নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

https://web.facebook.com/salauddin.shahria

সালাউদ্দিন শাহরিয়া

আমার মনের মৃত্যু হয়েগেছে দেহের মৃত্যু বাকি, বিষাক্ত ধুলিমাখা দীর্ঘজটে দেহটা কোথায় রাখি? - সালাউদ্দিন শাহরিয়া

সালাউদ্দিন শাহরিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

লিলা খেলা

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:২৫

সালাউদ্দিন শাহরিয়া

গিটার দিয়ে গান করছে আবির-
“বন্ধু তুমি আসলে পাশে পরাণ জুরাই যায়,
দূরে তুমি সরে গেলে মনটা দুঃখ পায়।
আর যাইওনা বন্ধু তুমি আমায় ছাইড়া দূরে,
তুমি চইলা গেলে বন্ধু আমি যামু মরে।”

সামির এসে পাশে বসলো। বসে বললো, কিরে শুধু শুধু গান করিস ব্যাপার কি? নারেহ! বন্ধু গান ছাড়া আর কি আছে এই দুনিয়ায়। আসছি একদিন যামু একদিন মাঝখানেতে প্রেম। এই প্রেম কি আর তুই করতে দিবিনা। ধুর তর লিলা খেলা বুঝা বড় দায়। আমি গেলাম তুই তর গিটার সাথে নিয়া গান কর। এই দাড়া এই সামির।
আবির একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে শহরে। গ্রাম থেকে আসছে। আর ওদিকে সামির দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে এই কলেজে। তারা একই মেসে থাকে এবং খুব ভালো বন্ধুও বটে। সামির গ্রাম থেকে আসলেও তেমন একটা স্ট্যান্ডার্ড না। তবে ইসলামিক মাইন্ডের। আবির সাথে থেকে সেও সিগারেট খাওয়া শিখে গেছে। অবশেষে দুজনই নিকোটিনের ঘ্রাণে ঘ্রাণে ব্যার্থের গান গাইতো আবার সুখেরও গান গাইতো। বেশ জমছিলো তাদের বন্ধুত্ব। সামির এই বছর ইন্টার মিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে আর আবির দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠছে। তো সামির ইচ্ছে করেই সেই মেসে থাকলো। বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে আবার আসলো আবিরের কাছে। সামির একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলো। আবারো তাদের আড্ডা জমলো বেশ ভালোই। বিকেল বেলায় তারা ব্রিজে বেড়তো। প্রেম টেমও করতো একটার পর একটা। সামির শুক্রবারের জুম্মার নামাজ পড়লেও আবির কিন্তু পড়তোনা। কোন কোন সময় জোর করে সামির আবিরকে জুম্মার নামাজ পড়াতো।
আবির এইচ.এস.সি পাশ করলো। আর সামিরের ভার্সিটিতে ভর্তি হলো। সামির ২য় বর্ষে তখন আবিরকে বলতো এই তর বড়ভাই আমি সবসময় সম্মান দিবি। আবির বলতো ধ্যাত্তেরি। বড় ভাই ও্যাহ। ভার্সিটিতে গেলে বলিস এখন না। এই বলে তাদের মাঝে একটু ঝগড়া হতো। আবার ঢং তামাশা হতো। ৩য় বর্ষে সামির উঠলো আর আবির ২য় বর্ষে উঠলো। তাদের ৪-৫ বছরের বন্ধুত্ব বয়স কেমনে যে হলো বলতেই পারেনা। ফুর্তি করতে করতে আর গান করতে করতে চলে গেলো সময়।
একদিন আবির স্বপ্নে দেখলো সে মারাগেছে চারপাশে তার মা বাবা ভাই বোন কান্না করতেছে। চারিদিকে কান্না আর কান্নার শব্দ। আগর বাতির জ¦লছে তার পাশে। সে উঠলো উঠে বলে আম্মু ঐইটা কে আমার মতো। আর কাদছো কেনো। আল্লাহ আমি তো এই যে, আছি ওটা আমি না। কেউ তার কথা আর শুনেনা। অবশেষে বুঝতে পারলো সে মারা গেছে। এটা তার রৌহ। পাশে চারজন খরার নিয়ে আসলো মসজিদ থেকে। কান্না আর চিৎকার আরো বেড়ে গেলো। সেও কাদতে লাগলো আর সেই সময় তার ঘুম ভাঙ্গলো। সময় তখন বাজছে রাত ৩টা। সে জানে যে, এইরকম স্বপ্ন রাত ৩টায় দেখলে নাকি সত্যিই হয়ে যায়। তারপর উঠে কান্না করছে। সামির আর সে ১২টায় ঘুমাইছে সারারাত মাস্তি আর ধুমপান করে। সামির ভরা ঘুমে। সে কান্না করতে করতে ভোর হয়ে গেলো। ফজরের নামাজে খাড়া হলো তখন সামির উঠে দেখে আবির নামাজ পড়তেছে। সে অবাক, বলে এ কেমন লিলা খেলা যে শুক্রবারে জুম্মার নামাজ পড়ে না সে আবার ফজরের নামাজ পড়তেছে। নামাজ শেষে লম্বা দোয়া করলো। তারপর আবির আর সামির গল্প করলো। আর তার ফজরের নামাজ পড়ার কারণ বললো। সামির বললো দেখ স্বপ্ন নিয়ে এতো টেনশন করিছ না। মন ভালো করার জন্য সে আবার গান গাইলো। অন্যদিন যদিও আবির গাইতো আজ সামির গাচ্ছে। তারপর আবার শুরু তাদের আগের অভ্যাস।
ক্লাস শেষ করে আসলো আবির ও সামির মেসে। তারপর দুজনই ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করলো। তাদের তারপর লম্বা ঘুম দিলো। আসরের একটু পর উঠলো। সামির রেডি হচ্ছে ব্রিজে যাবে। তখন আবির বললো তুই যা আমি আজ যাবোনা। সামির বললো আমি একা গিয়ে কি করবো। আজব তো! সে বললো আমি আজ অসুস্থি বোধ করছি তুই যা। সামির বললো না আমি যামু না, থাক।
তখন আবির কাশতে লাগলো। কাশতে কাশতে রক্তও বরে হলো। সাথে সাথে সামির উত্তেজিত হলো কি করবে কিনা। কিন্তু হঠাৎ আবিরের এমন অবস্থ দেখে দিশেহারা হয়েগেছে। সাথে সাথে সি.এন.জি একটা ভাড়া করে মেডকেল এ ভর্তি করে। তারপর আবিরের মা-র সাথে যোগাযোগ করে। বাবা বিদেশে থাকেন। মা আর তার মামা আসলেন শহরে। তারপর ডাক্তার বললো টেস্ট করাতে হবে। তো টেস্ট করানো হলো। তার ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়লো। ডাক্তাররাও অবাক ফুসফুস ক্যান্সার হয় সাধারণত ৪০ বছর বয়েসিদে উর্ধ্বে। আর যে ব্যক্তি ২০ বছরের উর্ধ্বে ধুমপান করে তার ফুসফুস ক্যান্সার হয়ে থাকে ৮০ শতাংশ। কিন্তু আবিরে বয়সই বা কতো আর কেমনই বা ধুমপান করলো। তার আম্মু যখন শুনলেন ক্যান্সার তখনই আধঘন্টা জ্ঞান ছিলো না। মা-বাবার একমাত্র ছেলে সে। কোনদিন কোন আবধার রাখেননি এমন কোন নজির নেই। সেই পুত্রের এমন অবস্থা সত্যিই বিশ^াসযোগ্য না। বাবা শুনলেন বিশ^াস করছেন না। দিশেহারা হয়েগেলেন। সামিরও জানলো কিন্তু আবিরকে সান্তনা দেওয়া হলো তার কিছুই হয়নি। কয়েকদিন মেডিকেল থাকলে ভালো হয়ে। আবির আর জানলোনা যে, তার ক্যান্সার ধরা পড়ছে। তারপর তার বাবা ফোন দিয়ে ডাক্তারের কাছে বললেন যত টাকা লাগে আমি দেবো আমার বাবুটাকে বাঁচান বলে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। এদিকে সামির ভোর বেলার আবিরের মৃত্যু নিয়ে স্বপ্নে কথা স্মরণ এবং তার নামাজ পড়া মনে পড়লো এবং সেও কাঁদতে লাগলো যে, বন্ধুকে হারাতে যাচ্ছি। তাদের কান্নার ঝড় বইছে। কিন্তু আবির কিছুই টের পাচ্ছেনা। সে একটু দরজাটা খুলে দেখে তার আম্মু পাশের রুমে অজ্ঞান অবস্তায় আছেন। আর সামির দেয়ারে সাথে বসে দু’হাটুর মাঝে মাথা রেখে কাদছে। সে কিছুই বুঝলো না। বললো আমার কিছুই হলোনা আর ওদিকে আম্মু অজ্ঞান আর এদিকে সামির কাদতেছে। টেস্ট এরপর আরি কি হলো আমি জানিনা। ডাক্তার বললো রেস্ট নিতে আমার কিছুই হয়নি। ঘটনা কি। রাত ৭টার দিকে টেস্ট করে ৯টার রির্পোট পেলেন। এই রিপোর্ট কি আসলো। আর কাদতে লাগলো আম্মুর অজ্ঞান হওয়ার বিষয় নিয়ে। সামিরের কাছে যায়। বলে কাদিস কেনো আর আম্মু ওই রুমে অজ্ঞান অবস্থায় নার্সরা আছে ঢুকতে দিচ্ছে না। আর তুই কাদতেছিস কারণ কি। সামির বললোর কারণ তুই মেডিকেল ভর্তি এই শুনে তর আম্মু এসে কাদতে কাদতে অজ্ঞান হয়েছে। তারপর ৩০ মিনিট পর জ্ঞান ফিরে। এখন ঘুমে। সে বললো। আল্লাহ এজন্য কি আম্মুর এই অবস্থা আর তুইও কাদছিস। আমি মরে গেলে কি যে করবি আল্লাহ জানে। দুজন বেডে আসলো। আত্মীয় স্বজন আসলো। ঘুনঘুন শব্দে কথা চলছে। আবির তখন একটা কিছু বুঝতে পারছে। যে, আমার নিশ্চই কি হয়েছে। তারপর সে রিপোর্ট দেখতে বললো। তখন তার আম্মু আর ডাক্তার বললেন রিপোর্ট এখনো আসেনি। তবে কিছুই হয়নি টেস্ট করে দেখলাম। আবির বুঝতে পারলো কি একটা হচ্ছে। তারপর রিলেটিভ সহ সবাই বাইরে যাওয়ার পর সে তার চাচাতো একটা ছোট্ট বোনকে ডেকে আদর করে বললো বলতো ভাইয়া কি হয়েছে। সে বলল ভাইয়া ক্যান্সার হয়েছে। তখনই সে কাদতে কাদতে চিৎকার করতে লাগলো। সাথে সবাই আসলো। ডাক্তাররাও আসলো। কি হয়েছে সে কিছু বলেনা। শুধু কান্না আর কান্না করতে লাগলো। ভাঙ্গা গলায় বলতে লাগলো আমার ক্যান্সার হয়েছে আমি বাচঁবোনা আর আমি মরে যাবো। সত্যিই আমি মরে যাবো। গতকাল রাতে আমি স্বপ্ন ঠিকই দেখেছি বলে কাদতে কাদতে লাগলো। সবাই শান্তনা দিতে লাগলো। আরে বাবা কিছুই হয়নি। আর সামান্য ক্যান্সার ধরা পড়েছে মাত্র। এগুলো ভালো হয়ে যাবে। সবাই তাকে শান্তনা দিচ্ছে। কিন্তু সে নিজেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা। ওদিকে স্বপ্ন আর এদিকে ক্যান্সার। সে কাদঁতে লাগলো। তারপর উন্নত চিকিৎসা করা হলো। বাচাঁর সম্ভাবনা আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ করে ডাক্তার বললো আমাদের আবিরকে আর বাচাঁনো সম্ভব না। ৩ মাসের মধ্যে যেকোন সময় সে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে পারে।
আবিরকে গ্রামের বাড়ি নেওয়া হলো। সেখানে সে ঔষুধ, ঘুম আর খাওয়া দাওয়াই আর রেস্ট। তবে সে নিশ্চিত যে, ৩ মাসের মধ্যে সে মারা যাবে। তাহলে সারাজীবন ঢং তামাশায় দিন কাটিয়েছে। মৃত্যুর আগে কমপক্ষে ইবাদত করে তার মাশুল করে। মরার পরে যেনো শান্তি পায়। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে লাগলো। তাজিদের নামাজও পড়তে লাগলো। তারপর মনে করতে লাগলো সাদিয়া, নদী, তিশাদের সাথে প্রেমের দৃশ্য আর ক্ষমা চাইতে লাগলো। সাদিয়ার সাথে সে একটু বেশই প্রতারণা করেছিলো। তার প্রথম প্রেম ছিলো সাদিয়ার সাথে। তখন ইন্টার ১ম বর্ষে পড়তো। তখনই তাদের প্রেম হয়। সাদিয়ার পিছু পিছু একমাস ঘুরলো। তারপর সাহস করে সামিরকে নিয়ে অফারটা দিয়ে দিলো। তারপর সাদিয়াও এক্সেপ্ট করলো। দুইবছর তাদের প্রেম ছিলো। ভার্সিটিতে উঠার পর ১ম বর্ষে নদী আর ২য় বর্ষে উঠার পরই তিশার সাথে রিলেশনে জড়ায়। সাদিয়ার সাথে প্রেম করে বিয়ের স্বপ্ন দেখা। সাদিয়াও তাকে প্রচুর ভালোবাসতো। আর সাদিয়া সাথে সে সহবাসও করছিলো। ভার্সিটিতে উঠার কয়েক মাস পর নদীর প্রেমে পড়ে সাদিয়াকে ছেড়ে দেয়। আর সাদিয়া কান্না করতে থাকে। অনেক রিকুয়েস্ট করে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সাদিয়াও আর যোগযোগ রাখেনি। তবে ফিরে আসার কল্পনায় কাতরাচ্ছে। আর আবিরকে মনে নিয়ে কেদে দিন কাটাচ্ছে। এইগুলো মনে করছে আর মাফ চাচ্ছে আর কান্না করছে, হে আল্লাহ আমাকে মাফ করো, তুমি তো দয়ালু, তুমি তো ক্ষমাশীল, তুমি তো রাহমানুর রাহিম। দোয়া করছে আর কাদঁছে। প্রতিদিন তাজিদের নামাজ পড়ে লম্বা দোয়া করে আর কাদে। তারপর ফজরের নামাজ শেষে দিন শুরু করে। ইসলামিক বই পড়ে। সারাদিন তার একই কাজ। ঔষধ, খাওয়া ধাওয়া, ইসলামিক বই পড়া, ঘুম আর নামাজ।
একমাস পার হয়ে গেলো। সে তাজিদের নামাজের পর দোয়া করছে হে আল্লাহ আমাকে তুমার এই রহমত, ইমান আর ইসলাম বুঝার তৌফিক দিলেনা কেনো। আমি যদি জানতাম ইসলাম সম্পর্কে আগে তাহলে কতোই না ইবাদাত করতাম। আমার তো আর সময় নাই। আমাকে মাফ করো। আর আমাকে আরো ইবাদাত করো সুযোগ দাওÑ আমিন। কাদতে কাদতে লুটিয়ে পড়লো যায়নামাজে।
শরীর রোগা হচ্ছে। মানসিক ও শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ। ২ মাসের সময় হঠাৎ প্রচুর কাশি আর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মেডিকেল এ ভর্তি করা হলো। টেস্ট করা হলো। তার অবস্থা খুবই খারাপ। কয়েকদিন ঔষধ খাওয়ানো হলো। তারপর আবার রক্তক্ষরণ হলো। টেস্ট করা হলো। দেখা যায় তার ফুসফুসের ক্যান্সার নাই। তখন ডাক্তাররা অবাক। বলা হলো মেশিনে সমস্যা আছে। তারপরন মেশিন চেক করা হলো। না তো মেশিন টিক আছে। আচ্ছা গত সপ্তাহে ফুসফুসের যে অবস্থা আজ দেখি পুরো ভালো। সবাই অবাক। সারা মেডিকেল হৈ হোল্লাস। একেমন ঘটনা। ক্যান্সার আপনা আপনি ভালো হয়ে গেলো। সামির ঘটনা শুনে এসে বললো এ কেমন লিলা খেলা।
আবির আবার ভার্সিটিতে যাওয়া শুরু করলো। এবং ইবাদত আর ইসলামের কাজ ছাড়েনি। সাথে সামিরও যোগ দেয়। দুই বন্ধু এখন একই সাথে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। ইসলামিক বইও পড়ে। আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছেন।

07-11-2018

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: সবাই ইসলামে ফিরে আসুক। তাতে দেশের মঙ্গল হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.