| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নীলাঞ্জনানীলা
সেই ভালো সেই ভালো আমারে না হয় না জানো..
আমার এ দুটি চোখ একাত্তর দেখেনি , তবে গল্প শুনেছি প্রচুর । অথচ আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা এতো গরম হয়ে যায় কেন রক্ত ? ইচ্ছে করে সেই সময়টার মধ্যে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে বিলিয়ে দেই মিছিলে-শ্লোগানে-গণজাগরণের প্রতিটি স্পন্দনে । রাজনীতিবিদরা জয়ী না হলে হরতাল-মারামারি-খুণাখুণি করে , আমারও ইচ্ছে করে কম করেও একটা পাকিস্তানী সৈন্য এবং একটা রাজাকারকে মেরে তারপর মরি । এতো আফসোস হয় ! কিছুতেই তো তা হবার নয় । কারণ , আমি তো প্রথমে সংখ্যালঘু , দ্বিতীয়ত নারী । দুটোই হলো দূর্বল । সংখ্যালঘু বলে জায়গা-জমি দখল করে নেবে , নয়তো বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেবে , নয়তো কেটে টুকরো করে কিমা বানাবে । আর নারী হলে তো কথাই নেই , সুস্বাদু শরীর আছে , ধরো এবং খাও । এরপর ছেড়ে দাও আত্মহত্যা করে ফেলবে । আর বেঁচে গেলে দোররা দিয়ে মেরে ফেলো । এসব তো স্বাধীন(!?) দেশের সংখ্যালঘুর কথা ।
মফস্বলের ছোট্ট শহরে জন্ম হলেও বড়ো হয়েছি বিশাল উদার একটি পরিবারে । প্রার্থনা করেছি , কিন্তু ধর্মের জন্যে কোনো ভেদাভেদ হতে পারে মানুষের মধ্যে , সেসব জানা হয়নি । বরং শিখেছি “সবার উপরে মানুষ সত্য , তাহার উপরে নাই ।” মায়ের কাছেই তো প্রতিটি মানুষের শিক্ষা , মা বলতো আমাকে প্রতিটি মানুষের ভেতর ঈশ্বর থাকেন । মানুষকে কষ্ট দিলে ঈশ্বর ব্যথা পান । তাই মানুষকে সম্মান করতে হয় , ভালোবাসতে হয় ।
একটা গান আমার মনকে বেশ নাড়া দেয় , আর আজকের এই পরিস্থিতিতে তো এই গানটাকে মনে না করেও পারিনা । “মানুষ ধরো , মানুষ ভজ শোন বলি রে পাগল মন…মানুষের ভিতরে মানুষ করিতেছে বিরাজন ।” লালন ফকিরের কিছু গান আমার অসম্ভব প্রিয় । তার মধ্যে একটি হলো “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে…লালন বলে জাতের কি রূপ দেখলাম না এই নজরে ।” এই গানেরই প্রথম অন্তরার চারটি লাইন আমার চোখে ধরিয়ে দিয়েছিলো নারী-পুরুষের মধ্যে কি বিভৎস এক বৈষম্য তৈরী করেছে আধুনিক মানুষ ।
“সুন্নত দিলে হয় মুসলমান
নারী লোকের কি হয় বিধান
বামন যিনি পৈতা প্রমাণ
বামনী চিনি কি করে !?”
গান-কবিতা-গল্প ভুলে যদি জীবন দেখা যায় , সেখানে এতো ধার্মিকের বসবাস যে আল্লাহ আর ঈশ্বরের মধ্যেও বোধ করি এতো ধর্ম নেই । কখনো শুনিনি ধর্মই সব , মানুষ না । কিন্তু এখন তো এটাই মনে হচ্ছে ; ঘরের মধ্যে মা যদি অসুস্থ অবস্থায় একটু জল চায় , তাহলে নামাজের পরেই তাকে জল দেয়া উচিত । আগে পুজা , পরে মানুষকে সাহায্য । এমনই কি হয়ে যাচ্ছেনা সব ?
জন্ম নেবার পরে আমরা কেন একটা শিশুকে ছেলে/মেয়ে মানুষ বলিনা ? কারণ মানুষ হতে গেলে মনুষ্যত্ত্ব গড়ে উঠতে হয় । একটা সদ্যোজাত শিশু সত্য-মিথ্যা , ধর্ম-অধর্ম , পাপ-পূণ্য , আচার-অনাচার , নিয়ম-অনিয়ম এসবের কিছুই জানেনা । আর মানুষ হতে গেলে প্রথমেই তো ছয়টি রিপুকে বর্জন করতে হয় । একটি শিশু রিপু মানেই তো কিছু বোঝেনা । তাকে শেখানো হয় । কোনটা ভালো , কোনটা মন্দ । তারপর আস্তে আস্তে যখন তার মধ্যে মানবিকতা বোধ গড়ে ওঠে , মনুষ্যত্ত্বের পূর্ণ বিকাশ হয় , তখন শিশুটি হয়ে ওঠে মানুষ । একটি শিশুর প্রথম উচ্চারণ কিন্তু আল্লাহ-ভগবান নয় । তার প্রথম কান্নায় বেড়িয়ে আসে “মা” শব্দটি । পৃথিবীর এমন কোনো ভাষা নেই যেখানে জন্মের পরে প্রথম উচ্চারণ “মা” নেই । আমরা শেখাই তাকে কি বলে ডাকতে হবে । একই মা কিন্তু তার প্রয়োগ বিভিন্নভাবে হয় । যেমন – মা , আম্মা , আম্মি , আম্মু , মামনি , মাম , মাম্মা , মম ইত্যাদি । হায়রে অভাগা মা শব্দ , হিন্দু-মুসলমানের জন্ম হয় , ধর্মের জন্যে মানুষ মরে , মনুষ্যত্ত্ব অসহায় চোখে দেখে আর প্রশ্ন করে : এই পৃথিবীতে ক’জন সৃষ্টিকর্তা আছে ?
হ্যামিল্টন , কানাডা
১২ মার্চ , ২০১৩ ইং ।
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:২২
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: সত্যি বলতে কি সকলেই ভাবে । মানুষ যখন একা হয় , তখন সে তার মন্দ ব্যাপারগুলো নিয়েই ভাবে । কিন্তু মানুষের ভেতরে যে একটা অহম আছে , যা ঈশ্বর কিংবা আল্লাহ'র বাণীকেও উলটে দেয় । এই অহমের কারণেই কেউ হয় ভালো , কেউবা মন্দ । মানুষ কি মন্দ ? নাহ ! মানুষের মনুষ্যত্ব আছে , কিন্তু যে মনুষ্যত্ত্বকে পশুত্ত্বে রূপান্তরিত করে , তারা আল্লাহ/ঈশ্বরের প্রচারক না ।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এম হুসাইন । যেনো আমাদের মনুষ্যত্ত্ব পশুত্ত্বের কাছে পরাজিত না হয় , এই প্রার্থনাই সৃষ্টিকর্তার কাছে । ভালো থাকুন আপনিও । ![]()
২|
২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:২১
মিটন আলম বলেছেন: ভালো লাগলো, ধন্যবাদ।
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:২৪
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: ভালো লাগাটুকু সযত্নে রেখে দিলাম । ধন্যবাদ আপনাকে মিটন আলম ![]()
৩|
২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:৫৮
লেজ কাটা শেয়াল বলেছেন: Ekti sisur prothom uccarito sobdo ma,mammi,ammu.. Eto kicu?
'Dormando' hoye manus jemn bastobota theke dure sore jay, temni apnake dekhlam 'ammundo' hote!
Ami dormoke and ammuke valobasi. Tai bole hassokor montobbo korte raji noi..
Saidi voktora ondo voktir karonei chondre take dekhecilo!
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৩২
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: আপনি বোধ করি খেয়াল করেননি । আমি বলেছি "একটি শিশুর প্রথম উচ্চারণ কিন্তু আল্লাহ-ভগবান নয় । তার প্রথম কান্নায় বেড়িয়ে আসে “মা” শব্দটি । পৃথিবীর এমন কোনো ভাষা নেই যেখানে জন্মের পরে প্রথম উচ্চারণ “মা” নেই । আমরা শেখাই তাকে কি বলে ডাকতে হবে । একই মা কিন্তু তার প্রয়োগ বিভিন্নভাবে হয় । যেমন – মা , আম্মা , আম্মি , আম্মু , মামনি , মাম , মাম্মা , মম ইত্যাদি ।" প্রতিটি মা তার সন্তানকে ওই সৃষ্টিকর্তার চেয়েও বেশী ভালোবাসে ।
ধর্ম মানে বিশ্বাস , আর এই বিশ্বাস যখন অন্ধ হয়ে যায় , তখন সে ভয়াবহ আকার ধারণ করে । তাইতো এতো এতো আত্মঘাতী বোমা মারা হচ্ছে । তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে মৃত্যুর পর জান্নাতবাসী হবে । অশিক্ষিত মানুষরা নয় না জেনে , না বুঝে করছে । কিন্তু শিক্ষিতরা তো ভয়ঙ্কর । তবে ভালো লেগেছে আপনার মন্তব্যে যে আপনি অন্ধভাবে বিশ্বাস করেননা । আর আপনি আপনার মা'কে ভালোবাসেন । জানেন তো মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত ? মোল্লা আর কিছু ভুয়া পীর তারা এটাকে বদলে দিয়ে বলেছে , "স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেস্ত ।"
ধন্যবাদ আপনাকে লেজ কাটা শেয়াল । ভালো থাকুন নিরন্তর ![]()
৪|
২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:৫৫
রোহান খান বলেছেন:
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৪৪
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: ![]()
৫|
২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ২:০৪
সেলিম আনোয়ার বলেছেন: হায়রে অভাগা মা শব্দ , হিন্দু-মুসলমানের জন্ম হয় , ধর্মের জন্যে মানুষ মরে , মনুষ্যত্ত্ব অসহায় চোখে দেখে আর প্রশ্ন করে : এই পৃথিবীতে ক’জন সৃষ্টিকর্তা আছে ?
মানুষ মনুসত্ব নিয়ে বেচে থাকুক।
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৪৯
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: আসলেই এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে ? যে দিতে আসবে , তাকেই তো নাস্তিক হিসেবে আখ্যা দেবে বিশিষ্ট ধর্মজীবিরা । এরপর তার ওপর দোজখের আগুণ না , এসব বিশিষ্ট আস্তিকদের হাতে মৃত্যু নির্ধারিত হবে ।
ভেবে পাইনা এরা কি মানুষ ? নাকি কেবলই আস্তিক(!!!) ?
ধন্যবাদ সেলিম আনোয়ার ![]()
৬|
২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:২৬
আহমেদ জী এস বলেছেন:
নীলাঞ্জনানীলা,
আপনার ব্যথা বুঝতে পারি । আপনিই শুধু আঘাত প্রাপ্ত নন , এক ধর্মাবলম্বী আরেক ধর্মাবলম্বীকে আঘাত করতে যেন মুখিয়ে আছে সারাক্ষন । দোষটা কোনও ধর্মেরই নয় – দোষটা মানুষেরই । ধর্ম যদি “ধারন” করা হয় তবে সেটা ধারন করা মানুষের আজও হয়ে ওঠেনি । তাই এতো হানাহানি ।
আপনার এরকম কষ্টের অংশীদার আমি ও এবং আরো অনেকেই ।
আপনাকে শুধু শ্বান্তনা দিতে পারি এই গানের লাইনগুলোতে –
“কতো না নদীর জন্ম হয়
আর একটা কেন গঙ্গা হয়না !
কতো না মানুষ জন্ম লয়
ওরে, একটা কেন জাত হয়না !!
কতো রংয়ের হয় যে ধেণু
দুধের রং তো সাদা
যে মাটিতে ফলে ফসল
সে-ই তো আবার কাদা...”
এটাই জগৎ সংসারের নিয়ম ।
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৫৪
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: কিছু মনে করবেন না আহমেদ জী এস , স্বান্তনা চাইনা , কারণ স্বান্তনার মতো সস্তা অনুভূতি আর কিছুতে নেই । বরং শক্তির কথা বলুন , মনের শক্তি । আর ধর্ম সে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো ।
আপনার মন্তব্যে লেখায় অনেক শক্তি মেলে । ধন্যবাদ আপনাকে । ভালো থাকুন অহর্নিশ ।
৭|
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৫০
শায়মা বলেছেন: +++ আপুনি!
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৫৪
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: ওমা কত্তোদিন পর ! কি গো আপু আছো কেমন ? শুভ নতূন বছর । ভালো থেকো নিরন্তর । ![]()
৮|
২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:১৬
আহমেদ জী এস বলেছেন: নীলাঞ্জনানীলা,
আসতেই হো'ল আবার ।
শ্বান্তনা যে আসলে শক্তি যোগায় এটা নিশ্চই আপনাকে ( যার মনন গভীরতর ) বলে দিতে হবেনা । শ্বান্তনা কখোনই সস্তা অনুভূতি নয় । আমরা এর আঁচটাকে অনেক সময় বুঝে উঠতে পারিনে বলে " সস্তা" মনে হয় ।
আপনাকে কিন্তু আমি শ্বান্তনার আড়ালে লুকানো শক্তির আভাস দিয়েছি । গানের লাইনগুলোর দিকে আর একবার তাকান, আক্ষেপ কেটে গিয়ে আপনার মনের জোর কি একটু্ও বাড়েনি ?
" ধর্ম যদি “ধারন” করা হয় তবে সেটা ধারন করা মানুষের আজও হয়ে ওঠেনি ।" আমার এই লাইনটিতে তো আমাদের শুদ্ধ হয়ে ওঠার দিকটাতেই ঈঙ্গিত করেছি । শক্তি না থাকলে শুদ্ধ হয়ে উঠবো কি করে !
লিখুন, নিজের মতো করে ।
শুভেচ্ছান্তে .......
০৪ ঠা জুন, ২০১৩ সকাল ৯:১৪
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: মনটা ভরে গেলো । আপনাদের মতো মানুষ এখনও আছে বলেই তো এখনও মানবতা পঁচে-গলে যায়নি ।
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ।
৯|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১২:১৮
অবচেতনমন বলেছেন: অতিব বাস্তব সত্য সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে......নীলাঞ্জন সবাই জদি তোমার মত করে ভাবত,,,,,,,,ভাল থেকো প্রতিক্ষন,,,,,,ব্যস্তময় জীবনে।
০৪ ঠা জুন, ২০১৩ সকাল ৯:১৫
নীলাঞ্জনানীলা বলেছেন: বহুদিন পর !!! ভালো আছেন তো ? একটু থমকে গেলাম । কেন বলুন তো ?
ভালো থাকুন নিরন্তর ।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:০৪
এম হুসাইন বলেছেন: লেখায় ভাললাগা।
আফসোস- যদি আপনার মতো আমরা সবাই ভাবতে শিখতাম, আর ভাবনা গুলো কে কর্মে পরিণত করতাম......
তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি......
ভালো থাকা হোক, নিরন্তর।