নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি স্মৃতিকাতরতা নামক ভীষণ এক রোগগ্রস্ত, সেই সাথে বিষাদগ্রস্থ মানুষ। আমার চিকিৎসা প্রয়োজন।

স্বপ্নবাজ সৌরভ

আমি স্মৃতিকাতরতা নামক ভীষণ এক রোগগ্রস্ত, সেই সাথে বিষাদগ্রস্থ মানুষ। আমার চিকিৎসা প্রয়োজন।

স্বপ্নবাজ সৌরভ › বিস্তারিত পোস্টঃ

টুকরো স্মৃতিঃ আমাদের লাল ব্রীজ

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৯



আমার নানাবাড়ি যেতে হলে পদ্মা নদী পার হতে হয়। ঘাটে ফেরীর জন্য অপেক্ষা করতাম। ফেরী কিংবা ঘাট দুটাই ছিলো খুব মজার বিষয়। ঘাটের দোকান গুলোতে খাওয়া আবার ফেরী উঠে খাওয়া। কি মজা! ফেরীর দোকানে কেক গুলো খুব মজার ছিলো। আর চিনাবাদাম, ঝালমুড়ি তো আছেই। আব্বার হাত ধরে ফেরীতে ঘুরে বেড়াতাম। একসময় ভেড়ামারা ফেরী ঘাট থেকে ফেরী ছাড়তো, আমাদের গন্তব্য পাকশী ফেরী ঘাট। নদীর স্রোত ভেঙে এগিয়ে যেতো আমাদের ফেরীটি, আছড়ে পড়তো ঢেউ। আমি আব্বার হাত ধরে থাকতাম। এক সময় ফেরীটি হার্ডিঞ্জ ব্রীজের কাছাকাছি চলে আসতো। আব্বা বলতেন দেখো দেখো হার্ডিঞ্জ ব্রীজ... লাল ব্রীজটা যতবার দেখতাম ততোবার অবাক হতাম। আব্বা প্রতিবারই ব্রীজের ইতিহাস আর খুঁটিনাটি বলতেন। আমার মনে হতো, ইস্ এমন ব্রীজ আমি বানাতে পারতাম! ফেরী যখন ব্রীজের ঠিক নিচে চলে আসতো আব্বা আমাকে উঁচু করে ধরতেন, আমি ব্রীজের ছুঁতে হাত বাড়াতাম। কিন্তু ছুঁতে পারতাম না! ভাবতাম, যেদিন বড় হবো সেদিন ঠিক ছুঁয়ে ফেলবো!

সেসব পুরোনো কথা। এখন আর পদ্মা নদীতে ফেরী চলে না। কোন বাবা আর ছেলেকে উঁচু করে ধরেনা, ছেলেও হাত বাড়ায় না লাল ব্রীজটা ছোঁয়ার আশায়।



তাতে কি? আমাদের সেই লাল টকটকে ব্রীজটা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, একশো বছর হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে!

তথ্য : নির্মাণকাল ১৯০৯-১৯১৫। জন্মঃ ৪-মার্চ-১৯১৫। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি রেলসেতু। পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত এই সেতুটি ভেড়ামারার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু হিসেবে পরিচিত।

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৮

আখেনাটেন বলেছেন: জীবন বয়ে চলে জীবনের নিয়মে।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৫

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: লাল ব্রীজের দেশে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই প্রিয় ব্লগার । ভালো থাকবেন ।

২| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৯

ইসিয়াক বলেছেন: চাইলেই জীবনে অনেক কিছু ছোঁয়া যায় না কিন্তু স্বপ্নটা থেকে যায় মনে মনে। স্মৃতিগুলো ফিরে আসে ক্ষণে ক্ষণে ।
ভালো লাগলো ।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: স্মৃতি অমলিন ইসিয়াক ভাই। ভালো থাকবেন।

৩| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০

নুরহোসেন নুর বলেছেন: কিছু স্মৃতি চিরদিন দাড়িয়ে থাকে লাল টুকটুকে ব্রীজটার মত.....!

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৪

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: দারুন বলেছেন ! ++
ভালো থাকবেন আপনি। লাল ব্রিজের দেশে আমন্ত্রণ।

৪| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২০

রাজীব নুর বলেছেন: এই ব্রীজটা ইংরেজিরা করেছিল।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৫

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: জ্বি রাজীব ভাই। ইংরেজদের নির্মাণ।

৫| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

সাইন বোর্ড বলেছেন: ১৯০৯ সালে এটি ইংরেজরা তৈরী করেছিল তাদের নিজেদের চলাচলের সুবিদার্থে, হ্যাঁ সড়ক সেতু তৈরী হওয়ার আগে বাসযাত্রীরা সবাই ফেরিতেই পারাপার হত, তখন এই ব্রিজটিকে অনেকক্ষণ ধরে দেখার সুযোগ হত ।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: নির্মাণকাল ১৯০৯-১৯১৫। ফেরি পারাপারের সময়টা দারুন ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে।

৬| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ,




আপনার এই স্মৃতিচারণ মূলক লেখাটির সারকথা বলেছেন আখেনাটেন - জীবন বয়ে চলে জীবনের নিয়মে।
আর নুরহোসেন নুর করেছেন ভাব সংক্ষেপ - কিছু স্মৃতি চিরদিন দাড়িয়ে থাকে লাল টুকটুকে ব্রীজটার মত.....!

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৬

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: দুটো মন্তব্য ই মন ছুঁয়ে গেছে। আপনাকে ধন্যবাদ স্যার। ভালো থাকবেন।

৭| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১০

শিখা রহমান বলেছেন: ফেলে আসা দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার আকুতি মন ছুঁয়ে গেলো।
জড়বস্তুও প্রাণ পায় যখন ভালোবাসার স্মৃতি জড়িয়ে থাকে।

লেখাটা মন কেমন করে দেয়। ভালো থাকুন কবি।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০১

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: লাল ব্রিজের মত সবারই একটা স্মৃতি থাকে - সেটা অমলিন , ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।

৮| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৫

শেহজাদী১৯ বলেছেন: গড়াই নদীর উপরে অবস্থিত এই ব্রীজটি আজও অক্ষত কিন্তু নীচে সবুজ ঘাস দেখে ভাবছিলাম নদীতে আদৌ পানি নেই?

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩০

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: এটা পদ্মা নদীর উপরে অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ।গড়াই নদীতে পানি নেই। ধন্যবাদ মন্তব্যে। ভালো থাকবেন।

৯| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৬

মা.হাসান বলেছেন: ৭০ এবং ৮০র দশকে বহুবার ট্রেনে ঐ ব্রিজের ওপর দিয়ে গেছি, অনেকবার ই নিচে ফেরি দেখেছি। মনে হয় গত বছর বা তার আগের বছর সড়ক পথে ফরিদপুর দিয়ে আসার সময় দেখলাম ওখানে সড়ক সেতু (লালন শাহ ব্রিজ) তৈরি হয়েছে।

আমরা ব্রিটিশদের অনেক গালি দেই, কিন্তু এই ব্রিজ তৈরি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। ব্রিজ তৈরির সময় তারা পরিবেশের বিষয়টা মাথায় রাখে, এমন ভাবে নদী শাসন করে যেন প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। ঐতিহাসিক দার্জিলিং মেল এই রুটে চলতো। কোলকাতা স্টেশন (পরে নাম হয় শেয়ালদা) থেকে ট্রেন ছাড়তো, পদ্মার দক্ষিন পাড়ে ভেড়ামার কাছে ট্রেন থামার পর ফেরিতে করে উত্তর পারে যেয়ে নতুন ট্রেনে করে শিলিগুড়ি যেতে হতো (দার্জিলিঙের লাইন ছিলো ন্যারো গেজ, একই ট্রেনে যাওয়া অসম্ভব ছিলো)। কলকাতা ভেড়া মারা লাইন ছিলো ব্রড গেজ, নদীর এপারে মিটার গেজ।

পাকশি ব্রিজ হবার পর কোলকাতা- শিলিগুড়ি যাতায়াত সহজ হয়। ব্রিটিশরা পদ্মার এপারের লাইনও ব্রড গেজ করে। ফলে ট্রেন বদলানোর প্রয়োজন থাকে না। ট্রেনের রুট হয় কোলকাতা-রানাঘাট-ভেড়ামারা-পাকশি ব্রিজ-ঈশ্বরদি- পার্বতীপুর-নীলফামারি-হলদিবাড়ি-জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি। ১৯৪৭ এর পর দার্জিলিঙ মেলের রাস্তা অনেক পরিবর্তন হয়, কারন ওপারে পদ্মার উপর সেতু ছিলো না। পরে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর এর উপর দিয়ে নতুন করে দার্জিলিঙ মেল চালু হয়।

১৯৭১এর ডিসেম্বরে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের বিমান হামলায় পাকশি ব্রিজের বড় ক্ষতি হয়। পরবর্তিতে মেরামত করা হলেও এখন ট্রেন আগের গতিতে যেতে পারে না।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪০

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: অনেক তথ্য দিয়েছেন। অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

১০| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৫২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ,
আপনি এই আফসোস করছেন ! ভাবুনতো এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ জন্ম নিলে কি হলো ? ছোট নদী থেকে বড় নদী সব কবিতা গন -মানে লিখাই হতো না । নোবেল নিশ্চিত হাতছাড়া ! আপনারতো তাও লাল হার্ডিঞ্জ ব্রীজটা আছে । দেশের কত ব্রীজ উদ্বোধনের আগেই ধ্বসে যায়, বসে যায় ! শুকুর করুন সাহেব এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা লাল ব্রিজটা দেখে ।
হারানো স্বপ্ন শৈশবের জন্য তবুও সমবেদনা ।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: লাল ব্রিজের মত সবারই একটা স্মৃতি থাকে - সেটা অমলিন , ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে।
ধন্যবাদ আপনাকে। মন্তব্য ভালো লাগলো নাইমুল ইসলাম ভাই।

১১| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৭

সোনালী ডানার চিল বলেছেন: আমাদেরও পদ্মা পার হতে হতো আরিচায়-
স্মৃতি রূপকথার মতো, নির্বাক এবং অস্পৃশ্য!

শুভকামনা-

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৬

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: নগরবাড়ি হয়ে আরিচা ফেরি পারাপার !!! প্রাণবন্ত স্মৃতি আমার।
মন্তব্যে ভালোবাসা। ভালো থাকবেন।

১২| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮

বলেছেন: জীবনের অলিগলিতে কত রং আর কত রহস্য...
কে জানে হায়,, শেষ তার কোথায়???

ভালো লাগলো।।।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৫৪

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: লাল ব্রিজের মত সবারই একটা স্মৃতি থাকে - সেটা অমলিন , ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

১৩| ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




হার্ডিঞ্জ ব্রিজ আমার সামনা সামনি দেখার ও চড়ার সুযোগ হয়েছে বেশ কয়েকবার এ এক বিশাল অভিজ্ঞতা। অনেক অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোষ্টের জন্য।

১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩১

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: পাশাপাশি দুটি সেতু। বয়ে চলে পদ্মা , বয়ে চলে ইতিহাস , জমা করে স্মৃতি ! শুধু ফেরি নেই , জমজমাট ঘাট নেই। ঝালমুড়ি , চানাচুর , ডিম সিদ্ধ নেই।
মন্তব্যে ধন্যবাদ স্যার। ভালো থাকবেন।

১৪| ১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: চমৎকার স্মৃতিচারণ! এমনও কিছু অনুভূতি যা আমাদেরকে স্মৃতিকাতর করে তোলে।
শুভকামনা প্রিয় সৌরভ ভাইকে।

১২ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০৭

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: আপনাকে আমার পোস্টে মিস করেছি অনেক। ভালো থাকবেন। অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.