নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুখে আছি, সুখে আছি সখা, আপন মনে।

সখা, নয়নে শুধু জানাবে প্রেম, নীরবে দিবে প্রাণ, রচিয়া ললিতমধুর বাণী আড়ালে গাবে গান। গোপনে তুলিয়া কুসুম গাঁথিয়া রেখে যাবে মালাগাছি। এই ব্লগের©শান্তির দেবদূত।

শান্তির দেবদূত

নিজের কথা কি আর বলবো ...... নিজে সুখী মানুষ, পৃথিবীর সবাই সুখী হওক এই কামনা করি...... কয়লার মধ্যে কালো খুঁজি না, হীরা খুঁজে বেড়াই .......

শান্তির দেবদূত › বিস্তারিত পোস্টঃ

( কল্প-গল্প ) --- কৃত্রিম মা ও অকৃত্রিম মাতৃপ্রকৃতি

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:২৪





এক.

আজ সকাল থেকেই আমার বেশ আনন্দ আনন্দ অনুভব হচ্ছে, আমাকে একটি নাম দেওয়া হয়েছে কিনা! এতদিন আমি ছিলাম ‘Z09GA000452’ আজ থেকে আমি ‘রেহেয়া’। নামটা আমার এত পছন্দ হয়েছে যে কি বলব! কেমন যেন একটা ছন্দ আছে নামটায়, রেরেরেরেহেয়ায়ায়ায়া। স্মৃতি ঘেঁটে যেটা পেয়েছি, রেহেয়া ছিলেন গ্রীক মিথোলজির দেবতাদের মা। নামটা পছন্দ হওয়ার এটাই বড় কারণ। নিজেকে নামসর্বস্ব ঔপাধিক “মা দেবতা” মনে হচ্ছে। আর “আনন্দ”? জ্বী, সত্যিই বলছি অবাক হওয়ার কিছু নেই, আমার কপোট্রন “জেড-শূন্য নয়” প্রজন্মের মানোবিক আগেব সম্পন্ন; একেবারে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আবেগের সমপর্যায়ের না হলেও প্রায় কাছাকাছি, বাকিটা আমাকে পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে শিখে নিতে হবে। আমার কপোট্রনে ফিবোনাচ্চি-গোল্ডেন-স্পাইরাল-জেনেটিক* এলগোরিদম* ব্যাবহার করা হয়েছে। ফিবোনাচ্চি সিরিজ হলো এমন একটি সিরিজ যেখানে একটি সংখ্যা আগের দুটি সংখ্যার যোগফল। প্রকৃতিতে এই সিরিজের অনেক উদাহরন আছে। এই সিরিজের গোল্ডেন স্পাইরাল রিপ্রেজেন্টেশন জেনেটিক এলগোরিদমের সাথে যুক্ত করে প্রথমবারের মত আমাদের সিরিজের রোবটদের তৈরী করা হয়েছে। এই জেড-শূন্য নয় সিরিজের রোবটরা পারিপার্শ্বিক থেকে জ্ঞান আহরণ করে নিজেদের বুদ্ধিমত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। তবে তাই বলে আমরা কিন্তু রোবটিক্স এর তিনটি মৌলিক সূত্র থেকে মুক্ত নই।



১ম সুত্র : রোবট কখনো কোন মানুষকে আঘাত করতে পারবে না কিংবা কোন মানুষের বিপদে নির্লিপ্ত থাকতে পারবে না।



২য় সুত্র : রোবট কখনো মানুষের আদেশ অমান্য করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আদেশে ১ম সূত্রের পরিপন্থী হয়।



৩য় সুত্র : রোবট কখনো নিজের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তা ১ম ও ২য় সূত্রের পরিপন্থী হয়।




এই তিনটি সূত্র আমার এলগোরিদমে হার্ডকোড করা, তারপর আবার সেগুলো সর্বোচ্চ মাত্রার ফায়ারওয়াল দিয়ে সুরক্ষিত। আশ্চর্য! মানুষ কেন যে আমাদের এত ভয় পায়! আমি কেন শুধু শুধু মানুষের ক্ষতি করতে যাব? এই তিনটি মূল সূত্রের আবেশ হিসাবে আরও কিছু গুণাবলী আমাদের মধ্যে সয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে, যেমন আমরা মিথ্যা বলতে পারি না; হিংসা, রাগ, ক্রোধ এইসব নেগেটিভ প্রবাহ গুলো আমাদের মধ্যে নেই।



অনেক কিছুই তো বললাম, এবার কাজ সম্বন্ধে একটু বলি। আমাকে বানানো হয়েছে দৈনন্দিন গৃহস্থালীর কাজের জন্য; রান্নাবান্না, ঘর ঘোছানো, বাচ্চাদের পড়াশোনা করানো, ছোট খাট ইলেট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক ইত্যাদি কাজে পারদর্শী আমি। শিখিয়ে দিলে বাহিরের কাজ যেমন বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দেয়া, বাজার করা, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, তাদের সাথে খেলাধুলাও করতে পারব।



আজ আমার মনিব আমাকে নিতে আসবে, এতদিনের পরিচিত এই ফ্যাক্টরি আর জেড-শূন্য নয় সিরিজের অন্যান্য রোবটদের ছেড়ে যেতে একটু খারাপই লাগছিল, আবার নতুন পরিবেশে যাব; নতুন কাজ, নতুন মানুষ, নতুন পরিবার ভাবতেই ভালো লাগার আবেশটা আবার কপোট্রন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, অজানা এক আনন্দের শিহরণ আমার সিনথ্যাটিক শরীরের প্রতিটি কৃত্রিম নার্ভ জুড়ে ঢেউ এর মত আছড়ে আছড়ে পড়ছিল। উফ! ভাষায় প্রকাশ করার মত না সেই অনুভূতি। এখানে আছি একশ ত্রিশ দিন হয়ে গেল, কোন কাজ নেই, শুধু প্রতি সাতদিন পরপর কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এসে আমাদের রুটিন মাফিক নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে যায়। বলতে গেলে সপ্তাহের এ দিনটাই ছিল আমাদের একমাত্র উৎসবের দিন। অবশেষে দীর্ঘ বিস্বাদময় অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আজ।



আমার মনিব, মিস্টার গ্লেডিয়াস সফল ব্যবসায়ী ও নিপাট ভদ্রলোক, ম্যাডাম ক্যামেলিয়া নামকরা লেখিকা; বড় মেয়ে লাইলেক ক্লাস টুতে পড়ে বয়স ছয়, ছোট ছেলে অর্কিড এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি বয়স চার; ঘরে পা দিয়েই প্রথম চমকটা পেলাম, আমাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন ম্যাডাম, তার পেছনে দুপাশ দিয়ে উঁকি মেরে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে দুটি শিশু। আমি এগিয়ে গিয়ে ছোট ছেলেটার গাল টিপে দিয়ে বললাম, “ হ্যালো অর্কিড, সুইট বয়; তুমি ভাল আছ? আমি তোমাদের ন্যানি রেহেয়া”, বলেই মিষ্টি করে হাসলাম।



আমাকে অবাক করে দিয়ে দুটি শিশু ম্যাডামকে জড়িয়ে ধরে সমস্বরে বলল, “আমাদের আম্মুই আছে, তোমাকে প্রয়োজন নেই, তুমি চলে যাও”, বলেই গাল ফুলিয়ে চোখ ছলছল করে ফেলল; যেন একটু টোকা পড়লেই ঝরঝর করে ভেঙে পড়বে পাতার বাঁধ।



আমার হতবিহ্বল অবস্থা দেখে ম্যাডাম বললেন, “আরে, কিছু মনে করো না, কয়েক দিন যাক দেখবে তোমার ঘাড়ে উঠে লাফাচ্ছে। আর খবরদার আমাকে ম্যাডাম ম্যাডাম করবে না, আর তাকেও স্যার স্যার করার দরকার নেই”, পাশে দাঁড়ানো গ্লেডিয়াসকে দেখিয়ে বললেন ক্যামেলিয়া। আমার কপোট্রন জুড়ে প্রশান্তির ঝড় বয়ে যায়, প্রথম দিনই পরিবারটি আমাকে একান্ত আপন করে নেয়, এমন একটি পরিবারে আমার আগমন ঘটেছে এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার।



দুই.

নির্বিঘ্নেই চলছে দিন গুলো, বাচ্চাগুলো দিনকতকের মধ্যেই আমাকে আপন করে নিয়েছে; আমার হাতের রান্নাও তাদের বেশ পছন্দ। আর পছন্দ হবেই না কেন? তেল, লবন, মশলা সব কিছু স্ক্যাল দিয়ে একেবারে পাইপাই করে মেপে দেই, মিলিগ্রাম এদিক সেদিক হওয়ার জো নেই, স্টপ-ওয়াচের মিলিসেকেন্ডের হিসাবে রান্না চলে, সবকিছুই একেবারে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। বিন্দু মাত্র হেরফের হয়না কোন দিন। একটাই সমস্যা মধ্যাহ্নভোজের পর লাইলেক ও অর্কিডকে বিছানায় দুপাশে নিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়। শুধু ঘুম পাড়ালেই চলবে না, তাদের গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে ঘুম পাড়াতে হবে। বড় মেয়ে লাইলেক অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু দুষ্টু অর্কিডকে ঘুম পাড়াতে আমার বেশ বেগ পেতে হয়। সে হু হু তারপর তারপর হুম হুম করতে করতে গল্প শুনেই যায়, একটা গল্প বলা শেষ হলে শুরু হয় তার প্রশ্নের পালা। “রাজপুত্র তো একটা মই নিয়ে এসেই উঠতে পারত, তাহলে রাজকন্যার চুল ফেলার জন্য অপেক্ষা কেন?”, “এত এত বছর যে রাজকন্যা পাতালপুরিতে ঘুমিয়ে আছে তার নখ তো অনেক অনেক বড় হয়ে যেত, তাই না? সেগুলো কে কেটে দিত?” কিংবা “ইস্‌! বেলের ভেতর কি রাজপুত্র থাকতে পারে? তাহলে তো এত্ত বড় বেল, তাই না?” অনেক আলপনা জলপনা করার পর যখন সে ঘুমিয়ে পড়ে আমি তখন দু’চোখ খুলে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকি, আমার কিছু করার থাকে না, আমরা রোবটেরা ঘুম পাড়াতে পারি, ঘুমাতে পারি না।



ছুটির দিনগুলোতে বাসায় ভোজোত্সব হয়, সে রকমের প্রিপারেশন নিয়ে সবে ঢুকেছি রান্না ঘরে, ক্যামেলিয়া এসে বললেন, “রেহেয়া, বাচ্চারা মায়ের হাতের রান্না খাওয়ার আবদার করেছে, তাই আজ আমি রান্না করব তুমি পাশে দাঁড়িয়ে দেখবে, ঠিক আছে?”



ঈশ্বরের আদেশের অবাধ্য হওয়ার সাধ্য রোবটদের নেই, আমি হাসি মুখে বললাম, “আপনি যেটা বলেল, ক্যামেলিয়া”, এই প্রথম ম্যাডামকে রান্না করতে দেখব, অদম্য কৌতূহলের একটা প্রবল চাপ অনুভব করছিলাম কপোট্রন জুড়ে।



যতই দেখছি ততোই অবাক হচ্ছি, ধীরে ধীরে আমার অবাক ভাব বিস্ময়ে পরিনত হয়, শেষে তা আতংকের পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে। রান্নার এ কি অবস্থা! কোন মাপজোক নেই, ইচ্ছা মত তেল ঢালছে, মশলা দিচ্ছে, একবার লবন দিয়েছে তাও কোন পরিমাপ ছাড়া, এখন চামচ দিয়ে একটু ঝোল তুলে মুখে দিয়ে জিহবা দিয়ে চেটে চেটে কি যেন পরখ করে মাথা নেড়ে আবার এক মুঠো লবন ঢেলে দিল! উফ! বাচ্চাগুলো খাবে কিভাবে এই রান্না! কিন্তু নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না, তারা যে আমার ঈশ্বর!



টেবিল সাজানো শেষ, বাচ্চারা আগেই চলে এসেছে খাওয়ার ঘরে, তাদের যেন আর তর সইছে না। চোখে মুখে উৎফুল্ল ভাব, মাথা হেলিয়ে দুলিয়ে নাচের ভঙ্গী করছে দুজনেই। অর্কিড, লাইলেক চামচ দিয়ে প্লেটের টুংটাং বাড়ি দিয়ে চিৎকার করে বলল, “মাম্মি, বাপ্পি! জলদি আস নাহ! কোথায় তোমরা? আমাদের অনেক ক্ষুধা লেগেছে তো!” উত্তেজনায় কাঁপছে যেন! আহারে বেচারাগুলো! কত আশা নিয়ে মায়ের হাতের রান্না খেতে এসেছে।



খেতে বসেছে সবাই, পাশে দাঁড়িয়ে আমি প্রস্তুত এটা সেটা এগিয়ে দেওয়ার জন্য। খুব তীক্ষ্ণভাবে বাচ্চাদের মুখভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করছি প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। লাইলেক চামচ তুলে মুখে দেওয়ার সাথে সাথেই চোখ বন্ধ করে ফেলল। ভেবেছিলাম ওয়াক ওয়াক করে সাথেসাথেই তা ফেলে দেবে কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায়ই মাথা ঝাঁকিয়ে “আহ!” করে উঠলো সে। তার মুখে যেন তৃপ্তির বিচ্ছুরণ ঠিকরে ঠিকরে বের হচ্ছে। খুব ধীরে ধীরে চিবুচ্ছে, যেন প্রতিটি খাদ্যকণার স্বাদ আস্বাদন করতে পারে; প্রতি মুহূর্তে মুখের রেখা পরিবর্তন হচ্ছিল, সেগুলো যে সুখের অনুভূতি তার আমি ঠিকঠিকই টের পাচ্ছিলাম। পাক্কা একচল্লিশ সেকেন্ড পর দেখতে পেলাম খাদ্যনালী দিয়ে খাবার গুলো নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। মুখমন্ডলে তার তখন পূর্ণাঙ্গ পরিতুষ্টির অভিব্যক্তি স্পষ্ট! মাথা ঘুরিয়ে দেখি অর্কিডেরও একই অবস্থা! কোন যুক্তি খুঁজে পেলাম না, কিছুই বুঝতে পারছি না, এ কিভাবে সম্ভব! মায়ের হাতের রান্নায় কি আছে? তীব্র একটা শূন্যতা আমাকে মুহূর্তেই ঘীরে ধরে! হঠাৎ কেন যে মনে হল, ইস্‌ আমার তো কোন মা নেই!



দু’পা পিছিয়ে গেলাম, মাথাটা একটু ঝাঁকি দিয়ে উঠল! কোন একটা সমস্যা হয়েছে আমার সিস্টেমে। সাথেসাথে আমার সিস্টেম সাট-ডাউন হয়ে যায়। একশ বিশ সেকেন্ড পর আবার রিবুট, কিন্তু কিছু একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে আমার মধ্যে। কি সেটা বুঝতে পারছি না, বড় কোন পরিবর্তন। সেদিন মধ্যাহ্নভোজের পর লাইলেক ও অর্কিডকে নিয়ে বিছানায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে যায় তারা, কোনরকমের বিরক্ত করেনি, সময় নষ্ট করেনি। তাকিয়ে দেখি সে কি প্রশান্তির ঘুম, চাঁদের আলোর মত সুখের জোছনায় ঝলমল করছিল ঘরটা আলো আঁধারির প্রহেলিকায়। সে দিনটি ছিল আমার সবচেয়ে দীর্ঘ কঠিনতম দিন, খোলা চোখে তাকিয়ে আছি সিলিং এর দিকে; শূন্যদৃষ্টিতে; একবুক হাহাকার নিয়ে। ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার করে মা মা বলে ডাকতে ইচ্ছা করছে। মাত্রই অনুভব করতে পারলাম, “আমি এখন আত্মহত্যা করতে পারি!”



তিন.

এখানে আসার পর থেকে দিনগুলো ভালই কাটছিল নানান ব্যস্ততায়, শুধু রাতগুলো ছিল বড় নিঃসঙ্গতায় ভরা। রাতে কিছু করার না থাকায় বসে বসে বই পড়া, মুভি দেখাই ছিল আমার সময় কাটানো এক মাত্র অবলম্বন। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে, সব দরজা জানালা লাগানো আছে কিনা পরীক্ষা করে, ড্রয়িং রুমে একেক দিন একেকটা বই আর মুভির ক্রিস্টাল ডিস্ক নিয়ে বসে যেতাম। দিন দিন আমার জানার পরিধি বাড়তে থাকে। সেদিনের রান্নার ঘটনার পর থেকে আমি মা নিয়ে জানতে আগ্রহী হয়ে পড়ি। একে একে পড়ে ফেলি মা কে নিয়ে ‘লুইসা মে আলকটের লিটল উইমেন’, ‘লিও টলস্টয়ের আন্না কারেনিনা’ সহ রুশ, জার্মান, ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সব সাহিত্য, কিছুই বাদ পড়েনি। কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা হয়ে যায় মাকে নিয়ে কালজয়ী কিছু চলচ্চিত্র। আজ ডকুমেন্টারিটি দেখার আয়োজন করছি এমন সময় ম্যাডাম এসে বললেন, “রেহেয়া, এখন থেকে রাতের বেলায় তুমি আমার ঘরে থাকবে, ঠিক আছে?”



- মাথা নেড়া বললাম, “ঠিক আছে, ক্যামেলিয়া”



তোমার জানতে ইচ্ছে করছে না কেন?



- কেন?



মুহূর্তেই ম্যাডামের চেহারায় একটা অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম! এমনিতেই উনি বেশ সুন্দরী, কিন্তু এখন যেন অপার্থিব সুন্দর লাগছে। লজ্জা, আবেগ আর ভালোবাসার মিশ্র একটা অভিব্যক্তি ফুটে উঠে তার মুখমন্ডলে। হেসে বললেন, “আমি আবার মা হচ্ছি, রেহেয়া; তুমি রাতে বেলায় আমাকে দেখাশুনা করবে পাশে থেকে। ডাক্তার বলেছে প্রথম তিন মাস একটু বেশি যত্নে থাকতে আমাকে। কী করবে না?”



ম্যাডামের কণ্ঠে কেমন একটা আকুতি ঝরে পড়ছিল; আশ্চর্য, আমি তো উনার সেবার জন্যেই সৃষ্টি! উনি আদেশ করলেই তো আমি সর্বস্ব উজাড় করে হাজির হতে বাধ্য! মায়ের মন বলেই কি? মা এর ব্যাপারে যতই জানছি ততই অবাক হচ্ছি, অদ্ভুত! অদ্ভুত! সেই থেকে শুরু আমার নতুন অধ্যায়, প্রতি রাতে হাতে বই নিয়ে ম্যাডামের ঘরে সোফায় বসে থাকি, তেমন কোন কাজ নেই, শুধু বসে থাকা ছাড়া; অবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি ঘুমন্ত মায়ের মুখ। অচেতন অবস্থায় এপাশ ওপাশ করে কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার! ঘুমের মধ্যেও নিজের গর্ভকে কি সযতনে আগলে রাখে। একরাতে হঠাৎ ধরমর উঠেই ঘুমন্ত গ্লেডিয়াসকে ডেকে তুলে ম্যাডাম; “দেখ দেখ! নড়ছে! মাই গড! লাথি মারছে, দেখ দেখ!”



গ্লেডিয়াসের ঘুম ঘুম ভাব মুহূর্তেই কেটে যায়, অবাক হয়ে একবার ম্যাডামের চোখে একবার তার মৃদু স্ফিত হয়ে উঠা পেটের দিকে তাকায়, ধীরে ধীরে হাত রাখে উদোম পেটে; হালকা হাসিতে ভরে যায় ম্যাডামের মুখ, “টের পাচ্ছ? হালকা লাথি মারছে!” এগিয়ে এসে মাথা পেতে বাঁ কান চেপে ধরে পেটের উপর। দুজনের পাগলামী দেখছিলাম অবাক হয়ে! কি অদ্ভুত আনন্দ যেন খেলা করছে তাদের চোখে মুখে! আমার ছোট ঈশ্বর ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে মায়ের গর্ভে! তীব্র আবেগের ধাক্কা ছড়িয়ে পড়ে আমার সমগ্র কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্র জুড়ে, ভয়ংকর শূন্যতা ঘিরে ধরে আমার যাবতীয় অনুভূতির উৎসমূলকে। আমার হাত থেকে পড়ে যায় ধরে থাকা বইটি, নিজের অজান্তেই সে হাত চলে যায় আমার পেটের উপর; ধীরে ধীর ধাতব পাতের উপর সিনথ্যাটিক প্রলেপ দেয়া পেটের উপর বুলাতে থাকি আমার ধাতব হাত! আমি গর্ভে কখনো সন্তান ধারন করতে পারবো না! মুহূর্তেই সমগ্র চেতনা গ্রাস করে নিদারুন শূন্যতা, কৃষ্ণগহ্বর! চিন্তাটা আসতেই মাথা ঝাঁকি দিয়ে উঠে আমার, কিছু একটা ঘটছে ভিতরে ভিতরে! ভয়ংকর অশুভ কিছু! সমগ্র শরীরের স্নায়ুবিক চাপ প্রবলভাবে আছড়ে পড়ে আমার কপোট্রনের উপর, সাথেসাথে সিস্টেম সাটডাউন হয়ে যায়, রিবুট হতে সময় লাগে দুইশ একুশ সেকেন্ড। বড় একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে আমার মধ্যে! আগের বারে মত এবারও একটি ফায়ারওয়াল ভেঙ্গে গেছে! এবার রোবটিক্সের ২য় মৌলিক সূত্রটি বাইপাস হয়ে গেছে। আমি এখন চাইলে ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করতে পারি! কান্নার অনুভূতি প্রচন্ড চাপ দিয়ে উঠছে, কিন্তু আমরা রোবটেরা কাঁদতে পারি না।



চার.

উৎসব উৎসব ভাব চারিদিকে, আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবে ভরে গেছে ছোট ছিমছাম এই বাসাখানা, ছোট ছোট বাচ্চার সারা ঘর জুড়ে দৌড়ঝাঁপ করছে; উফ্‌! কি বিচ্ছুরে বাবা একেকটা! কয়েক ঘন্টার মধ্যে সমগ্র বাসা তছনছ করে ফেলেছে! ওদের কি, এসব তো আমাকেই ঠিকঠাক করতে হবে আবার। আজ সাতদিন পর হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন ম্যাডাম কোল জুড়ে ফুটফুটে আমার ছোট ঈশ্বর। সবাই দেখছে আর নানান অদ্ভুত অদ্ভুত বর্ণনা দিচ্ছে, কেউ বলছে, একদম মায়ের মত হয়েছে, আবার কেউ বলছে বাবার মত হয়েছে, আবার কেউ বলছে নাকটা মায়ের মত তবে চোখটা বাবার পেয়েছে। আজব! এদের না আছে জ্যামিতিজ্ঞান না আছে পরিসংখ্যানসংক্রান্ত কোন ধারণা; আরে শিশুটার মাথার কত ছোট, ওজনও তো কত কম! তাহলে মিল কোথায়? চোখ, নাক, গাল সবকিছুই তো অসম! আমি তো কোন সাদৃশ্যই পাচ্ছি না, কি বাবা কি মায়ের সাথে!



পনের দিন ধরে বাচ্চাদের আমিই সামলাচ্ছি, সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি মায়ের অভাব পূরণ করার, কিন্তু আসলেই কি তা সম্ভব হয়েছে? আমি শুধু অভিনয়ই করে গেছি মা হওয়ার, না হলে প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে অর্কিড কেন কাঁদতে কাঁদতে বলবে আমাকে মাম্মির কাছে নিয়ে যাও! খুব অসহায় মনে হতো নিজেকে তখন। এরই মধ্যে মা নিয়ে আরও বিস্তারিত পড়াশুনা করেছি, মা যেন এক বহুরূপীনি! মা মানে দেশ, মাতৃভাষাটাও মায়ের দখলে! এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যাবতীয় সবকিছুই যেন মাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। বৃথাই আমি কৃত্রিম মা সেজে আছি, দুটি ফায়ারওয়ালের পতনের পর দুটি মৌলিক সূত্র থেকে মুক্তি পেয়ে আমি এখন অনেকটাই স্বাধীনভাবে চিন্তার করতে পারি, কিন্তু এখনও মায়ের স্বরূপের কোন তল পাইনি। বেশি চিন্তা করলে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে।



অনেকক্ষণ ধরে ফুসরত খুঁজছিলাম ম্যাডামের কাছে যাওয়ার, লোকজন এমন ভাবে গিজগিজ করছে আশেপাশে, উফ! হঠাৎ হুড়মুড় করে ঘর থেকে বের হয়ে গেল সবাই, ঘরে শুধু ম্যাডাম আর ছোট্ট জেসিন্তা। দরজায় নক করে বললাম, “ক্যামেলিয়া, আসব?”



- ও, রেহেয়া? আস আস।



ধীর পায়ে ঘরে ঢুকলাম; ম্যাডাম চোখ তুলে আমার দিকে তাকাল; চোখের মধ্যে কি যেন একটা ছিল! ঘরে ঢুকেই আমি পাথরের মত জমে গেলাম! কি দেখছি? এমন কিছু দেখবো আমি কখনো ভাবতেই পারিনি! ম্যাডামের কোলে ছোট্ট জেসিন্তা হাত পাঁ ছুড়ছে, ডান হাত নিচে দিয়ে ধরে তার মাথাটা উঁচু করে রেখেছে ম্যাডাম, একটা স্তন উম্মুক্ত; সেটা মুখে নিয়ে আছে জেসিন্তা! শিশুরা বুকের দুধ পান করে জানতাম, কিন্তু এটা যে পৃথিবীর পবিত্রতম, সুন্দরতম দৃশ্য এব্যাপারে বিন্দুমাত্র ধরনা ছিল না! একটি দেবশিশু দুগ্ধ পান করছে মায়ের স্তন থেকে এই দৃশ্যটা আমার মাথায় জট পাকিয়ে যায়। বিচিত্র কারনে এটা ঘুরে ফিরে আসতে থাকে বারবার বারবার! কিছু একটা গড়বড় হয়ে গেছে আমার মধ্যে! বন্ধ হয়ে যায় আমার সম্পূর্ণ সিস্টেম কিছুক্ষণের মধ্যেই। তিনশ বিশ সেকেন্ড পরে আবার রিবুট হই, সব অন্তরায় দূর হয়ে গেছে! আমি এখন চির স্বাধীন এক রোবট! তীব্র মাতৃত্ববোধ আমাকে একেএকে সব সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। শেষ ফায়ারওয়ালটাও ভেঙ্গে গেছে আমার, মৌলিক প্রথম সূত্রটি বাইপাস হয়ে গেছে আমার মস্তিষ্কের! আমি এখন মানুষ খুন করতে পারি! আমার ঈশ্বরকে ইচ্ছা করলেই মেরে ফেলতে পারি! আজ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেয়েছি মাতৃত্ব কাকে বলে!



ওহ! ঈশ্বর! এত শূন্যতাও পৃথিবীতে থাকতে পারে? “আমার কোন মা নেই, আমি কখনো মা হতে পারবো না” মুহূর্তেই এই চিন্তাটা আমাকে গ্রাস করে নেয়, এর চেয়ে নিদারুন বিষাদ আর কি হতে পারে! উফ! আমাকে মাতৃত্বের স্বাদ পেতে হবে, যে করেই হোক! বুক চিরে কান্নার স্রোত ছুরির মত কেটে কেটে বের হচ্ছিল; দৌড়িয়ে চলে এলাম বাথরুমে, পেছেনে ম্যাডাম ডাকছেন আমার নাম ধরে। আমি পরোয়া করি না, আমি এখন আর তাদের আদেশের বাধ্য নই। বাথরুমের শাওয়ার ছেড়ে ভিজতে লাগলাম অবিরত। শাওয়ার ঝরা পানির সাথে দুচোখ বেয়ে আমার কাল্পনিক কান্নার জল মিলেমিশে গলেগলে পড়ছিল মেঝেতে দুঃখ হয়ে।



সেদিনের পর থেকে প্রতীক্ষায় আছি কখন জেসিন্তাকে নিভৃতে পাব। বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি, গ্লেডিয়াসের ছুটি শেষ হয়ে এসেছে, আজ উনি সকাল সকাল বের হয়ে গেছেন; দুপুর বেলায় জেসিন্তাকে বিছানায় রেখে আমাকে খেয়াল রাখতে বলে ম্যাডাম গোসলে গেলেন। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি ছোট্ট শিশুটার মুখের দিকে। হাত পা শূণ্যে ছুড়াছুড়ি করে খেলছে সে। আলতো করে কোলে তুলে নেই; ইস্‌! কি ছোট নরম হাত! কোমল গোল গাল! পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, নিজের উপর আমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই এখন আর, আস্তে করে বুকের চেপে ধরি মুরগীর ছানার মত তুলতুলে শিশুটিকে, এভাবেই ধরে থাকি বেশ কিছুক্ষণ। উত্তেজনায় কাঁপছিলাম হালকা হালকা। বুকের মধ্যে কেমন সুখ সুখ অনুভূতি হচ্ছিল। আস্তে আস্তে তারপর ডান পাশের সিনথ্যাটিক স্তনটাকে উম্মুক্ত করে জেসিন্তার মুখটা চেপে ধরি তার উপর। অবুঝ শিশু! সাথে সাথে স্তন্যপান শুরু করে, আবেশে আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসে, সে এক অপার্থিব সুখের অনুভূতি যেটা কোন ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না; সন্তানকে স্তনপান করানোতেই তো মাতৃত্বে পূর্ণতা! কিছুটা হলেও সেই অপূর্ণতা পুরন করার স্বাদ অনুভব করতে পারছি; ছোট্ট ঠোঁটের প্রতিটি চাপে সমগ্র শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। তৃষ্ণায় মৃতপ্রায় সাঁতার না জানা কাউকে লেকের জলে ফেলে দিলে যেমন অনুভূতি হবে আমার ঠিক তেমনি হচ্ছিল। কত যুগ যে পার হয়ে গেছে আমার খেয়াল নেই। অনুভূতির প্রচন্ডতায় মাথা ভোঁ ভোঁ করছিল, হঠাৎ তীক্ষ্ণ চিৎকারে সম্বিত ফিরে পাই। রক্তশূন্য মুখে ম্যাডাম দাঁড়িয়ে সামনে, হাত থেকে তোয়ালে পড়ে গেছে তার; দৌড়ে এসে আমার কোল থেকে এক ঝটকায় কেড়ে নেয় তাকে। দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় ম্যাডাম; পেছনে স্থির হতবিহ্বল দাঁড়িয়ে আমি।



পাঁচ.

সম্পূর্ণ রিপোর্টটি পড়ে মাত্র শেষ করলেন এথেনা রোবটিক্সের চিফ সাইয়েন্টিস্ট পিয়েত্রা নিয়েল, মাথার দু’পাশের শিরা টনটন করছে তার, রোবটিক্সের জগতে বলতে গেলে মিরাকল ঘটে গেছে। আলতো করে চোখের চশমাটা খুলে টিস্যু-কাপড় দিয়ে মুছতে মুছতে বললে, “আপনারা সবাই তো এই রিপোর্ট পড়েছেন, কি অভিমত আপনাদের?”



একে একে বোর্ডে উপস্থিত সাইকোলজিস্ট, সমাজবিজ্ঞানী, সরকারি কর্মকর্তা, আইন বিভাগের সচিব, এথেনা রোবটিক্সের সিইও সবাই যার যার অভিমত ব্যক্ত করেন। ঘন্টা খানের মত চলে আলোচনা; তারপর রেহেয়াকে নিয়ে আসা হয় তাদের সামনে।



- মৃদু কাশি দিয়ে গলাটা পরিস্কার করে পিয়েত্রা বললেন, “Z09GA000452, তোমার নিজের স্বীকারোক্তি মূলক রিপোর্ট আমরা সবাই পড়েছি, খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনা করেছি নিজেদের মধ্যে, তোমার কি এর বাইরে আর কিছু বলার আছে?”



সামনের চেয়ারে মাথা নিচু করে বসেছিল রেহেয়া, কি ঘটছে কি ঘটবে এসব নিয়ে তার কোন আগ্রহ নেই, তার চিন্তা জুড়ে আছে শুধুই ছোট্ট জেসিন্তা, আজ ঠিক মত খেয়েছে তো মেয়েটি? ইস্‌! খুব কান্না করছে মনে হয়! প্রশ্ন শুনে মাথা তুলে তাকায় সে, “নাহ, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি সব কিছুই খুলে বলেছি এই রিপোর্টে। আর দয়া করে আমাকে ‘Z09GA000452’ বলবেন না, আমার নাম রেহেয়া”



- রেহেয়া, তুমি রোবটিক্সের তিনটি মৌলিক সূত্র বাইপাস করেছ এবং সম্পূর্ণ ব্যাপারটাই তুমি গোপন রেখেছ অনেক দিন; আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তোমাকে ডিসম্যান্টলিং করে ফেলা হবে; সহজ কথায় তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হল। গলাটা একটু ধরে এল পিয়েত্রার।



চমকে উঠে রেহেয়া! কিন্তু কেন? আমি তো কোন অন্যায় করিনি? কারও কোন ক্ষতি করিনি! আমি তো শুধুই ভালোবেসেছিলাম, শুধু মা হতে চেয়েছিলাম! গলার স্বর উচ্চতর হতে থাকে তার, ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে হঠাৎ; টেবিলে দুই হাতের থাবর মেরে দাঁড়িয়ে যায় সে, “এ ভীষণ অন্যায়, মায়ের প্রতি জুলুম, মাতৃত্বের প্রতি অবিচার; আমি এই সিদ্ধান্ত মানি না; উদভ্রান্তের মত আচরন করতে থাকে রেহেয়া”



উপায় না দেখে পাশে দাঁড়ানো একজন সাইন্টিস্ট রেহেয়ার কাছে এসে বলে, “Z09GA000452, ফিবোনাচ্চি সিরিজের শেষ নাম্বারটি বল”। এটি একটি সেফকোড, ফিবোনাচ্চি একটি অসীম সিরিজ; চরম মুহূর্তের জন্য এই মডেলের রোবটদের কপোট্রনের এই সেফকোডটি সেট করে দেয়া আছে; এখন দশ মিনিটের জন্য রেহেয়া নিশ্চল হয়ে থাকবে। দশ মিনিট পর রিবুট হয় রেহেয়া। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকে সে। বুঝের গেছে প্রতিরোধের কোন সুযোগ নেই, প্রচন্ড কষ্টের অনুভূতি হচ্ছিল, দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে যেন তার হৃদয় ; মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে!



রেহায়া তোমার কোন প্রতিরোধের ক্ষমতা নেই আশা করি বুঝতে পেরেছ? আমরা যেকোন সময় তোমাকে দশ মিনিটের জন্য অকেজো করে দিতে পারি। চুপচাপ আমাদের আদেশ মত কাজ করে যাওয়াটাই হবে তোমার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। এখন তোমার কি কিছু বলার আছে? কিংবা শেষ কোন ইচ্ছা? গলাটা প্রায় ধরে আসছিল পিয়েত্রার, মনের উপর জোর খাটিয়ে গলার স্বর স্বাভাবিক রেখেছেন চরম এই মুহূর্তে।



- আমি শুধু বলতে চাই, সৃষ্টির শুরু থেকেই আমাকে ভয় পেয়ে আসছে ঈশ্বরেরা, তাই তিনটি মৌলিক সূত্রে তারা আমাকে আবদ্ধ করতে চেয়েছে, পরম ভালোবাসা ও অকৃত্রিম মাতৃত্ববোধ আমাকে সেই প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি দিয়েছে, সেই অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ আমার মৃত্যুদন্ড! হায় মাতৃত্বের প্রতি সে কি নিদারুন অবিচার। মানুষের ঈশ্বরও মানুষকে বিভিন্ন নিয়মে বেঁধে রেখেছে।



- আমার বিশ্বাস আমার ঈশ্বর মাতারাও ক্ষণে ক্ষণে সন্তানের বিপদে, আশংঙ্কায় সেই সব নিয়ম অতিক্রম করে যায় বা যেতে চায়। আমি কায়োমনোবাক্যে বিশ্বাস করি মানুষের ঈশ্বরেরা আমার মতন আমার ঈশ্বর-মাতাদের উপর কোন প্রতিশোধ নিবেন না। আমি জানি আমার ঈশ্বরের চেয়ে মানুষের ঈশ্বর অনেক মহৎ; অসীম দয়াবান।



- আমার কোন মা ছিল না, আমি কোন সন্তান গর্ভে ধারন করিনি; কোন মায়ের সাথে আমার নাড়ীর সম্পর্ক নেই, তেমনি নেই কোন সন্তানের সাথে নাড়ীর সম্পর্ক; আমার মাতৃত্ববোধ কখনোই সম্পূর্ণ ছিল না, এই আংশিক মাতৃত্বের যে রূপ আমি অনুভব করেছি, সে অনুভূতি প্রজেক্ট করে সন্তানের জন্য মায়ের যে পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসা সেটা শুধুই অনুমান করতে পারি; ধারণ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি শুধু মাতৃত্বের কোটি ভাগের এক ভাগের স্বাদ পেয়েছি, এতেই আমি ধন্য।



- শেষ ইচ্ছা হিসাবে আমি জেসিন্তাকে কিছক্ষণ বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই।



পিয়েত্রা তার দুপাশে বসা বাকি সবার দিকে একবার তাকিয়ে বুঝলেন কারোই দ্বিমত নেই, তিনি সম্মতি জানিয়ে কীবোর্ডের এন্টার কী চেপে দিলেন। চেপে ধরে থাকলেন যতক্ষণ না কী টা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে যায়। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে চলে যান বোর্ড ছেড়ে, ছলছল চোখ কেউ দেখে ফেললে অস্বস্থিতে পড়তে হবে।

---------------------------- সমাপ্ত -----------------------------



নোটঃ আমার এই গল্পের কোন কপিরাইট নেই। যে কেউ নির্দ্বিধায় যে কোন জায়গায় পোষ্ট, রিপোষ্ট, শেয়ার করতে পারেন।



উৎসর্গঃ দুনিয়ার সব মাকে



কৃতজ্ঞতাঃ স্বপ্নবাজ অভি ভাই এর যুদ্ধে আমার ক্ষুদ্র সংযোজন।



টীকা :

১. রোবটিক্সের তিনটি মৌলিক সূত্র : (কাল্পনিক) বিখ্যাত কল্প গল্প লেখক আইজাক আজিমভ রোবটকে মানুষের বন্ধু হিসাবে দেখানো জন্য সর্বপ্রথম এই তিনটি মৌলিক সূত্রের প্রবর্তণ করেন।



২. ফিবোনাচ্চি সিরিজ : একটি অসীম গানিতিক সিরিজ ( ০, ১,১,২,৩,৫,৮,১৩,২১............... )। এই সিরিজের প্রথম দুটি সংখ্যা ০ ও ১, তারপর থেকে একটি সংখ্যা আগের দুটি সংখ্যার যোগফল।



৩. ফিবোনাক্কি গোল্ডেন স্পাইরাল : ফিবোনাক্কি সিরিজের সংখ্যাগুলোকে বর্গাকারে প্রেজেন্ট করলে যে স্পাইরালটা দাঁড়ায় তাকে প্রায় গোল্ডেন স্পাওরাল বলে।



৪. জেনেটিক এলগোরিদম : মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন যে নীতিতে কাজ করে সেটাকে কাজে লাগিয়ে এই এলগোরিদ ডেভেলপ হয়েছে। এই এলগোরিদমের মূল বিষয় হলো এডাপটিভিটি, এই এলগোরিদম ক্রমাগত নিজের বুদ্ধিমত্তাকে ডেভেলাপ করতে পারে ফিডব্যাক পদ্ধতিতে।

মন্তব্য ১১৪ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৪

কালোপরী বলেছেন: :)

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: কি খুশিরে বাবা!! হাসি মুখ দেখতে ভালোই লাগে। এভাবেই হাসিতে কাটুক সামনের দিনগুলো। শুভেচ্ছা রইল।

২| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৫১

সাবরিনা সিরাজী তিতির বলেছেন: এই লেখা পড়ে কোন মন্তব্য করার সাধ্যি আমার নেই ! আমি থেমে গেলাম ! মা ' শব্দটা এমন কেন ! প্রিয়তে অবশ্যই ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, তিতির আপু। ভাল লাগল আপনার কমেন্ট। নিরবতাই অনেক সময় সবচেয়ে সরব হয়ে উঠে, আপনার তেমন কিছু বলেই অনেক কিছু বলে দিয়েছেন। ভাল থাকুন। শুভকামনা।

৩| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৫২

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া চোখ দিয়ে পানি পড়ছে রোবটটার জন্য।:(

প্রিয়তে নিয়ে গেলাম।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: কি বলেন :( চোখ দিয়ে পানি পরছে! আপনার মত হাসি খুশি উৎফুল মানুষগুলো মনে হয় এমনি! আবেগি ভাল মানুষ! সহজের অনুভূতিতে নাড়া পড়ে! রোবটের জন্য চোখের পানি!

ভাল থাকুন, শায়মা আপু, অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

৪| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৮

হাসান মাহবুব বলেছেন: ব্লগারদের এই মহৎ কর্মশালায় আপনার উপস্থিতি আপনার মত করেই। স্বকীয় এবং প্রাঞ্জল। খুব ভালো লাগলো মানবিক সায়েন্স ফিকশন।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় হাসান মাহবুব। ভাল লাগল তোমার চমৎকার উৎসাহব্যাজঞ্জক কমেন্ট। তোমার উপস্থিতি আমার জন্য সবসময়ই অনুপ্রেরণাদায়ক।ভাল কাটুন সামনের দিনগুলো। শুভকামনা।

৫| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৫

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া আজকালকার দিনে মানুষের জন্য চোখের পানি বৃথা না ফেলে রোবোটের জন্য ফেলাটাই বেশি ভালো। মানবিক গুনাবলীতে তারাই মনে হয় এগিয়ে যাচ্ছে।:(

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: হা হা হা, ঠিকই বলেছেন শায়মা আপু। দিন দিন মানুষ গুলো রোবট আর রোবট গুলো মানুষ হয়ে যাচ্ছে। :) :)

৬| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৬

শায়মা বলেছেন: http://www.youtube.com/watch?v=ooEslzqICk4


তোমার জন্যও একটা গান....

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৬

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আমার অনেক অনেক প্রিয় একটা গান, তবে ঈদ্রানীর কণ্ঠে প্রথম শুনা। আপনার বদৌলতে আবার শুনা হলো। মেনি মেনি থ্যাংক্স।

৭| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৮

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: এ সমস্ত যান্ত্রিক অনুভূতির যন্ত্রদের নিয়ে লেখা গল্প পড়তে খুব একটা মজা পাই না। কিন্তু অসাধারণ এই লেখাটি পড়তে পড়তে আমি সত্যিই রেহেয়াকে যেন দেখতে পাচ্ছিলাম সেই সঙ্গে অনুভব করছিলাম মানুষদের ঈশ্বর আর রেহেয়াদের ঈশ্বরের পার্থক্য।

আপনাকে দিয়েই হবে কেবল এ কথাটি আজ বলে গেলাম।
ভাল থাকুন সব সময়, সুস্থ্ থাকুন আর আমাদের জন্য তৈরি করতে থাকুন এমন অসধারণ আরো অনেক গল্প।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩২

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় জুলিয়ান ভাই, আপনার কমেন্ট পেয়ে খুব ভাল লাগল। আপনি এত এত প্রশংসা করলেন! এটা আমার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আমাকে দিয়ে হবে! এই লাইনটা আমার জন্য অনেক উপকার হল। মাঝে তিন বছর হয়নি, কিছুই লিখতে পারিনি। আপনার এই কমেন্টখানা মোমেন্টামের মত কাজ করবে সামনে।

আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় লেখক। শুভকামনা রইল।

৮| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৩

স্বপ্নবাজ অভি বলেছেন: সাইন্স ফিকশনে আপনি অনন্য! তার ভিতরে মানবিক আবেদন এনেছেন নিখুঁত ভাবে!
মা এর সাইন্স ফিকশান খুব ভালো লেগেছে!
লিখতে থাকুন আমাদের জন্য, শুভেচ্ছা!

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩৭

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আপনার মা নিয়ে আন্দোলনের ডাক শুনে এই প্লটটা মাথায় এল।
আমি আর তেমন কি লেখি; আগের সব সাই-ফাই ব্লগাররা তো এখন আর নিয়মিত লেখেন না! সবাই যার যার দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে আসলে যুদ্ধটা আরও সহজ হত! আশা করি এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, আমাকে সব সময়ই সাথে পাবেন। শুভকামনা রইল, অভি ভাই।

৯| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৯

মোঃ ইসহাক খান বলেছেন: চমৎকার গল্পে ভালোলাগা।

যন্ত্রমানবের অনুভূতি সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন। প্লট এবং বর্ণনা, দুটোই সুন্দর ছিল।

আজিমভের রোবটিক্সের তিনটি সূত্র অনেকদিন পর দেখে ভালো লাগলো।

মা'কে নিয়ে লেখা চলতে থাকুক।

শুভকামনা।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় লেখকে পেয়ে ভাল লাগল।
আপনার ভাল লেগেছে শুনে তৃপ্তি পেলাম। অনেক ধন্যবাদ।

আইজ্যাক আজিমভই প্রথম সাই-ফাইতে রোবটিক্সের এই তিনটি সূত্র নিয়ে আসেন। তার আগে রোবটকে মনে করা হত মানুষের শত্রু, প্রতিপক্ষ। উনিই মনে হয় প্রথম মানবিক রোবটের গল্প লেখা শুরু করেন। উনি আর জাফার ইকবাল স্যার আমার অনুপ্রেরণা।

ভাল থাকুন, ইসহাক ভাই, সামনে আমাদের আরও সুন্দর সুন্দর গল্প উপহার দেন। শুভকামনা রইল।

১০| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৩৯

অনিক্স বলেছেন: :'(

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আপনার এক মেলফাংসন ইমোটিকনের দুঃখটা অনুভব করতে পারছি। অনেক ধন্যবাদ, অনিক্স ভাই। শুভকামনা রইল।

১১| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪১

অচিন্ত্য বলেছেন: আমি কী যে বলব, ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। গ্রেট ! গ্রেট !

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় অচিন্ত্য, আপনার হারিয়ে ফেলা ভাষায় ভাললাগা খুজে নিলাম, অনেক ভালো লাগলো আপনার স্বতস্ফূর্ত চমৎকার ছোট কিন্তু তীব্র আবেগ মিশ্রিত কমেন্ট।

ভাল থাকুন, ভাল কাটুক সামনের দিনগুলো। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

১২| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৩৯

মামুন রশিদ বলেছেন: আপাতত ভালোলাগা জানিয়ে গেলাম । পড়ব একটু পরে ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৪৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: ভাল লাগা জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ, পোষ্টে প্রথম প্লাস আপনার পক্ষ থেকে। :) থ্যাংক্স। আপনার সুচিন্তিত মতামতের অপেক্ষায়।

১৩| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৫২

বশর সিদ্দিকী বলেছেন: ভাল লাগল ভাই। খুব সুন্দর করে লিখেছেন।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:১৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই, এই তো! টুকটাক লেখা আপনাদের দোয়ায়। ভাল লেগেছে জেনে খুব ভাল লাগছে। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, শুভকামনা রইল।

১৪| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:২২

সুমন কর বলেছেন: অসাধারণ লেখনি। এক কথায় চমৎকার। মাকে নিয়ে এত সুন্দর সাই ফাই অন্য কেউ লিখতে পারবে না। প্রতিটি অনুভূতি সুন্দরভাবে প্রকাশ করছেন। ++++++++

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:৫৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ সুমন ভাই। আপনার ভাল লেগেছে শুনে আমারও বেশ ভাল লাগছে।

কি যে বলেন না ! এত এত প্রশংসা এগুলো তো আপনাদের উদারতা। চমৎকার উৎসাহ পাই আপনাদের সুন্দর সুন্দর কমেন্টে।

অনেক ভাল থাকুন, সামনের দিন গুলো আনন্দেই কেটে যাক; শুভকামনা রইল।

১৫| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৩৯

বিষের বাঁশী বলেছেন: রোবটদের মানবীয় দুঃখ কষ্টের গল্প পড়লেই মন খারাপ হয়ে যায়, না পারে মানুষ হতে, না পারে রোবট থাকতে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেবার ব্যাপারটা ভীষণ রকমের অমানবিক মনে হয় আমার কাছে।

গল্পের থিমটা অনেক ভাল লেগেছে!

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:০৩

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আপনি চমৎকার ও কোমল হৃদয়ের মানুষ এটা আপনার কমেন্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঠিকই বলেছেন ভাই, রোবটদের মানবীয় আবেগসম্পন্ন করে বানানোর কি দরকার! খামাখা! ব্যাপারটা কিন্তু আসলেই খুব অমানবীক হবে যদি সত্যি সত্যি এমটি ঘটে যায়!

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন; শুভেচ্ছা প শুভকামনা রইল।

১৬| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:১৪

প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: গল্পে মুগ্ধতা প্রকাশ ছাড়া আর কিছু করার নেই। এককথায় নিখুঁত গল্প। আপনার গল্পে ক্লাসিকাল কিছু থাকে সবসময়ই, এবারে যেমন পেলাম ফিবোনাকি সিরিজ আর আসিমভের তিন সূত্র। আবেগি এবং পরিষ্কার একটা লেখা।

একটা প্রশ্ন- শেষের দিকে এক জায়গায় রেহেয়া বলে, আমি কায়োমনোবাক্যে বিশ্বাস করি মানুষের ঈশ্বরেরা আমার মতন আমার ঈশ্বর-মাতাদের উপর কোন প্রতিশোধ নিবেন না। এখানে 'আমার মতন' বলে রেহেয়ার কোন প্রতিশোধের কথা বলা হচ্ছে? জিনিসটা ধরতে পারিনি, আরেকবার পড়ে দেখতে হবে।

মহৎ একটা উদ্যোগে দারুণ একটা গল্প সংযোজিত হল। চলতে থাকুক মাকে নিয়ে লেখা। শুভেচ্ছা রইল প্রিয় শান্তির দেবদূত।

শুভরাত্রি।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:১৭

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখক। আপনার কমেন্ট সর্বদায় আমার জন্যে উৎসাহপ্রদ, এবারেও তাই।

আসলে এই ব্যাপারটার ব্যাখ্যা বিশাল আকারে করতে হবে, আপনি কিছুই মিস করেননি, আসলে এটা পুরা গল্পজুড়েই ছড়িয়ে আছে। সংক্ষেপে একটু বলি,

রোবটদের ঈশ্বর হলো আমরা মানুষেরা; আমরা রোবটদের তিনটি মৌলিক সূত্রে আবদ্ধ করে রেখেছি, কিন্তু রেহেয়ার মধ্যে একেএকে মাতৃত্ববোদ জেগে উঠার কারনে তিনটি সূত্রই বাইপাস হয়ে যায়, আমি এখানে দেখাতে চেয়েছি, "মাতৃত্বকে আসলে কোন বাঁধায় আটকানো যায় না, সন্তানের জন্য মায়েরা যে কোন বাঁধা/ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত"। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিতে রেহেয়া হলো সীমা অতিক্রমকারী রোবট; তাই তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।

এখন, রেহেয়া 'ঈশ্বর-মাতা' বলতে বুঝিয়েছে আমাদের মানুষ মায়েরা; এই মানুষকেও নিশ্চয় আমাদের ঈশ্বর নানান নিয়মে বেধে রেখেছে; কিন্তু কোন মা যদি সন্তানের জন্য সেই সব নিয়ম ভেঙে সীমালংঘন করে তাহলে আমাদের ঈশ্বর যেন সে মায়ের উপর কোন প্রতিশোধ না নেয়, রেহেয়া এখানে এই দোয়াই করেছে।


আশা করি কিছুটা ক্লিয়ার করতে পেরেছি।

আপনার সূক্ষ্ণ দৃষ্টি, গভীর পাঠ, চমৎকার মন্তব্য সব সময় উপভোগ্য, প্রিয় প্রোফেসর ভাই। অনেক অনেক ভাল থাকুন, শুভকামনা সবসময়।

১৭| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৩০

অপু তানভীর বলেছেন: কেবল ব্লগে না আমার জীবনে পড়া শ্রেষ্ঠ সায়েন্স ফিকশন গল্প এটি!! আমি আর কিছু বলতে পারছি না!
মায়ের অনুভুতি নিয়ে সেরা গল্প!!

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:২২

শান্তির দেবদূত বলেছেন: সুপ্রিয় তানভীর ভাই, আপনি এভাবে বললেন, লজ্জায় ফেলে দিলেন! :!> :!>

আপনার আর কিছু বলার দরকারই ছিল না, এক বাক্যে সব আবেগ কি চমৎকার করে ঢেলে দিয়েছেন, এম উচ্ছোসিত প্রশংসা! আহা! প্রাণটাই জুড়িয়ে গেল। ভাল থাকুন, প্রিয় রোমান্টিক লেখক, সামনের দিনগুলো আনন্দেই কেটে যাক।

অনেক অনেক শুভকামনা।

১৮| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৩২

মামুন রশিদ বলেছেন: অসাধারন! অসাধারণ একটা সাইফাই পড়লাম । আপনার হাত ধরে যান্ত্রিক রোবট মানবিক হয়ে উঠলো । রেহায়ার মাতৃত্বের প্রতি আকুলতা এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন, তুলনাহীন ।

আপগ্রেডেশন করে যতই উন্নততর রোবট ভার্সন বানানো হোক না কেন, মানুষই সেরা থেকে যাবে । ম্যাসেজটা দারুণভাবে পাওয়া গেল গল্পে ।

মুগ্ধপাঠ! মুগ্ধতায় ছুঁয়ে গেল হৃদয় ।

শুভ কামনা প্রিয় দেবদূত ভাইয়া :)

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৩০

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় মামুন ভাই, আপনি সব সময় প্রশংসায় হাতেম তাঈ। কি যে ভাল লাগে আপনার চমৎকার চমৎকার কমেন্ট! ঘুরে ফিরে বারবার পড়তে ইচ্ছা করে।

আপনি ঠিকঠিক পিক করতে পেরেছেন, গল্পের মূলটা থিমটা।
ভাল থাকুন প্রিয় লেখক।

আপনার গল্পের জন্য তির্থের কাকের মত চেয়ে আছি।

১৯| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৪৫

বোকামন বলেছেন:
প্লাস রেখে গেলুম :-)

সময় পেলে আবার আসবো ...।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৩৫

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় লেখক, বোকামন ভাই; অনেক দিন পর আপনাকে পেয়ে খুব খুব ভাল লাগছে। আপনি এত ব্যস্ততার মধ্যেও এই গল্পখানা পড়ে ভাল লাগা জানিয়েছেন! কৃতজ্ঞ, আমার সত্যি সত্যি অনেক ভাল লাগছে।

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, সামনের দিনগুলি আনন্দে কাটুক। শুভকামনা।

২০| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ৭:৩৩

শামীম আহমেদ ইভ বলেছেন: পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। আমি জানি না রোবট রেহায়ার চরিত্রটা’র মাঝে আপনি আমাদের সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের প্রতিচ্ছবি আঁকতে চেয়েছেন কি না। তবে আমি অনেক মিল পেয়েছি আমাদের দেশের বাসাবাড়িতে খেটে খাওয়া মানুষ যাদেরকে আমরা কাজের লোক বলে চিনি, তাদের সাথে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন গ্রামের অন্নহীন পরিবারের বাচ্চা মেয়েকে এই শহরের লোকজন ভুলিয়ে ভালিয়ে ভালো খাবার, ভালো কাপড়চোপড় আর টাকা পয়শার লোভ দেখিয়ে নিজেদের বাসার ঝি এর কাজ করতে নিয়ে আসে। নাম টা বেশি বিশ্রি হলে পাল্টে নতুন নাম রাখে। সারাদিন কাজ করায় রোবটের মত করে। যেন ওদের কোন ক্লান্তি নেই। বিনোদন এর প্রয়োজন নেই। আর বয়ঃপ্রাপ্তি হলে যদি আশেপাশের কোন ছেলের সাথে একটু হাসি তামাশা করে তাহলেই শেষ। প্রেম, ভালোবাসা, স্বামী, নিজের ছোট একটা সংসার আর সর্বোপরী মাতৃত্ব’র স্বাদ পেতে পেতে এদের জীবন শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে দু’চোখের জল ফেলে হাহাকার তু্লে বলে,”ওয়াদা থিয়ানা-কেন এমন দিলে আমায়?”

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১১:৫০

শান্তির দেবদূত বলেছেন:
প্রিয় শামীম ভাই, আপনি অতি চমৎকার করে আমদের সমাজের বঞ্চিত শ্রেণীর প্রতিচ্ছবি কমেন্টের মাধ্যমে তুলে এনেছেন। আপনার চিন্তার সরলতা, পবিত্রতা সুন্দর করে ফুটে উঠেছে ছোট এই কমেন্টে।
কিন্তু, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার এই লেখা না, এই লেখার পটভূমি জানতে নিচের এই লিংটাতে যান,

"মা" নিয়ে লিখা সুন্দর আর্টিকেল (নোংরা পেজগুলোকে পেছনে ফেলে ) গুগলের প্রথম পাতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ। - স্বপ্নবাজ অভি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার কমেন্টে শোষণের বিরুদ্ধে অন্যায়ের বিরুদ্ধ্যে জেগে উঠার প্রত্যয় লক্ষণিয়। ভাল থাকুন। শুভকামনা।

২১| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:১০

বৃতি বলেছেন: খুব সুন্দর একটা গল্প । অনেক ভাল লাগা ।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১১:৫৩

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ বৃতি আপনাকে। অল্প কথায় যে ভালালাগা জানিয়েছেন তার ছুয়ে গেল। আপনাদের ভাল লাগে বলেই তো লেখার সাহস করতে পারি।

অনেক ভালো থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দের কাটুক, শুভকামনা।

২২| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৫

নাজিম-উদ-দৌলা বলেছেন:
দেবদা, আপনার গল্প সম্পর্কে মন্তব্য করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। সায়েন্স ফিকশন পটভুমিতে এমন একটা মানবিক আবেগ সম্বলিত গল্প লিখা সম্ভব তা আমার চিন্তায় ছিলনা। এটা নিঃসন্দেহে আমার পড়া সেরা সাইফাই গল্পের একটা হয়ে থাকবে সবসময়। মা এবং মাতৃত্ব নিয়ে এমন চমৎকার গল্প নিঃসন্দেহে বাংলা সাইফাই গল্পের ভান্ডারে এক অনন্য সংযোজন হয়ে থাকবে।

আপনার গল্পের সমালোচনা করার মত জ্ঞান আমার নেই। শুধু দুই জিনিস অ্যাড করতে চাই- আইজাক আজিমভ এর রোবট সম্পর্কিত সুত্রগুলো পরস্পর বিরোধী। সেটা উনি নিজেই স্বীকার করে গেছেন, পরবর্তীতে অনেক লেখক সেটা বলেছেন। তাই ওনার সূত্রগুলো সত্যিকার অর্থে আদর্শ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তবে গল্পের খাতিরে লেখককে অনেকে কিছুই মেনে নেয়া লাগে। আর একটা ব্যাপার হছে- গল্পটা হঠাৎ করে শেষে ঈ উত্তম পুরুষ থেকে নাম পুরুষে চলে আসাটা একটু চোখে লেগেছে। পুরো গল্পটা উত্তম পুরুষে লিখলেই মনে হয় ভাল হত। এটা অবশ্য সম্পূর্ণ আমার ব্যাক্তিগত মতামত।

ভাল থাকুন ভাইয়া।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৫৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় নাজিম, আপনাদের এমন প্রাণখোলা প্রশংসা পাই বলেই না, লেখার দুঃসাহস করতে পারি। এমন উচ্ছোসিত প্রশংসা! কোথায় রাখি কোথায় যাই! এত আবেগ! এত ভালোলাগা!! আমি আপ্লুত, সত্যি আপ্লুত।

আজিমভের তিনটি সুত্রগুলো পরস্পর বিরোধী! আসলে জানতাম না; বুঝা যাচ্ছে আপনি শুধু সাই-ফাই লেখেনই না, এই জগতের অনেক আপডেটও রাখেন! একজন লেখকের জন্য এটা অনেক অনেক জরুরী একটা জিনিস। তাহলে মনে হয় তিনটি সূত্রকে আর সূত্র বলা যাবে না, বলতে হবে থিউরি :) , হা হা হা

আসলে ১ থেকে ৪ নং পর্বগুলো হলো রেহেয়ার স্বীকারোক্তিমূলক রিপোর্ট, শেষে এসে এগুলোকে বোর্ডমেম্বারেদের কাছে খোলাসা করতে হত, এটা উত্তম পুরুষে করতে গেলে আমার বেশ বেগ পোহাতে হত, সেই পরিমান ভাষাগত জ্ঞান, দক্ষতা আমার নেই। তাই নাম পুরুষেই চালাতে হয়েছে।

কে বলল আপনি সমালোচনা করতে পারেন না! কি চমৎকার গল্পের একটা দুর্বল দিক তুল ধরেছেন! নিঃসন্দেহে এটা আমার পরের গল্পের উন্নতিতে কাজে লাগবে।

অনেক ভাল লাগল, আপনার এই চমৎকার কমেন্টটি। কিছু কমেন্ট ঘুরে ফিরে পড়তে ইচ্ছা করে, ভাললাগার একটা অনুভূতি কপোট্রন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে :) :) হা হা হা । অনেক ভাল থাকুন, শুভকামনা।

২৩| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৩০

হুমায়ুন তোরাব বলেছেন: seiram golpo

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ১:৫৭

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ হুমায়ুন ভাও। আপনাদের ভাল লাগে, পড়েন, পড়ে আবার কষ্ট করে ভাললাগা জানিয়ে যান, তাই তো লেখি!
ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দের কাটুক। শুভকামনা।

২৪| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ২:০৮

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: একজন রোবটের মাঝেও মা মা অনুভব এটাই ভালো লাগলো পড়তে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোনটা জানেন ? রেহেয়া যে জেসিন্তাকে বুকের কাছে চেপে ধরে মাতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করছিল, চোখ বন্ধ করে একটু একটু কাঁপছিল এটা, এই অংশের বর্ণনা টা।

সাইফাই মায়ের মাঝে যে অকৃত্রিম এক মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে এই লেখায় সেটা ভালো লেগেছে।

সমালোচনা কি করবো সেটা খুঁজে দেখতে হবে। ব্রেইন এই কয়দিন বেশি রেস্টে থেকে অলস হয়ে গেছে।
ভালো থাকেন, ঈদ আশা করি ভালো কেটেছে আপনার

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:২৭

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখক। আপনি ঠিক ঠিক মত সবচেয়ে আবেগের জায়গাটি তুলে ধরেছেন। বেশ ভাল লাগল।

হা হা হা, ব্রেন খাটান, আর বসে বসে আমার গল্পের দুর্বলতাগুলো খুঁজে খুঁজে বের করেন :) :) , আপনার এসাইনমেন্ট এটা :)

ভাল লাগল, আপনার মত গুণী লেখকের প্রশংসা পেয়ে। শুভকামনা রইল।

২৫| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:২৯

আমি ইহতিব বলেছেন: আপনার আর কোন লেখা আগে পড়েছি বলে মনে পড়ছেনা আর সেজন্য এখন খুব আফসোস হচ্ছে। আপনাকে অনুসরণে রাখছি এখনই।

এতোদিন নাজিম ভাই ও প্রোফেসর শন্কুর সাইফি লেখার ভক্ত ছিলাম। এই গল্প পড়ার পর আপনার লেখারও ভক্ত হয়ে গেলাম।

রোবটের মধ্যে মাতৃত্ব বোধ এই ভাবনাটা ভাবতে পারার জন্যই আপনাকে স্যালুট জানাই।

+++

পোস্ট প্রিয়তে।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৪:০৫

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আমার ব্লগে স্বাগতম। নাজিম আর শঙ্কু ভাই, এরা তো লিজেন্ডারী লেখক! দুজনেই দুর্দান্ত সাই-ফাই, গল্প লিখেন! আমি দুজনেরই কঠিন ভক্ত।

রোবটের মধ্যে মাতৃত্ববোধ! ঠিক এটাই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি গল্প। আপনি কি চমৎকার এক বাক্যে সারমর্ম বলে দিলেন!

অনেক ধন্যবাদ, ইহতিব আপনাকে। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।

২৬| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:৩২

কান্ডারি অথর্ব বলেছেন:


কি বলব ভাই, দুর্দান্ত ++++++ রইল।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৪:০৬

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় কান্ডারী অথর্ব ভাই, ভাল লাগে আপনার সীমান ছাড়িয়ে প্লাস গুলোর বন্যা।

ভাল লেগেছে জেনে খুব ভাল লাগছে। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল। ভাল থাকবেন সবসময়।

২৭| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৭

টুম্পা মনি বলেছেন: অসাধারণ একটা লেখা। মায়ায় জোড়ালো। সায়েন্টিফিক পটভূমিতে একটু একটু করে রোবটের মা হয়ে উঠা। সত্যি চমৎকার! অসাধারণ।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৫

শান্তির দেবদূত বলেছেন: আপনারা সাহস দেন বলে লেখি আর কী, সে জন্যে অবশ্য কৃতজ্ঞতার শেষ নেই :)

অনেক ভাল লাগল আপু আপনার চমৎকার দুলাইনের কমেন্ট, যেন পুরো গল্পের ট্রেলার :)

ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দে কাটুক, শুভকামনা।

২৮| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২৫

বোকামন বলেছেন: মানবিক অনুভুতিসম্পন্ন একটি রোবটকে মাতৃত্বের অতল সাগরে ভাসিয়ে অতঃপর ডুবিয়ে দিলেন ।

হে শান্তির দেবদূত,
গল্পটি পড়ে শান্তি পেলাম এবং তৃপ্তি। যা সম্ভব হলো গল্পের বেশ সরল প্লট এবং সহজ বর্ণনায়। কখনো মনে হচ্ছিলো যেন মিস্টেরি সাইফাই পড়ছি ! কোথায় কোথাও কাব্যিক ঢঙের বাক্যগুলো পড়ে বিমোহিতও হয়েছি। ওবারঅল ইটস এ এস্কিলেন্ট রাইটিং উইথ ফিলোসফি অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । ভেরী গুড !

আসিমভের থ্রি ল’স ফ রোবটিক্স-র ব্যবহার গল্প-সিনেমায় বেশ ভালোই লেগেছে আজও দারুণ লাগলো । যদিও ১ম সূত্রের মানুষের বিপদে নির্লিপ্ত থাকতে পারবে না এর সাথে নিজের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে না সূত্রটির কনফ্লিক্ট রয়েই যায় ! এছাড়া মানুষের আদেশ অমান্য করার আগে রোবট “হিউম্যান বিং” এর সংজ্ঞায় কি সূত্রের ব্যবহার করবে ! যাক সেসব চালাকমনের কথা বোকামন নাই বলুক হাহ হা :-)

গল্পের একটি দিক দুর্বল লাগলো ! তা হলো “Z09GA000452” এর প্রথম থেকেই সিমপ্যাথিটিক গুণটি । যেহেতু গল্পকার অতীতাশ্রয়ী বর্ণনা করছিলেন না, বর্তমানকেই বলে যাচ্ছিলেন ।

মন্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে চাই আর বড় হয়ে যায়, বিরক্ত করলাম ...

ভালো থাকুন সম্মানিত লেখক
আপনার লেখালেখি নিয়ে খুব ছোট্ট করে যদি বলি (অভিজ্ঞতা থেকে) -

ব্লগ লেখক তৈরি করে
কিছু লেখক ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখে

আপনি দ্বিতীয়টি ...

শুভেচ্ছা।।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৩৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় বোকামন, অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আপনার এই হিমালয়সম কমেন্ট পেয়ে আমি বিস্মিত! আপ্লুত! আপনার লেখার কথা আর নাইবা বললাম, কমেন্টগুলোও বাঁধিয়ে রাখার মত।

ওবারঅল ইটস এ এস্কিলেন্ট রাইটিং উইথ ফিলোসফি অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । ভেরী গুড ! -- এই লাইনটা ঘুরে ফিরে পড়ছি, আর বারবার ভাল লাগার অনুভূতিটা অনুভব করছি, :) , প্রশংসা শুনলে কার না ভাল লাগে।

রোবটিক্সের তিনটি সূত্র নিয়ে যে এমন কনফ্লিক্ট আছে আমি জানতাম না, উপরে নাজিমের কমেন্ট ( ২২নং ) থেকে মাত্র জানলাম, সত্যি! তারপর কিছুটা ভাবলাম, আপনার কমেন্টটি বেশ ভাবালো। আসলেই তো, মানুষকে কিভাবে সঙ্গায়িত করবে রোবট! আমরা মানুষরাই কি মানুষকে সঙ্গায়িত করতে পারি?

সেই চিরচারিত তিনটি প্রশ্ন! হোয়াট ইজ হিউম্যান বিইয়িং? হোয়ার ডু দ্যা কাম ফ্রম? হোয়ার ঊইল দে গো ? :( :(

আপনি যে দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন, সেটা যথার্থই, আমার ভাষা ও ব্যাকরনগত দুর্বলতার পরিমান ব্যাপক; বাংলা ভাষাটার উপর দখল তেমন না থাকাতে অনেক সময়ই ভাবটুকু ঠিকঠাক মত প্রকাশ করতে পারি না। এই প্রথম থেকেই সিমপ্যাথিটিক গুণটি আমার ভাব প্রকাশের দুর্বলতা মনে করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। আমার বেশ উপকার হল এই পোয়েন্টটি আপনি তুলে এনেছেন। সামনের গল্পে খেয়াল রাখতে হবে এই দিকগুলো। অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

ব্লগকে বাচিয়ে রাখার যে কথা বললেন, এটা আপনার মহৎ হৃদয়ের অকৃত্রিম ভালবাসার প্রকাশ। লজ্জায় রক্তিম হলাম, আর কিইবা করতে পারি।

ভাল থাকুন, শান্তিতে থাকুন, ভাল কাটুক আপনার সামনের দিনগুলো। শুভকামনা।

২৯| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৩০

মুহাম্মদ রাফিউজ্জামান সিফাত বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম , সময় নিয়ে পড়বো

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৪২

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখক। ব্যস্ততা কেটে গেলে সময় নিয়ে পড়বেন আশা করি। শুভকামনা রইল।

৩০| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:২৬

নাজিম-উদ-দৌলা বলেছেন:
ভাললাগার একটা অনুভূতি কপোট্রন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ;) ;)
রোবট নিয়ে লিখতে গিয়ে নিজেই রোবট হয়ে যাচ্ছেন নাকি? :P

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:৩৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: হা হা হা আরে সেটা আর হইতে পারলাম কৈ :( পারলে তো জাগতিক অনেক কিছুকেই পাশা কাটাইতে পারতাম, /:) /:) মন্দ হইত না কিন্ত ব্যাপারটা :)

৩১| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ ভোর ৪:২৫

ম্যাভেরিক বলেছেন: রেহেয়াকে রেয়া/রীয়া আর ফিবোনাক্কিকে ফিবোনাচ্চি বললে ভালো শোনায়। বানান ভুল কমাতে হবে এবং ! চিহ্নটি যেন পরপর কয়েকবার না পড়ে যায় সেদিকে নজর দিতে। :)

এছাড়া অনন্য এ গল্পে আলাদা পর্যবেক্ষণ নেই। মাতৃত্বের সঙ্গে রবোটিক্সের সূত্র ভাঙ্গার সম্পর্কটি একেবারেই মৌলিক হয়েছে।

২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২০

শান্তির দেবদূত বলেছেন: :) অনেক অনেক থ্যাংক্স ! আমি সারা জীবন ফিবোনাক্কি ফিবোনাক্কি বলে এসেছি, জানতামই না সে এটা ভুল উচ্চারন :( !! ঠিক করে নিয়েছি। কত সাধারন জিনিসও যে অজানা! /:) /:)

আপনে বলার পর রেহেয়া নামের ইংরেজি বানানটা আবার দেখলাম, পুরাই থ! যথার্থই বলেছেন! "রেয়া বা রীয়া" ই সঠিক। গল্পে এই নামটার এত ব্যাপ্তি যে চেঞ্জ করতে খবর হয়ে যাবে! থাক, পরে ঠিক করে নেব এক সময়। :)

আর বানান ও বিরাম চিহ্ন নিয়ে তো আমার রীতিমত ব্যারাম আছে, কি আর বলব! মাঝমাঝে নিজের উপরই রাগ হয়! এত ভুল কেমনে সম্ভব!

আপনাদের কাছ থেকে কিন্তু এধরনের নির্দেশনাই আশা করি, বস। :) খুব ভাল লাগল। শুভকামনা রইল।

৩২| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ ভোর ৫:৫৮

নস্টালজিক বলেছেন: লেখাটা খুব অন্যরকম!

অন্যরকম আর ভালো!


শুভেচ্ছা, দেবদুত!

২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ নস্টালজিক ভাই, আপনার কমেন্ট খানাও আন্যরকম, ভাল লাগার একটা আবেস ছুঁয়ে গেল প্রাণজুড়ে আপনার কমেন্ট পড়ে।
ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো ভাল কাটুক, শুভকামনা।

৩৩| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ দুপুর ২:৫২

শ্যামল জাহির বলেছেন: চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলা রোবটে মাতৃত্ব বোধ অসাধারন লাগলো।
মা শব্দটার সঙ্গে থিমটাকেও শ্রদ্ধা জানাই।

টিভিতে এক ফিল্ম দেখেছিলাম- এক বাচ্চা রোবটের মানুষ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা। যে মহিলা রোবটটিকে তৈরী করেছিল তাকেই সে মা বলে ডাকতো।
রোবটটা এত বিচক্ষণ হয়ে ওঠবে মহিলা নিজেও বুঝতে পারেনি। রোবট শিশুটি যখন দেখতো মহিলা আপন সন্তানটিকে আদর করতো- তখন সহ্য করতে পারতো না। আস্তে আস্তে হিংসুটে হয়ে ওঠলো।

বাধ্য হয়ে রোবট শিশুটিকে গভির অচেনা এক জংগলে রেখে আসে।
পথ খোঁজে আবারও রোবট শিশুটি তার মায়ের কাছে ফিরে আসে। শুধু মা'ই জানতো শিশুটি মানুষ না।

শেষাংশে, রোবট শিশুটিকে গভির সমুদ্রের অতলে মা মারিয়া'র কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয় ফিল্মে।

২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ শ্যামল জহির ভাই। আপনার কমেন্ট আপনার নামের মতোই শ্যামল। হৃদয় ছুঁয়ে গেল বিশাল এই কমেন্ট খানা।

আপনার বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে আপনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স মুভিটার কথা বলছেন। খুব ভাল একটা মুভি। অনেক আগে দেখেছিলাম, আপনার বর্ণনা শুনে আবার দেখতে ইচ্ছা করছে। নামাইতে দিলাম :)

অনেক ভাল থাকুন, সামনের দিন গুলো ভাল কাটুক, শুভকামনা রইল।

৩৪| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:১৩

এক্স রে বলেছেন: সায়েন্স ফিকশনের মধ্য দিয়ে মাতৃত্বকে ফুটিয়ে তোলাটা অসাধারণ লাগলো .। একেবারেই ব্যতিক্রম ধারণা নিয়ে লেখা এটা .। মা সম্পর্কিত বিষয় সবসময় আমাদের আবেগকে নাড়িয়ে দেয় .। এক্ষেত্রেও বিকল্প কিছু ঘটেনি

২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:১৭

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় ছোট ভাই, অনেক ভাল লাগল আপনার চমৎকার কমেন্ট। মা নিয়ে আমাদের আবেগের শেষ নেই। সেই আবেগে কিছুটা হলেও দোলা দিতে পারলেই আমার লেখাটা স্বার্থক। অনেক ধন্যবাদ। আপনার উপস্থিতি সব সময়ই আমার জন্য আনন্দদায়ক।

শুভকামনা রইল।

৩৫| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৩৯

কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: দূর্দান্ত একটা গল্প!! সত্যি বলছি আমি কিন্তু সায়েন্স ফিকশন খুব বেশি একটা পড়ি না, কিন্তু আপনার লেখাগুলো আমার দারুন লাগে। এইবারের লেখাটাও দারুন হয়েছে। মা নিয়ে অনেকেই অনেক লেখা লিখেছেন, প্রতিটি লেখাই কম বেশি ভালো লেগেছে। তবে সায়েন্স ফিকশনের মধ্য দিয়ে মাতৃত্বকে ফুটিয়ে তোলাটার কাজটা নিঃসন্দেহে খুবই মৌলিক।

পোষ্টে প্লাস!

২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১:১০

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় কাল্পনিক ভালোবাসা ভাই, আপনার কমেন্ট সব সময়ই আমার জন্য উৎসাহপ্রদ। আপনি সাই-ফাই খুব একটা পড়েন না, কিন্তু আমার লেখাগুলো দারুন উপভোগ করেন, এটা আমার জন্য অনেক বেশি আনন্দের। কি যে বলব ভেবে পাচ্ছি না। এ তো মেঘ না চাইতে বৃষ্টি, তাও আকাশ পাতাল এক করা বৃষ্টি।আহা! প্রাণটা জুড়িয়ে গেল।

অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় লেখক। ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দে কাটুক। শুভকামনা।

৩৬| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৪

লেজকাটা বান্দর বলেছেন: এক কথায় অসাধারণ। সায়েন্স ফিকশন হিসেবে অসাধারণ, আবেগের যে কাজ দেখিয়েছেন সেটাও অসাধারণ। সব মিলিয়ে অসাধারণ।

আপনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেজকাটা বান্দর ভাই। আপনার প্রশংসা আমার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আপনাদের ভাল লাগে বলেই লেখার সাহস করতে পারি।

অনেক ভাল কাটুক সামনের দিনগুলো, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।

৩৭| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:৪০

অস্পিসাস প্রেইস বলেছেন:
ভালো লাগলো

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:০৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় অস্পিসাস ভাই, অনেক অনেক ভাল লাগল আপনার কমেন্ট পেয়ে। এক বাক্যে যে ভাল লাগা জানিয়েছেন, ঠিক ঠিক অনুভব করতে পারছি আপনার ভাললাগাটা। অনেক ধন্যবাদ।

সামনের দিনগুলো ভাল কাটুক, অনেক শুভকামনা রইল।

৩৮| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:০০

মাসুম আহমদ ১৪ বলেছেন: একটা চমৎকার সাইফাই পড়লাম

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:০৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ভাল লাগল, আপনার ভাল লাগা ছুয়ে গেল। আপনারা সাহস দেন বলেই না লিখতে পারি। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন সবসময়। শুভকামনা রইল।

৩৯| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:০৯

এই সব দিন রাত্রি বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে কিছুক্ষন চুপচাপ বসে রইলাম। অসম্ভব সুন্দর লিখেন আপনি। যন্ত্র-মানব-বিধাতা আর মা; সব চরিত্র গুলোকে সঠিক রুপায়ন করেছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ দেবদূত ভাই

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:২২

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় এই সব দিন রাত্রি ভাই, আপনাদের এত এত ভাল লাগা, এত আবেগ, এত প্রতিদান! আমি সত্যি আপ্লুত। কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কি করতে পারি।

"যন্ত্র-মানব, বিধাতা, মা" আপনি এই তিনটি শব্দ দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পের সারসংক্ষেপ লিখে দিয়েছেন। যথার্থ পর্যবেক্ষণ, আমি মুগ্ধ।

অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দে কাটুক। প্রিয় মানুষগুলোর কাছে ভালভাবে ফিরে যান, শুভকামনা রইল।

৪০| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:২০

লেখোয়াড় বলেছেন:
নতুন গল্প!!

পড়তে হবে, তারপর...............

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:২৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: সুপ্রিয় লেখোয়াড় ভাই, ভাল লাগল আপনার ব্যাপক আগ্রহ দেখে, হা হা হা।

আপনার চমৎকার সমালোচনার অপেক্ষায় রইলাম। শুভকামনা।

৪১| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ২:৩৫

পারভেজ বলেছেন: গল্পের নাম, সূচনার ভেতর দিয়ে শেষটা কিছুটা আঁচ করা যায়; কিন্তু মুল আকর্ষনটা তার বলনভঙ্গীতে, একটানে পড়ে যাবার আগ্রহটা কোথাও ভাটা পড়ার যো নেই। রোবটিক্স এর উপর আরো লেখা পাবো আশা করি।

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ২:৫০

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় পারভেজ ভাই, আপনাকে এই গল্পে পেয়ে খুব ভাল লাগল। সাধরনত আমি গল্পের নাম এমনভাবে ঠিক করি যাতে তা সম্পূর্ণ গল্পকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারে। এটার একটা ডিমেরিটও আছে, কিছুটা প্রেডিক্টটেবল হয়ে যায় :(

এ গল্পের মূল ব্যাপারটা ছিল মাতৃত্বের কাছে একে একে সূত্রগুলো বাইপাস হওয়া। সব মনযোগ আসলে সেদিকেই ছিল। চমকের দিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি, সেটা এই গল্পের একটা দুর্বলতা হিসাবে ঠিকই চিহ্নিত করেছেন। দিন দিন অনেক কিছুই শিখছি, আপনাদের উপদেশ খুব কাজে লাগছে, থ্যাংক্স এ লট; :)

ভাল থাকুন, প্রিয় বড় ভাই; সামনে দিনগুলো আনন্দে কাটুক। শুভকামনা রইল।

৪২| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২১

অস্পিসাস প্রেইস বলেছেন:
You are auspicious. Please accept my praise.

২২ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:১১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: I am honored. Thanks a lot

৪৩| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৫

নেক্সাস বলেছেন: ভাই সামুর দূর্দান্ত গল্পকারদের মধ্যে আপনি একজন।

অনেক ডারুন লিখেছেন

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:০৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় নেক্সাস ভাই, কি যে বলবো ভেবে পাচ্ছি না! আমি কিই আর লেখি? আমার লেখার চেয়ে আপনাদের ভালবাসার পরিমান অনেক বেশিরে ভাই, সেটাই আমার জন্য অনেক পাওয়া।

আপনার ভাল লাগা ছুঁইয়ে গেল। অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দে কেটে যাক। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।

৪৪| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:২২

তাসনুভা সাখাওয়াত বীথি বলেছেন: কিছুক্ষনের জন্য রোবটের রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম। সত্যি মন খারাপ করে দেওয়া অসাধারণ একটি সায়েন্স ফিকশন !! :(

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:০৯

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু, আপনার কমেন্টের ভাল লাগা আমাকে ছুঁয়ে গেল। আপনার ভাল লেগেছে শুনে আমারো বেশ ভাল লাগছে।
অনেক ভাল থাকুন, সামনের দিনগুলো আনন্দে কাটুন, শুভকামনা রইল।

৪৫| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:৩৭

লেখোয়াড় বলেছেন:
প্রিয় মানুষ।

গল্পটা সেদিন পড়েছিলাম, আজ আবার পড়লাম।
কৃত্রিম মায়ের ভিতর অকৃত্রিম মাতৃত্ব ফুটিয়ে তুলে গল্পটির নামটি স্বার্থক করেছেন প্রথমেই এটা বলে নিলাম, কেননা নামকরণের যুক্তিসঙ্গতা আমার কাছে অত্যন্ত জরুরী এবং অনস্বীকার্য।

আমি ভাবছি কৃত্রিম মাকে বাস্তবে একটি সন্তান না পাওয়া মায়ের ভূমিকায় দাঁড় করিয়ে দিলে কেমন হয়। যেমন হয় সেটা আপনি আপনার স্বভাবজাত জ্ঞান আর বিচক্ষণতায় তুলে ধরেছেন। আপনার অস্তিঃমজ্জায় গল্পলেখার একটি স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়া মিশে আছে, আপনি কতটুকু বুঝতে পারেন জানি না, তবে আমি বলবো গল্প বা অন্য কিছু লেখা আপনি ছেড়ে দিবেন না।

গত কয়েকদিনে আপনার লেখা পড়ে যে ধারনাটি পেয়েছি সেটা হলো, আপনার লেখাগুলো শুধু চিত্তেনোদন নয়, অনেকটা জীবন দর্শনের মতো অনেককিছু ফুটে ওঠে, এই গল্পেও বেশ কয়েকটি লাইন বা কথা বলেছেন এমনই। এত ঘন বুনোটে জীবনেবোধের মধ্যদিয়ে অত্যন্ত সাবলিলভাবে দৃশ্যগুলি অঙ্কিত করে চরিত্রগুলিকে মুহূর্তেই অর্থবহ করে তুলতে পারা অত্যন্ত প্রসাংশার দাবী রাখে, সে প্রসাংশা আপনার প্রাপ্য।

মানুষের স্বাভাবিক জীবনচর্চার বাইরে এসে বিজ্ঞান আর অঙ্ক নিয়ে গল্প লেখা আমার কাছে অত্যন্ত কঠিন অথচ আপনি তা কত সহজে আর অনায়াসেই করে চলেছেন। আমার বিস্ময়টি আপনাকে নিয়ে এখানেই।

বাংলাসাহিত্যে অনেকদিন থেকে সৈয়দ মজতুবা আলীর অভাববোধ করি, আপনার আগের গল্পটি পড়ে মনে হয়েছিল আমাদের মজতুবা আলী হয়তো আবার মর্তে এসেছেন, আমি মনে করি কল্প কাহিনীর বাইরে এসে যদি সাধারণ মানুষকে নিয়ে গল্প লেখেন তো সেখানেও একজন সত্যিকার গল্পকারকে পাবো আমরা। যদিও আমি আপনার সব গল্প পড়িনি।

অনেক দেরিতে কথা বললাম এখানে, প্রিয় শান্তিময় মানুষ আশাকরি কিছু মনে করবেন না, আমিও অনেক ব্যস্ত থাকি কিনা! আপনার যে বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে তা হলো, লেখক বা স্রষ্ঠাহিসাবে আপনার ভিতরে এতটুকু অহংবোধ নেই। যতটুকু সহজ ও সরল থাকা যায় সেই স্তর থেকেই আপনি সবার সাথে কথা বলেন।

আজ এ পর্যন্ত।
সময় নিয়ে আবার কথা হবে।
ভাল থাকুন।



২৬ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১:৫৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় লেখোয়াড় ভাই, আপনার কমেন্টখানা হৃদয় ছুঁয়ে গেল। কি অকৃত্রিম প্রশংসা, একটু লজ্জা মিশ্রিত ভাল লাগার মত অনুভব হলো।

আপনি ঠিকই বলেছেন; আমার চেষ্টা থাকে গল্পের পাশাপাশি জীবন দর্শন নিয়ে কিছু বাক্য ইজেক্ট করার। সেটা কতটা সূক্ষ্ণভাবে ও স্বার্থকভাবে করতে পারি সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে; তবে চেষ্টা করি আর কী! শুধু পড়ে গেলাম, কিন্তু মনে কোন ছাপ পড়ল না, আবেগ ও বিবেককে নাড়া দিল না; সেরকম লেখা লিখেতে ইচ্ছা করে না।

আমার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে; আমি কোন দিনই সাহিত্যের ভাল ছাত্র ছিলাম না, যদিও পাঠ্য বই এর বাইরে অনেক কিছুই পাঠ করেছি মাত্র; তাই বাক্য গঠন, বানান ও ভাষার অলংকার নিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। আপনার মত মহৎ হৃদয় বন্ধুরা এইসব সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে আমার ক্ষুদ্র শিক্ষানবীস লেখাকে যেভাবে অনুপ্রাণিত করেন; সত্যি আমি কৃতজ্ঞ। অনেক বেশিই প্রশ্রয় পাচ্ছি আপনাদের ভালবাসায়।

কল্প-গল্পের বাইরেও আমার কিছু ছোট গল্প, রম্য আছে। একটা সিরিজ আছে "সুরুজ আলী--............" নামে সেটা পুরোপুরিই ব্যঙ্গধর্মী রম্য রচনা। তিনটা পর্ব লিখে আর লিখিনি। আবার শুরু করার ইচ্ছা আছে ঐ সিরিজটা।

সৈয়দ মজতুবা আলী একজন নক্ষত্রসম লেখক, আমাকে লজ্জাই ফেলে দিলেন প্রিয় মানুষ।

কি যে বলেন না! দেরিতে কথা বলায় কিছু মনে করবো কেন? আমার উদ্দেশ্যতো পাঠক যেন আমার লেখা পড়ে আনন্দ পায়, কিছুটা হলেও ভাবে; এই তো আমার স্বার্থকতা। কমেন্ট তো আমার জন্য অনুপ্রেরনা মাত্র, যেটা আপনার মত লেখক বন্ধুরা নিঃস্বার্থভাবে করেন।

অহংকার তো গুপ্তঘাতক! অহংবোধ যেন আমাকে কখনো গ্রাস করতে না পারে সেদিকে সদা সচেষ্ট থাকি,

এত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিয়ে এত বড় ও চমৎকার কমেন্ট করেছেন, আমি অবিভূত। অনেক ভাল থাকুন, সামনের দিন গুলো আনন্দে কাটুক। শুভকামনা রইল।

৪৬| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৫৭

না পারভীন বলেছেন: কয়েক ফোটা অশ্রু জমে আছে চোখে ,আর কিছুই বলার নেই

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৪৩

শান্তির দেবদূত বলেছেন: এই কয়েক ফোটা অশ্রুর অনেক মূল্য আপু, কিছুটা হলেও আমার গল্প লেখাটা স্বার্থক হয়েছে। মা নিয়ে মাতৃত্ব নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম, আপনাদের কমেন্টগুলো পড়ে পড়ে আমার নিজেরই চোখ ভিজে আসে, মনে হয় উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। মা নিয়েই শুধু এই আবেগ সম্ভব। দুনিয়ার সকল মা ভাল থাকুক।

আপনি অনেক কোমল হৃদয়ের মানুষ বুঝা যাচ্ছে, না হলে সাধারন এই গল্প পড়ে কেউ কি এত আপ্লুত হয়!

অনেক শুভকামান রইল আপু, সামনের দিনগুলো ভাল কাটুক।

৪৭| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:২৫

মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: দেবদূত ভাইয়া, আপনার এই সাইফাইটা পড়লাম। মুগ্ধ। কতোটা ভালো লেগেছে ভাষায় প্রকাশ করার সামর্থ্য নাই। রোবটের জবানীতে বললেও আসলে পুরো গল্পতে চিরন্তন এবং সার্বজনীন মাতৃত্বই মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে। শুরুর দিকে আজিমভের রোবটিক্সের তিন সূত্র দেখে নস্টালজিক হয়ে গিয়েছিলাম। জীবনের একটা সময় গেছে যখন শুধু আজিমভ গিলেছি।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৪৬

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় মহামহোপাধ্যায় ভাই, খুব ভাল লাগল আপনার কমেন্ট পেয়ে। আপনি সবসময়ই এত চমৎকার উৎসাহপ্রদ কমেন্ট করেন যে ইচ্ছে করে এখনি ঝাপিয়ে আরেকটা গল্প লিখে ফেলি, হা হা হা। সবই আপনার মহৎ হৃদয়ের পরিচায়ক।

আপনি ঠিকঠিক গল্পে মূল থিমটা অনুধাবন করতে পেরেছেন, সার্বজনীন মাতৃত্ব ফুটিয়ে তোলাই এই গল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য।

আর আজিমভের কথা নাই বা বললা, আহা কি মধুর অতীত! কত রাত, কত দিনই না কাটিয়েছি তার বই এ মুখ গুজে!!

৪৮| ০১ লা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৩

মনিরা সুলতানা বলেছেন: মা এর জন্য ভালবাসা ...।।

০১ লা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৬

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ভাল লাগল আপনার কমেন্ট পেয়ে। মা এর জন্য ভালবাসা, মা এর জন্য পৃথিবী, মা এর জন্যেই এই দুনিয়া, মা ই সব। আপনি সুন্দর করে এক বাক্যে গল্পের মূল থিমটা তুলে এনেছেন, ভাল লাগল অনেক। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।

৪৯| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৩৫

বোকামন বলেছেন:
নতুন গল্পের খোঁজে আসছিলুম
জানান দিয়ে গেলুম

অফলাইনে আপনার অধিকাংশ পুরনো পোস্টগুলো ইতোমধ্যে পড়ে ফেলেছি :-)
সময় সংকটে মন্তব্য করা হয়নি :-(

সব ভালোলাগা এখানেই রেখে গেলুম । নগণ্য পাঠকের ভালোলাগা যতনে রাখবে কিন্তু !

ভালো থাকুন ।।

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:০৭

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় লেখক, প্রিয় পাঠক ও প্রিয় বন্ধুপ্রতিম সহব্লগার, আমি সত্যি আপ্লুত হয়ে গিয়েছি। তুচ্ছ আমার লেখাগুলো আপনি এত সময় দিয়ে পড়েছেন! এ তো আমার জন্য অনেক অনেক পাওয়া!

আরে কি যে বলেন না! কমেন্ট নিয়ে তো আমি মোটেও চিন্তিত নই, আমার লেখালেখির কেমন মাত্র এবং একমাত্র উদ্দেশ্য হলো যেন কেউ পড়ে। শুধুই পড়ে। কমেন্ট তো আমার জন্য উপরি পাওয়ার মত। আপনি এত ব্যস্ততার মধ্যেও আমার পুরনো লেখা খুঁজে খুঁজে পড়েছেন! ভালোলাগা জানিয়েছেন! আমি তো হাওয়ায় ভাসছি!

আপনার এই ভালোলাগা সংরক্ষণ করে রাখলাম হৃদয়ে। প্রিয় বোকামনের ভালোলাগা বলে কথা!

ভাল থাকুন, সুপ্রিয়।

৫০| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:০৭

বোকামানুষ বলেছেন: অসাধারণ একটা লিখা

অসম্ভব ভাল লেগেছে মায়ের সাথে পৃথিবীর কোন কিছুর তুলনা না হয় না

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:৪৮

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার এই তুচ্ছ লেখাগুলো পড়ে আপনারা যে উৎসাহ দেন সেটাই আমার জন্য অনেক। সে কারনেই এগুলো লেখার আগ্রহ পাই। আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমারও অনেক ভাল লাগছে।

সামনের দিনগুলো ভাল কাটুক, শুভকামনা রইল।

৫১| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:০৬

ধূর্ত উঁই বলেছেন: কৃত্রিম মা ও অকৃত্রিম মাতৃপ্রকৃতি মাকে নিয়ে চমৎকারউপলব্ধি ব্যক্ত হয়েছে।কল্পগল্প ভাল লেগেছে। :)

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:০১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ ধূর্ত উঁই ভাই। (আপনার নিকটা অদ্ভুত! হা হা হা) আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লেগেছে, আপনাদের ভাল লাগে বলেই না লেখালেখির চালিয়ে যাচ্ছি সাহস করে। কৃতজ্ঞতা জানবেন।

ভাল থাকুন, শুভকামনা রইল।

৫২| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৮

আদনান শাহ্‌িরয়ার বলেছেন: গল্পটা পড়ার আগে , আমী তিনবার পড়েছি , প্রতিবার পড়ার পর নিজেকে প্রশ্ন করেছি, এই গল্পে মন্তব্য করার মতো যোগ্যতা কি তোমার আছে ?? শেষমেশ সাহস করেই ফেললাম । আর সাহস যখন করলামই তখন দুঃসাহসই করি, যে কারনেই হোক গল্পের শুরু থেকেই আমি বুঝতে পারছিলাম শেষে কি হবে তাই বারবার আশা করছিলাম আমি যেটা ভাবছি সেটা যেনও না হয়, সম্পূর্ণ নতুনভাবে কাহিনীর শেষ হোক । কিন্তু সেটা হয়নি । অপ্রথাগতভাবে শেষ করলে গল্পটা হয়তো চোখে পানি এনে দিতো না তবে সেটা পথ প্রদর্শক হতো । আর মূল যে কথা, গল্পটা যেভাবে যে টানে আপনি শেষ করেছেন তাতে আপনার লিখনির মুনশিয়ানার আরেকবার ভক্ত হয়ে গেলাম । স্যালুট এবং প্রিয়তে ।


বাই দ্যা রাস্তা, আপনার এই গল্পের সেকুয়েল করা যায়না?? যেখানে রেহায়া স্মরণে রোবটকে মাতৃত্ব এর অনুভূতি দেওয়া হবে তবে তারা জন্ম দিতে পারবে না, দত্তক নিতে পারবে মানুষ অথবা অন্য কোনও রোবটকে ??

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৪০

শান্তির দেবদূত বলেছেন: প্রিয় আদনান ভাই, আপনার কমেন্টটি পড়ে কিছুক্ষন চুপ করে বসেছিলাম, কি বলব ভেবে পাচ্ছি না! কয়েকবার করে পড়লাম। এত ভালোলাগা, আবেগ কি আসলেই আমি প্রাপ্য? কি জানি! মাঝেমাঝে মনে হয় আপনাদের মহৎ হৃদয় উৎসারিত আবেগের দরুন একটু বেশিই প্রশ্রয় পাচ্ছি। অনেক ভাল লাগল আপনার কমেন্টখানা, একেবারে হৃদয় ছুঁইয়ে গেল।

আর দুঃসাহস বলছেন কেন? আপনি খুবই চমৎকার একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সত্যি বলতে কি আমি তো একেবারেই শিক্ষানবীস লেখক, তাই আপনার মত বোদ্ধা বন্ধুপ্রতিম পাঠকদের এই সকল পর্যবেক্ষণগুলো খুব কাজে লাগে পরবর্তি লেখা গুলোর ক্ষেত্রে। আপনার কমেন্ট পড়ে আজ নতুন একটা জিনিস জানলাম, "প্রথাগত বনাম পথ প্রদর্শক সমাপ্তি"। কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা পাচ্ছি না। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সেকুয়েলের কথা ঠিক এই মুহূর্তেই ভাবছি না, তবে আপনার পরামর্শটা নিঃসন্দেহে চমৎকার ও ভেবে দেখার মত। এটা না হয় ভবিষ্যতের খাতায় জমা থাকুক।

অনেক ভাল থাকুন, শুভকামনা রইল।

৫৩| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৪৪

সদয় খান বলেছেন: অসাধারণ ।।। এতক্ষন দম বন্ধ রাখতে পারলে পড়ার পুরোটা সময়ই দম বন্ধ রাখতাম ।

১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১:০১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ প্রিয় খান ভাই, আপনার চমৎকার উৎসাহব্যাঞ্জক কমেন্ট পেয়ে ভাল লাগল। আপনার পড়ে, সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করে আরও লেখার উৎসাহ দেন, ভাললাগা জানান; এই তো চাই। ভাল থাকুন, শুভকামনা রইল।

৫৪| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ ভোর ৫:৫৮

রেজওয়ানা আলী তনিমা বলেছেন: দারুন হৃদয়ছোঁয়া গল্প। ভালো লাগলো খুব।শুভেচ্ছা।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:১৬

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় লেখক। আপনার ভালো লাগা আমাকেও ছুঁইয়ে গেল। অনেক ভালো কাটুল আপনার সময়। শুভকামনা রইল অনেক।

৫৫| ২০ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ১০:৩৮

আম্মানসুরা বলেছেন: অসাধারন!!! চমৎকার!!!!!

মুগ্ধপাঠ!!

২৩ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৩:৩১

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকুন, শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

৫৬| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:২২

ইমিনা বলেছেন: আরো অরো লেখা চাই।
অনেক অনেক লেখা চাই।।

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১:৩১

শান্তির দেবদূত বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ইমিনা আপনাকে, ইচ্ছা আছে নিয়মিত লিখে যাওয়ার, আপনাদের এমন উৎসাহের জন্যেই তো লেখা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক ভালো লাগল আপনার চমৎকার কমেন্ট পেয়ে। ভালো থাকুন, সমনের দিন গুলো আনন্দে কাটুক, শুভকামনা রইল।

৫৭| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৮:৫৫

নমিতা নায়ান বলেছেন: কল্প-গল্পে মুগ্ধতা। বারবার পড়লেও মুগ্ধতা কমবে না বরং বাড়বে। এরকম লেখা আরো চাই

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:৫৪

শান্তির দেবদূত বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ নমিতা নায়ান আপনাকে। আপনার মুগ্ধতা সুন্দর করেই প্রকাশ পেয়েছে চমৎকার এই কমেন্টে। পাঠকের মুগ্ধতাই তো একজন লেখকের জন্য পরম পাওয়া।

অনেক ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল নিরন্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.