নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালো থাকুন সবাই ।জীবনকে উপভোগ করুন নিজের মতো করে।

ইসিয়াক

হয়তো কোনদিন দেখা হবে না কারো সাথে অদেখা অদেখাই রয়ে যাবে।।যখন আমি হারিয়ে যাবো তখনো কি আমায় মনে রাখবেন?

ইসিয়াক › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনের গল্পঃ ২০/১২ শের শাহ শুরী রোড।ঢাকা ১২০৭

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:২০

জমির মিয়া আজ অনেকগুলো বছর হয়ে গেল দুই চোখে কিছুই দেখেন না।সারাদিন সে ভিতর বাড়ির বারান্দায় চেয়ার পেতে বসে থাকেন।বসে থাকেন আর বিড়বিড় করে একমনে কি সব বাক্য আওড়ান। কি যে বলেন, তা তিনি ছাড়া আর কেউ সেই বাক্যের মানে উদ্ধার করতে পারবে না্ ।বকাবকির এক পর্যায়ে হাত তুলে উপরের দিকে কাউকে শাসান। কাকে যে শাসান তা উনি নিজেই ভালো জানেন।এরপর একসময় ক্লান্ত হয়ে বাকি টুকু সময় তিনি চেয়ারে বসেই ঝিমান। এই হলো তার নিত্য দিনের রোজনামচা।

বাড়িটি পুরানো আমলের বিহারি বাড়ি। একপাশে দোচালা দুকামড়ার টিনের ঘর। মধ্যখানে উঠান আরেক পাশে ও টিনের দোচালা দুটি দরমার বেড়ার ঘর আছে অবশ্য।সেই ঘরের বারান্দায় জমির মিয়ার সারা বেলা কাটে।
জমির মিয়ার চার ছেলে তিন মেয়ে।তার স্ত্রীর নাম জুলেখাবানু।

আজ সকাল সকাল জুলেখা পরোটা ভাজছেন।পরোটা আর ডিম ভাজির ঘ্রাণে সারা বাড়ি মৌ মৌ করছে।বাড়ির ছেলে মেয়েরা তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসে আছে।

জমির মিয়ার নাকে ও সেই ঘ্রাণের ঢেউ এসে লাগলো।তিনি বেশ আহ্লাদি গলায় বললেন,
-জুলি ও জুলি আজকের মেনু কী? পরোটা আর ডিম ভাজি নাকি? বাহ ভালোই তো। তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও খুব ক্ষিদা পাইছে ।জুলি হচ্ছে জুলেখা, জুলি ডাকে জুলেখার খুব লজ্জা লাগে।জুলেখা কোন উত্তর দেয় না।ছেলেমেয়েরা সব বড় হয়েছে এর মধ্যে জুলি নাম ধরে ডাকা বেশ অস্বস্তিকর ।লোকটাকে নিষেধ করলেও শোনে না। শুনবে কি ,লোকটা যে বোধের মধ্যেই নেই।

নাস্তা খেতে খেতে ইকবাল তার মায়ের কাছে জানতে চাইলো,
-মা ,কাল রাতে অনামিকা বাড়ি ফেরেনি?
-না।
-কিছু বলে গেছিলো মানে বলতে চাচ্ছি ফিরবে কি ফিরবে না এরকম আর কিছু।
-তোরা কেউ আমারে কিছু বলিস ? না মানিস? আমারে বলবে কেন? আমি মানুষের মধ্যে পড়লাম কবে?
-মা,অভিযোগ বাদ দাও,তুমি কিছু জিজ্ঞেস করোনি?
-আমি এখন আর কাউরে কিছু জিজ্ঞাস করিনা । যার যা ভালো লাগে সে তাই করুক।আমার কি? সব দায় যেন আমার।পেটে ধরছিতো।পাপ করছি।
-মা সব সময় তুমি অস্থির।আর তো কয়েকটা মাসবাকী।পাস করে বের হই ঠিক একটা চাকরী জোগাড় করবো। অনামিকাকে তখন কাজে বাইরে বের হতে হবেনা। সংসারের হাল তখন আমিই ধরবো।
জুলেখা বানু তবুও গজগজ করতে থাকে।
-ঠিক আর হইছে এজীবনে।তোরা আর শুধরাইছোস। আর আমি সুখ পাইছি।মরণ যে কেন হয় না! আমার আর এত জ্বালা সহ্য হয় না।

এখন সকাল আটটা বেজে দশ।২০/১২ শের শাহ শুরী রোড বাসার সামনে একটা দামী গাড়ি এসে থামলো।কালো কাচে ঢাকা গাড়ী থেকে নেমে এলো যে তার নাম মৌমিতা।তার সাজ পোষাক,পারফিউমের গন্ধ সাধারণের থেকে আলাদা।সে রাজকীয় ভঙ্গীতে গাড়ী থেকে নামলো তারপর গাড়ীতে বসে থাকা মধ্যবয়সী যুবকের হাত তুলে নিয়ে একটি চুমু খেল।এই মৌমিতা নামের মেয়েটি আসলে আমাদের অনামিকা।ফ্লিম ইন্ড্রাসটিতে তাকে সবাই মৌমিতা নামেই চেনে। বর্তমানে দু্ই ছবির সা্ইড নায়িকা সে। ভাগ্যক্রমে ছবি দুটি হিট হওয়াতে কপাল খুলে গেছে মৌমিতার। জমির মিয়ার বন্ধু মানুষ আসাদুজ্জামানের ছেলে ইবনে সাহিল।বর্তমান সে ব্লকবাষ্টার পরিচালক।

অনেক ছোট বেলা থেকেই তার এ বাড়িতে অবাধ যাতায়াত। জমির মিয়ার অসাধারন তিন রুপসী কন্যার দিকে তার চোখ ছিলো অল্প বয়স থেকে। অস্বচ্ছল এই পরিবারের দারিদ্যের সুযোগ নিয়ে সহজে সে মন জয় করে নেয় মৌমিতার। গতরাতে মৌমিতা ইবনে সাহিলের পরবর্তী দুই ছবির নায়িকা নির্বাচিত হয়েছে। এই উপলক্ষে পার্টির কারণে সে গতরাতে বাড়ি ফিরতে পারেনি।এই কারণে তাকে অবশ্য অনেক বড় মূল্য চুকাতে হয়েছে। এতে মৌমিতার অবশ্য কোন গ্লানি নেই।সে জানে জীবনে বেঁচে থাকতে হলে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই টারার প্রয়োজন আছে। টাকার বিকল্প কিছু নেই্।

সামনের সদর দরজা হাট করে খোলা।মৌমিতা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। নাহ! এদের নিয়ে আর হয় না। সে কলাপসিবল গেট খুলে ভিতরে পা দিতে মায়ের গলা পেলো।
জমির মিয়া দেখতে না পেলেও সুগন্ধীর তীব্র গন্ধ তার নাকে এলো।সে অচেনা সৌরভের অধিকারীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো,
-কে আসছে কে?
-কে আর আসবে ।বাবা আমি।তুমি চা খাইছো?
-চা নাশতা সব হইছে মা।বিড়ি হইলে ভালো হইতো।
মৌমিতাকে দেখে পুরো বাড়ির যেন হঠাৎ থমকে গেলো।জুলেখাবানুর মুখও বন্ধ হয়ে গেল।মৌমিতা একটু অবাক হলেও জোরে হেসে উঠলো।মদের নেশার ঘোর এখনো ঠিক মতো কাটেনি মনে হয়।
-কি ব্যপার কি হচ্ছে ? কি নিয়ে আলাপ হচ্ছে এতো?
কেউ কোন কথা বললো না,কেন জানি আজ সবাই গম্ভীর।বাধা না দিলেও মৌমিতা এই লাগামহীন চলাফেরা এ বাড়ির কারোর ই তেমন পছন্দ নয়।মৌমিতা অবশ্য সে সব পাত্তা দেয় না।সে বিশ্বাস করে দুনিয়াতে টাকাটাই আসল। টাকা ছাড়া দুনিয়াতে কোন মানুষের মূল্য নাই। এই যে এতো গুলো মুখ চলছে তো তারই টাকায়্ আবার এমন ভাব দেখায় না জানি সে কত পাপী্ সে এসব অবহেলা গায়ে মাখে না ।
যা হোক সবাই শোনো একটা সুখবর আছে?
সবাই পিনপতন নীরবতায় উন্মুখ হয়ে রই্লো খবর শোনার আশায়।জুলেকাবানু হতাশ সুরে বলল,
-সেয়ানা মাইয়া রাইতে বাড়ি না ফিরলে কেমন লাগে, এখন কিছু বুঝবিনা।যখন মা হবি তখন ঠিকই টের পাবি।তোর মুখে আর সুখের খবর শুইন্যা কাম নাই্ সব আমার কপাল।
সরি মা আর হবে না। তুমি তো জানো টাকাটা আমাদের কত প্রয়োজন।
-হ সবই জানি সবই বুঝি।আমারে আর বোঝাইতে হইবো না।এখন ঘরে যাও,কাপড় ছাঢ়ো। খাইয়া দাইয়া আমারে উদ্ধার করো।
অন্তর থেকে না চাইলেও মৌমিতার দেয়া চেকটি জুলেকাবানু সযতনে আলমিরাতে তুলতে ভোলে না। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে টাকার কোন বিকল্প নেই সে কথা সে ছাড়া আর কেইবা ভালো জানে?
কিন্তু দিনে দিনে যে পাপের বোঝা বাড়ছে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার দায়ভার জুলেকাবানু কাধে ইদানিং বড্ড বেশি চেপে বসছে।সে জানে না কিভাবে সে এর দায় থেকে মুক্তি পাবে। আদৌ কি পাবে?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.