নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অধিকার বঞ্চিত পৃথিবীর উত্তরাধীকারি

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন

অপরিপক্ক কৃষক

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিডিয়া এবং সামাজিক অবক্ষয়।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫


আমি সর্বদাই বলি সমাজ বা জাতির চিন্তা চেতনা গঠনে মিডিয়া ব্যাপক হারে প্রভাব বিস্তার করে। রক্তে-মাংশে গড়া নারী-পুরুষের মধ্যকার প্রেম ভালোবাসা তাদের জীবনেরই একটা চ্যাপ্টার, কিন্তু বর্তমান মিডিয়া নাটক গুলোতে এটা নিয়ে এতো বেশি পরিমানে বাড়াবাড়ি চলছে, যাতে মনে হয় এটা ছাড়া জীবনে আর কিছুই নাই! ইভেন একটা প্রেম না করতে পারায় অনেক তরুন তরুনীর মধ্যে হতাশার ছাপও লক্ষ করা যায়। এসব ছাড়াও অশ্লীলতা তো আছেই এর সাথে বিষফোঁড়ার মতো হয়ে দাড়িয়েছে বিভিন্ন অশ্লীল কন্টেন্ট। চিন্তা চর্চা থেকে দূরে সরিয়ে একটা অথর্ব জাতী গঠনে যা যা করা দরকার বর্তমান মিডায়া তার ষোলোকলাই পূর্ন করেছে, তরুন সমাজের দিকে তাকালেই তা প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়াও বর্তমান নারী সমাজের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হচ্ছে ধর্ষন! আর এক্ষেত্রে বর্তমান মিডিয়া বিভিন্ন ভাবে দায়ী।
যেমন ধরেনঃ
*সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য নাটক মিডিয়া বিশেষভাবে দায়ী, আবার সামাজিক অবক্ষয় ধর্ষনের জন্য দায়ী।
*বিভিন্ন যৌন উদ্দিপক গল্প এবং অশ্লীল দৃশ্য।
*সেচ্ছায় একটা মেয়েকে কিভাবে একান্তে কাছে আনা যায় তার নানাবিধ কৌশল শেখানো।
*অনেক সময় নাটক দেখেই প্রেমিকার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটা পূরণ না হলে সেই চাহিদা একটা সময় ধর্ষনের মতো জঘন্য অপরাধোর দিকে নিয়ে যায়।
*যেই পোষাক নিয়ে দু পক্ষের এতো বিতর্ক, এই পোষাকের রুচি তৈরিতেও মিডিয়া প্রভাব বিস্তার করে।

যাইহোক, চিন্তা করলে আরো বের হবে। কিন্তু আশ্চর্য্যের ব্যাপার হলো, এতো কিছুর পরেও ধর্ষনের জন্য নাটক মিডিয়াকে দায়ী করা হয় না! এটা নিয়ে টকশো হয় না! কিছু ধর্ম ব্যাবসাহি কেনো পোষাককে দায়ি করে এটা নিয়েই যত মিছিল, মিটিং, টকশো চলতে থাকে। হ্যা আমিও তাদের বিরুদ্ধে যারা ধর্ষনের জন্য পোষাককে দায়ী করে ফতোয়া দেয়। আবার নারী-পুরুষের শালীন এবং মার্জিত পোষাক পরার প্রতিও গুরুত্ব দেয়া উচিত। তবে পোষাক আর ধর্ষন দুটোকে মেলাতে চাইনা। বরং ধর্ষনের মূল দায় ব্যাক্তির মানুষিক অবক্ষয়, আর মানুষিক অবক্ষয়ের জন্য প্রত্যাক্ষ এবং পরোক্ষো উভয় ভাবেই বর্তমানের নাটক মিডিয়া সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ এটা নিয়ে তেমন একটা উচ্চবাচ্য নাই!
আবার এই নাটক মিডিয়া চাইলে একটা ইতিবাচক সমাজ গঠনেও খুব বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রতিটা ইতিবাচক নাটককেই আমি এপ্রিশিয়েট করি। তেমনই একটি নাটক বোধ লিঙ্ক দিয়ে দিলাম, এখানে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন। অশ্লীল নাটক ভাইরাল না করে এসব নাটক ভাইরাল হওয়া উচিত, এতে করে নির্মাতারা উৎসাহ পাবে। বারাবার মানুষের মস্তিস্কে নৈতিকতার করাঘাত করতে এমন নাটক বেশি বেশি নির্মান হওয়া উচিৎ। বারবার নৈতিকতার আঘাত করতে করতে একটা সময় অনৈতিকতার প্রাসাদ ভাঙবেই।
যদিও অনেকেই বলে, একটু সুড়সুড়ি না থাকলে ভিউজ বাড়ে না। আমি বলবো তাদের যোগ্যতা নাই। শুধুমাত্র মানুষকে আনন্দ বা সুস্থ বিনোদন দেয়ার উদ্দ্যেশে কোনো প্রকার যৌন সুড়সুড়ি ছাড়াই বানানো অনেক নাটকের নাম বলতে পারবো যেগুলো প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছে, আবার একই সাথে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতোও। যাস্ট বিনোদনের জন্য এগুলো সকল শ্রেনীর দর্শকের কাছেই ভালো লেগেছে এবং জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।
তাই যারা বলে যৌন সুড়সুড়ি ছাড়া দর্শক পাওয়া যায় না, তাদের বলবো অন্য কিছু করে খান, মিডিয়া জগৎ আপনার জন্য না।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:২৫

জাহিদ হাসান বলেছেন: হুমায়ুন আহমেদ স্যারের নাটক ও সিনেমা খুব মিস করি। উনার নাটক দেখে খুব ভালো লাগতো।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৩৩

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেছেন:




উনার নাটকের স্বতন্ত্র একটা প্যাটার্ন ছিলো, নাম দেখা লাগতো না সংলাপ শুনেই বলা যায় এটা হুমায়ুন আহমেদের নাটক।

২| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৩৯

জাহিদ হাসান বলেছেন: আমার দেখা সেরা ধারাবাহিক নাটক- উড়ে যায় বকপক্ষী। হুমায়ুন আহমেদ ছাড়া আর কারো পক্ষে এমন একটা নাটক বানানো এখন পর্যন্ত সম্ভব হলো না। কি অসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৪৭

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেছেন:




হুমায়ুন আহমেদের নাটক নিশ্চিন্তে দেখা যায়, কারণ অত্যন্ত সময়টা নষ্ট হবে না ।

৩| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: মিডিয়া হলো সবচেয়ে বড় চুতিয়া। এরা ইয়াবার মতো খারাপ।
বাংলাদেশে হুমায়ূন আহমেদের উপরে কোনো নাট্যকার নেই।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৪৫

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেছেন:




তার নাটকে একটা স্বতন্ত্রতা আছে, সংলাপ এবং চিন্তার মধ্যেই ইউনিক একটা ভাব আছে।

৪| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৫১

জনৈক অপদার্থ বলেছেন: হুমায়ুনের স্যারের সময়, ফারুকীর ছবিয়াল ভাইব্রাদারদের ক্রিয়েশন কিংবা হাল আমলের আয়নাবাজি ছাড়া বাংলা মিডিয়ায় বাকি সব গার্বেজ মনে হয়।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৫৯

প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেছেন:




ফারুকীর একজন ক্রিয়েটিভ পারসন, তার কিছু কাজে সমাজের বিস্রি রুপ আর ভন্ডামি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

৫| ২০ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:৪০

নূর আলম হিরণ বলেছেন: নাটকের নামে সব গারবেজ উৎপাদন হচ্ছে।

৬| ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:২৯

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: সমাজ এভাবেই এগিয়ে যাবে বা যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.