![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।
দালালের খপ্পরে সর্বস্ব হারালো হতদরিদ্র পরিবার: গুনতে হলো দুই লাখ ছবিটি এআই এর সহায়তায় তৈরি করা।
গত ১৯ আগস্ট ২০২৫, আমি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা নিয়ে লিখেছিলাম। একজন শ্রমিক, ভবনের ছাদে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তিন তলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া, হাড় চূর্ণ হওয়া, দেহের একাধিক অংশ বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে পুড়ে যাওয়া—একটি জীবন্ত দুঃস্বপ্নে রূপ নেয় তাঁর জীবন। আমার পরিচিত এই ব্যক্তির দুর্ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর সংকটের এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)—দেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল, যা সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করছিল হতাশা। এক দিন ধরে অপেক্ষার পরও মেলেনি একটি বেড, মেলেনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা। হাসপাতালের করিডরে দিশেহারা স্বজনদের ঘিরে ধরে দালালচক্র। মধুর কথায় তারা প্রলোভন দেখায়: “এখানে চিকিৎসা হবে না। রোগী মরে যাবে। আমাদের ক্লিনিকে নিয়ে চলুন, ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার পাবেন, রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে।” প্রিয়জনের জন্য মরিয়া পরিবারটি সরল বিশ্বাসে দালালদের ফাঁদে পা দেয়। রোগীকে হাসপাতাল থেকে নাম কেটে নিয়ে যাওয়া হয় একটি কথিত প্রাইভেট ক্লিনিকে।
ক্লিনিকে পৌঁছানোর পর শুরু হয় অমানবিক শোষণ। একটি অপারেশনের জন্য গুনতে হয় ৯০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় সিট ভাড়া, চিকিৎসকের ফি, ওষুধ এবং অন্যান্য খরচ। রোগীকে কয়েক দিন আটকে রাখা হয়, স্বজনদের মানসিক চাপে রেখে ভুয়া বিল ও ভাউচার ধরিয়ে আদায় করা হয় মোট দুই লাখ টাকা। হতদরিদ্র এই পরিবার, যাদের এত অর্থ ছিল না, আত্মীয়-স্বজনের কাছে হাত পেতে, ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করে। কিন্তু এত খরচেও চিকিৎসার মানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এসব ক্লিনিকে প্রায়ই নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি বা দক্ষ চিকিৎসক। দালাল সিন্ডিকেটের কবলে পড়লে বাঁচার উপায় থাকে না।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাব, চিকিৎসকের স্বল্পতা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দালালরা সুযোগ নেয়। তারা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে টেনে নিয়ে যায়, যেখানে অতিরিক্ত খরচ আর নিম্নমানের চিকিৎসায় মানুষ সর্বস্বান্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী এই সিন্ডিকেটের শিকার হন, এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার নামে প্রাণহানি ঘটে। হতদরিদ্র মানুষ, যাদের বিকল্প নেই, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
এই ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই দুরবস্থার জন্য দায়ী কে? দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও সক্ষম করতে হবে, দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে। সচেতনতা বাড়ানো দরকার—রোগীর স্বজনদেরও জানতে হবে এবং বুঝতে হবে যে, দালালদের প্রলোভনে না পড়ে সরকারি সহায়তা বা বিশ্বস্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। এই হতদরিদ্র পরিবারটির মতো আর কোনো পরিবারকে যেন দালালের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খোয়াতে না হয়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কার না হলে এমন ট্র্যাজেডি চলতেই থাকবে। সরকার, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষ—সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৩
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনি ঠিক বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা আসলেই খারাপ। পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। শেষের পয়েন্টটা সামান্য এডিট করে দিয়েছি।
২| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৪
নতুন বলেছেন: এই ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই দুরবস্থার জন্য দায়ী কে? দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও সক্ষম করতে হবে, দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
সরকারী হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
শুধুই হাসপাতালের ভেতরে বাইরের মস্তানী বন্ধ করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
হাসপাতালের ভেতরে স্থানীয়দের দাপটের কারনে ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন তারা কিছু বলতে পারেন না। এটা বন্ধ করতে পারলে হাসপাতালে সেবা দেওয়া সম্ভব।
৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:৫২
নতুন নকিব বলেছেন:
সরকারী হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
শুধুই হাসপাতালের ভেতরে বাইরের মস্তানী বন্ধ করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
হাসপাতালের ভেতরে স্থানীয়দের দাপটের কারনে ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন তারা কিছু বলতে পারেন না। এটা বন্ধ করতে পারলে হাসপাতালে সেবা দেওয়া সম্ভব।
-সঠিক বলেছেন। আপনার পর্যবেক্ষণ একদম বাস্তবসম্মত। সরকারি হাসপাতালে বাইরের দাপট, দালালি ও অযাচিত প্রভাব কমানো গেলে সেবার মান অনেকটা বেড়ে যাবে। এর সাথে আরও কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া যায়—
১। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরামর্শ
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা
হাসপাতালে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ।
পুলিশের বিশেষ টহল বা হাসপাতাল-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।
সিসিটিভি ও ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু রাখা।
দালাল ও স্থানীয় প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণ
হাসপাতালের ভেতরে দালাল ও অচিকিৎসা-সংক্রান্ত লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
রোগী-সেবা কেবল হাসপাতালের স্টাফরা দেবেন—এই নিয়ম কড়াভাবে বাস্তবায়ন করা।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বোর্ড সক্রিয় করা
স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে নিয়ে একটি Hospital Management Committee গঠন।
তারা হাসপাতালের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা তদারকি করবে।
ডিজিটাল সেবা চালু
টোকেন/অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম।
ডিজিটাল রিপোর্টিং (টেস্ট রিপোর্ট অনলাইনে দেওয়া)।
স্বয়ংক্রিয় ফার্মেসি/ফার্মেসি কাউন্টার থেকে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া।
ডাক্তার ও স্টাফদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা
বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু রাখা।
নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা।
রোগীর কাছে মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা (Feedback System)।
পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন
হাসপাতালের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা।
প্রয়োজনীয় শয্যা, টয়লেট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও ভেন্টিলেশন ঠিক রাখা।
ওষুধ ও সরঞ্জামের স্বচ্ছ বণ্টন
সরকারি ওষুধ সরাসরি রোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়া।
ব্ল্যাক মার্কেটিং ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
রোগীদের আত্মীয়স্বজনকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা বোঝানো।
জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালানো—"দালাল মুক্ত হাসপাতাল"।
এক কথায়—রাজনৈতিক ও দালালি প্রভাব বন্ধ + ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা + তদারকি = সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
৩| ৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:৩৭
রাজীব নুর বলেছেন: দরিদ্র দেশে জন্ম নেওয়াটা একটা পাপ। একটা অভিশাপ।
৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ২:৫৩
নতুন নকিব বলেছেন:
দেশ নয়, মানসিকতা ও চেষ্টা মানুষকে এগিয়ে নেয়। দরিদ্র দেশে জন্ম নেওয়া অভিশাপ নয়, বরং সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার এটা একটা সুযোগ। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:২৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা আসলেই খারাপ। সেনাবাহিনী দেখলাম রংপুর মেডিকেলে অভিযান চালিয়েছে। আপনার লেখায় আর কিছু ঘটনা উল্লেখ করে লিখলে ভালো হতো। শেষ দুই প্যারা খুবই গতানুগতিক