নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সর্বদায় জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়াই

তারেক ফাহিম

অজানাকে জানতে গিয়ে অস্থিরতার বোঝা নিয়ে স্পষ্টতাকে পুড়ে দিয়ে অন্ধকারে বুক পুলাই

তারেক ফাহিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

হারিয়ে যাচ্ছে চড়ুই

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১০




বাড়ীর উঠোনে কিংবা খোলা মাঠে ধান শুকাতে দিয়ে গৃহস্থি পাহারাদার নিযুক্ত করে দেয়, বাড়ীর পিচ্ছি-পাচ্ছাদের। মাঝে মাঝে শুকনো ধানগুলো পা দিয়ে এলিয়ে দেয়ার জন্য আসতে হতো গৃহস্থি। পিচ্ছিদের ধানের উপর দিয়ে দৌড়া-দৌড়ি করতে নিষেধ করে পাহারাদার নিযুক্তদের। আমিও সে কাজের দায়িত্ব পেলাম কয়েকবার। শুকাতে দেয়া ধানের উপর সুতোর ফাঁদ পেতে রাখতাম, চড়ুই পাখি ধান খেতে আসলে ফাঁদের উপর আসা মাত্রই অপর পাশ থেকে সুতো টান দিতাম। এতে চড়ুই পাখির পায়ে সুতো আটকা পড়তো। ফাঁদে চড়ুই পাখি আটকা পড়ুক আর না পড়ুক সুতো টানের সাথে সাথে চড়ুইদের একসাথে লাপ-ঝাপ আর উড়া-উড়ি দেখতেই ফাঁদের আয়োজন ছিল। পিচ্চিদের মাঝে যারা পড়ুয়া ছিল, কেউ কেউ বই নিয়েও ধান শুকানোর মাঠে পড়তে বসতো, অভিভাবকদের কড়া আদেশে।


খাবার খেতে আসতে অন্যদের ডাক দিচ্ছে

চড়াই বা চড়ুই (ইংরেজি: Sparrow) যেকোন লোকালয়ের আশেপাশে একটি সুপরিচিত পাখি। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে তাই এদের ইংরাজি নাম হাউস স্প্যারো অর্থাৎ "গৃহস্থালির চড়াই" খড়কুটো, শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে এরা কড়িকাঠে, কার্নিশে বাসা বাঁধে। সমস্ত দিন এরা লাফিয়ে বেড়িয়ে মাটি থেকে পোকামাকড় শস্য খুঁটে খায়। জীববিজ্ঞান অনুযায়ী এদের পরিবার ১১টি গণে বিভক্ত। "গৃহস্থালির চড়ুই" এদের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত। এদের আদি নিবাস ছিল মূলত ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ। তবে বর্তমানে ইউরোপ থেকে গিয়ে জনবসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে এরা উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, জাপান, কোরিয়া, ইরান, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারেও চড়ুই আছে। ঘাসের মধ্যেও পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায় জোড়া পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে। গ্রামের মাঠের কাছে, ঝোপ-জঙ্গলে, নদীর ধারে, শহরের চালের গুদামের কাছে দল বেঁধে থাকে। ঝোপালো গাছে, পুরনো বিল্ডিংয়ের ভেন্টিলেটরে বাসা করে মার্চ থেকে আগস্ট মাসে।
এদের দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার, ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। আলাদা করার সবচেয়ে সহজ উপায়টি হল এর মাথা ও মুকুটের দিকে লক্ষ্য করা। ছেলে ও মেয়ে পাখি উভয়ের রকম এবং মাথা, ঘাড় ও পুরো মুকুটের পালকের রঙ মরচে বাদামি বা চকলেট বাদামি। পুরুষ-স্ত্রী চড়ুই দেখতে আলাদা। পুরুষের মাথা ধূসর ও নীল মেশানো, ঘাড় পিঠ ও পাখনা খয়েরি লাল বা পিঙ্গল। চোখের পেছন থেকে ঘাড় অবধি মোটা গাঢ় লালচে বাদামি বর্ণের। লেজ ও লেজের গোড়া ধূসর। স্ত্রী পাখির রঙ ওপরের দিকে ধূসর বাদামি, তার ওপরে কালচে বা পিঙ্গল দাগ, পেট সাদাটে। পুরুষ পাখিটি দেখতে বেশি সুন্দর এবং সে বেশি গান গায়। মাঝে মধ্যে পুরুষ বা স্ত্রী পাতি চড়ুইদের দুঃখভরা ভাব নিয়ে নিঃসঙ্গ বসে থাকতে দেখা যায়।
এরা ৪ থেকে ৬টি ডিম পাড়ে। ছানা ফুটতে সময় লাগে প্রায় ১৩ দিন। ছানারা উড়তে শিখলে বড়দের সঙ্গে মাঠে খাবার খেতে যায়। প্রজনন মৌসুমে পাতি চড়ুই খড়কুটো, কাঠি, শুকনো ঘাস, পালক দিয়ে মানুষের ঘরে বাসা বানায়। গ্রামের ঘরের টিনের চালের কোণে বাসা বাঁধে। শহরের ভেন্টিলেটর, মিটার, সিলিং, পাইপের ফাঁকফোকরে চড়ুইদের বাসা দেখা যায়। পাতি চড়ুইদের কবুতরের খোপে, বিচি কলার কাঁদির ভেতর ও খড়ের পালায় বাসা বাঁধতে দেখা যায়। বাসা তৈরি হলে পুরুষটি সুরেলা কণ্ঠে গান গায়। স্ত্রী চড়ুই পাখি ৩ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। বাচ্চা ফুটলে দু’জনেই তাদের লালন-পালন করে। গ্রামে তো ঝঁাকে ঝাঁকে ধান ক্ষেতে, ধান শুকানোর উঠানে ধান খেতে নামে। শহরের ইমরাতগুলোতে ওদের সেই আরামদায়ক ফাঁকফোকর থাকছে না। বাড়িঅলারা নতুন নতুন নকশায় ইমারত নির্মাণ করছে। চড়ুই থাকলে ডিসটেম্পার নষ্ট হয়ে যাবে, তাই এই নতুন ব্যবস্থা। বিশ্বের কোথাও চড়ুইদের অবস্থা আশংকাজনক নয়। পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে তারা সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। তারপরও প্রকৃতিতে এদের টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর ২০ মার্চ পৃথিবীব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: চড়ুই হারাবে না, ঢাকা শহরে হয়তো সংখ্যা একটু আধটু কমতে পারে। এরা তেমন একটা ঝুকির মধ্যে নাই।

চড়ুই-কথন ভালো লাগলো। :)

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৫

তারেক ফাহিম বলেছেন: তুলনামুলকভাবে জেলা শহরে চড়ুই কম দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য কৃতজ্ঞ।

২| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: কিছুদিন আগে চড়ুই নিয়ে আমি একটা পোষ্ট দিয়েছি।
চড়ুই পাখিরা ভালো থাকুক।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৫

তারেক ফাহিম বলেছেন: আপনার ওই পোষ্ট দেখে চড়ুই নিয়ে পোষ্ট দেয়ার প্রেরণা পেলাম।

মন্তব্যে কৃতজ্ঞ, জনাব।

৩| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আমাদের আগ্রাসনে এখন আর প্রকৃতির কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। ইতোমধ্যেই আমরা গাছ, বিল, লেক, পুকুর, বিভিন্ন পশু পাখি শেষ করে ফেলেছি এখন আমাদের অতি পরিচিত সামাজিক পাখি চড়ুইকেও শেষ করে দিচ্ছি। এক সময় সব বাড়ির কার্নিশে, ঘুলঘুলিতে চড়ুইয়ের বাসা থাকতো। এখন আর দেখাই যায় না।


নববর্ষের শুভেচ্ছা।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৮

তারেক ফাহিম বলেছেন: আমাদের আগ্রাসনে এখন আর প্রকৃতির কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। :((

বাড়ির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে চড়ুই, তা বিলুপ্তির পথে।

মন্তব্যে কৃতজ্ঞ।

৪| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১১

শিখা রহমান বলেছেন: খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যাপার লেখায় তুলে ধরেছেন।

পোস্টটা ভালো লেগেছে তারেক। আর চড়ুই পাখি আমার খুব প্রিয়।

শুভকামনা ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা প্রিয় ব্লগার।

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৪

তারেক ফাহিম বলেছেন: পোষ্ট ভালো লাগছে জেনে ভালো লাগছে।

চড়ুই আমারও প্রিয় পাখি,।

নতুন বছরে আপনার জন্যেও শুভকামনা।
মন্তব্যে কৃতজ্ঞ।

৫| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৪৪

নজসু বলেছেন:



আস সালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই।
আশা করি ভালো আছেন। খুবই সুন্দর একটি বিষয় বিশ্লেষণ করেছেন।
চড়ুইয়ের সাথে ধীরে ধীরে আরো অনেক পরিচিত জিনিস আমরা হারিয়ে ফেলছি।
লেখায় লাইক।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪২

তারেক ফাহিম বলেছেন: ওয়ালাইকুমুস সালাম,
ভাই, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি।
আশা করছি আপনিও স্বপরিবার নিয়ে ভালো আছেন।

“চড়ুইয়ের সাথে ধীরে ধীরে আরো আনেক পরিচিত জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে,” ঠিক বলছেন প্রিয়।

৬| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




তারেক ফাহিম ভাই,
চড়ুই প্রায় নাই হয়ে যাচ্ছে। সেলফোন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ মাত্রার ফ্রিকোয়েন্সি সহ অমানবিক মানুষের খাদ্য হয়ে গেছে চড়ুই নামক মাত্র ২০-৩০ গ্রামের ছোট্ট পাখি। পাখি খেলে শক্তি বাড়ে এমন ধারণায় মানুষের মতো দেখতে অমানুষরা দেশের চড়ুই পাখি সহ সকল পাখি খেয়ে সাবার করে দিয়েছে।

দুঃখিত। আমি আপনার পোষ্ট যথাসময়ে দেখতে পাইনি। খুবই প্রয়োজনীয় পোষ্ট দিয়েছেন। ধন্যবাদ ।।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২৯

তারেক ফাহিম বলেছেন: মাহমুদ ভাই,
প্রতিত্ত্যরে দেরি হওয়াতে আমিও আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

পোষ্টটি মুল্যায়ন করার জন্য ধন্যবাদ।
পাঠ ও মন্তব্যে কৃতজ্ঞ।

৭| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৪৭

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
এখনো শহরে চড়ুই আছে সমারোহে। তবে সংখ্যা কমছে। বিপন্ন পাখির তালিকায় চড়ুই নেই।

সুন্দর পোস্ট।

২১ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৫১

তারেক ফাহিম বলেছেন: বিলম্বে প্রতিত্ত্যরে দুঃখিত জনাব।
আশা করছি স্ব পরিবারে ভালোই আছেন।

বিপন্ন পাখির তালিকায় চড়ুই নেই

জ্বি ভাই।

৮| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: চড়ুই পাখি সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানা হলো আপনার এই পোস্টের বদৌলতে। আমার বাসায় প্রতিদিন চড়ুই পাখির আনাগোনা হয়। এদের মত চঞ্চল পাখি খুব কমই আছে।
পোস্টে অষ্টম ভাল লাগা + +।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:২৯

তারেক ফাহিম বলেছেন: পাঠ, মন্তব্য এবং লাইকে কৃতজ্ঞ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.