| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডাক্তার সাহেব এক অনুষ্ঠানে রক্ত বের হলে অজু ভাঙ্গা-না ভাঙ্গার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘কতিপয় ওলামায়ে কিরাম বিশেষত হানাফী মাযহাবের অনুসারী ওলামায়ে কিরামের মতে রক্ত বের হলে অজু ভেঙ্গে যায়। নামাযের মধ্যখানে রক্ত বের হলে কি করতে হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তার ফতোয়া (হানাফীদের ফতোয়া) এক প্রকারের বাড়াবাড়ি, অথচ এই মাযহাবের স্বপক্ষে স্পষ্ট কোন দলিল নেই’
এখানে ডাক্তার সাহেব ফিকহে হানাফীর সংশ্লিষ্ট ওলমায়ে কিরামের বিরোদ্ধে অভিযোগ করলেন যে, তারা বিনা দলিলে অজু ভাঙ্গার কথা বলেন। অথচ রক্ত বের হলে অজু ভাঙ্গার স্বপক্ষে অসংখ্য হাদিস রয়েছে, এবং সাহাবায়ে কিরামের আমলও তার উপর ছিল। নিম্নে তার কিছু বর্ণনা তুলে ধরা হল।
(১)
أخرج البخاري عن عائشة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا , حَدَّثَتهُ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُسْتَحَاضُ ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلا أَطْهُرُ ،أَفَأَدَعُ الصَّلاةَ أَبَدًا ؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ ، وَلَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ ، فَإِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ فَاتْرُكِيالصَّ لاةَ ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي. قال هشام : قال أبي ثم توضئي لكل صلاة حتي يجيئ ذلك الوقت.
অর্থঃ হযরত আয়শা রা. বলেন, হযরত ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশ রা. হায়য অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলা ইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি হায়য হলে (দশ দিনের পরও) পবিত্র হই না। (দশ দিনের পরও) কি নামায ছেড়ে দিব? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহা তো শরীরের ঘাম, হায়য নয়। হায়য হলে নামায পড়বে না। আর হায়য বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ধুয়ে নামায পড়বে। হিসাম বলেন, আমার পিতা বলেন, অতপর প্রত্যেক নামাযের জন্য অজু করবে,আর এই অজু ওয়াক্ত বাকি থাকা পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।( বুখারি শরিফ)
(২)
اذارغف احدكم في صلاته فلينصرف فليغتسل عنه الدم ثم ليعدوضوءه ويستقبل صلاته أخرجه الدارقطني.
অর্থঃ নামাযের মধ্যে যদি কারো নাক থেকে রক্ত বের হয় তখন সে রক্ত ধুয়ে পুনরায় অজু করবে।
(৩)
عن زيدبن ثابت –رضي الله عنه- الوضوء من كل دم سائل. أخرجه ابن عدي في الكامل
অর্থ: প্রবাহিত রক্তের কারণে অজু করতেহয়।
এছাড়া আরো অনেক হাদিস থাকা সত্তেও ডাক্তার সাহেব আপন অজ্ঞতাকে গোপন করেমুজতাহিদ সেজে বলে দিলেন, ‘রক্ত দ্বারা অজু ভাঙ্গার ব্যাপারে কোন দলিল নেই’।
©somewhere in net ltd.