নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সহজ কথা কইতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায়না বলা সহজে ...

পেলব চক্রবর্তী

ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম...

পেলব চক্রবর্তী › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটা মন খারাপ করা গল্প…

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:০২

একেবারে শুরুতেই বলে রাখি, আমি হলাম গ্রামের মানুষ, আঞ্চলিক ভাষায় বলতে গেলে একেবারেই খ্যাত মার্কা একটা ছেলে।লেখাপড়া বা কপাল, যেকোন একটা বা দুটোরই জন্য আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আধুনিক সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে আমি নিতান্তই বেমানান।

যাক গে, মন খারাপ করা গল্পটা শুরু করি।



দিনটা ছিল শনিবার।অক্টোবরের ৭ তারিখ। ২০১২। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়।



আমি আর আমারা মোট ১০ জন মিলে জাভা’র(কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ) উপর একটি কোর্স করার সিন্ধান্ত নিয়েছিলাম তারও প্রায় মাস খানেক আগে।



বাঙ্গালীর ব্যবস্থাপনা মানেই তো অব্যবস্থাপনা। তাই শুরু করতে গিয়ে মাসখানেক দেরী হয়ে গেল।



টাকা-পয়সা একটু কম লাগবে, তাই আমরা ধানমন্ডির ‘হলি একাডেমী’(সিটি কলেজের সামনে ওভার ব্রীজ থেকে নেমেই যে গলিটা হাতের ডান দিকে চলে গ্যাছে, সেই গলিতে) নামের একটি কোচিং সেন্টারের ছোট্ট একটি রুম ভাড়া করি।যা হোক, কষ্ট করে হলেও তো কম টাকায় শেখা হয়ে যাবে।



ক্লাস শুরু করে দিলাম সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ থেকে।অক্টোবরের ৭ তারিখ ছিল আমাদের দ্বিতীয় ক্লাস।



জীবনে বোধহয় অনেক বড় একটা ভুল করেছি ল্যাপটপ না কিনে ডেস্কটপ পিসি কিনে। আবার ল্যাপটপ ছাড়া কোর্সের ক্লাস করার উপায়ও নেই।তাই আমার হলের এক কক্ষসঙ্গীর ল্যাপটপ ধার করে নিলাম।



লেখাপড়ার জন্য কত আগ্রহ আমার!



ক্লাস শেষ হল বিকাল পাঁচটার দিকে।আমার ব্যাগটা অনেক ভারী। একে তো ল্যাপটপ, তার উপর মাল্টিপ্লাগ,বই-খাতা, কলম……।তাই ব্যাগটাকে ঘাড়ে তুলতে রীতিমত অলসতা চেপে বসল আমার উপর।



হঠাৎ, আমার খুব প্রিয় বন্ধু রিফাত ঘাড়ের পেছনে হাত চেপে আমাকে এসে বলল, বাইরে কারা যেন মারছে আমাদের।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার আরেক প্রিয় বন্ধু ধুমকেতুর মত উড়ে এসে বলল, পালা, মারতে আসল।



দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি, দু’তিন জন ছেলে, হাতে বাঁশ নিয়ে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। একেবারে কোচিং সেন্টারের ভেতর ঢুকে পেড়েছে, আমাদের ক্লাসের ভেতর ঢুকে পড়েছে।



হিতাহিত জ্ঞান শূণ্য হয়ে জান বাঁচানোর জন্য দৌড় দিলাম, ক্লাসের বিপরীত দিকের ছোট্ট দরজর উপর দিয়ে আমরা তিনজন লাফিয়ে পড়লাম অপর রুমে ক্লাস নিতে থাকা এক ম্যাডামের উপর।ম্যাডাম সক্রোধে চিৎকার করে উঠলেন, “এ্যাই, ব্যায়াদপ ছেলেরা, কি করছ, আস্তে যাও।”



“ম্যাডাম, আমাদের মারতে আসছে…” হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে পেছন থেকে বলে উঠল কেউ একজন।মুহূর্তে আমরা তিন জন চলে গেলাম কোচিং সেন্টারের একদম পেছনে।একটা অন্ধকার যায়গায়।লম্বা জালের মত কিছু একটা ছিল। সেটা সরিয়ে খাজকাটা দালানের আড়ালে আমরা লুকিয়ে থাকলাম।আর মনের ভেতর গুণগুণিয়ে উঠতে থাকল খোদা-আল্লাহ্ আর দেব-দেবীদের নামগুলো।



ওরা লাঠি হাতে আমাদের খুঁজতে আসছিল। কিন্তু ম্যাডাম বাঁচিয়ে দিলেন, বললেন, ওদিকে কেউ নেই। তোমরা যাও……।



অন্ধকারের আড়ালে অনেকক্ষণ লুকিয়ে থাকলাম।আমার সাথে আরও দু’জন লুকিয়ে আছে। বাকিদের খবর জানি না।যে দুজন আমার সাথে আছে, ওদের কাঁধে ল্যাপটপের ব্যাগ ঝুলছে।আমার ব্যাগটা? হে ঈশ্বর….

ব্যাগটা তো রুমে রেখে দৌড় দিয়েছি। ব্যাগটা যেন থাকে…..।



প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর আমরা বেরোলাম।আমার বন্ধু-বান্ধব সবার চোখে-মুখে বিস্ময় আর আতঙ্ক একসাথে লীলানৃত্য করছে।পা টিপে টিপে এগুলাম সেই ক্লাস রুমটার দিকে, যেখানে আমি ক্লাস করেছিলাম।না, আমার ব্যাগটা আর নেই……………..।



ততক্ষণে কোচিং এর গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোচিং সেন্টারের পরিচালক সেই মুহূর্তে ছিলেন না। তবে কোচিং সেন্টারের লোকেরা আমাদের ই দোষ দেয়া শুরু করলেন। তাদের কথাগুলো ছিল মুটামুটি এরকম, নিশ্চই আপনাদের সাথে ওদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। অথবা আপনারা নিশ্চই কিছু করেছিলেন। তা না হলে শুধু শুধু ওরা আপনাদের মারতে আসবে কেন?



আমি এবং আমরা তাদের বোঝানোর অনেক চেষ্টা করলাম যে, আমরা তাদের কাউকে চিনি না। কোনদিন দেখি নি। তাদের সাথে আমাদের কখনও কোনদিন একটি কথাও হয় নি।



তারা জবাবে বললেন, “আপনাদের এ কথা বাংলাদেশের কেউ বিশ্বাস করবে না। যাক, আপনারা এখন বের হন। যা হবার তো হয়েছেই, এখন কোচিং সেন্টারের মান-সম্মান নষ্ট করবেন না।”



কোচিং সেন্টারের ভেতরে অনেক খোঁজা খুঁজি করলাম।আমার ল্যাপটপের ব্যাগটা আর পেলাম না।



সবসময়ই যে ছেলেটির সাথে থাকি, তার নাম রাশেদ। ওকে শুধু আমার বন্ধু বললে ভুল হবে। হবে ঠিক কি বলে ডাকলে ঠিক হবে, তা আমি জানি না।



রাশেদের ফ্যাকাসে রক্তাভ মুখটি দেখা গেল। ওর বাম পাশের কান দিয়ে রক্ত পড়ছে। কপাল-ভ্রু-গালদুটো ফুলে গিয়ে, রক্ত জমাট বেঁধে লাল হয়ে আছে।ওকে দেখতে বিশ্রী লাগছে।বুঝতে পারলাম, ওর উপর দিয়ে কি গ্যাছে।

স্থানীয় বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে পড়ে জানতে পারলাম, ওরা নাকি ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের ছেলে।



এ ঘটনায় আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না - এ কথা মানুষকে বোঝানো যে কতটা কঠিন, তা আমি এতদিনে বুঝে গ্যাছি। আমি নিশ্চিত, আমি আপনাদেরকেও বোঝাতে পারিনি।বোঝাতে পারার কথা না।



আমার এক বন্ধু তার ছোট ভাইকে ডাকল। ওর ছোট ভাই স্থানীয় কিছু ছেলেদেরকে ধরে আনল। ওরাই নাকি গোটা ধানমন্ডি এলাকার মা-বাপ। এক লোক আমাকে জিজ্ঞসা করল ল্যাপটপটা কি আমার ছিল? আমি বললাম, না।আমার বন্ধুর ছিল। সে জানতে চাইল, ল্যাপটপটা আমার হাত থেকে নেওয়া হয়েছে কি না। আমি বললাম, না। ল্যাপটপটা আমি রুমে রেখে পালিয়ে যাই। এসে দেখি ওটি আর নেই। তাহলে আমি ধরে নিতে পারি না যে ল্যাপটপটা ওরাই নিয়েছে?



এমন সহজ স্বীকারোক্তির জন্য আমি বকা খেলাম। হারিয়ে গেলে নাকি সব-সময়ই বলতে হয়, যা হারিয়েছে সেটি আমার ছিল এবং যারা নিয়েছে তারা আমার হাত থেকেই ছিনিয়ে নিয়েছে।



শুরুতেই বলেছি, আমি বোকা-সোকা জাতের এক ছেলে।এত সব কৌশল আসলেই আমার জানা ছিল না।



ফিরতে আমাদের অনেক রাত হল।ল্যাপটপটা আর পাওয়া গেল না।খারাপ করা মন আর আহত বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে এলাম।



মন খারাপ করা গল্পটা এখানেই শেষ।





আমার মনে হওয়া দু’টি কথা বলি। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধানমন্ডি যেতাম।ওখানে আমাদের চেনা-পরিচিত খুব বেশি মানুষ জন ছিল না।

তাই হয়ত স্থানীয় ক্যাডাররা এমন করতে সাহস পেয়েছিল।

আরও অনেক অসম্ভব কাহিনী মাঝেমাঝেই মনে হয়।আসলে একটা দূর্ঘটনা ঘটে যাবার পর অনেক যদি-কিন্তু মনের ভেতর ঘোরপাক খেতে থাকে।কিন্তু, আমি জানি, এর কোন কিছুই সত্য নয়।



আমার বন্ধু সিফাতের কাছ থেকে শোনা, এ ঘটনার কিছুদিন আগে নাকি ওই একই রাস্তায় কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চাঁদা না দেওয়ায় চরমভাবে অপমান করে কিছু ছেলে(আমি জানি না ছেলে গুলো এরাই কি না)।



সেদিক থেকে আমরা তো ভাগ্যবানই। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চর-থাপ্পর মারা হয় নির্বিবাদে, সেখানে আমাদের না হয় ধানমন্ডি প্রধান সড়কের পাশের রাস্তায় ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দিনের আলোতে সবার সামনে পিটিয়ে, আহত করে, ল্যাপটপ নিয়ে চলে গ্যাছে- এ আর এমন কি। তাই না?

মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:১৯

আধখানা চাঁদ বলেছেন: খুবই মন খারাপ করা ঘটনা। সবচেয়ে খারাপ লাগছে আপনার বন্ধুর ল্যপ্টপ হারানোয়। ছাত্রদের রাজনীতির সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে গুন্ডামি, বদমায়েশী।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:৫৩

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: ভালই বলেছেন আধখানা চাঁদ।

আপনি হয়ত জেনে অবাক হবেন যে, এমন কাজ ধানমন্ডিতে নিয়মিতই

হচ্ছে। দিনের আলোতেই হচ্ছে।সবার সামনেই হচ্ছে। পরিচয় জানতে চাইলে

বলা হয়, ওরা ছাত্রলীগের ছেলেপেলে। ভয়ে সবাই চুপ হয়ে থাকে।

২| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:২৬

আহমদ মোতেয়দ বলেছেন: This is Bangladesh, anything possible. shame! shame! Shame!

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৫

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: সত্যিই লজ্জাজনক....
কিন্তু বাংলাদেশ কেন এমন হবে....তাই না?

৩| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মাক্স বলেছেন: দিনে দুপুরে ডাকাতি?

৪| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৯

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: হ্যা ভাই মাক্স,

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য....দিনে দুপুরে ডাকাতি.....

৫| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:১৮

সত্যচারী বলেছেন: আপনার ঘটনা শুনে খুবই ব্যাথিত হলাম। আশা করি এসব ছোখাট ঝামেলায় মনোবল হারাবেন না........... শুভকামনা রইল

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:০৬

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: প্রথমে খুবই ভেঙ্গে পড়েছিলাম, তবে এখন কিছুটা গুছিয়ে উঠেছি।

সত্যচারী, আপনাকে ধন্যবাদ।

৬| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:১৯

বিপ্লব কান্তি বলেছেন: কি বলব ? নাথিং .... তাই না -------- না কিছু বলবো ....... যে অত্যাচারে আপনি ও আপনার বন্ধুদের উপর হলো তার বিচার কোন আদালতে পাবেন না, ..... নামটা দেখে বুঝলাম ব্রাহ্মণ মানুষ , একটা কথাই বলবো এসবের পিছনে যারা দায়ী তাদের কাউকে যদি কখনো সময়-সুযোগ মত পেয়ে যান , তাহলে বলির দা দিয়ে কোপ বসিয়ে দিবেন । স্বর্গ আপনার নিশ্চিত হবে এটা জেনে রাখবেন , অসুর হত্যা্য কোন পাপ নেই , আজ থেকেই এই মনোভাব নিয়ে যোগ করুন ।

- আর এই মনোভাব না থাকলে দেশ থেকে পালান , যেদিকে চোখ যায় ।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:০৫

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: মনে মনে যে কতবার ভেবেছি যে, আমার সুপারম্যানের মত শক্তি, আর আমি ওদেরকে উড়িয়ে দিচ্ছি, মেরে ছারখার করে দিচ্ছি......।

লাভ তো নেই....।

দেশে থাকলে এদের শিকার হতেই হবে। আর দেশ ছেড়ে যদি পালাই, সেটা কাপুরুষতা হবে। তাহলে বাঁচার উপায় কি?

আপাতত দেশেই আছি। দেশে থাকতে আমার খুবই ভাল লাগে।অন্তত কষ্টগুলোকে ভোলায় চেষ্টা করতে পারি।বাইরে চলে গেলে সেটাও করতে পারব না।

বিপ্লব কান্তি, সমবেদনা প্রকাশের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

৭| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:৩০

নুর ফ্য়জুর রেজা বলেছেন: খুবই খারাপ লাগলো।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:০৫

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: প্রিয় নুর ফয়জুর রেজা, সমব্যথি হয়েছেন,ভাল লাগল।

শুভকামনা রইল।

৮| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৮:৩৩

হ য ব র ল ঘোৎ বলেছেন: আমি বুঝিনা এই ছাত্রলীগের পর্দার আড়ালে কারা কলকাঠি নাড়ছে!সরকার?যদি সরকার হয় তাহলে এমন সরকারের মুখে থুতু দেই।এরা কতগুলো জারজের জন্ম দিয়েছে।যাদের কারনে বিশ্ববিদ্যলয়গুলোতে আজ লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে।আগে ছিল শিবির আর এখন আছে এই জারজগুলা!
আপনার ল্যাপির জন্য খারাপ লাগলো।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:০৪

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন:
প্রিয় হ য ব র ল ঘোৎ,

আপনাকে একটা প্রশ্ন করি। আগামী নির্বাচনে আপনি কাকে ভোট দেবেন?

আপনি যতই সচেতন নাগরিক হন না কেন, আপনার হাতে আওয়ামীলীগ আর বিএনপি ছাড়া আর কোন কার্যকর বিকল্প নেই।

আসলে আপনার-আমার মত দেশের কোটি কোটি মানুষ খুবই অসহায়।
কোন শক্তি যে এই কোটি প্রাণকে বাঁচাতে পারবে বা আদৌ পারবে কি না, তা একমাত্র সময়ই জানে।

৯| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১০:৩৩

হাসান৭৭৭ বলেছেন: বাপ মা পোলা পাইনরে পরাশুনা করতে পাঠায় আর পোলাপানগুলা কুত্তা লীগ করে সন্ত্রাসী হয়। এরা কি ছাত্র নাকি কুত্তা?


টেনশন কইরেন না ভাই। একদিন ভালো দিন অবশ্যই আসবে।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৩৯

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: বলেছেন: প্রিয় হাসান৭৭৭,

শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ভাল দিন বলতে যে আপনি কি বোঝাচ্ছেন, তা ঠিক বুঝলাম না।

ধরে নিলাম পরের বার নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হল।তারা কি দেশে সুশাসনের জোয়াড় বইয়ে দেবে। এখন ছাত্রলীগকে কুত্তা লীগ বলছেন, তখন বোধহয় ছাত্রদলকে বলবেন কুত্তা দল।

আমাকে ভুল বুঝবেন না। আসলে আমরা সবাই দিন দিন আমাদের মৌলিক অধিকার গুলো হারিয়ে ফেলছি। আমার সাথে যা হয়েছে তা যেকারও সাথেই হতে পারত। আর এমন ঘটনা ঘটে গেলে কপাল চাপড়ানো ছাড়া আর উপায় থাকে না। তবে ব্লগে আপনাদের সাথে কথা বলে মনের কষ্টটা কমানো যায়।।

১০| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:১৯

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: মার্কা দেখে ভোট দেয়া ছাড়েন। আমি বলছি - ছাড়েন। ভালো লোককে ভোট দেন। ভালো লোককে ভোট দেন।
অবশ্যই দিন বদলাবে। আওয়ামী লীগ বিএনপি আর না। কাঠাল গাছ থেকে যেমন আঙ্গুর হয় না, তেমনি দুর্নীতিবাজ ও চোরদের দিয়ে দেশের উন্নতি হয় না।

জানি, এই সহজ কাজটা আপনি করবেন না, তবু বললাম।

আমি কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে ভোট দেই না। কারণ আমি মনে করি, আমার ভোটে পাস করে এক প্রার্থী যত অপরাধ করবে, সবগুলোর ভাগীদার আমি হব। কেন আমি অনর্থক আরেকজনের পাপের ভাগী হব ?

আমার মতো বেশি সংখ্যক লোক মার্কা না দেখে প্রার্থী দেখে ভোট দেউক, দেশ অবশ্যই বদলে যাবে।


১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৩৮

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: লেখাজোকা শামীম ভাই,

দিন বদলের স্বপ্ন যে আমি দেখি না, তা কিন্তু নয়। শুধু আমি কেন, আমার অনেক আগে থেকেই আরও অনেকে দেখে আসছে। আপনিও দেখেন, জেনে খুশি হলাম। কিন্তু ফলাফলটা কি?

ভোটের আগের দিন রাতে টাকা-পয়সা ছড়ানোর একটা রমরমা খেলা চলে, তা আপনি নিশ্চই জানেন। দেশের বিরাট সংখ্যক মানুষ অশিক্ষিত, ‍দরিদ্র। সামান্য কিছু টাকা পেলেই তারা নিজের ভোটটা বিক্রি করে দেয়।

সমস্যাটা আসলে অনেক গভীরে। উত্তেজিত না হয়ে চিন্তা করুণ। শান্ত মাথায় ভেবেই নিষ্কিৃতির পথ খুঁজতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

১১| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:২৩

একুশে২১ বলেছেন: এত মন খারাপ হয়ে গেল তা আর বলে বোঝাতে পারবনা। আপনার লেখা পরে নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৪৪

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: আমরা যদি নিজেদের অসহায় ভাবতে শুরু করি, তবে পরিবর্তনটা আসবে কিভাবে একুশে২১।

আশাহত হবেন না। ধৈর্য রাখুন।

১২| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৩৫

রাফি-সামিন বলেছেন: বন্ধু...... আমার মনে হয় এখনকার সন্ত্রাসীরাই আসল মেধাবী.........তাই কি?

১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫০

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: প্রিয় রাফি-সামিন,

কথাটা সত্য। শুধু মেধাবী নয়। ওরা ভয়ানক রকম মেধাবী। সন্ত্রাসী উৎপাদনের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরী করা যেতে পারে।
তাতে সরকারী সহযোগিতা তো থাকবেই।

১৩| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১০

মানব দানব দেবতার ভয় বলেছেন: আমার অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে একটু কম, কিন্তু জঘন্য । শুধু সবসময় মনে হয়, সবকিছু নষ্টদের দখলে চলে গেছে ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৩৩

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: চলে গেছে কারন আমরা চলে যেতে দিয়েছি। কারও কিছু করার নেই, তাই না?

আমাদের মানব দানব দেবতার ভয় হতে হবে না, শুধু সন্ত্রাসীদের ভয় হলেই চলবে।

চেষ্টা করে দেখুন না। পারেন কি না।

১৪| ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:১৯

খেয়া ঘাট বলেছেন: আসলেই মন খারাপ করার মতো ঘটনা
এটাতো গল্প নয় সত্যি ঘটনা। সমবেদনা জানালাম।

১৫| ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২৪

পেলব চক্রবর্তী বলেছেন: অনেকদিন পর সমবেদনা জানালেন। তবে ভাল লাগল ।।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.