নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চার হাত থেকে আধ হাত কম..

সৈয়দ তাজুল ইসলাম

নিভৃত গ্রহচারী

সৈয়দ তাজুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভাস্কর্য সমাধান। শুধু মুসলিমদের জন্যই নয়, সবার জন্য রিফ্রেশমেন্ট।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬


(অযাচিত মন্তব্য থেকে রক্ষা পেতে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ছবি এখানে যুক্ত করা হয় নি)
ভাস্কর্য নিয়া কথা তো অনেক হইলো! ভার্চুয়ালি কন সম্মুখ যুদ্ধে কন, কোন জায়গাতেই কেউ কারো থাইকা কম না। আমার পরিচিত পাড়ায় যেমন রয়েছেন সুচিন্তক, প্রগতিশীল, বাম, নাস্তিক তেমনি রয়েছেন আলেমদের অনেকে। এ পর্যন্ত আমি বিভিন্ন জনের থেকে নেওয়া জ্ঞান থেকে যা পেলাম তা বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে নিচের লেখাটাই যুৎসই বলে মনে হয়। মুসলিমদের জন্য মনে হয় এই লেখাটাই সব জিজ্ঞাসার সমাধান; যদি আপনার হৃদয়ে থাকে তৃপ্ততা লাভের বিশ্বাস। আমার মতে, প্রগতিশীল আর এলিট মুসলিমরা আলাদা কোন মুসলিম না। তাছাড়া সত্যের সন্ধানী সে যে ধর্মেরই হোক সত্য স্বীকারে সে থাকে স্পষ্টভাষি।

চলুন, শুরু করা যাক মূল আলোচনা। বোঝার সুবিধার্থে গোটা আলোচনাকে মৌলিক দুটি শিরোনামে ভাগ করে নেয়া যায় :
১. মূর্তি ও ভাস্কর্য বিষয়ে শরীয়তের ফায়সালা।
২. ভাস্কর্য সমর্থনকারীদের যুক্তি ও তার অসারতা ।


এক. মূর্তি ও ভাস্কর্য বিষয়ে শরীয়তের ফায়সালা
প্রাণীর আকৃতি গড়া এবং এর মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার দুটোই শরীয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম। এ প্রসঙ্গে যে হাদীসগুলো এসেছে তা অকাট্য ও মুতাওয়াতির। ইসলামের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে গোটা মুসলিম উম্মাহ্র ঐকমত্য ও ইজমা রয়েছে। এটা মুমিনদের ঐকমত্যপূর্ণ পথ। আর কুরআন মাজীদে মুমিনদের ঐকমত্যপূর্ণ পথ পরিহার করাকে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ বলা হয়েছে। [সূরা নিসা (৪) : ১৫]

প্রাণীর প্রতিকৃতি নির্মাণের অবৈধতা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধান। এতে পূজার শর্ত নেই। এই অবৈধতার কারণ হল আল্লাহ্র সৃষ্টিগুণের সঙ্গে সাদৃশ্য গ্রহণ, যা বিভিন্ন হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

আমরা আল্লাহ্র বান্দা। আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যেই আমাদেরকে অবস্থান করতে হবে। আল্লাহ তাআলা প্রাণীর আকৃতি দানকে একমাত্র তাঁরই অধিকার সাব্যস্ত করেছেন। কেননা আকৃতির মধ্যে শুধু তিনিই প্রাণ দান করতে পারেন। যার পক্ষে প্রাণ দান সম্ভব নয়, তাকে আল্লাহ আকৃতি নির্মাণেরও অনুমতি দেন না। একে তিনি তাঁর সঙ্গে মোকাবিলা করার সমার্থক বলে মনে করেন।

তবে মানুষের স্বভাবে অঙ্কন ও নির্মাণের যে প্রেরণা রয়েছে তার জন্য আল্লাহ তাআলা জড়বস্তু বা প্রাণহীন বস্তুর চিত্র-প্রতিকৃতি প্রস্তুতের অনুমতি দিয়েছেন।

প্রাণীর চিত্র ও ভাস্কর্য সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালার কথা যেসব হাদীসে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষিত হয়েছে তার কয়েকটি এবার লক্ষ করুন-

১. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ تَمَاثِيلُ أَوْ تَصَاوِيرُ.

ফিরিশতারা ওই ঘরে প্রবেশ করেন না, যেখানে ‘তামাছীল’ (ভাস্কর্য) বা ছবি রয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১২

২. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন-

سَمِعْتُ مُحَمدًا صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلمَ يَقُولُ: مَنْ صَورَ صُورَةً فِي الدنْيَا كُلِّفَ يَوْمَ القِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الروحَ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ.

আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে কেউ দুনিয়াতে কোনো চিত্র-প্রতিকৃতি তৈরি করবে তাকে কিয়ামতের দিন বাধ্য করা হবে, যেন সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করে, অথচ সে তা করতে সক্ষম হবে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১০

৩. আয়েশা রা. বলেন-

قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلمَ مِنْ سَفَرٍ، وَقَدْ سَتَرْتُ بِقِرَامٍ لِي عَلَى سَهْوَةٍ لِي فِيهَا تَمَاثِيلُ، فَلَما رَآهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلمَ هَتَكَهُ وَقَالَ: أَشَد الناسِ عَذَابًا يَوْمَ القِيَامَةِ الذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللهِ، قَالَتْ : فَجَعَلْنَاهُ وِسَادَةً أَوْ وِسَادَتَيْنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফর থেকে ফিরলেন। আমি কক্ষের দ্বারে একটি পর্দা ঝুলিয়েছিলাম, যাতে ‘তামাছীল’ (ছবি) অঙ্কিত ছিল। তিনি তা খুলে ফেললেন এবং বললেন, কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন আযাব দেওয়া হবে, যারা আল্লাহ্র সৃষ্টি-বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। উম্মুল মুমিনীন বলেন, তখন আমরা তা কেটে ফেললাম এবং একটি বা দুইটি বালিশ বানালাম। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৭

৪. আলী রা. বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি তখন বললেন-

أَيكُمْ يَنْطَلِقُ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلا يَدَعُ بِهَا وَثَنًا إِلا كَسَرَهُ، وَلا قَبْرًا إِلا سَوَّاهُ، وَلا صُورَةً إِلا لَطخَهَا؟

তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিস্মাৎ করে দেবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?

আলী রা. এই দায়িত্ব পালন করলেন। ফিরে আসার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

مَنْ عَادَ لِصَنْعَةِ شَيْءٍ مِنْ هَذَا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمدٍ صَلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلمَ.

যে কেউ পুনরায় ওইসব বস্তু তৈরি করবে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৫৯

৫. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতার সময় তাঁর জনৈকা স্ত্রী একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। গির্জাটির নাম ছিল মারিয়া। উম্মে সালামা ও উম্মে হাবীবা ইতিপূর্বে হাবাশায় গিয়েছিলেন। তাঁরা গির্জাটির কারুকাজ ও তাতে বিদ্যমান প্রতিকৃতিসমূহের কথা আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয্যা থেকে মাথা তুলে বললেন-

أُولَئِكِ إِذَا مَاتَ مِنْهُمُ الرجُلُ الصالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، ثُم صَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصورَةَ، أُولَئِكِ شِرَارُ الخَلْقِ عِنْدَ اللهِ.

তাদের কোনো পুণ্যবান লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর ইবাদতখানা নির্মাণ করত এবং তাতে প্রতিকৃতি স্থাপন করত। এরা হচ্ছে আল্লাহ্র সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৪১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫২৮

এই হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে যে, প্রাণীর প্রতিকৃতি নির্মাণ পূর্বের শরীয়তেও হারাম ছিল। তা না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আল্লাহ্র সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করতেন না।

বাইবেলে (বিকৃতির পরও) এখনও পর্যন্ত প্রাণীর চিত্র প্রতিকৃতি তৈরির অবৈধতা বিদ্যমান রয়েছে। বলা হয়েছে-

`Do not make for yourselves images of anything in heaven or on earth or in the water under the earth.’ (HOLY BIBLE (Good news Bible) p. 80, The Bible society of India)

দুই. ভাস্কর্য সমর্থনকারীদের যুক্তি ও তার অসরতা
‘উলামা’ পরিচয়ে কিছু লোক দাবি করেছেন, ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়। তারা এ দু’য়ের মাঝে পার্থক্য তুলে ধরে বলেছেন-

“ভাস্কর্য হচ্ছে একটা শিল্প, যা নগরের সৌন্দর্য বর্ধন করে। আর মূর্তি বানানো হয় ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে, উপাসনা করার জন্য।”

এটা হল ঐ ‘ভদ্রলোক’দের বিকৃতিমাত্র।

পূজার মূর্তি আর ভাস্কর্যের মাঝে পার্থক্য করে যারা প্রাণীর প্রতিকৃতি বিষয়ে ইসলামের দেয়া অকাট্য বিধানে ফাঁক বের করতে চান তাদের জানা থাকা উচিত-

ইসলামে প্রাণীর প্রতিকৃতির অবৈধতা একটি স্বতন্ত্র বিধান। পূজার উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক প্রাণীর মূর্তি তৈরি করাই অবৈধ। প্রাণীর প্রতিকৃতি হওয়াই অবৈধতার কারণ। এজন্য ভাস্কর্যের বিধানগত দিক বুঝতে মূর্তি ও ভাস্কর্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা অপরিহার্য নয়। বাইতুল্লাহ্ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে পূজার মূর্তি সরিয়েছেন তেমনি স্তম্ভ ও দেয়ালে অঙ্কিত চিত্রগুলোও মুছে দিয়েছেন এবং তিনি মূর্তিগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ এ বলে দেননি যে, এগুলোর পূজা করা হয়; বরং তিনি বলেছেন-

قَاتَلَ اللهُ قَوْمًا يُصَوِّرُونَ مَا لَا يَخْلُقُونَ.

আল্লাহ ওই গোষ্ঠীকে ধ্বংস করুন, যারা এমন প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, যা তারা সৃষ্টি করে না। -শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৫৯০৩

আরো বলেছেন-

لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ تَصَاوِيرُ.

ফিরিশতাগণ ওই গৃহে প্রবেশ করেন না, যাতে রয়েছে ছবি। -শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৫৮৯৬

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর কক্ষে ঝোলানো পর্দা তিনি খুলে দেয়ার সময় এই চিত্রগুলো পূজার সামগ্রী কি সামগ্রী না- এই প্রসঙ্গ আনেননি; বরং বলেছেন-

أَشَدّ الناسِ عَذَابًا يَوْمَ القِيَامَةِ الذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللهِ.

কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাবে ওইসব লোক পতিত হবে, যারা আল্লাহ্র সৃষ্টিবৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৭

আরো বলেছেন-

إِن أَصْحَابَ هَذِهِ الصوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَيُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ.

এই প্রতিকৃতি প্রস্তুতকারীদেরকে কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে, তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা ‘সৃষ্টি’ করেছিলে তাতে প্রাণ সঞ্চার কর। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৭

মোটকথা, মূর্তি এজন্যই অবৈধ যে, তা প্রাণীর প্রতিকৃতি। ওই মূর্তির পূজা করা না হলেও এবং পূজিত কোনো কিছুর মূর্তি না হলেও তা অবৈধ।

তাছাড়া উলামায়ে কেরাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, পূজার মূর্তি দুই কারণে নিষিদ্ধ : ১. প্রাণীর প্রতিকৃতি। ২. পূজা। আর সাধারণ ভাস্কর্য প্রাণীর প্রতিকৃতি হওয়ার কারণে অবৈধ।

পূজা শুধু মূর্তিরই হয়নি, বিভিন্ন বস্তুরও হয়েছে। সেগুলোর ভাস্কর্য তৈরি করাও নিষিদ্ধ ও হারাম। এটা পূজার কারণে। যদিও তা প্রাণীর প্রতিকৃতি নয়।

তদ্রূপ ছবি বা মূর্তির পিছনে কখনো শুধু সৌন্দর্যই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এটা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ প্রাণীর প্রতিকৃতি। আবার কখনো স্মরণ ও সম্মানের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। এটা যেমন প্রাণীর প্রতিকৃতি হওয়ার কারণে হারাম তেমনি এ কারণেও যে, এভাবে কোনো প্রতিকৃতির সম্মান দেখানো এক ধরনের ইবাদত বলেই গণ্য।

ইসলামের আদর্শ ও চেতনার সঙ্গে মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিরোধ কোথায়- এটা স্পষ্ট করতে গিয়ে আরবের প্রখ্যাত আলেম ড. ইউসুফ কারযাভী বলেছেন :

“ইসলামে প্রাণীর প্রতিকৃতি নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম তাৎপর্য হল, মুসলমানের চিন্তা-চেতনা এবং মন-মানসকে শিরকের কলুষ থেকে পবিত্র রাখা। তাওহীদের বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটা অত্যন্ত যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। কেননা, অতীত জাতিসমূহে মূর্তির পথেই শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল।”

উপরের লাইনগুলো থেকে পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, প্রাণীর প্রতিকৃতি হওয়াই ভাস্কর্যের নির্মাণ অবৈধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। পূজনীয় হওয়া শর্ত নয়। অতএব মূর্তি থেকে ভাস্কর্যকে আলাদা করার যে চেষ্টা ঐ সব ‘ভদ্রলোক’ করেছেন তা অর্থহীন।

কুরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা

ভাস্কর্য সমর্থনকারী ‘ভদ্রলোক’দের মধ্যে আরেকটি শ্রেণী আছে, যারা বলছেন, “মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয়...। বুখারী শরীফের হাদীস : ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত (নিয়তের উপর কাজ নির্ভরশীল)। সুতরাং যেটি যে উদ্দেশ্যে বানানো হয় সেটিকে সেভাবে বিবেচনা করতে হবে...।”

এই ‘ভদ্রলোকেরা’ মূলত আগেরওয়ালাদের মতো মূর্তি ও ভাস্কর্যের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টির পথে না হেঁটে এসব নির্মাণের উদ্দেশ্যের দিকে মনোযোগ দেয়ার কথা বলতে চাচ্ছেন। কিন্তু আগেই বলা হয়েছে যে, উদ্দেশ্য যাই হোক, প্রাণীর প্রতিকৃতি নির্মাণ সর্বাবস্থায় হারাম। সে হিসেবে তাদের বিষয়ে আলাদা কিছু বলার ছিল না। তবে এরা তাদের বক্তব্য প্রমাণ করতে গিয়ে একটি আয়াত এবং একটি হাদীসের শরণ নিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আল্লাহ্র কালাম এবং তাঁর রাসূলের বাণীর মর্যাদা তারা রক্ষা করতে পারেননি।

তাদের প্রমাণ উপস্থাপনের তরীকাটা দেখুন এবং লা-হাওলা পাঠ করে তাদের বক্তব্য লক্ষ করুন-

“বুখারি শরিফের শুরুতেই রয়েছে, বিখ্যাত হাদিস, ‘ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত (নিয়তের উপর কাজ নির্ভরশীল)।’ মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয়। যেটি যে উদ্দেশ্যে বানানো হয়, সেটিকে সেভাবে বিবেচনা করতে হবে। হযরত মা আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) রাসুল (সা.) এর প্রিয় স্ত্রী ছিলেন। তার কয়েকটি পুতুল ছিল বলে হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি তার বান্ধবীদের সঙ্গে এসব পুতুল নিয়ে খেলা করতেন। কই, মহানবী (সা.) তো তাকে শিরক বলে এসব পুতুল নিয়ে খেলতে বারণ করেননি। আবার এসব পুতুল শিরকের উপকরণ এমন কথাও কখনও বলেননি। রাসুল (সা.)-এর বাসগৃহে পুতুলের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, পুতুল বা ভাস্কর্য মাত্রই শিরকের উপকরণ নয়। কট্টর ওয়াহাবিপন্থী হুজুররাও এটি জানেন, প্রাণীর ভাস্কর্য মানেই শিরক নয়। সৌদি আরবের জেদ্দার মূল কেন্দ্রে ‘দি ফিস্ট’ নামে একটি ভাস্কর্য আছে, এটি একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। আরও আছে ঘোড়ার ও মাছের ভাস্কর্য; একইভাবে মুসলিম অধ্যুষিত সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও মিশরে রয়েছে ঘোড়া ও অন্যান্য জীবের ভাস্কর্য। সুতরাং বলা যায়, ভাস্কর্য জীবের হোক বা জীব দেহের কোনও অংশের হোক, তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয়, তবে এতে দোষের কিছু নেই।”

তারা আরো বলেছেন-

“...পবিত্র কুরআনের সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতে ভাস্কর্য নির্মাণের উল্লেখ করে বলা হয়েছে—‘উহারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্যসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করিতো। আমি বলিয়াছিলাম, হে দাউদ-পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করিতে থাক। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ’।”

পাঠক! মুতাওয়াতির ও অকাট্য হাদীসের আলোকে আপনি একটু আগেই জেনেছেন, প্রাণীর প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান। এখন আপনিই বলুন, এদের এই উদ্ভট কথাবার্তার কী হাশর!

শুধু নিয়ত ভালো হওয়াই যথেষ্ট?

এখানে আমরা তাদেরকে প্রথম যে কথাটি জিজ্ঞেস করতে চাই তা হল, নিয়ত বা উদ্দেশ্য দিয়ে কাজের পরিণাম বিচারের এই শরঈ নীতি কখন এবং কোথায় প্রযোজ্য হবে- এর কোনো সীমারেখা আছে কি নেই? কেউ মদ পান করতে থাকবে আর বলবে- ‘আমি এটা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খাচ্ছি, একে নেশাজাত দ্রব্য ভেবে নয়’ তার এ কথা কি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে? বা কেউ কারো সম্পদ চুরি করল- এ নিয়তে যে, ‘সে তো যাকাত দেয় না; আমি এটা নিয়ে গরীব-মিসকীনকে দিয়ে দিব।’ এই সৎ নিয়তের কারণে কি তার চুরি বৈধ হয়ে যাবে? যদি তা না হয় তাহলে প্রাণীর প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য নির্মাণকে শরীয়ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিষিদ্ধ করে দেয়ার পর একথার কী অর্থ- ‘যেটিকে যে উদ্দেশ্যে বানানো হয়, সেটিকে সেভাবে বিবেচনা করতে হবে’? শরীয়ত বলছে, সাধারণ ভাস্কর্য প্রাণীর প্রতিকৃতি হওয়ার কারণেই অবৈধ। এতে পূজার শর্ত নেই । আর এরা বলছেন, ‘ভাস্কর্য জীবের হোক বা জীব দেহের কোনও অংশের হোক, তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয়, তবে এতে দোষের কিছু নেই।’

কোনটি মানবেন- শরীয়ত নাকি এদের মতামত?

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর পুতুলখেলা এবং এদের ভাস্কর্যপ্রেম

রইল তাদের একথা যে, “হযরত আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ঘোড়ার ছোট মূর্তি রাখা ছিল (সূত্র : বুখারি শরিফ-কিতাবুল আদাব)। কই, রসূল (সা.) তাকে তো নিষেধ করেননি।”

এই বিকৃতির উত্তর হল-

হাদীসটি আলোচ্য বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক। এটা এসেছে মেয়েদের খেলনা সম্পর্কে। এখান থেকে মূর্তি ও ভাস্কর্যের বৈধতা আহরণের প্রয়াস কি অপরিণত চিন্তার প্রমাণ বহন করে না?

চিন্তাশীল মানুষ আলোচ্য বিষয়ের বিধান উম্মুল মুমিনীন-এর ওই হাদীস থেকে আহরণ করবেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফর থেকে ফিরলেন। আমি দরজায় একটি ঝালরবিশিষ্ট পর্দা ঝুলিয়েছিলাম, যাতে পাখাওয়ালা ঘোড়ার ছবি অঙ্কিত ছিল। তিনি তা খুলে ফেলার আদেশ দিলেন। আমি তা খুলে ফেললাম। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৭

আম্মাজান যখন ছোট ছিলেন তখন পাখাওয়ালা ঘোড়ার পুতুল ছিল তার খেলার সামগ্রী। এর উপর নবীজী আপত্তি করেননি, কিন্তু যখন তিনি বড় হলেন এবং ঘোড়ার ছবিযুক্ত পর্দা ব্যবহার করলেন তখন নবীজী অসন্তুষ্ট হলেন। এমনকি তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল এবং তা খুলে ফেলার আদেশ দিয়েছেন এবং তাকে সতর্ক করেছেন। এসম্পর্কিত কিছু হাদীস ইতিপূর্বেও আমরা দেখেছি।

সুলাইমান আলাইহিস সালামের ধর্মেও প্রাণীর চিত্র তৈরি করা নিষিদ্ধ ছিল

তারা বলেছেন, “ভাস্কর্য জীবের হোক বা জীবদেহের কোনো অংশের হোক তা যদি শিরক বা পূজার উদ্দেশ্যে নির্মিত না হয় তবে এতে দোষের কিছু নেই।” তারা সূরা সাবা (৩৪)-এর আয়াত ১৩ দিয়ে কুরআন থেকে প্রমাণ করতে চেয়েছেন এই ভাস্কর্য নির্মাণের বৈধতা। এ থেকে বৈধতা তো প্রমাণিত হয়ই না, উল্টো তা এদের জ্ঞানদৈন্য ও হঠকারিতাকেই প্রকটিত করে তোলে।

আয়াতের তরজমাটিও তারা ঠিকভাবে করতে পারেন নি। শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানীকৃত তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনের বাংলা সংস্করণে এর কী তরজমা করা হয়েছে দেখুন :

“সুলায়মান যা চাইত, তারা তার জন্য তা বানিয়ে দিত- উঁচু উঁচু ইমারত, ছবি, হাউজের মত বড় বড় পাত্র এবং ভূমিতে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ...”।

আয়াতে উল্লিখিত تَمَاثِيْل ‘তামাছীল’ বা ছবি শব্দের কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করে টীকায় লিখেছেন : ‘প্রকাশ থাকে যে, এসব ছবি হত প্রাণহীন বস্তুর, যেমন গাছ-পালা, ইমারত ইত্যাদি। কেননা তাওরাত দ্বারা জানা যায়, হযরত সুলাইমান আ.-এর শরীয়তেও প্রাণীর ছবি আঁকা জায়েয ছিল না।’

দেখুন, তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন (উর্দু, ইংরেজি বা বাংলা, যে কোনো সংস্করণ), সূরা সাবা (৩৪)-এর আয়াত ১৩-এর অধীন টীকা।

ভদ্রলোকদের উচিত ছিল, আয়াতের তরজমা করার আগে এবং একে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের আগে নির্ভরযোগ্য দু’একটি তাফসীর ও কুরআনুল কারীমের বিশুদ্ধ বঙ্গানুবাদ দেখে নেয়া। তাতে সজ্ঞানে বা অজ্ঞানতাবশত তারা কুরআনের আয়াতের যে অর্থ বিকৃতি করেছেন তা থেকে হয়ত বেঁচে যেতেন।

তাদের বিভ্রান্তির শুরু এ আয়াতে ব্যবহৃত আরবী تَمَاثِيل ‘তামাছীল’ শব্দ নিয়ে। এর অর্থ তারা ধরেছেন, ভাস্কর্য এবং কেবলই প্রাণীর এমন ভাস্কর্য, যার পূজা করা হয় না।

কুরআনের তাফসীর তো বটেই, স্বয়ং কুরআনও তাদের এ ব্যাখ্যা সমর্থন করে না।

কয়েক কারণে :

এক. আয়াতে উল্লিখিত تماثيل ‘তামাছীল’ শব্দের অর্থ মুফাসসিরগণ লিখেছেন- الصور অর্থাৎ সাধারণ ছবি।

দেখুন : তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর (মৃত্যু : ৭৭৪), ৩/৮৪১, দারুল ফিকর থেকে প্রকাশিত, দ্বিতীয় সংস্করণ।

আল্লামা ইবনে হাইয়ান আন্দালুসী (মৃত্যু : ৭৪৫ হি.) তার তাফসীর আলবাহরুল মুহীত-এ জোর দিয়ে লিখেছেন-

التَّمَاثِيلُ: الصُّوَرُ، وَكَانَتْ لِغَيْرِ الْحَيَوَانِ.

অর্থাৎ এসব ‘তামাছীল’ ছিল প্রাণহীন বস্তুর ছবি।

দেখুন, আলবাহরুল মুহীত ৭/৩৫৩, দারু ইহইয়াইত তুরাছ, প্রথম সংস্করণ।

আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী রাহ. (মৃত্যু : ৬০৬ হি.) তাঁর তাফসীরে কাবীরে লিখেছেন-

وَالتَّمَاثِيلُ مَا يَكُونُ فِيهَا (المَحارِيب) مِنَ النُّقُوشِ.

অর্থাৎ এই ‘তামাছীল’ ছিল, প্রাসাদে অঙ্কিত বিভিন্ন নকশা ও কারুকার্য।

দেখুন, আততাফসীরুল কাবীর ২৫/১৯৮, দারু ইহইয়াইত তুরাছ, চতুর্থ সংস্করণ।

আরো দেখুন, জামিউল বায়ান আন তাবীলি আয়িল কুরআন, মুহাম্মাদ ইবনে জারীর আততবারী (মৃত্যু ৩১০ হি.) ১৯/২৩১, দারু আলামিল কুতুব, প্রথম সংস্করণ এবং তাফসীরু ফী যিলালিল কুরআন, সায়্যেদ কুতুব শহীদ (মৃত্যু ১৩৮৬ হি.=১৯৬৬ ঈ.) ৫/২৮৯৯, দারুশ শুরূক।

দুই. পূর্ববর্তী ধর্মসমূহে যে প্রাণীর চিত্র তৈরি করা হারাম ছিল, একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকেও সুস্পষ্ট। এ নিবন্ধেই ইতিপূর্বে আপনারা পাঠ করেছেন উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أُولَئِكِ إِذَا مَاتَ مِنْهُمُ الرجُلُ الصالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، ثُم صَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصورَةَ، أُولَئِكِ شِرَارُ الخَلْقِ عِنْدَ اللهِ.

তাদের কোনো পুণ্যবান লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর ইবাদতখানা নির্মাণ করত এবং তাতে প্রতিকৃতি স্থাপন করত। এরা হচ্ছে আল্লাহ্র সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৪১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫২৮

এই হাদীস থেকে জানা যাচ্ছে যে, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা পূর্বের শরীয়তেও হারাম ছিল। তা না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে একাজের কারণে আল্লাহ্র সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করতেন না।

তিন. এমনকি বর্তমান বাইবেলেও পরিষ্কারভাবে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে প্রাণীর কোনো ছবি, ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণ। পড়–ন -

`Do not make for yourselves images of anything in heaven or on earth or in the water under the earth.’ (HOLY BIBLE (Good news Bible) p. 80, The Bible society of India)

চার. তারা যে বলেছেন, تماثيل ‘তামাছীল’ অর্থ প্রাণীর ভাস্কর্য এবং একমাত্র ঐ ভাস্কর্য যার উপাসনা করা হয় না এ কথাটিও কুরআন-বিরোধী। কুরাআনে কারীমে সূরা আম্বিয়া ( ২১)-এর ৫২ নং আয়াতে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইরশাদ হয়েছে-

اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِهٖ مَا هٰذِهِ التَّمَاثِیْلُ الَّتِیْۤ اَنْتُمْ لَهَا عٰكِفُوْنَ

(স্মরণ কর ঐ সময়কে, যখন সে তার পিতা ও আপন সম্প্রদায়কে বলল, এই ভাস্কর্যগুলো কী, তোমরা যার উপাসনা করছ!)

এ আয়াতেও تماثيل ‘তামাছীল’ (ভাস্কর্য) শব্দ রয়েছে। এখান থেকে জানা যাচ্ছে যে, হযরত ইবরাহীম আ.-এর সম্প্রদায় তামাছীল (ভাস্কর্য)-এর পূজা করছিল এবং তিনি তাদেরকে এজন্য ভৎর্সনা করেছিলেন। অতএব তারা যে বলতে চাচ্ছেন, ‘তামাছীল’ মানে প্রাণীর এমন ভাস্কর্য, যার পূজা করা হয় না- একথা টিকল না।

পাঁচ. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে রয়েছে-

لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ تَمَاثِيلُ أَوْ تَصَاوِيرُ.

ফিরিশতারা ওই ঘরে প্রবেশ করেন না, যেখানে ‘তামাছীল’ (ভাস্কর্য) বা ছবি রয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১২

এখানেও تماثيل ‘তামাছীল’ শব্দ রয়েছে। এখানে তো নবীজী এ ভাগ করেননি যে, তা পূজার উপকরণ কি উপকরণ নয়!?

তাদের বিভ্রান্তির গোড়ার কথা

আসলে পূজার উপকরণ আর পূজার উপকরণ নয়- এই দুই ভাগে ভাস্কর্যকে ভাগ করতে গিয়েই তারা বিপত্তিতে পড়েছেন এবং বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। তারা যদি এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশিত ভাগটি মনে রাখতেন, তাহলে সহজেই সব সমস্যা উতরে যেতে পারতেন।

হাদীসের ভাষা থেকে পরিষ্কার যে, প্রাণীর ছবি মাত্রই তা নিষিদ্ধ। সেটা কাগজে, কাপড়ে, মাটিতে বা দেয়ালে অঙ্কিত হোক কিংবা কাঠ, পাথর বা ইট-বালু-সিমেন্ট বা এজাতীয় অন্য পদার্থ দিয়ে স্বতন্ত্র দেহ-কাঠামো গড়ে হোক। প্রাণীর ছবি ও প্রতিকৃতি হওয়ায় সর্বাবস্থায় তা হারাম। সেটা পূজার উপকরণ হোক বা না হোক। পূজা-অর্চনা যোগ হলে তাতে নিষিদ্ধ হবার বাড়তি কারণ পাওয়া গেল। বিধায় তা চরমভাবে ঘৃণিত। আর পূজার সামগ্রী না হলে শুধু এক কারণে নিষিদ্ধ; সেটা হল প্রাণীর ছবি বা ভাস্কর্য হওয়া।

অন্যদিকে ছবি যদি প্রাণহীন জড়বস্তুর বা উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক অন্যান্য জিনিসের হয় তাহলে তার অঙ্কনে দোষের কিছু নেই। সে ছবি কাগজে, কাপড়ে, মাটিতে বা দেয়ালে আকাঁ হোক কিংবা কাঠ, পাথর, লোহা বা এজাতীয় পদার্থ দিয়ে স্বতন্ত্র কাঠামো তৈরি করে হোক। তবে যদি এই প্রাণহীন চিত্র ও বস্তুও পূজার উপকরণ হিসেবে তৈরি করা হয় তাহলে সেটাও নিষিদ্ধ। সেটা ছবি বা প্রতিকৃতি হওয়ার কারণে নয়; বরং পূজার কারণে।

এই শরঈ মানদ-ে বিচার করলে কোনো সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকে না। বন্ধুগণ গোটা বিষয়টা কেন এইভাবে ভেবে দেখছেন না সেটাই বিস্ময়।

দলীল হল শরীয়ত, কোনো দেশ নয়

তারা আরেকটি কথা বলেছেন- সৌদি আরব ও মিশরসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে ভাস্কর্যের উপস্থিতি প্রসঙ্গে। এর উত্তর এই যে, শরীয়তের বিষয়ে শরীয়তের দলীল দিয়ে কথা বলতে হবে। কোন্ দেশ কী করেছে সেটা ধর্তব্য নয়।

(নিবন্ধের অধিকাংশটুকু আমার এক প্রিয়জন জনাব আব্দুল মালেক ভাইয়ের থেকে সংগৃহীত।)



দয়া করে, নিবন্ধটি না পড়ে কেউ মন্তব্য করবেন না।

ছবিঃ গুগল

মন্তব্য ৫৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৫৬) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০

চাঁদগাজী বলেছেন:



ভাস্কর্যের "শরিয়তী" ফয়শালা কেন হচ্ছে? শরীয়ত বলতে কোন কিছু নেই আমাদের বিপাবলিকের সংবিধানে।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৪৮

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: এখানে সংবিধানের বিশ্লেষণ দেওয়া হয়নি। যারা নিজেদের মুসলিম দাবী করেন তাদের জন্য এই লেখাটি যথেষ্ট সহায়ক বলেই এটা এখানে প্রকাশ করেছি।
ধন্যবাদ

২| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৫৫

জাহিদ হাসান বলেছেন: ব্লগে অবলীলায় আল কায়দা ও দায়েশ সন্ত্রাসীদের আইডোলোজি প্রচার ও প্রসার করা হচ্ছে। আর বেআক্কেল লোকেরা বলতেছে- ‘আমিন, আল্লাহ আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুক’। ভাগ্য ভালো এই দিন দেখার আগেই আমি ব্লগ ছেড়েছিলাম।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৬

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আপনার মত অশ্লীল শব্দ প্রয়োগকারীরাই যদি আপনার অভিধান মতে ব্লগার হয়ে থাকে, তবে আমি নিশ্চিত এই ব্লগে এমন অশ্লীলভাষিদের সংখ্যা হাতেগোনা, তাও প্রায় অন্ধকারে নিমজ্জিত।
'আমিন, আল্লাহ আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুক’।' এরকম কথা ফেবুতেই লেখালেখি হয়। যারা এমন মানসিকতা লালন করে তারা পেছন থেকে তাদের নিয়ে আমি জিজ্ঞাসার চিহ্ন আঁকবো না!
আপনি যে এসব দেখেন নাই তাই অনেক ভালো। আল্লাহর রহমতে আমার দৃষ্টিতেও এরকম খুব কম পড়েছে।

৩| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৫

নতুন বলেছেন: আমাদের দেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র না যে শরিয়াতী মারফতি ধর্মব্যবসায়ীদের কথায় ভাস্কর্য থাকবে কিনা আলোচনা করতে হবে।

আমাদের দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ People's Republic of Bangladesh

তাই মোল্যা তন্ত্রের আইডিয়া এখানে খাটাতে চেস্টা করবেনা না।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: নতুন ভাউ, নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিবেন।


ভাস্কর্য থাকা না থাকার ব্যাপার আলাদা। কিন্তু যখন কোন বিষয় জাতীয় অবস্থান থেকে করা হবে তখন সেই দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের উচিত তাদের ধর্মের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা এজন্য যে, যেন তাদের ধর্মপালনে অদূর ভবিষ্যতে কোন সমস্যা না হয়। আর বর্তমান তো অবশ্যই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মের কথা তারা অবশ্যই বলবে যারা ধর্মপ্রাণ মানুষের সার্বিক উন্নতির লক্ষে কাজ করেন। সেটা মানা না মানার জন্য অবশ্যই ধর্ম কাউকে জোরজবরদস্তি করপবে না, কারণ এটা শরীয়তের ভিত্তিতে চালিত কোন রাষ্ট্র নয়।

৪| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৫

নেওয়াজ আলি বলেছেন: সরকার এবং মোলভীরা আলাপ করতেছে সুন্দর একটা সমাধান হবে । তাই আর বাড়াবাড়ি নয়

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৯

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: সেটাই প্রিয়জন,
আমি কেবল ধর্মপ্রাণদের ভেতরকার সন্দেহ দূরিকরণের চেষ্টা করছি মাত্র। আমার দ্বারা কোন অসাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি হবে সেটার জন্য অবশ্যই আমি জিজ্ঞেসিত!

৫| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৪

সাকিবুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেছেন: আচ্ছা ভাই, একটা প্রশ্নের উত্তর দেন তো আমি সত্যি জানার জন্য বলছি- একটা বাচ্ছা খেলার জন্য কাপড় দিয়ে পুতুল বানালে সেইটা ঠিক আছে, কিন্তু মাটি একই পুতুল বানালে সেইটা কেন হারাম হবে? দুইটা তো একই, প্রানীর অবয়ব আছে, প্রানীর আকৃতি আছে। আপনি আপনার পোস্টে বলছেন- যে নবী (স) পুতুল নিয়ে খেলছেন। কথা হচ্ছে আপনি পুরো হাদিস টা বলেন নাই। আপনার মত মানুষরা বাচ্চাদের শান্তিমত খেলতেও দিবেন না। জন্মের পর থেকে তিন বছরের বাচ্চা মেয়েগুলোরে বোরকা পড়ায়ে রাখেন, কারণ তিন বছরের বাচ্চা মেয়েদের প্রতি বাঝে চিন্তা করতেও ছাড়েন না।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫০

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আপনি আমার পোস্টটি ভালোভাবে পড়েননি। নবীজি নয়, পোস্টে রেফারেন্সসহ বলা হয়েছে হযরত আয়েশার বাল্যকালের কথা। এবং তৎপরবর্তীতে বলা হয়েছে তার বিবাহপরবর্তী একটি ঘটনা যার মাধ্যমে তার শৈশবকালের বিষয়টি যদিও স্পষ্টভাবে খণ্ডিত নাও হয়, তবুও ভাস্কর্যের মৌলিকতা নিয়ে পোস্টে যে কথাগুলো বলেছি তাতে স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় পুতুল আর ভাস্কর্য এক নয়। আপনাকে সমাধান পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পোস্টটি দৈর্যের সাথে আরেকবার পড়ার জন্য অনুরোধ করছি।


নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানবেন, ধন্যবাদ।

৬| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৬

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: মানুষের জ্ঞান,বুদ্ধি ,বিশ্লেষণ ক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে,কিন্তু কিছু লোকের ১৪০০ বছরের আগের যায়গায় আটকে আছে।তারা আজকের সমস্যাকে ব্যাখ্যা করছে ১৪০০ বছরের পুরনো হাদিস দিয়ে।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৬

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: ১৪০০ বছরেরও আগেকার হাদিস যদি বর্তমান সময়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হতো, তবে সমাজ তাকে কখনো গ্রহণ করতো না। অথচ পৃথিবীর একটি বৃহৎ জনসংখ্যা এটার অনুসারেই জীবনানন্দ ভোগ করছে। আপনি কিংবা আমি তখনই এটার উপর প্রশ্ন উত্তাপণ করতে পারি যখন এটা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার প্রায়োগিক ক্ষেত্রে অকার্যকর কিংবা প্রকৃত শান্তিময় জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অন্তরায়।
ধন্যবাদ। নববর্ষের শুভেচ্ছা নিবেন।

৭| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৩

রানার ব্লগ বলেছেন:
(13
يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاء مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
তারা সোলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী দুর্গ, ভাস্কর্য, হাউযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতা সহকারে তোমরা কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।

আল কোরানের সুরা আল সাবা এর ১৩ নম্বর আয়াত তা হলে আপনি অস্বীকার করছেন। না কি কুরান যে প্রতিপক্ষ হিসেবে দার করাচ্ছেন হাদিসের বিপক্ষে।

আপনার নিয়ত খারাপ। আগে নিয়ত ঠিক করে আসেন। আপনি হাউ কাউ পার্টির লোক।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:১২

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
আল কোরানের সুরা আল সাবা এর ১৩ নম্বর আয়াত তা হলে আপনি অস্বীকার করছেন। না কি কুরান যে প্রতিপক্ষ হিসেবে দার করাচ্ছেন হাদিসের বিপক্ষে।

হাদিস কখনোই কুরআনের বিপক্ষে দাঁড় করানোর বস্তু নয়। হাদিস হচ্ছে পবিত্র কুরআনের ব্যখ্যায় যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আপনি যে মহিমান্বিত আয়াতটির কথা বলছেন তার ব্যাপারে আমি ইতিপূর্বেই পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেছি। দয়া করে সমাধানের উদ্দেশ্যে ধৈর্যের সাথে আবারো পাঠ করুন। ধন্যবাদ।

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানবেন।

৮| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৪

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:


আল্লাহ ওই গোষ্ঠীকে ধ্বংস করুন, যারা এমন প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, যা তারা সৃষ্টি করে না।
-শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৫৯০৩


আপনার উল্লেখিত এই হাদিসটিই আমার জন্যে যথেষ্ট। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আল্লাহ সৃষ্ট যে কোন জিনিসের প্রতিকৃতি নির্মাণ করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করছেন।

মানুষ কোন জিনিস সৃষ্টি করতে পারে না। বরং, তারা আল্লাহ সৃষ্ট জিনিস আবিস্কার করে।

যারা বলে যে, ভাস্কর্য বানানো হালাল, তারা পারলে কোন একটা জিনিস সৃষ্টি করে দেখাক না!!!!!

এই পোস্টের জন্যে আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:১৪

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: শাইয়্যান ভাই,
অনেক অনেক ভালোবাসা নিবেন।
নববর্ষের শুভেচ্ছা।

৯| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৩৩

জাহিদ হাসান বলেছেন: সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আল্লাহ ওই গোষ্ঠীকে ধ্বংস করুন, যারা এমন প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, যা তারা সৃষ্টি করে না।
-শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৫৯০৩

আপনার উল্লেখিত এই
হাদিসটিই আমার জন্যে যথেষ্ট। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আল্লাহ সৃষ্ট যে কোন জিনিসের প্রতিকৃতি নির্মাণ করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করছেন।


কোনটা আল্লাহর বানী, কুরআন না হাদিস?
আল্লাহর নিষিদ্ধ করলে সরাসরি কুরআনে বলা হবে- ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে- ভাস্কর্য, গানবাজনা....’
নবী সা: এর মৃত্যুর ৩০০ বছর পর ওই হাদিসগ্রন্থগুলো সংকলন করা হয়েছে। তার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত করলেন, অথচ ওই ৩০০ বছরে নবীর সাহাবী ও তাবেঈনরা জীবন কাটিয়ে চলে গেলেন, তারা তো আইন করে ওই ভাস্কর্য, গান-বাজনা হারাম করলেন না।
তাছাড়া হাদিস গ্রহন যোগ্যতার কিছু মূলনীতি আছে-

১) কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।
২) প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ধারনার পরিপন্থী হতে পারবে না। হলে তা অকেজো।
৩) কুরআন যা হারাম ও আবশ্যিক করেছে এর বাইরে কোন কিছু হারাম ও আবশ্যিক ঘোষিত হবে না।

এগুলো ভালো করে জানেন তো? নাকি যা শুনলেন তাই মেনে নিলেন?

ইউটিউবে ‘সায়েদুনা হযরত’ এর হাদিস বিষয়ে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য[link||view this link]

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪২

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: তুর্কিসরা নাকি ইদানীং ইসলামী যুদ্ধ আরও কতকীর মিশ্রণে অনেক ফিল্ম বের করছে। দেখেন নাকি সেগুলো? একটা নতুন সিরিজ বের করছে শুনলাম, 'সেলজুক' না কী যেন নাম। সেখানে একদল মানুষ 'সায়েদুনা হযরত'-এর অনুসারী হয়ে ভালোই ইসলামের খেদমত করছে, সময় তাদেরকে বাতেনি বলে ডাকতো। তাদের সাইয়েদুনা হযরত হাসান সাব্বাহ। এই হাসান সাব্বাহ ছিল ইতহাসের ইকটা নগন্য কীট। তার মত ইসলামের ক্ষতি আর কেউ করেনি; তার সময়কালে৷ ফাঁক দিয়া ইতিহাসের কথা চলে আসলো। তা হাদিস গ্রহণে কেবল কী এগুলোই মূলনীতি? এটা কি আপনার 'সাইয়েদুনা হযরত'-এর হাদিস নিয়ে বিশ্লেষনকারী মুহাদ্দিসের ইউটিউব ভিডিও থেকে নেয়া?
অনেক্ষণ সময় দেখলাম, ফলাফলঃ সময় নষ্ট।
মোল্লাদের ভাত নষ্টঃ হায়রে কষ্ট।

মজার ব্যাপার হলো, আপনি হাদিসের কী কাজ সেটা সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত নন। যার কারণে এই বাণী টাইপ করলেন।
' কোনটা আল্লাহর বানী, কুরআন না হাদিস?
আল্লাহর নিষিদ্ধ করলে সরাসরি কুরআনে বলা হবে- ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে- ভাস্কর্য, গানবাজনা....’
নবী সা: এর মৃত্যুর ৩০০ বছর পর ওই হাদিসগ্রন্থগুলো সংকলন করা হয়েছে। তার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত করলেন, অথচ ওই ৩০০ বছরে নবীর সাহাবী ও তাবেঈনরা জীবন কাটিয়ে চলে গেলেন, তারা তো আইন করে ওই ভাস্কর্য, গান-বাজনা হারাম করলেন না। '


ধন্যবাদ জানবেন।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৮

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আপনি ১৭ নং মন্তব্যকারী কাল্পনিক ভালোবাসার মন্তব্যের দিকে মনোনিবেশ করত উনার প্রতিউত্তরে একটি সুন্দর মন্তব্য করুন!

ধন্যবাদ।

১০| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৩৪

হায় চিল বলেছেন: এত সুন্দর করে গুছিয়ে লেখলেন? মাশাআল্লাহ।
ধন্যবাদ ভাই

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৪

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: লেখাটা মোটেও আমার না। আমার এক প্রিয়জনের। আমার কাছে মনে হলো এটা সকলের জানা উচিত তাই শেয়ার করা।
ধন্যবাদ

১১| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: ভাস্কর্য আমার কাছে কোনো সমস্যাই না। আমার কাছে সমস্যা করোনা।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৮

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: সেটা আপনার আপেক্ষিক বিষয়। জাতীয় ইস্যুর ক্ষেত্রে অন্তত মুসিমদের উচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা। সে লক্ষ্যেই প্রকাশ।

ধন্যবাফ

১২| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: এই আধুনিক যুগে সব কিছু ইসলাম দিয়ে বিচার করা ঠিক না।
দেশ ইসলামিক নিয়মে চলে না।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫০

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
হু, আবারো ধন্যবাদ।

যেহেতু দেশটিতে মুসলমানের বাস সেহেতু জাতীয় ইস্যুর হিসেবে তার সম্পর্কে ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য সকলের জানা উচিত। পরিশেষে রাষ্ট্র কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিবে সেটা তার ব্যাপার।

১৩| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২৩

এ আর ১৫ বলেছেন:

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫১

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: ;)

১৪| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২৫

এ আর ১৫ বলেছেন: ভাষ্কর্য নিষিদ্ধ করার আন্দোলন বা জেহাদ করার আগে ছবি ভিডিও নিষিদ্ধ করার জেহাদ চাই। এটা ঈমাণী দায়িত্ব ছবিকে নিষিদ্ধ করার। পাসপোর্ট এবং আই ডি কার্ড ছাড়া সব ধরনের ছবি ভিডিও নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দিতে হবে কারন ৯২% মুসলমানের দেশে হারাম জিনিস থাকতে পারবে না। মূর্তি পুজা হারামের বিষয়ে যদি ৫ টা হাদিস থাকে, সেখানে ছবি হারামের ব্যাপার ৫০টা হাদিস আছে।


এই বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য নিম্ন লিখিত দাবি সমূহ পেশ করা হোল।

১) দেশের সকল ক্যামেরা ধংস করতে হবে কারন ক্যামেরা থাকলে, মুসলমানরা শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে ঈমাণ চূত হয়ে ছবি বা ভিডিও করতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি সব আলেম হুজুররা শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে ছবি তুলছে এবং ওয়াজের ভিডিও পোস্ট করছে।

২) দেশে ক্যামেরা আমদানি বন্ধ এবং যে কোন ধরনের ক্যামেরার ব্যবসা নিষিদ্ধ করতে হবে।

৩) স্মার্টফোনে ক্যামেরা এপ্স নিষিদ্ধ করতে হবে।

৪) ফটো স্টুডিও গুলোকে বন্ধ বা ধংস করতে হবে, ভাষ্কর্য ধংস করার আগে।

৫) ফটোকপি মেশিন নিষিদ্ধ করতে হবে।

৬) আর্ট কলেজ চারুকলা নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭) ক্যামেরা বহনকারিকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।


এই সমস্ত কিছু নিষিদ্ধ না করার জন্য মুসলমান কাম মমিন আলেম হুজুররা শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে ঈমাণ চুত হয়ে ধূমসে ছবি তুলছে এবং ওয়াজের ভিডিও বানাচ্ছে।

তাই আমাদের দাবি ভাষ্কর্য নিষিদ্ধ করার আগে সব ছবি ভিডিও নিষিদ্ধ করা হোক। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন খোদ আলেম হুজুরা শয়তানের প্ররোচনায় ঈমাণ চূত হয়ে, ছবি তুলছে এবংং ভিডিও করছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৪

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: হ্যা, আন্দোলনের ডাক দেন।
প্রত্যেকে তার জ্ঞান বুদ্ধির আলোকে সমর্থন জানাবে। অতিরিক্ত বারাবাড়ি কোন সচেতন মানুষের জন্যই সহনীয় নয়।

১৫| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৫৭

হাসান ইমরান বলেছেন:
যতটুকু বুঝলাম, এ লেখাটা তাদের উদ্দেশ্য করেই লেখা যারা ইসলামে থেকেই প্রমাণ করিতে চায় যে ভাস্কর্য বৈধ। তাদের জন্য না যারা এই হীন কাজ হতে বিরত। তাদের জন্য না যারা ভাস্কর্য সমর্থন করছেন কিন্তু সেটাকে ইসলামি শরীয়া দিয়ে প্রমাণ করতে সচেষ্ট না। লেখকই ভাল বলতে পারবে আমার ধারণা কতটুকু সঠিক।
ভালো লিখেছেন। যথেষ্ট প্রমাণ উপাত্ত দেখিয়েছেন। কারো বিশ্বাস করতে অসুবিধা হলে সেটা তার ব্যাপার। কেউ কেউ দেখি আন্দাজে বুলি ছুড়ে প্রমাণ ছাড়া - কোথাও যদি লেগে যায়!! আপনি সেটা করেননি । ভালো লাগলো ।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৯

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ, সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

'যতটুকু বুঝলাম, এ লেখাটা তাদের উদ্দেশ্য করেই লেখা যারা ইসলামে থেকেই প্রমাণ করিতে চায় যে ভাস্কর্য বৈধ। তাদের জন্য না যারা এই হীন কাজ হতে বিরত। তাদের জন্য না যারা ভাস্কর্য সমর্থন করছেন কিন্তু সেটাকে ইসলামি শরীয়া দিয়ে প্রমাণ করতে সচেষ্ট না।'
হ্যা এমনইনটাই। তবে এটা অশা রাখি তাদের জন্যও কিছুটা চিন্তার খুরাক হবে যারা এটা নিয়ে পক্ষ স্থিরের পূর্বে মুক্ত চিন্তার সাথে কাজ করছেন।

১৬| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:০৩

সোহানী বলেছেন: নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু কিছু লোকের ১৪০০ বছরের আগের যায়গায় আটকে আছে। তারা আজকের সমস্যাকে ব্যাখ্যা করছে ১৪০০ বছরের পুরনো হাদিস দিয়ে।

আসুন, ভার্স্কয্য এর সাথে সাথে টিভি, ইর্ন্টানেট, সিনেমা হল, পত্রিকা, বই (যেখানে ছবি আছে), মোবাইল, ক্যামেরা সব সবকিছু বন্ধ করে দেন। এমন কি দোকানে দোকানে সাজানো ডল, বাচ্চাদের প্রানীর আকৃতির খেলনা সবকিছু বন্ধ করে দেয়ার জন্য সবাই আওয়াজ তুলেন। কারন এসব কিছুতে তো মানুষ বা প্রানীর প্রতিকৃতি দেখা যায়। তারপর আমরা জাহিলিয়া যুগে ফিরে যাই এক যোগে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০২

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আপু, আপনারে কীতা কতাম! আপনি মনলয় রাইগা আছেন। ১৫ নং মন্তব্য ও তার প্রতিমন্তব্য দেখুন।

আপনার বইটি পূর্ণ সফলতা পাক পাঠক মহলে।

১৭| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১:০৬

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: @ জাহিদ হাসান: আপনি অনুগ্রহ করে গালি বাদ দিয়ে ছবিটি সংযুক্ত করে প্রশ্নটি পুনরায় করুন। গালি দেয়ার কারনে আপনার মন্ত্যবটি মুছে দেয়া হলো। ভবিষ্যতে যে কোন যুক্তির বিপক্ষে কথা বলার সময় যদি মনে করেন, ভাষা সংযত করা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়, তাহলে তা এড়িয়ে যাবেন। আপনাকে অগ্রিম ধন্যবাদ। পাশাপাশি সম্পুরক প্রশ্ন, যে ভিডিওটি আপনি দিয়েছেন, ইসলামিক রেফারেন্স হিসাবে সেটা কতখানি স্বীকৃত? তাহলে মনে হয় সকলের জন্য আলোচনায় সুবিধা হবে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৯

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ।
কর্তৃপক্ষের সচেতনতাই ব্লগ ও ব্লগারদের অগ্রগতির সহায়তার মূল ক্ষেত্র।

প্রিয় ভাই জাহিদ হাসানের প্রতি উত্তরের অপেক্ষায় আমিও ছিলাম।

১৮| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ২:৩০

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
বেশিরভাগ হাদিস ভুল ও বিভ্রান্তিকর
হজরত মোহাম্মদ (স) জীবিতকালেই ইসলাম ৭২ ভাগে বিভক্ত হয়েছিল, বর্তমানে দেড়শোর উপর।

রসুল (স) নিজে বলে গেছেন ৭২ ভাগে বিভক্ত ইসলামের শুধু একটি অংশই সঠিক। বাকি ৭১ ভাগই জাহান্নামি।

হাদিস লেখা হয়েছিল ২০০ থেকে ৩০০ বছর পর।
রাজনৈতিক ইসলাম কায়েমের লক্ষ্যে, বিভিন্ন পক্ষ যার যার সুবিধা মত হাদিস তৈরি করা হয়েছে।
তথা ধর্মের নামে ডাকাতি ক্ষমতা দখল নগর দখল গনিমতের মাল ভাগাভাগির ইসলাম। পাপিষ্ঠ পলিটিক্যাল ইসলাম।

১৯| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ ভোর ৫:৫৫

মেরুভাল্লুক বলেছেন: কাবুলের তালেবান খেলাফত নিয়ে আপনার মন্তব্য কি??

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:১০

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আজকের তরকারি বেশ সুবিধার ছিল না!

২০| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ ভোর ৬:৫১

এভো বলেছেন: আপনি যত গুলো হাদিসের রেফারেন্স দিয়েছেন, সব ছবি হারাম সংক্রান্ত। এখন যদি ছবি হালাল হয় তাহোলে ভাষ্কর্য হারাম কেন? মুফতি মাওলানা হুজুরদের হাজার হাজার ছবি ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়।

২১| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:১৪

আতিকুররহমান আতিক বলেছেন: খুব যুক্তিপূর্ন ভাবে তুলে ধরেছেন। ভাল লাগল পড়ে। এখন যার দরকার বুঝবে যার দরকার বুঝবে না। এটা ব্যাক্তিগত ব্যাপার। যারা অতি আধুনিক মানুসিকতা সম্পন্ন্ এবং ধর্ম বিশ্বাস করেনা তাদেরকে কার্ল মার্কস কিংবা স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও যদি এসে বলেন এটা হারাম তবু তারা এটা মানবে না।
যেহেতু প্রত্যেকের নিজেদের বিশ্বাস সম্পর্কে স্বাধীনতা রয়েছে সুতরাং প্রত্যেকের মতামতে ভিন্নতা থাকাটা অ্স্বাভাবিক নয়্।

২২| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৪

নীল আকাশ বলেছেন: এই পোস্টে আমি ফিরে আসছি।
বুজরকি শুরু হয়ে গেছে।

২৩| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:০৪

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ইসলাম বিরোধী মানুষদের আনাগোনা বেড়ে যায় ইসলামিক পোস্ট দিলে । :(

২৪| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১৬

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
ছবি হালাল কে বলল ? আমাদের প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে আমরা ছবি তুলছি তাই বলে হালাল হবে কেন ?

মানুষ না বুঝে না জেনে যেকোন বিষয়ে বলে ফেলে ?
সুন্দর একটা পোস্ট। ইসলাম ও সরিয়ত অস্বীকার করে কেউ মুসলিম থাকতে পারেনা।

মোল্লা, হুজুর কি করল তা বিবেচনায় এনে ইসলাম ধর্মকে মাপা বোকামী। এর পরও শুধু হাউকাউ করে মন্তব্য করে বিরোধীতা করা মানে বিচার মানি তালগাছ আমার না হয়ে হবে বিচার মানিনা তালগাছ আমার।

২৫| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২১

এমেরিকা বলেছেন: যুক্তির আসলে অভাব নেই। যদি বলি হাদীসে অমুক কাজ করা নিষেধ আছে।
কাউন্টারঃ কোন হাদীসে আছে, দেখান। না জেনে ফতোয়াবাজি করতে আসবেন না।

জবাবঃ বুখারি শরীফের অমুক অধ্যায়ের এত নং হাদীসে বলা আছে।
কাউন্টারঃ এই হাদীস জাল। অমুক মুহাদ্দিস একে জাল বলেছেন।

জবাবঃ কিন্তু অমুক তাবেয়ী এইটাকে সহিহ বলেছেন, তা না হলে ইমাম বুখারী একে গ্রন্থিত করতেন না।
কাউন্টারঃ
বেশিরভাগ হাদিস ভুল ও বিভ্রান্তিকর
হজরত মোহাম্মদ (স) জীবিতকালেই ইসলাম ৭২ ভাগে বিভক্ত হয়েছিল, বর্তমানে দেড়শোর উপর।
রসুল (স) নিজে বলে গেছেন ৭২ ভাগে বিভক্ত ইসলামের শুধু একটি অংশই সঠিক। বাকি ৭১ ভাগই জাহান্নামি।
হাদিস লেখা হয়েছিল ২০০ থেকে ৩০০ বছর পর।
রাজনৈতিক ইসলাম কায়েমের লক্ষ্যে, বিভিন্ন পক্ষ যার যার সুবিধা মত হাদিস তৈরি করা হয়েছে।


জবাবঃ কুরআনের এই আয়াতের ব্যখ্যা এই হাদীস, তাই একে ভুল মনে করার কোন কারণ নেই।
কাউন্টারঃ হাদীস মেনে দেশ চলবেনা। দেশ চলবে সংবিধান মেনে।

জবাবঃ আমি তো স্পিকার হয়ে গেলাম।

২৬| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২২

এমেরিকা বলেছেন: শালিস মানিনা, তাই তালগাছটা আমারই।

২৭| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৬

মাহিরাহি বলেছেন:

২৮| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৩২

নীল আকাশ বলেছেন: দুর্দান্ত লেখা। উপযুক্ত যুক্তি এবং তথ্যের উপস্থাপণা। লেখা প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম।
কিন্তু ভাই লাভ নেই। এরা কোন দিনও মানবে না। এর আগে একজন ব্লগার সোলাইমান আলাহিস সাল্লাম এর এই আয়াত নিয়ে বহু জল ঘোলা করেছে। উনি হাদিস মানবেন না, শুধু কুরআনের আয়াত মানবেন। আরেক জন আসলো হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। শেষে আমি সহী হাদিস কি, সেটা নিয়ে লিখলাম, তখন শুরু করলো ব্যক্তি আক্রমণ। যুক্তি যখন না আসে এরা শুরু করে এই নোংরামী।

তামছিল শব্দের অর্থ এর ইচ্ছেকৃতভাবে বিকৃত করেছে। আমি নিশ্চিত যারা এখানে উলটা পালটা প্রশ্ন করছে, তারা পবিত্র কুরআন এবং হাদিস নিয়ে ভালোভাবে খুজেও দেখেনি। চিল কান নিতে পারে, এদের ইচ্ছের সাথে মিলে গেছে, ব্যাস এখন চিলের পিছনে দৌড়াচ্ছে।

একজন মুস্লিম কিভাবে দাবী করে হাদিস তথা সুন্নাহ মানবো না। যেখানে আল্লাহ সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী কে মানতে।

এক নবীর উম্মতের আইন শুধুই সেই উম্মতের জন্য প্রযোজ্য।
সোলাইমান আলাহিস সাল্লাম তো বিয়ে করেছে অনেক, উম্মতে মোহাম্মদীকে কেন তাহলে চারটার বেশি পারমিশন দেয়া হয় নি?
এরা যুক্তি মানবে না কিন্তু তালগাছটা চাইবে। আপনার আমার দায়িত্ব সত্য উপস্থাপণের, আমরা তাই করেছি।
আল্লাহই দেখছেই সব কিছু। সুন্নাহ এবং হাদিস অস্বীকার করার পাপের হিসাব একদিন এদের বিন্দু বিন্দু করে দিতে হবে।
ধন্যবাদ।

২৯| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:১১

এ আর ১৫ বলেছেন: নীল আকাশ সাহেব ২২ নং কমেন্টে বলেছিলেন --- এই পোস্টে আমি ফিরে আসছি।
বুজরকি শুরু হয়ে গেছে।

সত্যই হ্তাশ হোলাম ওনার ২২ নং কমেন্টা পড়ে । এখানে দুটো মৌলিক বিষয়ে ওনারা ভুল করছেন ।

১)ধরুন মেনে নিলাম ওনারা বলছেন পূজা বিহীন ভাষ্কর্য হারাম ও শিরিক । এখানে উল্লেখ্য কোরানে শুধু মুর্তি নহে যে কোন জিনিস পুজা কারই হারাম । যেমন - মুর্তি ,চাদ , সুর্য, আগুন , গরু, শিব লিংগ সহ যে কোন জিনিস পুজা করা হারাম এবং শিরিকি ।

যদি পূজাবিহীন মুর্তি হারাম ও শিরিক করা হয় তাহোলে -- পুজা বিহীন সুর্য, চাদ, আগুন সবই হারাম এবং শিরিক হয়ে যাবে ।
পুজা বিহীন ভাষ্কর্যের সামনে আসলে যেমন শিরিক করা হবে ঠিক একই ভাবে দিনের বেলা সুর্যালোকে আসলে শিরিক করা হয় কারন সুর্য ও পুজার আইডল এবং সূর্যকে পূজা করা হয় । আগুন দিয়ে রান্না করলে বা হারিকেন মোমবাতি জালালে শিরিক করা হবে কারন অগ্নি পুজা করা হয় ।
শিব লিংগের পুজা করা হয় তাই পুরুষ মানুষের লিংগ ধারন করা শিরিক করা হয়ে যায় বা পুরুষ মানুষ বাই ডিফল্ট শিরিক করে যেহেতু তাদের লিংগ আছে ।
সুতরাং আপনাদের দাবি পালন করলে পুজাবিহীন চাদ, সূর্য, আগুন, নিজের লিংগ সবই হারাম ও শিরিক হয়ে যাবে ।

২) হাদিসে যদি ৫টা হাদিস মুর্তি পুজার বিরুদ্ধে থাকে তাহোলে অন্তত ৫০ হাদিস আছে ছবি হারাম সংক্রান্ত এবং এই সব ছবি সংক্রান্ত হাদিস গুলোকে ব্যবহার করে ভাষ্কর্যকে হারাম দাবি করা হয় ।
তাহোেল এখন যদি ছবিকে মেনে নেওয়া হয় তাহোলে , ছবি হারামের হাদিসকে ভিত্তি করে যে ভাস্কর্যকে হারাম দাবি করা হয়েছে সেটা কি ধোপে টিকে । যেখানে ছবি ভিডিও পাইকারি ভাবে মাওলানারা ব্যবহার করছে , সেখানে ভাষ্কর্য হারাম হয় কি করে ।
উল্লেখ জরুরি প্রয়োজনের জন্য মোল্লারা শুধু মাত্র পাসপোর্ট এবং আই ডি কার্ডের জন্য ছবি তোলার অনুমুতি দিয়েছিল কিন্তু এখন হুজুররা পাইকারি ভাবে ছবি ভিডিও বানায় ।
আসল কথা আপনার এখন ছবি ভিডিওর মাধ্যমে তালগাছের দাবি করে চলেছেন ।

ধন্যবাদ

৩০| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:৫৮

নীল আকাশ বলেছেন: @ এ আর ১৫ সাহেবঃ আপনার সমস্যা কি জানেন? আপনি মনে করেন আপনার চেয়ে বেশি কেউ কিছু জানে না। আর আপনি কারো পোস্ট পুরোটা না পড়েই অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য দেয়া শুরু করেন। তাজুল ভাইয়ের পোস্ট পুরোটা পড়েছেন আপনি? এই পোস্টে উনি সুস্পষ্টভাবে লিখে দিয়েছেন পুজা করা হবে কি হবে না, সেটা অবয়ব জনিত কোনকিছু নিষিদ্ধ হবার জন্য দরকার নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা যা সৃষ্টি করেছেন এবং যার জীবন দান করা হয়েছে, তার প্রতিকৃতি বা অবয়ব বানানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আপনি মনে হয় নতুন মহাকাশ বিজ্ঞানী যিনি চাঁদ সূর্য ইত্যাদির জীবন আবিষ্কার করেছেন। ভালো করে দেখুন আর কি কি আবিষ্কার করতে পারেন?

এছাড়া আরেকট জিনিস আপনি সুচতুরভাবে সব সময় করেন সেটা হচ্ছে অন্য আরেকটা বিষয় আলোচনার মাঝে টেনে নিয়ে আসেন। ছবি তো নিষিদ্ধ হাদিস মোতাবেক পোস্টেই বলা আছে। হুজুররা ছবি তুলে, ভিডিও করেন তো তাতে কি? আল্লাহ বা মহানবী কি হুজুরদের ফলো করতে হবে এইধরণের কিছু কোথাও বলে গেছেন? মৃত্যুর পর প্রতিটা মানুষকে তার নিজের অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হবে। হুজুররা গুনাহের কাজ করলে তার শাস্তি পাবে। আপনি নিজের'টা নিয়ে চিন্তা করুন। অন্যজনের পাপের শাস্তি আপনাকে দেয়া হবে না।
ধন্যবাদ।

৩১| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:০৬

এ আর ১৫ বলেছেন:
জনাব নীল আকাশ ---
আপনার লিখার বইয়ের প্রচ্ছদে নারীর ছবি বোধ হয় দেখেছিলাম !! এই হারাম ছবি আপনি কেন দিয়েছিলেন । আপনার কি ছবি নেই যেটা হারাম । আপনি কি কিয়ামতের দিনে ঐ ছবিতে কি প্রাণের সন্চার করতে পারবেন ?

এই পোস্টে উনি সুস্পষ্টভাবে লিখে দিয়েছেন পুজা করা হবে কি হবে না, সেটা অবয়ব জনিত কোনকিছু নিষিদ্ধ হবার জন্য দরকার নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যা যা সৃষ্টি করেছেন এবং যার জীবন দান করা হয়েছে, তার প্রতিকৃতি বা অবয়ব বানানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ

গাছ কি জড় পদার্থ যে গাছের ছবি আকা যাবে , অবয়ব তৈরি করা যাবে ?
ছবি নিষিদ্ধের হাদিস বা অবয়ব বানানোর হাদিস গুলো দিয়ে কি ভাষ্কর্য নিষিদ্ধের ফতুয়া দেওয়া হয় নি ? ছবি নিষিদ্ধের পক্ষে কি কথা বলা বেশি জরুরি না ? আমার মনে হয় এমন কোন মুসলমান নেই যার ছবি নেই , তাহোলে ছবি নিষিদ্ধের আন্দোলন করা কি উচিৎ নহে । আপনি কি আমার ১৪ নাম্বার কমেন্টা পড়েন নি ? দয়া করে আবার পড়ুন, বিস্তারিত লিখা আছে ।

গাছকে যে পূজা করা হয় সেটার কিন্তু প্রাণ আছে তাহোলে কি পূজাবিহীন গাছ শিরিক নহে । গরু পূজা করা হয়,যার প্রাণ আছে তাহোলে গরু পোষা, মাংস/দুধ খাওয়া কি শিরিক করা নহে ।
শিবলিংগের পূজা করা হয় , তাহোলে আপনি নিজের লিংগটা ধারন করে কি শিরিক করছেন না । লিংগটা কি জীবন্ত প্রাণীর দেহের অংশ নহে ?
আরেকটা কথা হুজুরা বলে থাকে _--হযরত নূহু (আ: ) সময়ে ৫ জন বিশিষ্ঠ ব্যক্তির ভাষ্কর্য বানানো হয়েছিল সন্মান দেখানোর জন্য , কিন্তু কয়েক জেনারেশন পরে শয়তানের প্ররোচনায় ঈমাণ চূত হয়ে মানুষ ঐ সব ভাষ্কর্যকে পূজা শুরু করে , সুতরাং আজকে সন্মান দেখানোর জন্য ভাষ্কর্য বানালে কয়েক জেনারেশন পরে পূজা করা হবে না , তার গ্যারেন্টি কি ? এর জবাব নীচের চিত্রে পাবেন -

৩২| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৮

নীল আকাশ বলেছেন: @ এ আর ১৫ঃ একটা জিনিস আপনি সুচতুরভাবে সবসময় করেন সেটা হচ্ছে অন্য আরেকটা বিষয় আলোচনার মাঝে টেনে নিয়ে আসেন। এখানে হচ্ছে ভাস্কর্য নিয়ে সমাধান, এটা হারাম কি, হারাম না? এই আলোচনা সেটার মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখুন।
অন্য দিকে এটেনশন টেনে নেয়া বৃথা চেস্টা করে কোন লাভ নেই। আমরা ব্লগে নতুন না। আপ্নার এই টেন্ডেনছির কথা আমরা জানি। এইসব চালাকী অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। নতুন কিছু বের করুন। এইসব টোটকাতে এখন আর কাজ হচ্ছে না। শুধু শুধু আঙ্গুল ব্যথা করছেন।
ধন্যবাদ।

৩৩| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৫৭

এ আর ১৫ বলেছেন: নীল আকাশ,,,, চালাকি তো আপনি করছেন,, মূল আর্টিকেলে কি ভাষ্কর্যর সাথে ছবি বাতিলের হাদিস দেওয়া হয় নি? তখন তো বলেন নি ছবি সংক্রান্ত হাদিস কেন দেওয়া হয়েছে।
আমি যে বিষয় গুলো ভাষ্কর্যর নিষিদ্ধর সাথে রিলেটেড তাই সব বিষয় গুলো আসবেই। আপনি না লিখলেন প্রাণীর অবয়ব নিষিদ্ধ। তাহলে গাছ গরু কি প্রাণী নহে যার পূজা করা হয়? লিংগ কি জীবিত প্রাণীর দেহের অংশ নহে, তাহলে মানুষের লিংগটা কি শিরিক করা নহে, যেখানে লিংগের পূজা করা হয়।
আপনি না লিখলেন প্রাণীর অবয়ব হারাম।৷ ছবি কি অবয়ব নহে?
চালাকিটা তো আপনি করছেন।

৩৪| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:৫৫

অক্পটে বলেছেন: ইসলামি বিষয়ে বিষদকথা বলতে হলেত আলেমরাই বলবে বা এই বিষয়ে যারা জ্ঞানী তারাই বলবে। ইসলাম বিদ্বেষীরাতো বলার কথা নয়। এখানে কোন কোন অতিশয় জ্ঞানী যদি বলেন যে এখানে ইসলামী আইডিওলজি প্রচার করার চেষ্টা চলছে তাহলে বিষয়টা হাস্যকর। ইসলামী পোস্ট এলেই এদের এলার্জি চারগুণ হয়ে যায় এদের পরিচয় আবার ইসলামি নাম দিয়েই। তাদের উচিত ইসলামী নামটা ছেঁটে ফেলা। তাহলে চুলকানী একটু হলেও কমবে।

আবার আরেকটু এগিয়ে গিয়ে এক জ্ঞানী বলার চেষ্টা করেছেন "আমাদের দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ People's Republic of Bangladesh" আমার জিজ্ঞাসা, এটা যে গণপ্রাজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এই বিষয়টা কি আমরা এই প্রথম শুনলাম!! এর মানে উনি সোজাসুজি বলতে চেয়েছেন 'ইসলাম বিষয়ে এখানে লেখা নিষেধ' উনি কি বুঝে বললেন যে এটা রিপাবলিক বাংলাদেশ। উনি নিজেই তো এর অর্থ বুঝেন না। এই রিপাবলিকে আমার লেখার অধিকার ক্ষুন্ন করার কথতো বলা হয়নি, সকলের অধিকার ভোগ করার কথা বলা আছে। ওই জ্ঞানী তার স্বৈরাচারী মানসিকতা বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এইবলে "মোল্যা তন্ত্রের আইডিয়া এখানে খাটাতে চেস্টা করবেনা না।"

এই প্লানেটে হাজারো ধর্ম আছে কোন একটা কাস্টের নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করা মানে আপনি এখনো সিভিলাইজড নন। ইসলাম ধর্মও এর বাইরে নয়। আমাজন জঙ্গলে লেংটা মানুষ যে ধর্ম পালন করে তার ধর্মবিশ্বাস তারকাছে শ্রেষ্ঠ। তাই কোন ধর্মকে চুলকানীর চোখে দেখার ধৃষ্টতাই আপনার পরিচয় বহন করে যে আপনি আসলে কতবড় জ্ঞানী। কাউকে ছোট করার আগে গালিগালাজ করে নিজের পরিচয়কে ক্লিয়ার করে ফেলেছেন আপনি আগেই। যুক্তি দিয়ে আপনি আপনার বক্তব্য দিতে পারতেন, অনেক কিছু বলতেও পারতেন। গালিগালাজ কি কোন যুক্তির কথা হল। শালীনতা এবং ধৈর্য্য আমাদের অনেক অযাচিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

৩৫| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:২০

এমেরিকা বলেছেন: পূজাবাদীরা সব কিছুরই পূজা করবে - তাই বলে সবকিছুই কি হারাম হবে? যারা এই কনসেপ্টে বিশ্বাসী যে, ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান, তারা তো গরু-ছাগল, পাখি, কুকুর বিড়াল, মাটি, বাতাস চন্দ্র সূর্য কোন কিছুই বাদ দেয়না। তাই কোন কিছু পূজা করলেই যে তা তা নাপাক হয়ে যাবে - এরকম কোন শরীয়ত তো কেউ কখনও লিখে যায়নি!

তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম কোন কিছু পূজা করলে তা নাপাক হবে। তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তো পূজার জন্য বানানো হয়না। সেগুলো কেন নাপাক হবে? সেই প্রশ্ন উঠছেই বা কেন? আসল কথা হল, কোন প্রাণীর ভাস্কর্যের অনুমতি ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ (পূজার জন্য হোক বা না হোক) এবং দুনিয়ার কোন আলেমই এই ব্যাপারে ভিন্নমত পোষন করেন না। স্বার্থের জন্য দলছুট আলেম কেউ থাকলে তার কথা ভিন্ন।

৩৬| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪২

এ আর ১৫ বলেছেন: এমেরিকা কমেন্ট ৩৫
পূজাবাদীরা সব কিছুরই পূজা করবে - তাই বলে সবকিছুই কি হারাম হবে?

হবে কারন শরিয়ত অনুযায়ি যে কোন জিনিস পূজা করা হারাম এবং শিরিক ।


কোরানে মদ হারামের কথা বলা হয়েছে , গাজা-হেরইন, আফিম, ভাং , চরস , ইয়াবা ইত্যাদির কথা বলা হয় নি । তাহোলে গাজা হেরইন আফিমকে হারাম করা হোল কিসের ভিত্তিতে ? আলেমরাই কি বলে নি মদ হারাম অর্থাৎ মাদক বস্তু হারাম , তাই গাজা , হেরইন আফিম ভাং সহ যে কোন মাদক বস্তু হারাম ।
যে কোন জিনিস পূজা করা হারাম তারমানে মূর্তি, চাদ , সুর্য , আগুন, গাছ , শিব লিংগ এই সব কিছু পূজা করা হারাম এবং শিরিক । পূজাবিহীন মূর্তি যদি হারাম শিরক হয় তাহোলে বাকি সব পূজার বস্তু গুলো কি হারাম/শিরিক হয়ে যায় না ? শরিয়তে কি পূজার সব আইডল নিয়ে বলবে নাকি একটার কথা বলে বাকি গুলোকে ও একই রুলিং এ নিয়ে বিচার করবে ? শরিয়ত একটা জিনিস নিয়ে বলে কি, সম শ্রেণীর বাকি গুলোর ব্যপারে দিক নির্দেশনা দেয় নি ? যেমন শুধু মদ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, সেই সূত্র ধরে সকল মাদক বস্তুকে(গাজা-হেরইন ইত্যাদি) হারাম করা হয়েছে ।
একই ভাবে, যদি পূজাবিহীন মূর্তি হারামের কথা বলা হয় তাহোলে সেই সূত্র ধরে পূজা বিহীন সূর্য, চাদ, গাছ , গরু , আগুন , লিংগ হারাম এবং শিরিক করা হয়ে যাবে না ?

আসল কথা হল, কোন প্রাণীর ভাস্কর্যের অনুমতি ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ (পূজার জন্য হোক বা না হোক) এবং দুনিয়ার কোন আলেমই এই ব্যাপারে ভিন্নমত পোষন করেন না


তাহোলে, কোন প্রাণীর ছবির অনুমতি ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ (পূজার জন্য হোক বা না হোক) এবং দুনিয়ার কোন আলেমই এই ব্যাপারে ভিন্নমত পোষন করেন না------- তাহোলে কি দুনিয়ার বর্তমানে এমন কোন মুসলমান নেই যার ( প্রয়োজনে/অপ্রয়োজনে) ছবি নেই এবং এমন কোন আলেম হুজুর নেই যার ছবি ভিডিও নেই ।
পাসপোর্ট আর আইডি কার্ড ছাড়া ছবি বানান মুসলমানদের জন্য হারাম এবং শিরক কিন্তু হুজুর আলেম সহ দুনিয়ার এমন কোন মুসলমান নেই বর্তমানে যার কোন ছবি নেই ।
এখন জবাব দিন পাইকারি হারে ছবি বানানো সকল মুসলমান কি ভাবে করে থাকে ? ধন্যবাদ

৩৭| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৩৬

এভো বলেছেন:
এই পোস্টের লেখক এই পোস্টির শুরু করেছেন শিরক করে ? ইসলামে ছবি সম্পুর্ন হারাম এবং শিরিকি , সেটা জানা সত্ত্বেও তিনি মুর্তির ছবি দিয়ে পোস্টটি শুরু করেছেন ।
সৈয়দ তাজুল ইসলাম সাহেবের নামের সাথে যে ছবিটি দেখছেন , সেটাও একটি মানুষের ছায়া চিত্র, যেটা ইসলামে সম্পুর্ন হারাম এবং শিরক ।

ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.