়ী বা হানাফী চিন্তাধারার অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য ছোট ছোট শাখা ও দলের মধ্যে আরব, চীনা, ইউরেশিয়ান এবং ভারতীয় সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাযহাবগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা মুসলমানদের বিদ্যমান অন্যান্য গ্রুপগুলির সাথে ব্যবহারিকভাবে কোনও সমস্যায় পড়েনি। -সিঙ্গাপুরে ১২০ কোটি টাকায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

মূল মুসলিম প্রতিষ্ঠান- মজলিস উগামা ইসলাম সিঙ্গাপুরা:

''মজলিস উগামা ইসলাম সিঙ্গাপুরা'' নামে পরিচিত সিঙ্গাপুরের ইসলামিক ধর্মীয় কাউন্সিল, সিঙ্গাপুরের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রশাসন এবং স্বার্থ দেখাশোনা করে। মজলিসের নেতৃত্বে একটি কাউন্সিল গঠিত হয়, যেখানে এমইউআইএসের রাষ্ট্রপতি, সিঙ্গাপুরের মুফতি এবং মুসলিম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়। কাউন্সিল সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন। ২০০৯ সাল থেকে, কাউন্সিলটির ব্র্যাডেল রোড বরাবর অবস্থিত সিঙ্গাপুর ইসলামিক হাবের সদর দফতর ছিল। সিয়ারিয়া কোর্ট 1880 সালে, ব্রিটিশ কলোনির কর্তৃপক্ষগুলি ইসলামি বিবাহ অধ্যাদেশ প্রবর্তন করে যা সিঙ্গাপুরে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন হিসাবে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি দেয়। ১৯৫৮ সালে, ১৯৫7 সালে মুসলিম অধ্যাদেশের অনুসারে, মুসলিম বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের মামলার বিরোধ শুনানির জন্য এবং নির্ধারণের জন্য এখতিয়ার সহ একটি সিরিয়া আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। আদালত সরকার-অনুমোদিত একটি সেট প্রতিস্থাপন করেছে তবে অন্যথায় নিরীক্ষণযোগ্য কাদি (মুসলিম বিচারকগণ) যেহেতু নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীর traditionsতিহ্য বা মুসলিম আইনের নিজস্ব ব্যাখ্যা দ্বারা অনুসরণ করে তালাক এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলির পূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

দাওয়াহ সংস্থা- হিকমাহ টাইমস:

সিঙ্গাপুরে ইসলামী দাওয়াহ (আমন্ত্রণ / রূপান্তর) আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। অনেকগুলি স্থানীয় / আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে (উদাঃ হিকমাহ টাইমস)। রূপান্তর মুসলিম কনভার্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ সিঙ্গাপুর (দারুল আরকাম নামেও পরিচিত) ধর্মান্তরকারীদের জন্য সহায়তা সরবরাহ করে।

মুসলিম বিবাহ নিবন্ধকরণ:

মুসলিম বিবাহ নিবন্ধকরণ (আরওএমএম) দ্য মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রি এমন একটি সরকারী সংস্থা যা দু'জন মুসলমানের দম্পতির মধ্যে বিবাহ নিবন্ধন করে। মিশ্র ধর্ম ধর্ম বিবাহ রেজিস্ট্রি নিবন্ধিত হয়। পূর্বে, মুসলিম বিবাহ নিবন্ধকরণের পাশাপাশি তালাকও একটি ইউনিটের অধীনে পরিচালিত হত, যা সিয়েরিয়া কোর্ট। এটি প্রথমে ফোর্ট ক্যানিংয়ের একটি বাংলোয় অবস্থিত ছিল এবং পরে 1983 সালে ক্যানিং রাইজে স্থানান্তরিত হয়েছিল। সিয়ারিয়া কোর্ট এবং আরওএমএমের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপিলগুলি আপিল বোর্ড শুনানি এবং নির্ধারিত করে। মুইসের বিপরীতে, সায়রিয়া কোর্ট এবং আরওএমএম সংবিধিবদ্ধ বোর্ড নয় তবে এমএসএফের একটি অংশ (সামাজিক ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রক) গঠন করে।

সিঙ্গাপুরে 70 টি মসজিদ রয়েছে:

সিঙ্গাপুরে 70 টি মসজিদ রয়েছে। মাসজিদ তেমেংগং দায়েং ইব্রাহিম (যা জোহর রাজ্য দ্বারা পরিচালিত) ব্যতীত সিঙ্গাপুরের সমস্ত মসজিদ এমইআইএস দ্বারা পরিচালিত হয়। মসজিদ বিল্ডিং এবং মেন্ডাকি ফান্ড (এমবিএমএফ) ব্যবহার করে তেইশটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তবিশতম এমবিএমএফ মসজিদ মসজিদ আল-মাওয়াদ্দাহ ২০০৯ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছিল। ১৯ 197৪ সালে একটি শব্দ নিরসন অভিযানের অংশ হিসাবে মসজিদের অভ্যন্তরের দিকে প্রচারের জন্য ইসলামিক আহ্বানের সম্প্রচারের দিকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

মাদ্রাসা মূল নিবন্ধ- সিঙ্গাপুরের মাদ্রাসা:

সিঙ্গাপুরে মাদ্রাসার আলজুনিয়াদ আল-ইসলামিয়াদের শিক্ষার্থীরা সিঙ্গাপুরে মাদরাসাগুলি বেসরকারী স্কুল যা মজলিস উগামা ইসলাম সিঙ্গাপুরা (এমইউআইএস, সিঙ্গাপুরের ইসলামিক ধর্মীয় কাউন্সিল)। সিঙ্গাপুরে ছয়টি ফুলটাইম মাদ্রাসা রয়েছে, প্রাথমিক 1 থেকে মাধ্যমিক 4 (এবং জুনিয়র কলেজের সমমানের, বা "বেশ কয়েকটি স্কুলে" প্রাক-ইউ ") শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করে। চারটি মাদ্রাসা সমবায় এবং দুটি মেয়েদের জন্য। শিক্ষার্থীরা মূলধারার এমওই পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলি ছাড়াও ইসলামিক স্টাডিজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের পিয়ার্সের মতো পিএসএল এবং জিসিই 'ও' স্তরে বসে থাকে। ২০০৯ সালে, এমইউআইএস "জয়েন্ট মাদ্রাসা সিস্টেম" (জেএমএস) চালু করে, মাদ্রাসা আল-ইরশিয়াদ আল-ইসলামিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাদ্রাসা আলজুনাইদ আল-ইসলামিয়াহর যৌথ সহযোগিতায় (এই অফারটি সরবরাহ করে) উখরাবি, বা ধর্মীয় স্রোত) এবং মাদ্রাসা আল-আরবিয়া আল-ইসলামিয়াহ (একাডেমিক ধারা সরবরাহ করে)। জেএমএসের লক্ষ্য হল ২০১২ সালের মধ্যে মাদ্রাসা আল-আরবিয়া আল-ইসলামিয়ায় আন্তর্জাতিক স্নাতক (আইবি) প্রোগ্রাম চালু করা ras মাদ্রাসায় পড়া শিক্ষার্থীদের ছেলেদের গানের কক এবং মেয়েদের জন্য টুডং সহ traditionalতিহ্যবাহী মালয় পোশাক পরতে হবে to মূলধারার সরকারী বিদ্যালয়গুলি যেগুলি সিঙ্গাপুর হিসাবে ধর্মীয় শীর্ষস্থান নিষিদ্ধ করেছে তা সরকারীভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যে শিক্ষার্থীরা মূলধারার স্কুলে পড়তে চায় তাদের জন্য তারা সাপ্তাহিক ছুটিতে ক্লাস নেওয়া পছন্দ করতে পারে মাদ্রাসা পরিবর্তে ফুলটাইম তালিকাভুক্ত।

একজন মুসলিম নারী সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট:

নগর রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে একজন মুসলিম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নাম হালিমা ইয়াকুব। মালয় সম্প্রদায়ের ৬২ বছর বয়স্ক এই নারী দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে - Click This Link

আরও কিছু তথ্যসূত্র:

ইসলাম সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে রোষের মুখে সিঙ্গাপুরের নেতা

সিঙ্গাপুরে ইসলাম

মুসলিম চিকিৎসাকর্মীদের হিজাবের অনুমোদন দিল সিঙ্গাপুর সরকার

সিঙ্গাপুরে ১২০ কোটি টাকায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

নির্বাচন ছাড়াই সিঙ্গাপুর পেল প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৫

সাসুম বলেছেন: এদের ইসলাম আর বর্তমান বাংলাস্তানের ইসলামের মধ্যে অনেক তফাত। এদের ইসলামে আরিফ আজাদ নেই, হেফাজত নাই, টেরোরিজম নাই, নাস্তিক এর কল্লা ফালানো নাই, এদের ইসলামে পুরুষ এর ৪ বিয়া নাই, এদের ইসলামে নারীকে বন্দী করা নাই। এদের ইসলামে বাচ্চা মেয়েকে শিশু বিবাহ নেই, এদের ইসলামে প্যাট্রিয়ার্কিক ইসলাম সমাজের প্রেসার নেই।

এদের উন্নতির সাথে ইসলামের কোন রিলেশান নাই এই সব দেশের সভ্য হবার সাথে ইসলাম প্রচার ও প্রসার এর কোন রিজনিং নেই।

এদের সভ্য ও উন্নত হবার কারন- এরা জ্ঞান বিজ্ঞান কে মেনে নিছে, শিক্ষা কে মেনে নিছে, মানবতা কে মেনে নিছে। এরা হিউমানিটি রক্ষা করে, এরা স্বাধীন মতবাদ চালাতে দেয়। এরা জ্ঞান বিজ্ঞান কে গুরুত্ব দেয় কোন এক অলৌকিক গড কে না।

প্রশ্ন উঠতে পারে, ইসলাম এর সম্পর্ক কি এসব দেশে? এসব উন্নত দেশে ধর্ম পারসোনাল জিনিষ। যার যার ধর্ম তার তার পালন করার সুযোগ দেয় এই সভ্য দেশ গুলো। এসব দেশের ইস্লামিস্ট রা কমেন্ট বক্সে খাঙ্কে মাগে ওড়না কই বলে ঝাপিয়ে পড়েনা। অন্যের মন্দিরে গিয়ে কোরআন রেখে এসে হিন্দু বা খ্রিস্টান বা নাস্তেক দোকান আর ঘর বাড়ি নস্ট করেনা এরা।

এদের দেশে আরিফ আজাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের হোমাসা করা বই বেস্ট সেলার হয় না, এদের ওয়াজ মাহফিলে মহিলাদের জাহান্নামী বানানো হয় না, এদের স্কুলে বিজ্ঞানের টিচার এটা বলেনা বিবর্তন ভুয়া জিনিষ বরং আকাশ থেকে ধুপ করে পড়ছে মানুষ।

এসব দেশ আগায় গেছে জ্ঞান বিজ্ঞান মানবতা আর সভ্য হয়ে। ধর্ম ওদের কাছে পারসোনাল জিনিষ। ধর্ম নিয়ে হাউ কাউ করেনা পাক্সতান, আফপানিস্তান আর বাংলাস্তান এর মত।

এই কারনে এসব দেশ উন্নত, এই কারনে এসব দেশের সরকার সভ্য। এবং এই কারনেই এসব দেশের সরকার সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান সুযোগ ও সমান ধর্ম পালনের ব্যবস্থা করছে। এটা ইসলামের বিজয় না, বরং ইসলাম কে অপমান। দেখো তোমাদের ইসলামিক দেশে ভিন্ন ধর্মের লোকদের যা সুযোগ দাও আমাদের অনৈস্লামিক দেশে আমরা ইস্লামিস্ট দের তার চেয়ে বেশি দেই।

বিঃদ্রঃ ১ - হংকং এর সিনারিও ভিন্ন আপনার পোস্টের কথার চেয়ে।
বিঃদ্রঃ ২- উপরের সকল বক্তব্য আমার ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স ।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২৭

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ।

এদের ইসলাম আর বর্তমান বাংলাস্তানের ইসলামের মধ্যে অনেক তফাত। এদের ইসলামে আরিফ আজাদ নেই, হেফাজত নাই, টেরোরিজম নাই, নাস্তিক এর কল্লা ফালানো নাই, এদের ইসলামে পুরুষ এর ৪ বিয়া নাই, এদের ইসলামে নারীকে বন্দী করা নাই। এদের ইসলামে বাচ্চা মেয়েকে শিশু বিবাহ নেই, এদের ইসলামে প্যাট্রিয়ার্কিক ইসলাম সমাজের প্রেসার নেই।

-বাংলাস্তান! এভাবেই বলবেন! যাক, বলেন। আপনাদের বলার ক্ষমতা আছে বলেই বলতে পারেন। তাদের ইসলাম থেকে ৪ বিয়ে তুলে দিল কে? এটা তো কুরআনের বিধি-বিধানের বিষয়। ৪ টি পর্যন্ত বিয়ে করাকে তো ইসলাম কারও জন্য আবশ্যিক করে দেয়নি, প্রয়োজনে জায়েজ রাখা হয়েছে মাত্র। তারা তো এই কুরআনই পড়েন এবং মেনে চলেন। তো?

টেরোরিজম ইসলামে হারাম। যারা করে তারা অপরাধী। আর অপরাধীর পরিচয় অপরাধীই। সে যে দেশের হোক, যে স্থানের হোক।

নারীকে বন্দী করা হয় কোথায়? আমাদের দেশে? বিষয়টা ঠিকভাবে বুঝতে পারলাম না, দু:খিত!

নাস্তিকের কল্লা ফালানোর কাজ কোন পাবলিক হাতে তুলে নিতে পারে না। বিচারের দায়িত্ব আদালতের। যারা এগুলো করে তারা দন্ডনীয় অপরাধে লিপ্ত।

পোস্টের কোথাও এ কথা বলতে চাইনি যে, তাইওয়ান, হংকং এবং সিঙ্গাপুরের আজকের অগ্রগতি এবং উন্নতির পেছনের অবদান ইসলাম এবং মুসলমানদের। বরং বলতে চেয়েছি, এসব দেশে মুসলমান যে আছেন, অনেকের সেটাই জানা নেই। বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে বা পাশ কাটিয়ে অনেকেই ঐসব দেশকে এককভাবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন; যেটা প্রকারান্তরে সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার নামান্তর।

বস্তুত: একটি দেশ বা জাতির এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সে দেশ ও জাতির সকলের অংশগ্রহণ জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের ফলেই সামগ্রিকভাবে একেকটি দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়। পোস্টে উল্লিখিত দেশগুলো হঠাৎ করে আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছে গেছে, বিষয়টি মোটেই এমন নয়। তাদেরও দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হয়েছে। এভাবেই তারা পর্যায়ক্রমে আজকের অবস্থানে এসেছে। আর সুদীর্ঘ এই অগ্রযাত্রায় এসব দেশের সকল নাগরিকেরই কম বেশি অংশগ্রহণ রয়েছে। সেই হিসেবে এসব দেশে বসবাসকারী মুসলমানদেরও কিছু না কিছু অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।

জ্ঞান বিজ্ঞান বাদ দিয়ে সভ্য হওয়ার চিন্তা করা যায় না, এটা তো জানা কথা। তাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তারা জ্ঞান বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু ধর্ম মেনে চললেই কি জ্ঞান বিজ্ঞানের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়? ধর্ম কি জ্ঞান বিজ্ঞানের বিপক্ষে চলতে বলে? ইসলাম ধর্মের প্রথম কথা তো 'ইকরা', অর্থাৎ, 'পড়ুন'। তো, ধর্মকে যারা জ্ঞান বিজ্ঞান, অগ্রগতি এবং উন্নতির অন্তরায় ভাবেন, সমস্যাটা মূলত: তাদেরই।

এদের সভ্য ও উন্নত হবার কারন- এরা জ্ঞান বিজ্ঞান কে মেনে নিছে, শিক্ষা কে মেনে নিছে, মানবতা কে মেনে নিছে। এরা হিউমানিটি রক্ষা করে, এরা স্বাধীন মতবাদ চালাতে দেয়। এরা জ্ঞান বিজ্ঞান কে গুরুত্ব দেয় কোন এক অলৌকিক গড কে না।

-আর জ্ঞান বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিলেই কি গড, প্রভূ বা আল্লাহকে অস্বীকার করতে হবে? এই কথার কি কোন ভিত্তি আছে?

আর ধর্মের অপব্যাখ্যা, ধর্মের নামে শোষন, ধর্মের নামে অনাচার, হানাহানি বা নৈরাজ্য যা-ই বলুন, এসব যারা সৃষ্টি করে থাকেন, তারা হয়তো নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই এগুলো করে থাকেন। তাদের সাথে সত্যিকার ইসলামের আদর্শের ফারাক বিস্তর।

এদের দেশে আরিফ আজাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের হোমাসা করা বই বেস্ট সেলার হয় না, এদের ওয়াজ মাহফিলে মহিলাদের জাহান্নামী বানানো হয় না, এদের স্কুলে বিজ্ঞানের টিচার এটা বলেনা বিবর্তন ভুয়া জিনিষ বরং আকাশ থেকে ধুপ করে পড়ছে মানুষ।

-আরিফ আজাদদের নিয়ে এত মাথা ব্যথা! তাদের মত প্রতিভা সৃষ্টির আগের ইতিহাস ভুলে গেলে তো হবে না। ইসলাম ধর্মের অসারতা প্রমানে এখানে বহুজন বহু কিছু লিখেছেন। অনেকে অনেক লেখালেখি করেছেন, আমি কারও নাম নিতে চাই না, কই তাদের বিষয়ে তো কাউকে টু শব্দও করতে দেখা যায় না কখনও! একটি পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের নামে অনেক অপকথার জবাব দিতে আসেন আরিফ আজাদ। অথবা, বলতে পারেন, সেসব কথার জবাবের জন্য আরিফ আজাদের মত লোকের তখন প্রয়োজন দেখা দেয়। তো, আরিফ আজাদদেরকে সরাসরি দোষারোপ করার আগে পেছনের কারিগরদের নিয়েও একটু ভাবা দরকার। তারা কারা ছিলেন! জানতে পারলে একটু ভালো লাগতো।

মহিলাদের জাহান্নামী বানানোর জন্য ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয় না। বরং জাহান্নামের পথ থেকে সকলকে সতর্ক করার জন্যই ওয়াজ মাহফিলের প্রয়োজন। তবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মত বিপজ্জনক বহু পথ ও মতের মানুষ আমাদের দেশে যে আছেন সে কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের কথা শুনলে মনে হবে তারা সত্য কথাই তো বলছেন, কিন্তু সত্যিকারার্থে এসব ভালো কথার আড়ালে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।

আপনার সব কথার সাথে দ্বিমত পোষন করছি না। কিছু কথা বাস্তবতাভিত্তিক এবং ভালো বলেছেন। সেগুলোকে সাপোর্ট করি। আর ঘৃণা প্রকাশক কথাগুলোর সাথে সহমত পোষন করতে পারছি না বলে দু:খিত!

শুভকামনা।

২| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: ১ নং মন্তব্যকারী সঠিক কথাই বলেছেন।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩১

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ তাকে সাপোর্ট করার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.