| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আরও জানতে ১
ইংরেজরা দেখল এদেশের মুসলমানরা তাদের ধর্মের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ। তাই ইংরেজরা তাদের বহুল প্রচলিত “ডিভাইট এন্ড রোলস” তথা “পরস্পরে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের উপর শাসন করা হবে” এই নীতি বাস্তবায়িত করতে উঠেপরে লেগে গেল। মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় বিভেদ-ক
োন্দল সৃষ্টির জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে দিল। টাকা দিয়ে, অর্থ সম্পদ দিয়ে, বিত্ত-বৈভব দিয়ে কিছু দুনিয়ালোভি আলেমদের নির্বাচিত করে। অবশেষে ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের ফসল হয়-মীর্যা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী, বেরেলবী। তাদের শামসুল ওলামার উপাধী দেয়।
অথচ জেলে গেলেন, শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহঃ, শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ কে যেতে হল মাল্টার জেলে। থানবী রহ. “ইংরেজদের পণ্য ক্রয় করা হারাম” হবার ফাতওয়া দিলেন। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহঃ ও কাসেম নানুতবী রহঃ এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী হল। রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহঃ কে আদালতে ডাকা হল। যা স্পষ্টই প্রমাণ করে যে, তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে কতটা অগ্নিগর্ভ ছিলেন। আর ইংরেজরা তাদের কতটা ভয় পেত। স্বাধীনতার জন্য তারা কতটা উদ্বেগ নিয়ে কাজ করেছেন। আর কতটা মাথ্যাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারা ইংরেজদের।
“আহলে হাদীস” নাম রাণী ভিক্টোরিয়ার দেয়া নাম!
একদিকে হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ এর ফাতওয়া যে, “ইংরেজদের দলে ঢুকা হারাম”। আর আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর ফাতওয়া যে, “ইংরেজদের পণ্য ব্যবহার হারাম”।
অপরদিকে ইংরেজদের পদলেহী, পা চাটা গোলাম একদল ঈমান বিক্রেতাদের ক্রয় করে নিল। তাদের মাঝে ছিল বাটালবী। তাদের মাঝে একজন কিতাব লিখল-“আল ইকতিসাদ ফি মাসায়িলিল জিহাদ”। যাতে সে লিখে যে, ইংরেজদের শাসন ইসলামী রাষ্ট্র। আর ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম।
এই বই লিখার পর তাকে শামসুল উলামা উপাধী দেয়া হয়, তাকে মেডেল দেয়া হয়। অনেক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
যখন এদেশের মানুষ দেখল যে, ওরা ইংরেজদের দালাল। তখন তাদের “ওহাবী” বলে গালি দেয়া শুরু হয়। ওহাবী সেই যুগে তাদের বলা হত-যারা দেশের গাদ্দার। দেশদ্রোহী। ওরা যেখানেই যেত সাধারণ মানুষ তাদের দেখে বলত-এইতো ওহাবী চলে এসেছে। ওরা বাজারে গেলেও তাদের মানুষ বকা দিত-সবাই বলত বাজারে ওহাবী চলে এল।
যখন তাদের সবাই ঘৃণার চোখে দেখতে লাগল, তখন নিজেদের সম্মানিত করার জন্য ওরা রাণী ভিক্টোরিয়ার কাছে গিয়ে আবেদন করল যে, আমরাতো আপনাদের কথা অনুযায়ী কিতাব লিখে আপনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হারাম বলেছি, এখন আমাদের সবাই ধিক্কার দিচ্ছে। গালি দিচ্ছে “ওহাবী” বলে। আমাদের জন্য সম্মানজক কোন পদবীর ব্যবস্থা করুন। তখন তাদের নাম দেয় রাণী ভিক্টোরিয়া “আহলে হাদীস”। এই হল আহলে হাদীসদের প্রতিষ্ঠার প্রকৃত ইতিহাস।
নিজেদের সংগঠনের রেজিষ্টার করায় ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে। অথচ দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার জন্য ইংরেজদের কাছে যাওয়া হয়নি। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহঃ ও আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর খানকার অনুমোদনের জন্য ইংরেজদের কাছে যাওয়া হয়নি। কারণ তারাতো ইংরেজদের শাসন মানেন নি। তাদের শত্রু। তাদের থেকে অনুমোদন নেবার প্রশ্নই উঠেনা। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাই হয়েছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য।
কিন্তু ইংরেজদের দালাল কথিত আহলে হাদীস গ্রুপ নিজেদের দালালিপনা পূর্ণ করার জন্য ইংরেজদের কাছ থেকে অনুমোদনকৃত নাম নেয় “আহলে হাদীস”।
এই আহলে হাদীস নাম কুরআন সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত নাম নয়। এটা বুখারী থেকে প্রাপ্ত নয়, এটা সিহাহ সিত্তার কিতাব থেকে প্রাপ্ত নয়। এটা ইংরেজদের থেকে প্রাপ্ত নাম। ওরা সর্ব প্রথম ফিরক্বা আহলে হাদীস নামে আবির্ভূত হয়। ওদের মূল নমুনা দেখা যায় আব্দুল্লাহ বিন সাবার কর্মকান্ড থেকে। আব্দুল্লাহ বিন সাবা যেমন মুসলমনাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে সুচারুভাবে। ঠিক একই কাজ করছে এই ইংরেজ প্রসূত দল গায়রে মুকাল্লিদ আহলে হাদীস গ্রুপ।
ওরা বলে যে, সে সময় ইংরেজ শাসন ছিল, তাই তারা তাদের থেকে রেজিষ্টার করেছে। ইংরেজদের দালালী করার জন্য নয়।
ইংরেজদের দালালদের আমরা বলি-যদি রেজিষ্টার করা এতটাই দরকার হত, কাসেম নানুতবী রহঃ কেন দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করতে ইংরেজদের থেকে রেজিষ্টার দরকার হয়নি কেন? রশীদ আহমাদ গঙ্গুহী রহঃ এর কেন দরকার হয়নি। কেন হাজী মুহাজেরে মক্কী রহঃ এর কেন দরকার হয়নি? কেন আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর তার খানকার রেজিষ্টারের কেন দরকার হয়নি?
একটাই কারণ দেওবন্দী ওলামায়ে হযরাতের ইংরেজদের দালালী করার দরকার হয়নি। তাদের পা চাটতে তারা পারবেন না। তাই তাদের ইংরেজদের পদলেহন করে রেজিষ্টার করারও দরকার হয়নি। অপরদিকে গায়রে মুকাল্লিদরা সাধারণ মানুষের দালাল গালি শুনা থেকে বাঁচার জন্য ইংরেজদের বাচ্চা এই আহলে হাদীসদের নিজেদের সংগঠনের নাম আহলে হাদীস মঞ্জুর করাতে হল। ওদের স্থান কোথাও ছিলনা, কেউ তাদের আশ্রয় দেয়নি, না কোন মসজিদে। না কোন খানকায়, না কোন মাদরাসায়। আশ্রয় পেল কেবল রাণী ভিক্টোরিয়ার দরবারে।
যেখানে গোটা ভারত অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে। সেখানে ইংরেজদের পা চেটে নিজেদের মজবুত করে নেয় এই দালাল গোষ্ঠি।
“বিশেষজ্ঞ ছাড়াই নিজে নিজে সব বুঝে নিবে” এমন গাঁজাখুরী কথা ইংরেজদের আমলের আগে কেই বলেনি
ইংরেজদের আসার আগে এরকম কোন দল ছিলনা যারা ফুক্বাহায়ে কিরামকে গালি দিত। ফুক্বাহাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখত। ফিক্বহ সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করে পথভ্রষ্ট করেছে। মাযহাব বিরুদ্ধবাদী কেউ ছিলনা। কেউ একথা বলেনি যে, যে সকল লোক পাক-নাপাকের মাসআলা পর্যন্ত জানে না। নামাযের নিয়ম সঠিকভাবে বুঝেনা, সেই সকল লোক কোন ফক্বীহ এর অনুসরণ ছাড়াই সরাসরি কুরআন সুন্নাহ থেকে মাসআলা বের করে আমল করবে। এরকম গাঁজাখুরী কথা ইতোপূর্বে কেউ বলেনি।
যেমন সকল ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, তেমনি কুরআনে কারীম এবং রাসূল সাঃ লাখ হাদীস থেকে যেটাকে মনে হবে সেটাকেই আমল করবে। কোন মুজতাহিদের দরকার নাই। কারো বুঝানোর দরকার নাই। কোন শিক্ষকের দরকার নাই। জন্ম থেকেই বগলে বুখারী নিয়ে জন্ম নিবে। বুখারী খুলে যা বুঝবে তাই আমল করবে।
এই গাঁজাখুরী দল ইংরেজ আসার আগে ছিলনা। রাণী ভিক্টোরিয়া থেকে রেজিষ্টার করে, অনুমোদিত করে এই বাতিল ফিরক্বা বিভ্রান্তির প্রসার শুরু করে
দয়া করে পুরাটা শনুনঃ মুফতি মনসুরুল হক
আরও জানতে ২
©somewhere in net ltd.