![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উপনিবেশবাদ ভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যসমূহ, যেমন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে ইউরোপীয়গণ সাম্রাজ্য কায়েমের পর সেগুলোতে তারা অভিবাসন করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের পতন হলে, এগুলোও প্রজাতন্ত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব ইউরোপীয় উপনিবেশসমূহ প্রজাতন্ত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা হলে জাতি ধারণায় নতুন উপাদান যুক্ত হয় এবং জাতি সম্পর্কিত ধারণার ব্যাপক রূপান্তর ঘটে। এসব প্রজাতন্ত্রের প্রধারন আকর্ষণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিচালনা, রাষ্ট্রের সেবাসমূহ নিশ্চিত করা এবং বংশগতি, ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে বহুধা বিভক্ত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা। এসব প্রজাতন্ত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিত্তশালী, মেধাবী ও কর্মোদ্যম সম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে আকর্ষণে জাতীয়তা প্রদান করে থাকে। এসব প্রজাতন্ত্রের অভিবাসী সংগ্রহের প্রয়াসের ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জাতি ধারণায় দুষ্টতা প্রবেশ করে চলেছে। ফলশ্রুতিতে ‘রাষ্ট্র’ ‘জাতি’-এর সমার্থক ধারণা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিশ্বজুড়ে জাতিরাষ্ট্র সম্পর্কিত ধারণা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় উপনিবেশ সঞ্জাত প্রজাতন্ত্রসমূহের প্রতিভূ আর্থ-সামাজিক শ্রেণীর বিকাশ ঘটে চলেছে। এই আর্থসামাজিক শ্রেণী বাংলাদেশে রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণীর রাষ্ট্রচিন্তায় দুষ্টতা প্রবেশ করেছে এবং ভাষা-রাজনৈতিক চিন্তা ও দর্শনেও দুষ্টতা প্রবেশ করেছে, যারা এখন দেশে বাংলা ভাষাকে দাবিয়ে তার উপর ইংরেজি ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করণে সচেষ্ট রয়েছে।
©somewhere in net ltd.