নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

রোকসানা লেইস

প্রকৃতি আমার হৃদয়

রোকসানা লেইস › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনের গল্প

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:১৩


কিছু দিন আগে, তিনদিন কাটল কালো মানুষদের বিশাল একটা দলের সাথে। সুমালিয়া, ইথিয়পিয়া জিম্বাবু, হেইতি, কঙ্গো, তিউনেসিয়া, মাডাগাস্কার, রুয়ান্ডা, এ্যাঙ্গেলা, বাটসোয়ানা, গ্রেনাডা, ডমিনিকান রিপাবলিক,কেম্যান আয়ল্যাণ্ড চেনা অচেনা কত নাম। এক কালো মানুষের কত ভিন্ন রূপ। অরিজিন মানুষের সাথে সাদা কোকেসিয়ান এবং পীত মঙ্গোলিয়ান মিশ্রনের ছাপ কারো মাঝে প্রবল ভাবে এখনও বিদ্যমান। অথচ এই শংকর ঘটনাটি ঘটেছে দুই তিন পুরুষ আগে অনেকের জীবনে। এই মিশ্র শংকর মানবজাতীর এক নতুন সংস্করন।
প্রথম দেখায় একই রকম মনে হলেও ভিন্ন গোত্র, সংস্কৃতি, ভাষা এবং খাবার, এবং জীবন যাত্রা। আদি বিশ্বাসের সাথে প্রচণ্ড রকম আধুনিক ।
এরা সবাই খুব হাসিখুশি, গল্পবাজ মানুষ।
আমাদের বসে বসে বেশির ভাগ সময় গল্প করতে হয় আর খাওয়া দাওয়ায় ব্যাস্ত থাকতে হয়। গল্পে গল্পে ভীষণ সুন্দর সময় কাটানোর সাথে জানলাম ভিন্ন প্রকৃতির মানুষের জীবন যাপনের ঐতিহ্যে বিষয়ে।
একটা বিষয় ভীষণ ভাবে উপলব্ধি করলাম, এরা খুব বন্ধু প্রিয় মানুষ, আন্তরিক, উচ্ছোল। অনেক দিন পর যেন, বহু আগের পরিচিত দেশি গ্রামীণ জীবনের আন্তরিকতার স্বাদ পেয়ে গেলাম।
একই ধরনের আফ্রিকান এবং ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মানুষের মাঝে এক মাত্র আমি ভিন্ন, যেন দল ছুট আগলি ডাকলিংয়ের মতন একজন।
কিন্তু ওদের আন্তরিকতায়, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারে বোঝার সুযোগই পেলাম না। আমি ভিন্ন কেউ ওদের মাঝে। সময়টা দারুণ কাটল ভিন্ন জাতীর সাথে সরাসরি বন্ধুত্ব পূর্ণ সময় কাটানো এবং তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপনের নিয়ম শৃঙ্খলা গুলোর বিষয়ে জেনে।
উপরে উপরে ভাসা ভাসা চেনায় আমরা মানুষকে যাচাই করে ফেলি র্নিদ্বিধায় নির্বোধের মতন। মানুষের কাছে গেলে তাদের চেনা হয় অনেক বেশি। গোত্র, জাতী ভেদে প্রত্যেক মানুষের মাঝে থাকে তার নিজস্ব সত্তা।
নিয়ম দিয়ে মানুষকে সুন্দর পথে পরিচালিত করার নিয়মগুলো সব জাতির মাঝে বিরাজমান। অকেদিন পর দেখলাম বয়স্ক মানুষকে শ্রদ্ধা, সম্মান দেখানোর আচরণ।
ওদের মাঝে দেখলাম নাম ধরে নয় বরং বড়দের সম্মান দিয়ে মামা, পাপা বলে সম্মান দেখানোর প্রবনতা। খাবার বা চেয়ার এগিয়ে দেয়া।
কালো তুমি যতই কালো হও, দেখেছি সে কালো হরিণ চোখ। কালো সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে রইলাম । শুধু কি হরিণ চোখ কি দারুণ টানটান শরীর। শরীরের গাঁথুনি, বাহু, কাধ, চোখ, মুখ, ঠোঁটের গড়ন অদ্ভুত ভালোলাগায় অনেক চেহারা চোখের দৃষ্টিতে সাজানো রয়ে গেল মনে। রঙ দিয়ে যার কোন বিচার হয় না।
ভাবলাম মানুষ কতো অমানবিক আমাদের দেশের মেয়েদের কালো বলে নির্যাতন করে । এরা কোনদিন আসল সৌন্দর্যই দেখেনি। সাঝ তাদের ট্রেডিশনাল রূপ আরো বেশি সুন্দর হয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল। একঝাঁক ড্যান্সিং কুইন, চারপাশ ঘিরে। যাদের চলার ছন্দ, কথা বলার রিদম প্রকৃতির মতন।
শুধু নারী নয় পৃরুষরাও অনেক কালো এবং ভিন্ন মাত্রার মুখ এবং শারীরিক বৈশিষ্টের অধিকারী তাদের নিজস্ততায়। পৃথিবীর বিশাল অংশে এই কালোদের দারুণ অধিপত্যিও এখন।
আমাদের নিজস্ব পরিচয় ছাড়াও গল্পের বিষয় ছিল বিশেষ করে এই সময়ে, অবশ্যই ইলেকশন নিয়ে। ব্রাউন ফেস, ব্ল্যাক ফেসের গল্পটা যখন তুঙ্গে সেটা নিয়ে কথা হবেই। বিষয়টা যাদের জানা নেই তাদের একটু ভূমিকা দিচ্ছি বছর বিশেক আগে কোন এক পার্টিতে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুখ রঙ করে কালো এবং বাদমীদের মতন সেজেছিলেন। সেটা বর্ণবাদ এই অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন তাকে অন্যান্ন দলের প্রার্থি। তার মধ্যে আছেন বর্তমান প্রার্থি এনডি পি পার্টির জগমিৎ সিং এবং কনর্জাভেটিভ পার্টির, এন্ড্রু সিয়ার।
দেখলাম, সবাই ফুৎকারে উড়িয়ে দিল সিয়ার, জগমিতের অনুযোগ। বরঞ্চ জগমিতের অতি ইমোশনে কেঁদে ফেলা অভিনয় করে, এদের হাসি আকাশ ছূঁয়ে ফেলল। বাস্তব জীবনে অনেক বেশি বর্ণবাদী অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই সব মানুষের কাছে কোন এক পার্টিতে সাজানো মুখের ঘটনা এক্কেবারেই নস্যি। বরং তারা দেখছে কোন দলে কি সুযোগ সুবিধা থাকছে এবং কাটছে মানুষের সুযোগ সুবিধা। পছন্দের তালিকায় এদিক থেকে শীর্ষে ট্রুডো। জগমিতের দল অনেক সমতা এবং সুবিধার কথা দিলেও এদের সুযোগ নেই সামনে আসার এখনও। তা ছাড়া দলের নেতাও বিশেষ পছন্দের নয় অনেকের যে কোন কারনে।
রক্ষণশীর দলের রক্ষনাবেক্ষনে হারিয়ে যাওয়া অনেক সুযোগের কথা কেউ ভুলেনি দেখলাম।
যা আছে তাও হারিয়ে ফেলার তেমন ইচ্ছে নেই কারো, ভিতরে ভিতরে চরম বর্ণবাদী এই দলকে কারো পছন্দ নয়।
অতি সাধারন মানুষ হেসে খেলে আনন্দে জীবন যাপন করতে পারবে যে দলের মাধ্যমে তাকেই সমর্থন করবে তারা। এদেশের রীতি নীতি অনুযায়ি তারা যথেষ্ট আধুনিক চিন্তা ভাবনা সম্পন্ন সচেতন মানুষ।
ভোর পাঁচটায় কাজ শেষে পথে নামতেই দেখলাম হাজার হাজার গাড়ি শহরের দিকে ছুটছে। আর আমরা কিছু মানুষ তো ঘুমাইনি সারা রাত কাজ করেছি, তারাও মিলে গেছি এই মিছিলে।
এক পাশের রাস্তা পুরো ফাঁকা অন্যপাশে ঠাঁই নাই। বিকাল বেলা আবার অন্যপাশে ভীড় হবে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার এই যাওয়া আসা।
এত ভোর বেলায় মানুষ পথে নেমে পরে ঘুম ভেঙ্গে। সব সময় আমার দেখা হয় না এই দৃশ্য। আমি লেইট রাইজার। তবে কাজের প্রয়োজনে রাত বিরাত সকাল সন্ধ্যা একাকার হয় ।

মাঝ দুপুরে উঠে বাইরে গেলাম কিছু কাজ সারতে। এফএম রেডিওতে গান শুনছিলাম। মাঝে মাঝে টুকটাক খবর দিচ্ছে। বাড়ির সামনে পৌঁছে থামার সময় একটা খবর বলছিল।
যে খবরটা ভাইরাল হয়ে গেছে আমার আগে শোনা হয়নি। একমিনিট ঘটনাটা জানার জন্য গাড়িতে বসে থাকলাম।
স্পেসাল নিডেড চাইল্ড মানে যে বাচ্চাগুলোকে আলাদা সাহায্য করতে হয়। তেমন একটা স্কুলে বাচ্চাদের হাটানোর সময় ছোট একটা বাচ্চা, কাউকে কিছু না বলে নিজের ব্ল্যাংকেট বিছিয়ে শুয়ে পেয়ে পরে।
এমন পরিস্থিতিতে সব সময় তাকে উঠতে বলা হয়। একা বসিয়ে রাখা হয়। বা অনেক সময় শিক্ষক হাঁটতেও বলে দলের সাথে। ক্লাসে যা নিয়ম তাই পালন করানোর চেষ্টা করা হয়। এটাই নিয়ম সুস্থ বা ডিজেবোল সবার জন্য।
কিন্তু সম্ভবত শিক্ষকের নাম এ্যাস, তিনি বাচ্চাটির সাথে তার পাশে শুয়ে পরেন এবং আস্তে আস্তে তার সাথে গল্প করতে শুরু করেন।
আহা! কি দারুণ একজন শিক্ষক। বাচ্চাটির মনের ভিতর প্রবেশ করার চেষ্টা করে তার সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গী হয়ে উঠেন। এমন শিক্ষক যদি সবাই হতে পারতেন। অকালে অনেক প্রাণ আত্মহত্যা করত না নিয়ম মানার ঠেলায়।
দারুণ খবরটা মেড মাই ডে।
কাল থেকে মনের ভিতর একটা সুখের অনুভব দিয়ে যাচ্ছে গল্পটা যতবার মনে পরছে।াগকছুদিন আত তিনদিন কাটল কালো মানুষদের বিশাল একটা দলের সাথে। সুমালিয়া, ইথিয়পিয়া জিম্বাবু, হেইতি, কঙ্গো, তিউনেসিয়া, মাডাগাস্কার, রুয়ান্ডা, এ্যাঙ্গেলা, বাটসোয়ানা, গ্রেনাডা, ডমিনিকান রিপাবলিক,কেম্যান আয়ল্যাণ্ড চেনা অচেনা কত নাম। এক কালো মানুষের কত ভিন্ন রূপ। অরিজিন মানুষের সাথে সাদা কোকেসিয়ান এবং পীত মঙ্গোলিয়ান মিশ্রনের ছাপ কারো মাঝে প্রবল ভাবে এখনও বিদ্যমান। অথচ এই শংকর ঘটনাটি ঘটেছে দুই তিন পুরুষ আগে অনেকের জীবনে। এই মিশ্র শংকর মানবজাতীর এক নতুন সংস্করন।
প্রথম দেখায় একই রকম মনে হলেও ভিন্ন গোত্র, সংস্কৃতি, ভাষা এবং খাবার, এবং জীবন যাত্রা। আদি বিশ্বাসের সাথে প্রচণ্ড রকম আধুনিক ।
এরা সবাই খুব হাসিখুশি, গল্পবাজ মানুষ।
আমাদের বসে বসে বেশির ভাগ সময় গল্প করতে হয় আর খাওয়া দাওয়ায় ব্যাস্ত থাকতে হয়। গল্পে গল্পে ভীষণ সুন্দর সময় কাটানোর সাথে জানলাম ভিন্ন প্রকৃতির মানুষের জীবন যাপনের ঐতিহ্যে বিষয়ে।
একটা বিষয় ভীষণ ভাবে উপলব্ধি করলাম, এরা খুব বন্ধু প্রিয় মানুষ, আন্তরিক, উচ্ছোল। অনেক দিন পর যেন, বহু আগের পরিচিত দেশি গ্রামীণ জীবনের আন্তরিকতার স্বাদ পেয়ে গেলাম।
একই ধরনের আফ্রিকান এবং ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মানুষের মাঝে এক মাত্র আমি ভিন্ন, যেন দল ছুট আগলি ডাকলিংয়ের মতন একজন।
কিন্তু ওদের আন্তরিকতায়, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারে বোঝার সুযোগই পেলাম না। আমি ভিন্ন কেউ ওদের মাঝে। সময়টা দারুণ কাটল ভিন্ন জাতীর সাথে সরাসরি বন্ধুত্ব পূর্ণ সময় কাটানো এবং তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপনের নিয়ম শৃঙ্খলা গুলোর বিষয়ে জেনে।
উপরে উপরে ভাসা ভাসা চেনায় আমরা মানুষকে যাচাই করে ফেলি র্নিদ্বিধায় নির্বোধের মতন। মানুষের কাছে গেলে তাদের চেনা হয় অনেক বেশি। গোত্র, জাতী ভেদে প্রত্যেক মানুষের মাঝে থাকে তার নিজস্ব সত্তা।
নিয়ম দিয়ে মানুষকে সুন্দর পথে পরিচালিত করার নিয়মগুলো সব জাতির মাঝে বিরাজমান। অকেদিন পর দেখলাম বয়স্ক মানুষকে শ্রদ্ধা, সম্মান দেখানোর আচরণ।
ওদের মাঝে দেখলাম নাম ধরে নয় বরং বড়দের সম্মান দিয়ে মামা, পাপা বলে সম্মান দেখানোর প্রবনতা।
কালো তুমি যতই কালো হও, দেখেছি সে কালো হরিণ চোখ। কালো সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে রইলাম । শুধু কি হরিণ চোখ কি দারুণ টানটান শরীর। শরীরের গাঁথুনি, বাহু, কাধ, চোখ, মুখ, ঠোঁটের গড়ন অদ্ভুত ভালোলাগায় অনেক চেহারা চোখের দৃষ্টিতে সাজানো রয়ে গেল মনে। রঙ দিয়ে যার কোন বিচার হয় না।
ভাবলাম মানুষ কতো অমানবিক আমাদের দেশের মেয়েদের কালো বলে নির্যাতন করে । এরা কোনদিন আসল সৌন্দর্যই দেখেনি। সাঝ তাদের ট্রেডিশনাল রূপ আরো বেশি সুন্দর হয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল। একঝাঁক ড্যানসিং কুইন চারপাশ ঘিরে। যাদের চলার ছন্দ, কথা বলার রিদম প্রকৃতির মতন।
আমাদের নিজস্ব পরিচয় ছাড়াও গল্পের বিষয় ছিল বিশেষ করে এই সময়ে, অবশ্যই ইলেকশন নিয়ে। ব্রাউন ফেস, ব্ল্যাক ফেসের গল্পটা যখন তুঙ্গে সেটা নিয়ে কথা হবেই। দেখলাম সবাই ফুৎকারে উড়িয়ে দিল সিয়ার, জগমিতের অনুযোগ। বরঞ্চ জগমিতের অতি ইমোশনে কেঁদে ফেলা অভিনয় করে, এদের হাসি আকাশ ছূঁয়ে ফেলল। বাস্তব জীবনে অনেক বেশি বর্ণবাদী অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই সব মানুষের কাছে কোন এক পার্টিতে সাজানো মুখের ঘটনা এক্কেবারেই নস্যি। বরং তারা দেখছে কোন দলে কি সুযোগ সুবিধা থাকছে এবং কাটছে মানুষের সুযোগ সুবিধা। । পছন্দের তালিকায় এদিক থেকে শীর্ষে ট্রুডো। জগমিতের দল অনেক সমতা এবং সুবিধার কথা দিলেও এদের সুযোগ নেই সামনে আসার এখনও। তা ছাড়া দলের নেতাও বিশেষ পছন্দের নয় অনেকের যে কোন কারনে।
রক্ষণশীর দলের রক্ষনাবেক্ষনে হারিয়ে যাওয়া অনেক সুযোগের কথা কেউ ভুলেনি দেখলাম।
যা আছে তাও হারিয়ে ফেলার তেমন ইচ্ছে নেই কারো, ভিতরে ভিতরে চরম বর্ণবাদী এই দলকে কারো পছন্দ নয়।
অতি সাধারন মানুষ হেসে খেলে আনন্দে জীবন যাপন করতে পারবে যে দলের মাধ্যমে তাকেই সমর্থন করবে তারা। এদেশের রীতি নীতি অনুযায়ি তারা যথেষ্ট আধুনিক চিন্তা ভাবনা সম্পন্ন সচেতন মানুষ।
ভোর পাঁচটায় কাজ শেষে পথে নামতেই দেখলাম হাজার হাজার গাড়ি শহরের দিকে ছুটছে। আর আমরা কিছু মানুষ তো ঘুমাইনি সারা রাত কাজ করেছি, তারাও মিলে গেছি এই মিছিলে।
এক পাশের রাস্তা পুরো ফাঁকা অন্যপাশে ঠাঁই নাই। বিকাল বেলা আবার অন্যপাশে ভীড় হবে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার এই যাওয়া আসা।
এত ভোর বেলায় মানুষ পথে নেমে পরে ঘুম ভেঙ্গে। সব সময় আমার দেখা হয় না এই দৃশ্য। আমি লেইট রাইজার। তবে কাজের প্রয়োজনে রাত বিরাত সকাল সন্ধ্যা একাকার হয় ।

মাঝ দুপুরে উঠে বাইরে গেলাম কিছু কাজ সারতে। এফএম রেডিওতে গান শুনছিলাম। মাঝে মাঝে টুকটাক খবর দিচ্ছে। বাড়ির সামনে পৌঁছে থামার সময় একটা খবর বলছিল।
যে খবরটা ভাইরাল হয়ে গেছে আমার আগে শোনা হয়নি। একমিনিট ঘটনাটা জানার জন্য গাড়িতে বসে থাকলাম।
স্পেসাল নিডেড চাইল্ড মানে যে বাচ্চাগুলোকে আলাদা সাহায্য করতে হয়। তেমন একটা স্কুলে বাচ্চাদের হাটানোর সময় ছোট একটা বাচ্চা, কাউকে কিছু না বলে নিজের ব্ল্যাংকেট বিছিয়ে শুয়ে পেয়ে পরে।
এমন পরিস্থিতিতে সব সময় তাকে উঠতে বলা হয়। একা বসিয়ে রাখা হয়। বা অনেক সময় শিক্ষক হাঁটতেও বলে দলের সাথে। ক্লাসে যা নিয়ম তাই পালন করানোর চেষ্টা করা হয়। এটাই নিয়ম সুস্থ বা ডিজেবোল সবার জন্য।
কিন্তু সম্ভবত শিক্ষকের নাম এ্যাস, তিনি বাচ্চাটির সাথে তার পাশে শুয়ে পরেন এবং আস্তে আস্তে তার সাথে গল্প করতে শুরু করেন।
আহা! কি দারুণ একজন শিক্ষক। বাচ্চাটির মনের ভিতর প্রবেশ করার চেষ্টা করে তার সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গী হয়ে উঠেন। এমন শিক্ষক যদি সবাই হতে পারতেন। অকালে অনেক প্রাণ আত্মহত্যা করত না নিয়ম মানার ঠেলায়।
দারুণ খবরটা মেড মাই ডে।
কাল থেকে মনের ভিতর একটা সুখের অনুভব দিয়ে যাচ্ছে গল্পটা যতবার মনে পরছে।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১০:০২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপু একদম প্রথমেই যে কালো মানুষদের নিয়ে বেশ কয়েকবার 'কাল' 'কাল' বলতে চেয়েছেন আপনি লেখনীতে ভালো দিক তুলে ধরলেও শব্দটার এমন উপস্থাপনা মন থেকে মেনে একটু কষ্ট হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক সহপাঠী ছিল নাইজেরিয়ান। ও খুব দুঃখ করে বলতো, আফ্রিকার বাইরে সবাই ওদেরকে আফ্রিকান বা কালো মানুষ বলে চিহ্নিত করে। ওর অভিযোগ ছিল একজন ইউরোপিয়ানকে কখনো সাদা ইউরোপিয়ান বলা হয় না বা একজন উত্তর আমেরিকান কেও কখনো সাদা উত্তর আমেরিকান বলা হয় না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয় আইরিশ না হয় ব্রিটিশ অথবা মার্কিনি কানাডিয়ান প্রভৃতি পরিচয়ে পরিচয় লাভ করে। দুর্ভাগ্য শুধু আফ্রিকানদের বেলায়। তারা কখনোই নাইজেরিয়ান, কেনিয়ান, সাউথ আফ্রিকান পরিচয় না পেয়ে মহাদেশের পরিচয়ে পরিচয় লাভ করে।
পোস্টে উঠে এসেছে, বড়দের নাম ধরে নয় মামা পাপা বলে সম্বোধন করার মানসিকতা। নিঃসন্দেহে এটা ওদের চরিত্রের একটা মস্তবড় দিক। তবে আমাদের উপমহাদেশে কিছু সহায়-সম্বলহীন গরিব মানুষদের মধ্যেও এমন সম্বোধনে কথা বলার চল প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। উড়িষ্যার দারিংবাড়ি থেকে বেরহামপুর ফেরার রাস্তাটা কমবেশি ১৫০ কিমি হবে। ভাড়ার গাড়িতে ফেরার পথে পথিমধ্যে এক জায়গায় ফল দেখে ড্রাইভারকে বলে গাড়ি থামিয়ে ফল কিনতে নামি। স্থানীয়রা মহিলা দোকানিকে আম্মা বলে সম্বোধন করাতে কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করি যে উনি ওনার আত্মীয় কিনা। ওরা বাংলা খুব ভালো বোঝে। ওড়িয়া মিশ্রিত বাংলাতে যা জানালো তাতে আমার চক্ষু চড়কগাছ। ওখানে বয়স্কদের সবাই নাকি আম্মা বলেই সম্মোধন করে থাকে।
শুভকামনা জানবেন।

২| ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৮

রাজীব নুর বলেছেন: জীবনের গল্প গুলোই সত্যিকারের গল্প।

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:২৩

রোকসানা লেইস বলেছেন: খুব ভালোলাগল আপনার সমালোচনাপূর্ণ মন্তব্য পদাতিক চৌধুরি। আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে।
একদম এক মত আমি আপনার সাথে। কালোরা যুগ যুগ ধরে নিগৃহীত হয়ে আসছে । এই গত সপ্তাহে আমেরিকায় একজন পুলিশ অফিসার প্রথবারের মতন শাস্তি পেলো। একজন কালো মানুষকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গুলিকরে মেরে ফেলার জন্য।তবে তার শাস্তির পরিমান মোটে দশ বছরের জেল। ছাব্বিশ বছরের ছেলেটি নিজের ঘরে বসে আইসক্রীম খাচ্ছিল যখন তাকে হত্যা করা হয়।
আমেরিকায় কিছুদিন আগে স্টার মাদার হাফম্যান, ঘুষ দিয়ে সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য চৌদ্দ দিন জেলে যাওয়ার শাস্তি পায়। অথচ একজন কালো মা সন্তানকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য পস এরিয়ার মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করার জন্য পাঁচ বছরের জেল শাস্তি পায়।
বর্ণবাদ এখনো চুড়ান্ত ভাবে চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
আপনি আমার লেখার মূল বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। আমি ইচ্ছে করেই কালো লিখেছি। অনেকটা শামসুর রাহমানের কবিতার কালো মেয়ে শব্দটি ভেবে।
কালো মেয়ে, তুমি যতই কালো হও,
তোমার সত্তায় আমি দেখেছি গীর্জার মোমবাতির
আলোর মতো আভা, সে আভাকে
প্রণতি জানায় এই কণ্ঠস্বর।
তুমি যখন প্রথম চোখ মেলে ছিলে, কালো মেয়ে,
স্বল্পালোকিত কাঠের কেবিনে,
তখন তোমার মুখের দিকে ঝুঁকেছিলো একটি কালো মুখ।
যে-স্তন তোমার শিরায় শিরায় বইয়ে দিয়েছিল
জীবনের ধারা, কালো সেই স্তন।
তোমার দোলনা দুলিয়েছিল যে-হাত,
সে-হাত কালো,
তোমার জন্য রুটি বানিয়েছিল যে-হাত,
সে-হাত কালো,
তোমার হাতে প্রথম কাঠের পুতুল
তুলে দিয়েছিল যে-হাত
বড় স্নেহার্দ্র, বড় কালো সে হাত।

ওরা সবাই আফ্রিকান নয়। আফ্রিকা একটি মহাদেশ। বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা তারা সে দেশের জাতিয়তা অনুসরন করে।
আমি তাদের মধ্যে মনখোলা আনন্দময় আন্তরিকতা অনুভব করেছি। নিজের কাটানো কিছুটা সময় সে ভাবেই উপস্থাপন করেছি। কালো বলে তাদের নিচু করার কোন মানসিকতায় নয়। আমার বহু কালো বন্ধু আছে। যাদের সাথে অনেক বেশি সুন্দর সময় কাটে আমার।

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:২৬

রোকসানা লেইস বলেছেন: রাজীব নুর জীবনের গল্পগুলো আমাদের উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ করে। যদি আমা বুঝতে পারি সঠিক ভাবে ভালো এবং মন্দের পাথ্যর্ক করতে পারি সেখান থেকে।
শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.