| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নতুন নকিব
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।
রোজার ২৪ আধুনিক মাসআলা, যেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন সকলেরই - রিপোস্ট
ছবিঃ অন্তর্জাল।
পবিত্র মাহে রমজান খুবই নিকটবর্তী। আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা'বান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান। হে আল্লাহ, আমাদের রজব ও শা'বান মাসে আপনি বারাকাহ দান করুন এবং আমাদের হায়াতকে দীর্ঘায়িত করে দিন যাতে আমরা রমজান লাভ করতে সক্ষম হই। রাসূলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব এবং শা'বান মাস এলে এই দোয়া করতেন। আমরাও সুন্নাহ অনুসরণে সেটাই করি। রমজান বরকতপূর্ণ মাস। ইবাদাতের মাস। সাওয়াব অর্জনের মাস। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান এ মাসটিতে সিয়াম পালন করার জন্য। তারা সারাদিন উপোস থেকে আদায় করবেন মহান রবের হুকুম। রাতে দাঁড়াবেন বিনীত, কম্পিত ও ভীত সন্ত্রস্ত অন্তরে মহান প্রভূর সামনে। তারাবিহর নামাজে। তিলাওয়াত করবেন কুরআনুল কারীম। প্রার্থনায় মগ্ন হবেন রহমত, বরকত আর ক্ষমালাভের হিরন্ময় আশা এবং প্রত্যাশায়।
সময়ের পরিবর্তনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিকায়নের ফলে অনেক বিষয় আমাদের সামনে এসেছে, যেগুলো একেবারেই নতুন, ইতোপূর্বে ছিল না। রমজান মাসের বহুল প্রয়োজনীয় আধুনিক এমন অনেক মাসআলা লিখেছেন পাকিস্তানের শরিয়াহ কাউন্সিলের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও শায়খুল হাদিস মুফতি তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম। এখানে সম্মানিত পাঠকদের জন্য রোজার ২৪ টি আধুনিক এমন মাসআলা তুলে ধরা হলো যেগুলো সম্মন্ধে জেনে রাখা প্রত্যেকেরই প্রয়োজনঃ
১. ইনজেকশন: ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙবে না। -জাওয়াহিরুল ফতওয়া
২. ইনহেলার: শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভেতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়, এভাবে মুখের ভেতর ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে। -ইমদাদুল ফতওয়া
৩. এনজিওগ্রাম: হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া কেটে বিশেষ রগের ভেতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয় তার নাম এনজিওগ্রাম। এ যন্ত্রটিতে যদি কোনো ধরণের ঔষধ লাগানো থাকে তারপরও রোজা ভাঙবে না। -ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা
৪. অক্সিজেন: রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভাঙবে না। -জাদীদ ফিকহী মাসায়েল
৫. মস্তিস্ক অপারেশন: রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করে ওষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক রোজা ভাঙবে না। -আল মাকালাতুল ফিকহীয়া
৬. রক্ত নেয়া বা দেয়া: রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের করলে বা শরীরে প্রবেশ করালে রোজা ভাঙবে না। -আহসানুল ফতওয়া
৭. সিস্টোসকপি: প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় এর দ্বারা রোজা ভাঙবে না। -হেদায়া
৮. প্রক্টোসকপি: পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপ বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায় সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় কোনো পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরি ভেতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতে ওই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সঙ্গে মিশে থাকে এবং নলের সঙ্গেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ওই বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙে যাবে। -ফতওয়া শামী
৯. স্যালাইন: স্যালাইন নেয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙবে না, তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ। -ফতওয়ায়ে দারাল উলূম
১০. টিকা নেয়া: টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় ব্যবহার করা হয় না। -আপকে মাসায়াল
১১. ঢুস লাগানো: ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে। ঢুস যে জায়গা বা রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে এ জায়গা বা রাস্তা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য স্থান। -ফতওয়া শামী
১২. ইনসুলিন গ্রহণ করা: ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালী জায়গায় প্রবেশ করে না। -জাদীদ ফিকহী মাসায়েল
১৩. দাঁত তোলা: রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। ওষুধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমান রক্ত যদি গলায় যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। -আহসানুল ফতওয়া
১৪. পেস্ট/টুথ পাউডার ব্যবহার করা: রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলায় পৌঁছালে রোজা ভেঙ্গে যাবে। -জাদীদ ফিকহী মাসায়েল
১৫. মিসওয়াক করা: শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। চাই যখনই করা হোক না কেন। -ফতওয়া শামী
১৬. মুখে ওষুধ ব্যবহার করা: মুখে ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ওষুধ অংশ বিশেষ গলায় প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভাঙবে না। -ফতওয়া শামী
১৭. রক্ত পরীক্ষা: পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেয়া যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, তা মাকরূহ।
১৮. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
১৯. নাকে ওষুধ দেয়া: নাকে পানি বা ওষুধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে।
২০. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা: চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়। -হেদায়া
২১. ডায়ালাইসিস: ডায়ালাইসিস হলো একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতি, যা কিডনি বিকল (Acute or Chronic Kidney Failure) হলে রক্ত থেকে অতিরিক্ত তরল, বর্জ্য এবং বিষাক্ত পদার্থ কৃত্রিমভাবে অপসারণ করে। ডায়ালাইসিসে রক্ত পরিষ্কার করার পাশাপাশি পুষ্টিকর তরল প্রবেশ করে। তাই অধিকাংশ আলেমের মতে রোজা ভেঙে যায়।
২২. এন্ডোস্কপি: এন্ডোস্কোপি (Endoscopy) হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে পাতলা, নমনীয় নলযুক্ত যন্ত্র এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখা হয়, যা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়; এটি খাদ্যনালী, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র বা অন্যান্য অংশে দেখা ও প্রয়োজনে টিস্যু বায়োপসি বা পলিপ অপসারণের কাজে লাগে। এন্ডোস্কোপের মাথায় একটি ক্যামেরা ও আলো থাকে, যা ভেতরের অঙ্গের ছবি মনিটরে দেখায়। যদি নল দিয়ে কোনো তরল বা ওষুধ পাকস্থলীতে যায়, রোজা ভেঙে যাবে।
২৩. নেবুলাইজার: নেবুলাইজার হলো একটি চিকিৎসাগত যন্ত্র যা তরল ওষুধকে সূক্ষ্ম বাষ্পে (mist) রূপান্তর করে সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে দেয়। এটি মূলত অ্যাজমা, সিওপিডি (COPD) বা তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে ব্যবহৃত হয়। এটি কমপ্রেসর ও মাস্কের মাধ্যমে কাজ করে এবং ৫-১৫ মিনিট সময় নিয়ে সরাসরি ফুসফুসে ঔষধ পৌঁছায়। ইনহেলারের মতোই তরল ওষুধ পাকস্থলীতে পৌঁছায়। এর ফলে রোজা ভাঙে।
২৪. নাক দিয়ে ফিডিং টিউব: নিশ্চিতভাবে পাকস্থলীতে পৌঁছায়। এতে রোজা ভেঙে যাবে।
উপসংহার
সঠিক মাসআলা জানা ছাড়া সহিহ আমল সম্ভব নয়। অজ্ঞতাবশত রোজা নষ্ট হয়ে যাওয়া যেমন ক্ষতির, তেমনি অপ্রয়োজনীয় কড়াকড়িও শরীয়াহর উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআ'লা আমাদের সবাইকে সহিহ ইলম, বিশুদ্ধ আমল ও কবুলিয়্যাত নসিব করুন। আমিন।
পুরনো পোস্টের লিঙ্ক রোজার ২০ আধুনিক মাসআলা, যেগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন সকলেরই
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
নতুন নকিব বলেছেন:
মুফতি তো দেখছি আপনারই হওয়া উচিত ছিল!
আসলে ফতোয়ায় জীবন রক্ষাকারী ইনহেলার নিতে নিষেধ করা হয়নি। শুধু ইনহেলার নিলে রোজার হুকুম কী হবে, সেটাই বলা হয়েছে। ইসলামী ফিকহে পরিমাণ (০.০০০০৮ মি.লি.) মূখ্য বিষয় নয়; গণ্য হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তরল শরীরের ভেতরের গ্রহণযোগ্য স্থানে পৌঁছেছে কি না। এক ফোঁটা পানিতেও যেমন রোজা ভাঙে, এখানেও একই নীতি। আর শ্বাসকষ্টে জীবন ঝুঁকিতে পড়লে, ইনহেলার নিতেই হবে, তাতে গুনাহ হওয়ার কারণ নেই। রোজা ভাঙলে পরে কাজা করে নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছে। মোট কথা, জটিল পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা করা ফরজ, আর রোজা অবশ্যই কাজাযোগ্য। অযথা আলেমদের দোষারোপ করে লাভ কী!
ধন্যবাদ এবং রমজানের আগাম শুভেচ্ছা আপনাকে।
২|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
আলামিন১০৪ বলেছেন: ইনহেলার শ্বাসে নেয়, পাকস্থলীতে যাবে কেন? অক্সিজেনও ফুসফুসে নেয়, রোজা কেন ভাঙবে?
সেলাইন নিলে যদি রোজা না ভাঙে তাহলে মানুষ চিনি/লবণ/পানি সেলাইনের মাধ্যমে নিবে এতে রোজার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫
নতুন নকিব বলেছেন:
১) “ইনহেলার পাকস্থলীতে যায় কেন?”
ইনহেলার শুধু অক্সিজেন নয়; এতে তরল ওষুধের কণা থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত, এর এক অংশ অনিবার্যভাবে গলায় নেমে খাদ্যনালী হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায়। তাই ফিকহে এটাকে শুধু “শ্বাস” ধরা হয় না।
২) “অক্সিজেনে রোজা ভাঙে না, ইনহেলারে কেন?”
এর কারণ হচ্ছে, অক্সিজেন শুধুই বাতাস (খাদ্য নয়)। কিন্তু ইনহেলার ওষুধযুক্ত তরল কণা। সেজন্য বস্তু যেহেতু আলাদা, তাই হুকুমও আলাদা।
৩) “স্যালাইন নিলে তাহলে সবাই পানি নেবে?”
স্যালাইন রোজা না ভাঙলেও রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য নেওয়া মাকরূহ। আর শরীয়াহ হুকুম নির্ধারণ করে ব্যবহার দিয়ে, অপব্যবহার দিয়ে নয়।
মোবারকবাদ আপনাকে।
৩|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৯
নতুন বলেছেন: মুফতি তো দেখছি আপনারই হওয়া উচিত ছিল!
আসলে ফতোয়ায় জীবন রক্ষাকারী ইনহেলার নিতে নিষেধ করা হয়নি। শুধু ইনহেলার নিলে রোজার হুকুম কী হবে, সেটাই বলা হয়েছে। ইসলামী ফিকহে পরিমাণ (০.০০০০৮ মি.লি.) মূখ্য বিষয় নয়; গণ্য হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তরল শরীরের ভেতরের গ্রহণযোগ্য স্থানে পৌঁছেছে কি না। এক ফোঁটা পানিতেও যেমন রোজা ভাঙে, এখানেও একই নীতি। আর শ্বাসকষ্টে জীবন ঝুঁকিতে পড়লে, ইনহেলার নিতেই হবে, তাতে গুনাহ হওয়ার কারণ নেই। রোজা ভাঙলে পরে কাজা করে নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছে। মোট কথা, জটিল পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা করা ফরজ, আর রোজা অবশ্যই কাজাযোগ্য। অযথা আলেমদের দোষারোপ করে লাভ কী!
মোল্যারা ০.০০০০৮ মিলি অর্থ বোঝে না বলেই তো সমস্যা।
সূরা আন-নিসা (৪:১৭১) “তোমরা তোমাদের ধর্মে বাড়াবাড়ি করো না…”
সূরা আল-আ’লা (৮৭:৮) “আমি তোমাকে সহজ পথের জন্য প্রস্তুত করে দেব।”
সূরা আল-হাজ্জ (২২:৭৮) “…তিনি (আল্লাহ) তোমাদের ওপর ধর্মে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।”
সূরা আল-বাকারা (২:১৮৫) “আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না।”
ধর্ম সৃস্টিকর্তা কঠিন বানায়নাই। বরং মোল্যারাই কঠিন বানাইছে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৪
নতুন নকিব বলেছেন:
কুরআনের “সহজতা” মানে এই নয় যে শরীয়াহ যেটাকে রোজা ভাঙা বলে, সেটাকে জোর করে না-ভাঙা বানিয়ে দেওয়া।
সহজতা মানে হলো হুকুম ঠিক থাকবে, কিন্তু প্রয়োজনে ছাড়ের পথও খোলা থাকবে।
ফিকহে অঙ্ক কষে পরিমাণ ধরা হয় না। এক ফোঁটা হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে ভেতরে গেলে রোজা ভাঙে। এটা কুরআনের বিরোধী নয়।
শ্বাসকষ্টে জীবন ঝুঁকিতে পড়লে ইনহেলার নিতেই হবে। রোজা ভাঙলেও গুনাহ নেই। পরে কাজা করলেই হলো।
এতে ধর্ম কঠিন হয়নি। হুকুম আর ছাড় আলাদা না বুঝলেই ধর্ম কঠিন মনে হয়।
ধন্যবাদ।
৪|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জানলাম অনেক কিছু ।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১১
নতুন নকিব বলেছেন:
পোস্ট পাঠ এবং অভিব্যক্তি জানিয়ে যাওয়ায় অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
৫|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১১
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আহলান সাহলান মাহে রামাদান।
চোখের পাতার পলকের মতো সামনে আরো একটি রমাদান। কিভাবে সময় চলে যায়, সময়ের কোন বরকত ই পাচ্ছি না। যাক রমজান সংযম এবং আত্মত্যাগের মাস। সবাই মিলে রমজানের মাহাত্ম্য রক্ষা করি।
রামাদান কে সামনে রেখে সময় উপযোগী পোষ্ট।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২১
নতুন নকিব বলেছেন:
ধন্যবাদ। খুব সুন্দর ও সময়োপযোগী কথা বলেছেন। রমাদান সত্যিই দ্রুত এসে যায়, তাই এই মাসের সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মর্যাদা সবাই মিলে রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।
৬|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
রাজীব নুর বলেছেন: রমজান একটি বিশেষ মাস।
এই মাসে আমি অনেক বেশি বাজার করবো। ইনোশাল্লাহ।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭
নতুন নকিব বলেছেন:
রমজান বাজার করার মাস?
৭|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৩
গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: সুন্দর আলোচনা করেছেন,
তবে এটা আলোচনা করলে আরো ভালো লাগতো:
১/রোজা রেখে মিথ্যা কথা বললে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
২/রোজা রেখে ঘুষ খাইলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৩/রোজা রেখে গীবত করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৪/রোজা রেখে চোগলখুরি করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৫/রোজা রেখে অধিক মুনাফার আশায় মজুদদারি করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৬/রোজা রেখে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৭/রোজা রেখে আমানতের খেয়ানত করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৮/রোজা রেখে অপরের দ্রব্য আত্মসাৎ করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
৯/রোজা রেখে কটু কথা বললে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১০/রোজা রেখে অশ্লীল কথা বললে বা অশ্লীল বই পড়লে বা ভিডিও দেখলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১১/রোজা রেখে অপরের হক নষ্ট করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১২/রোজা রেখে প্রতিবেশীকে কষ্ট দিলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৩/রোজা রেখে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে ওয়াজ নসিহত গান বাজনা তেলাওয়াত করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৪/সকাল সাড়ে পাঁচটায় সেহরির সময় শেষ হলেও রাত আড়াইটা থেকে মাইকে চিৎকার চেঁচামেচি করে সেহরির জন্য ডাকাডাকি করে লোকের ঘুম ভাঙালে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৫/ রোজা রেখে ব্লগে উজির নাজির মারলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৬/রোজা রেখে খেল তামাসায় সারাদিন কাটালে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৭/রোজা রেখে নাপাক অবস্থায় সারাদিন কাটালে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৮/রোজা রেখে বাসে উঠে সহযাত্রীদের সাথে বা কন্ডাক্টর ড্রাইভারদের সাথে ঝগড়া করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
১৯/রোজা রেখে অতিরিক্ত ইফতার করলে এবং ইফতার পার্টিতে ২০০০ টাকা কেজির জিলাপি খাইলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
২০/রোজা রেখে তারাবি ২০ রাকাত নাকি আট রাকাত এই নিয়ে ঝগড়া করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
২১/রোজা রেখে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি লালসার দৃষ্টিতে তাকালে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা (এখন যে সময় এসেছে, বিপরীত লিঙ্গ কেন মানুষ সমলিঙ্গের মানুষের প্রতিও লালসার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে)
২২/রোজা রাখিয়া অপরকে জিজ্ঞাসা করা এই ব্যাটা রোজা রাখছিস কিনা এরকম করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
২৩/ছোলাতে ঝাল-লবণের পরিমাণ কম বেশি হলে বউয়ের সাথে রাগারাগি করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা
২৪/রোজা রাখিয়া চুরিদারি করলে রোজা ভঙ্গ হয় কিনা।
আশা করি ভবিষ্যতে এগুলো নিয়েও লিখবেন।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনার উল্লিখিত ১ থেকে ২৪ নম্বর প্রশ্নে আলোচিত অধিকাংশ কাজ যেমন মিথ্যা বলা, ঘুষ গ্রহণ, গীবত ও চোগলখুরি, মজুদদারি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আমানতের খেয়ানত, আত্মসাৎ, কটু ও অশ্লীল কথা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া, ঝগড়া-বিবাদ, লালসার দৃষ্টি, উপহাস, পারিবারিক কলহ কিংবা চুরিদারি - এসব কাজ ফিকহি দৃষ্টিতে রোজা ভঙ্গ করে না। তবে শরিয়াহর নৈতিক মানদণ্ডে এগুলো স্পষ্টতই কবিরা গুনাহ বা মারাত্মক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এসব গুনাহ রোজার বাহ্যিক কাঠামো বহাল রাখলেও রোজার সওয়াব, বরকত ও তাকওয়াভিত্তিক উদ্দেশ্যকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
একইভাবে উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া, সেহরির অনেক আগে অযথা চেঁচামেচি করে ঘুম নষ্ট করা, অনলাইনে গালাগালি, সারাদিন খেল-তামাশায় সময় নষ্ট করা, নাপাক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল বিলম্বিত করা, অতিরিক্ত ও অপচয়মূলক ইফতার, কিংবা তারাবি আট না বিশ রাকাত নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া - এসব কাজ রোজা ভঙ্গ না করলেও রোজার রূহ ও নৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিশেষত যেসব আচরণে মানুষের কষ্ট, অহংকার, লোভ বা আত্মসংযমের অভাব প্রকাশ পায়, সেগুলো রোজার প্রকৃত লক্ষ্যকে ব্যর্থ করে দেয়।
চূড়ান্তভাবে বলা যায়, এসব কাজে রোজা ভাঙে না, কিন্তু রোজাকে ধ্বংস করে দেয়। বহু মানুষের রোজা কেবল ক্ষুধা ও পিপাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কারণ চরিত্র, জিহ্বা, দৃষ্টি ও আচরণে রোজার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। অথচ ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজার আসল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন ও নৈতিক চরিত্র গঠন। সুতরাং রোজা কেবল উপবাসের নাম নয়, বরং নিজেকে গুনাহ থেকে সংযত রাখার এক পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ।
আল্লাহ তাআ'লা আমাদেরকে সহিহ আমল করার তাওফিক দান করুন। ইখলাসের সাথে প্রতিটি আমল আমরা যাতে করতে পারি, সেই সৌভাগ্য আমাদেরকে নসিব করুন।
৮|
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০৫
গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: ইনহেলার বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা থেকে অনেক কিছু শিখলাম।
এই বিষয়ে এই ব্লগের গুণি ব্লগার জনাব করুণাধারার একটা পোস্ট আছে, সময় হলে পড়ে দেখতে পারেন।
link
এই অধম google করে দেখতে পাচ্ছে: ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, ৩০% হিউমিডিতে সাধারণ চাপের এক লিটার বাতাসে ০.০০৭৫ গ্রাম বা ৭.৫ মিলিগ্রাম জলীয় বাষ্প থাকে।
একেকবার নিশ্বাস নিলে একজন স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক লোক গড়ে আধা লিটার বাতাস গ্রহণ করে। এরমধ্যে ৩.৭৫ মিলিগ্রাম জলীয় বাষ্প থাকে।
অর্থাৎ আমরা স্বাভাবিক নিশ্বাস প্রশ্বাস নিলে বাতাসের সাথে গলায়, ফুসফুসে পানি যায়।
আমার প্রশ্ন হল রোজা রেখে নিশ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া যাবে কিনা?
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪
নতুন নকিব বলেছেন:
হ্যাঁ, রোজা রেখে নিশ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এতে রোজা ভঙ্গ হয় না।
কারণ ফিকহি দৃষ্টিতে রোজা ভঙ্গ হয় তখনই, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ বা নাক দিয়ে কোনো দৃশ্যমান বস্তু শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প অনিবার্য, অনিচ্ছাকৃত এবং আলাদা করে গ্রহণযোগ্য কোনো বস্তু নয়। তাই স্বাভাবিক শ্বাসের সাথে ফুসফুসে যে জলীয় কণা প্রবেশ করে, তা শরিয়াহ অনুযায়ী মাফকৃত (معفوّ عنه)।
অতএব নিশ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়া যেমন জীবন অসম্ভব, তেমনি শরিয়াহ কখনো এমন কিছু আরোপ করে না যা মানুষের জন্য অসাধ্য।
৯|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: রমজান বাজার করার মাস?
তাই বলে তো না খেয়ে থাকতে পারি না। বাসারা লোকজন রোজা রাখবে, সেহেরি খাবে, ইফতার খাবে। মেহমান আসবে। বাজার তো অবশ্যই করতে হবে।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫
নতুন নকিব বলেছেন:
না খেয়ে থাকবেন কেন? রমজানের আগমনের আগে বাজার করা অবশ্যই দরকার, কিন্তু এটি রমজানের মূল উদ্দেশ্য ইবাদত ও বন্দেগীকে ঢেকে দিতে পারে না। অন্য মাসের মতো দৈনন্দিন প্রস্তুতির চেয়ে রমজানে মানুষ ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির জন্য ভিন্ন পরিকল্পনা করে, তাই শুধুমাত্র বাজার করাটাই রমজানের প্রধান কাজ হতে পারে না।
১০|
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩২
খায়রুল আহসান বলেছেন: খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী একটি (রি)পোস্ট। + +
প্রত্যেক রোজাদারের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা থাকা উচিত।
পোস্টটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল এ পোস্টটা সম্ভবতঃ আগেও পড়েছি। সেটা নিশ্চিত করার জন্য আপনার দেয়া লিঙ্ক ধরে মূল পোস্টটা দেখে এলাম। দেখলাম, সেখানে আমার কোন মন্তব্যও নেই, 'লাইক'ও নেই। বুঝলাম, পোস্টটা হয়তো পড়েছিলাম, কিন্তু কোন কারণে হয়তো মন্তব্য করা হয়নি।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১
নতুন বলেছেন: ২. ইনহেলার: শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভেতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়, এভাবে মুখের ভেতর ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙে যাবে। -ইমদাদুল ফতওয়া
শ্বাসকস্টের সময় ইনহেলার না নিলে মানুষের মৃত্যু ঝুকিতে পড়তে পারে। আার এই ফতোয়া রোজা ঠিক রাখার জন্য জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিতে নিষেধ করেছেন?
২ পাফ ইনহেলারে ২০০ মাইক্রগ্রাম ওষুধ থাকে তার ৫০-৮০মাইক্রগ্রাম ফুসফুসে যায়।
যার পরিমান 0.00002–0.00008 mL of water
আর আপনার ফতোয়া এই ০.০০০০৮ মিলি লিটার পানি জীবন রক্ষার্থে নিলে রোজা ভেঙ্গে যাবে বলছে।
মোল্যাদের মূর্খতার কারনেই মানুষ ধর্ম বর্জন করবে একদিন।