| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হাদীসের শুদ্ধায়ন ও দুর্বলায়ন অত্যন্ত নাজুক কাজ।এর মধ্যে মুজতাহিদগণের মতপার্থক্য হতে পারে। একজন মুজতাহিদের কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করার অর্থ হল, হাদীসটি তাঁর কাছে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার উপযোগী অর্থাৎ হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাঁর কাছে প্রমাণ বিদ্যমান আছে।
সুতরাং তার বিপরীত হিসেবে অন্য কোনো মুহাদ্দিসের কথা পেশ করা সমীচীন নয় যে, তাঁর হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা একজনের কাছে দলীল প্রমাণ না থাকা অন্যজনের বিরুদ্ধে যেতে পারে না। একজন মুজতাহিদের উক্তি অপর মুজতাহিদের বিরুদ্ধে দলীল নয়।
কখনও এরুপ হয় যে, আগের ব্যক্তি, যেমন, ইমাম আবু হানিফা (র) এর নিকট একটি হাদিস বিশুদ্ধ সনদে পৌছেছে।উদাহরণ,
রাবী ১…………….রাবী ২………….রাবী ৩…………..ইমাম আবু হানিফা (র)।
এখানে ৩ জন রাবীই নির্ভরযোগ্য।
অর্থাৎ হাদীসটি ইমাম আবু হানিফা (র) এর নিকটে বিশুদ্ধ সনদে পৌঁছেছে।
কিন্তু তাঁর পরবর্তীকালে উক্ত হাদীসের বর্ণনা সূত্রে একজন দুর্বল বর্ণনাকারী এসে পৌঁছেছে। উদাহরণ,
রাবী ১……….রাবী ২…………রাবী ৩………….রাবী ৪……….রাবী ৫…..রাবী ৬…………রাবী ৭…………রাবী ৮(দুর্বল)……..রাবী ৯……..রাবী ১০……..ইমাম বুখারী (র)।
যদ্দরুন পরবর্তীকালের লোকেরা সেটাকে দুর্বল ঘোষণা করেছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে , পরবর্তীদের এ দুর্বল অভিহিতকরণ ইমাম আবু হানিফা (র) এর বিরুদ্ধে দলীলরুপে দাঁড় করানো যাবে না। হানাফী মাযহাব অনুসরণকারী ব্যতীত অপর আলেমগণও এ মূলনীতির সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
এজন্য জরুরী নয় যে, যে হাদীস ইমাম বুখারী (র) এর সময়কালে দুর্বল আখ্যায়িত হয়েছে সেটা পূর্ববর্তীকালেও দুর্বল ছিল।
হাফেয ইবনে সালাহ্ (র) স্বীয় ‘মুকাদ্দামা’য় লিখেছেন, আমরা যখন কোনো হাদীসকে সহীহ তথা বিশুদ্ধ আখ্যায়িত করি , তখন তার অর্থ এই নয় যে, তা বাস্তবে নিশ্চিতরূপে বিশুদ্ধ হবে। বরং এর অর্থ হচ্ছে, তাতে সহীহ তথা বিশুদ্ধতার ‘শাস্ত্রগত’ সেসব শর্ত বিদ্যমান, যা হাদীস শাস্ত্রবিদগণ ‘সহীহ’ এর জন্য নির্ধারণ করেছেন। অতএব, প্রবল ধারণা হচ্ছে, সেটা বাস্তবে সহীহ হবে। কেননা বাস্তবে বিশুদ্ধতার বিশ্বাস সনদের পারস্পর্য ছাড়া অর্জিত হয় না।
সুতরাং সহীহ বলে আখ্যায়িত কোনো হাদীসেও বাস্তবে ভ্রান্তি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।
কেননা বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী দ্বারাও ভূল ভ্রান্তি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।তাছাড়া কোনো বর্ণনাকারীর কোনো অলীক ধারণা সৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
তবে এ সম্ভাবনার উপর তখন পর্যন্ত আমল করা বৈধ নয় , যখন পর্যন্ত সেই সম্ভাবনার প্রমাণ পূর্বাভাস ও অপরাপর শক্তিশালী দলিল প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত না হবে। অতএব অপর শক্তিশালী দলিল প্রমাণ যদি নির্দেশ করে যে, উক্ত হাদীসের বর্ণনায় কোনো বর্ণনাকারীর অলীক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে সহীহ হলেও সে হাদীস বর্জন করা যেতে পারে।
এভাবে আমরা যখন বলি , অমুক হাদীস দুর্বল, তখন তার অর্থ এই নয় যে, সেটা বাস্তবেও দুর্বল এবং মিথ্যা।
বরং তার অর্থ, তাতে সহীহ বা হাসান হাদীসের শাস্ত্রসম্মত শর্তাবলী পাওয়া যায় নি। যদ্দরুন সেটি এতটুকু নির্ভরযোগ্য নয় যে, তার উপর শরীআতের কোনো মাসআলার ভিত্তি স্থাপন করা যায়। অন্যথা, এ সম্ভাবনা রয়ে যায় যে , দুর্বল বর্ণনাকারী সম্পূর্ণ নির্ভূল বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। কেননা দুর্বল বর্ণনাকারীও সদা সর্বদা ভূল করেন না।
কিন্তু এরূপ সম্ভাবনার উপর ততক্ষণ পর্যন্ত আমল করা যাবে না, যে পর্যন্ত না অন্যান্য দলীল প্রমাণ দ্বারা সেটি প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
অনেক সময় এরূপ হয় যে, কোন মুজতাহিদের নিকট এরূপ শক্তিশালী প্রমাণ বিদ্যমান থাকে, যেগুলোর ভিত্তিতে তিনি দুর্বল সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোন সহীহ হাদীস বর্জন করেন, অথবা, দুর্বল হাদীস গ্রহণ করেন।
এ অবস্থায় তাকে বিশুদ্ধ হাদীস বর্জনকারী অথবা দুর্বল হাদীসের উপর আমলকারী বলা যাবে না।
বেশি করে শেয়ার করুন......এই পোস্টটি সবার জানা জরুরী।
©somewhere in net ltd.