নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় সীমাহীন

হুমায়রা হারুন

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।

হুমায়রা হারুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কি লিখি তোমায়...

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১৭


প্রিয়তম
হৃদয়টা ভরে আছে শব্দ দিয়ে। তবু মনে হয় সে যেন অশ্রুর মহাসমুদ্র। আমি তারপরও একটুখানি না হয় চেষ্টা করি, তোমায় জানাবার
জন্য আমার মতো এই সামান্য একজনার কথা এই কয়েকটা শব্দ ।
হয়তোবা এ চিঠিটা তুমি ফেলে দেবে অবহেলায়। তারপরও আমি জানি যে আমি শেষ চেষ্টা করেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে ভাল বাসবই বাসব।
প্রতিবছরের মত এই বছরও আসবে বরফঢাকা শুভ্র সুন্দর শীত। স্বতঃসিদ্ধ সত্যের মত নিশ্চিত। গাঢ় শীতলতা চারিদিকে। এর ছোঁয়া তুমি অনুভব করবে হৃদয়ে। অসাড়, শুন্য। উনুনের তপ্ত দহনও মনে হবে উত্তাপহীন। তুমি আবারো চিমনিতে আগুন দেবে। ঘরে আলো জ্বালাবে।আগুনের তীব্রতায় দগ্ধ হয়েও বার বার মনে হবে চারিদিকে যেন স্তব্ধ শীতলতা। তারপর? একসময় আর কিছুই নেই। তখন কি বুঝবে কি এর কারণ? তোমার সেই হৃদয়ে আমার অভাব। আমি তখন নেই তোমাকে এতটুকু উষ্ণতা দেবার জন্য।
জ্বলবে পুড়বে দগ্ধ হবে উষ্ণতাহীন এক মহাসমুদ্রে। ভালবাসার ভিখারী হবে। আমায় হন্যে হয়ে খুঁজবে। কিন্তু আমি তো আর সেখানে নেই।
তারপর?
ধীরে ধীরে সে সময় আসবে যখন জ্যোতির্ময়ী আবেশের অনুপম সৌন্দর্য্যে তুমি আবিষ্ট হবে। আমায় চাইবে শত শত বার। তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে প্রিয়। ভালবাসার কাঙাল হয়ে, জীবনের ভারে ন্যুব্জ হয়ে।
তুমি আবার ফিরে আসবে। চারপাশ তখন তোমার শুধু শূন্যতায় ভরা।
আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো।
অনন্তকাল।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪

সামছুল আলম কচি বলেছেন: তাই কি হয় ??!!

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৯

হুমায়রা হারুন বলেছেন: তাই তো হলো।

২| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার গোপন টিঠিটি পাঠককুলের কাছে যখন প্রকাশিলেন, তখন মনে মনে নিশ্চয় কামনা ছিল চিঠি পাঠে
পাঠকের মাঝে কি প্রতিক্রিয়া হয় । পাঠক প্রতিক্রিয়া দু ধরনের হতে পারে। একটি হল চিঠি পাঠে আপনার
জন্য (আপনি মানে পত্র লেখক) পাঠক অনুভুতি, আরেকটি হল চাঠিটা যাকে লিখেছেন তার পক্ষ হতে সম্ভাব্য
প্রতিক্রিয়া কিংবা চিঠির জবাব কেমন হতে পারে সেদিকটা তুলে ধরা । আমি দুদিকেই কলম ধরব বলে ভেবে
নিলাম ।

পাঠক প্রতিক্রিয়ায় প্রথমেই বলা যায় আপনার চিঠিটা আমি মন দিয়ে পড়েছি। শব্দগুলোর ভেতরে যে নীরব ব্যথা,
যে দীর্ঘশ্বাস জমে আছে তা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। আপনি যেভাবে নিজের অনুভূতিগুলো তুলে
ধরেছেন, তাতে আপনার প্রেমের সততা আর গভীরতার ছাপ স্পষ্ট।

আমরা জানি, সব চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু দূরত্ব রয়ে যায়। কিছু অনুভূতি হয়তো আমরা যতটা যত্ন করে আগলে রাখতে চাই,
সময় আর পরিস্থিতি ততটাই নির্মম হয়ে দাঁড়ায়। তবু এটুকু বলা যায় আপনার চেষ্টা বৃথা ছিল না। ভালোবাসা কখনোই
বৃথা যায় না, সে রূপ বদলায় মাত্র।

আর যে শীতের কথা বলেছেন ;হাড় কাঁপানো, চারদিক ঢেকে রাখা শীতলতার অনুভব স্পষ্ট। এমন শীতে আগুনের
তাপও কখনো কখনো যথেষ্ট হয় না। তখন মানুষ ক্লান্ত হয়, নীরব হয়, নিজের ভেতরে সরে যায়। তবে এটাও সত্য,
প্রত্যাবর্তনের সময় সব সময় কারো ইচ্ছেমতো আসে না। কিছু অপেক্ষা শুধু অপেক্ষাই থেকে যায়, পূর্ণতা পায় না।
আমরা চাই না আপনি নিজেকে শূন্য মনে করেন, বা ভাবেন আপনার ভালোবাসা কোথাও হারিয়ে গেছে। আপনি
যা দিয়েছন, তা আপনারই অংশ হয়ে থাকবে কারও উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক।

যদি কখনো আবার আলো আসে, যদি পথগুলো মিলে যায় তখন দেখা হবে হয়তো নতুন কোনো রূপে, নতুন কোনো
বোঝাপড়ায়। আর যদি নাও হয়, তবু এইটুকু বিশ্বাস রাখতে পারেন আপনার অনুভূতিকে অসম্মান করা হবেনা কিংবা
অগ্রাহ্যও করা হবেনা।
কাজেই নিজের যত্ন নিবেন নিজের আলোটাকে নিভতে দিবেন না।

দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া হিসাবে বলা যায় চিঠিটির প্রকৃত প্রাপক হয়তো বা তার জীবনের কোন এক লগনে লিখতে পারেন
নীচের মত করে :-

কি লিখি তোমায় ,তুমি ছাড়া আর কোনো কিছু ভালো লাগে না আমার।
ভোরের শিশির পথ আমার আঙিনা থেকে চলে গেছে তোমার মনে
তোমার চিঠির উত্তাপটুকু নিয়ে বসে আছি বাতায়নে তোমারই আশায়।
কি লিখি তোমায়- ভালবাসা নিশিরাতে ডাক দিয়ে যায় কত কথা কয়
তোমার আসার কথা আলতু করে লেখা আছে তোমার চিঠির কিনারায়
গুন গুন করে মন ব্যথার ছায়ায়, কি লিখি তোমায় কি লিখি তোমায়
কেমন করে আসব ফিরে সে ভাবনাই নিশিদিন কুড়ে কুড়ে খায় ।
বাকিটুকু ভবিতব্যই জানে............................................।

যাহোক সুন্দর চিঠিটি আমাদেরকে পড়তে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনার এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া পড়ে আমি গভীরভাবে আপ্লুত।
প্রথমত, আপনি যে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে চিঠিটি বিশ্লেষণ করেছেন - পাঠক হিসেবে এবং সম্ভাব্য প্রাপক হিসেবে - এই সংবেদনশীলতা অসাধারণ।
আপনি ঠিকই ধরেছেন, গোপন চিঠি প্রকাশ করার পেছনে একটা নীরব কামনা থাকে - পাঠক কীভাবে গ্রহণ করবেন, কীভাবে অনুভব করবেন।
আপনার পাঠক প্রতিক্রিয়ায় যে সহানুভূতি, যে বোঝাপড়া - "ভালোবাসা কখনোই বৃথা যায় না, সে রূপ বদলায় মাত্র" - এই কথাগুলো সত্যিই সান্ত্বনা দেয়। আপনি ঠিকই বলেছেন, শীতের নিষ্ঠুরতায় মানুষ ক্লান্ত হয়, নীরব হয়। কিন্তু আপনার এই আশ্বাস যে "নিজের আলোটাকে নিভতে দিবেন না" - এটা একটা নতুন শক্তি দেয়।
আর দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া - যেখানে আপনি প্রাপকের পক্ষ থেকে একটি কাল্পনিক উত্তর লিখেছেন - সেটা তো একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে গেল। "কি লিখি তোমায়, তুমি ছাড়া আর কোনো কিছু ভালো লাগে না আমার" - এই লাইনগুলো চিঠির প্রকৃত সত্তা। আর আপনার নতুন করে লেখা এই লিরিক-টি পেলে, মূল গানের সুরকার মুগ্ধ হয়ে যেত!
আপনি প্রাপকের দ্বিধা, তার ফিরে আসার অসম্ভাব্যতা, তবু তার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি - সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। "বাকিটুকু ভবিতব্যই জানে" - এই শেষ লাইনটা একদম নিখুঁত সত্যি ভাবে প্রকাশ করেছেন। কারণ সত্যিই তো, কিছু কিছু বিষয় আমাদের হাতে নেই।
আপনার মতো পাঠক পাওয়া লেখকের জন্য পরম সৌভাগ্য। আপনি শুধু পড়েননি, অনুভব করেছেন, প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, এমনকি একটি সম্ভাব্য উত্তরও সৃষ্টি করেছেন। এই সৃজনশীলতা, এই সহমর্মিতা - এটাই তো সাহিত্যের প্রকৃত সংলাপ।
আপনার এই দুটি প্রতিক্রিয়াই এই চিঠিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইলো।

৩| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: দারুন আবেগময়।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৮

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.