| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
(ক) আল্লাহ বলেনঃ তোমরা যদি না জান তাহলে আল্লাহ্র কিতাব সম্পর্কে যারা অবগত তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। (১৬ : ৪৩)
ইসলামের সঠিক রূপ চেনার ক্ষেত্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহ এবং এই দুইয়ের ব্যাখ্যায় প্রথম তিন প্রজন্মের অবস্থান কি ছিল, তা জানার জন্যই প্রয়োজন হলো আলিমদের।
সাধারণ মুসলিমগণ যেহেতু অনেকেই আরবী জানেন না; আরবী জানলেও যে কোন ব্যাপারে ইসলামের বিধান বা হ
ুকুম (Ruling) কি তা জানার পদ্ধতি এবং উপকরণ তাদের করায়ত্বে নেই, তাই অধিকাংশ ব্যাপারে হুকুম (বিধান) জানতে আলিমদের সাহায্য প্রয়োজন।
এছাড়া আল-কুরআনের কয়েকটি আয়াত কিংবা কিছু সহীহ হাদিস আপাতঃ দৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী হলে, কিভাবে সমন্বয় সাধন হবে, কোনটাকে গ্রহণ করতে হবে, কোনটাকে পরিত্যাগ করতে হবে - এসব ব্যাপার সাধারণ মুসলিমদের জানা থাকে না।
এছাড়া সকল ব্যাপার সাধারণ জ্ঞান কিংবা যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে বুঝা যাবে না। সেসব বুঝার জন্য প্রয়োজন বিশেষ জ্ঞান।
আলী (রাঃ) বলেছেনঃ "যদি দ্বীনের বিধান বুদ্ধিবৃত্তি কিংবা যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে নির্ণিত হতো, তাহলে মোজার উপরের অংশের চেয়ে নীচের অংশ মাসেহ করাই উত্তম হতো"। (সুনান আবু দাউদ – ১৬২, আলবানীর মতে সহীহ, দেখুনঃ সহীহ ও জয়ীফ আবু দাউদ – ১৬২)
(খ) মাতৃভাষায় আল-কুরআন কিংবা সহীহ হাদিস সমূহের সরল অনুবাদ পড়ার সুযোগ অনেকের থাকলেও এসব আয়াত ও হাদিসের ব্যাখ্যা এবং উপলব্ধি(Understanding) প্রথম তিন প্রজন্মের কাছে কি ছিলো, আমরা তাঁদের ব্যাখ্যার বিরোধী কিছু ভাবছি কিনা, তা জানা সাধারণ একজন মুসলিমের জন্য সহজ নয়।
মালিকী মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম ইবনে আব্দুল বার্ (র.) বলেন, ‘পরিস্কারভাবে নস্ (আয়াত/ হাদিস) পৌঁছার কারণে অনেক ক্ষেত্রে (একজন সাধারণ মুসলিমের জন্য) দলিল প্রমাণ জানা সহজ,
বিশেষতঃ যারা সাধারণ লোকদের মধ্যে বুদ্ধিমান তাদের জন্য। তাই ‘তাইয়ামুম হচ্ছে মুখ ও দুই হাতের জন্য একবার মাটিতে হাত ঘষা।’ (আবু দাউদ-৩২৭, আলবানীর মতে সহীহ, দেখুনঃ সহীহ আবু দাউদ - ৩১৮)
এই হাদিসের ব্যাপারে কে বলতে পারবে যে, সাধারণ একজন বুদ্ধিমান মুসলিম এই হাদিস বুঝবে না, অথবা যার জ্ঞান-বুদ্ধি তার থেকেও কম সে বুঝবে না? (আল হাদিস হজ্জাতুন বি নাফছিহী, আলবানী পৃ. ৮৬)
তাই কোন কোন আয়াত ও হাদিস মুহকাম (হুকুমধর্মী) হওয়ায় এবং এ ব্যাপারে আপাতঃদৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী আয়াত বা হাদিস না থাকায়, সাধারণ মুসলিমগণ সহজেই তা বুঝতে পারবেন।
যেমন : সুদ হারাম সংক্রান্ত আয়াত, জ্বিনা হারাম সংক্রান্ত আয়াত বা হাদিস। কিন্তু সকল ব্যাপার এ রকম হবে না। যেমন : আল্লাহ বলেন : হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সলাতের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তোমরা যা বল, তা বুঝতে পার। (৪ : ৪৩)
কোন নও-মুসলিম আল-কুরআনের এই আয়াতের সরল অনুবাদ পড়ে ভাবতেই পারেন, তার মানে কি সালাতের বাইরে মাতাল হওয়া দোষণীয় নয়?
কিংবা আল্লাহ বলেন : "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃতজন্তু, রক্ত, শূকরের গোস্ত, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবহকৃত পশু, আর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত জন্তু, আঘাতে মৃত জন্তু, উপর থেকে পতনের ফলে মৃত, সংঘর্ষে মৃত আর হিংস্র জন্তুতে খাওয়া পশু" (৫:৩)
কোন নও-মুসলিম এই আয়াতের সরল অনুবাদ পড়ে মাছ খাওয়া বাদ দেওয়ার চিন্তা করতে পারেন।
কি্নতু তিনি যদি একই ব্যাপারে রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ হাদিস জানেন, তখন তার ভুল ধারণা দূর হবে। এ ব্যাপারে রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘আমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত জন্তু এবং দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে।
মৃত জন্তুদ্বয় হলো : মাছ এবং পঙ্গপাল (Locust) আর রক্ত দুইটি হলো কলিজা (যকৃত) ও প্লীহা। (মুসনাদে আহমাদ-৫৭২৩, সুনান ইবনে মাজাহ-৩৩১৪, সুনান বাইহাকী-১১২৯, শুয়াইব আল আরনাউতের মতে হাসান, আলবানীর মতে সহীহ, দেখুনঃ সিলসিলা আস সাহীহা - ১১১৮)
(গ) আল্লাহ বলেন : "তোমরা আহার ও পান করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের জন্য কালো রেখা হতে ঊষাকালের সাদা রেখা প্রকাশ না পায়। (২:১৮৭)
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর একজন সাহাবী তাঁর বালিশের নিচে এক টুকরো কালো ও এক টুকরো সাদা সূতা এবং তা দিয়ে ভোর হয়ে হয়েছে কিনা পরীক্ষা করতেন।
এটা শুনে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেন যে, এই আয়াতের অর্থ হচ্ছে : ভোরের শুভ্রতা আর রাতের অন্ধকারের রেখা যা দিগন্তে দেখা যায়। (দেখুন : সহীহ বুখারী – ১৮১৭, সহীহ মুসলিম – ২৫৮৫, সুনান আবু দাউদ – ২৩৫১, সহীহ ইবনে হিব্বান – ৩৪৬৩, সুনান বাইহাকী – ৭৭৮৯)
জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ ‘এক ব্যক্তির পাথর দ্বারা আঘাত পেয়ে মাথা ফেটে যায়। তারপর তার স্বপ্নদোষ হয়। সে তার সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করে, তোমরা কি জানো, আমার কি তায়াম্মুম করার সুযোগ আছে?
তারা বললো আমাদের মনে হয় না, বরং তুমি পানি ব্যবহার করো। (গোসল করো) সে গোসল করলো এবং (পরিণামে) মারা গেলো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : নিশ্চয় তায়াম্মুম করা তার জন্য যথেষ্ট হতো।
যাতে সে মাথার একটি কাপড় দিয়ে বেঁধে, তার উপর মাসেহ করতো আর বাকি শরীর ধুয়ে ফেলতো।’ তিনি এরপর বললেন : ‘তারা যদি না জানে, তবে কেন জিজ্ঞেস করে নিল না? নিশ্চয় অসামর্থ হওয়া আর না জানার প্রতিকার হচ্ছে জিজ্ঞেস করা।’ (সুনান আবু দাউদ-৩৩৭; সুনান ইবনে মাজাহ-৫৬৫; মুসনাদে আহমাদ-৩০৫৭; মুসতাদরাক আল হাকিম-৬৩০, সুনান আল বাইহাকী – ১০১৬, আলবানীর মতে হাসান, দেখুনঃ সহীহ আবু দাউদ - ৩২৫)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, উমার আল খাত্তাব (রাঃ) ‘হাজরে আসওয়াদ’ চুম্বন করার সময় বলেছিলেন, ‘আমি জানি তুমি শুধুই একটি পাথর।
তোমার কোন কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ করার কোন ক্ষমতা নেই। যদি আমি রসুল ছলাল্ললাহু আলাইহি ও ইয়া সাল্লামকে তোমাকে চুমু খতে না দেখতাম, তবে তোমার সেরকমই গ্রহন করতাম যেভাবে আগে গ্রহন করেছিলাম’। (অর্থাৎ তিনি এটার সাথে সাধারণ পাথরের মতো আচরণ করতাম)(সহীহ বুখারী – ১৫৯৭, সহীহ মুসলিম – ১২৭০)
সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেন, ‘ এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, দ্বীনের ব্যাপার সমূহের জন্য শরীয়াতের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথা বুঝা যায়, এবং কোন নির্দেশ না বুঝলেও পালন করার সৌন্দর্য্য ফুটে উঠেছে’। (ফাতহুল বারী – ৩/৫৮৪, ১৫৯৭)
তাই দেখা যাচ্ছে আরবী ভাষা জানা সাহাবীরাও অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে আল-কুরআনের মর্ম সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন নি। পরবর্তীতে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেছেন।
সুতরাং, ইসলামের অধিকাংশ ব্যাপারেই বিস্তারিতভাবে নিয়ম-কানুন (হুকুম-বিধান) জানার ক্ষেত্রে, একজন সাধারণ মুসলিমের জন্য আলিমদের সাহায্য প্রয়োজন হবে।
এই জ্ঞান অর্জন করার জন্য আমাদেরকে আলিমদের কাছে যাতে হবে। তাদেরকে যথাযথ সম্মান করতে হবে। তাদের সাথে যথাযথ আদব রক্ষা করতে হবে।
ইবনে আব্বাস (রা.) সাহাবীদের কাছে হাদিস শুনতে তাদের ঘরে ঘরে যেতেন। তারা দুপুরে বিশ্রামরত থাকলে তাদেরকে না ডেকে, তাদের ঘরের সামনেই অপেক্ষা করতেন যাতে তাদের বিশ্রামে ব্যাঘাত না ঘটে। (মুসতাদরাক আল হাকিম, মাদখাল ইলাল সুনান, ইমাম বাইহাকী নং ৬৭৩)
এভাবে ইলম অর্জনের জন্য তিনি কষ্ট স্বীকার করেছেন। ইমাম মালিক (র.) বলেন : ‘মানুষ জ্ঞানের কাছে আসবে, জ্ঞান মানুষের কাছে যাবে না।’ [খাতিব আল-বাগদাদী, আল জামি আখলাকির রাওয়ী ওয়া আদাবিস সামী (১/১৫৯); ইবনে আব্দুল বার, আল জা’মি বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি (১/৮৫)]
তাই আমাদের অহংকার কিংবা উন্নাসিকতা যাতে আমাদেরকে আলিমদের দরজায় যাতে বাধাঁ না দেয়।
২|
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:২৮
অতুল মিত্র বলেছেন:
বাংলাদেশে ইসলামিক স্টাডিজ একটা অবহেলিত বিষয়। এটা দুঃখজনক।
আর আরবী ভাষা এবং ইসলামকে শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মত
একটা পরোন রীতির মাঝে সীমাবদ্ধ রেখে একে মানুষের আগ্রহের বাইরে রাখা হচ্ছে। আমার মনে হয় সতন্ত্র ইন্সটিটিউট খুলে 'মাদ্রাসা ' শব্দটির বিলুপ্ত ঘটানো উচিত।
ওগুলো পাক এবং আফগানদের জন্য।
৩|
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:৩৭
শার্ক বলেছেন: @চাচু,
why u said jakir naik. you kulangar makimg problem for other people.
৪|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:৪৬
যান্ত্রিক দৃক বলেছেন: ভাই, আমার কমেন্ট টা হাওয়া করে দিলেন!!!
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:১০
চাচ্চু বলেছেন: তবে দেখতে হবে, তারা যেন মউদুদি,নিজামি,আর জাকির নালায়েকের মতো আলেম না হয়।
হেডিং পড়েই মন্তব্য করলাম।