নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপেক্ষা

নীল আকাশে পাখির ঝাক

একিউমেন

ভালো থাকবেন

একিউমেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অহদাতুল ওজুদ কি শিরক? না চূড়ান্ত পর্যায়ের একত্মবাদের বিশ্বাস?

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:২১

অহদাতুল ওজুদ কি শিরক? না চূড়ান্ত পর্যায়ের একত্মবাদের বিশ্বাস?

اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ

আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, স্ব-প্রতিষ্ঠিত বিশ্বধাতা। তাকে স্পর্শ করে না তন্ত্রা, না নিদ্রা। আসমান এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তারই। {সূরা বাকারা-২৫৫}

هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (3)

তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গুপ্ত। তিনিই সর্ব বিষয়ে সম্মক জ্ঞাত {সূরা হাদীদ-৩}

كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلاَّ وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (88)

তাঁর সত্তা ব্যতীত সব কিছুই ধ্বংসশীল। {সূরা আনকাবুত-৮৮}

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (26) وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ (27)

সব কিছুই হবে ধ্বংস। অবশিষ্ট থাকবে কেবল তোমার প্রতিপালকের সত্তা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব। {সূরা আর রহমান-২৬,২৭}

উপরোক্ত আয়াতে কারীমা থেকে একথা সুস্পষ্ট প্রমানিত যে, আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র সত্তা, যিনি আদি, এবং অনন্ত। তিনি তন্দ্রাও যান না, যান না নিদ্রাও। সব কিছুই ধ্বংস হবে কিন্তু ধ্বংস হবে না আল্লাহ তায়ালার সত্তা। তাহলে কি দাঁড়াল? আল্লাহ তায়ালা ছাড়া সকল সৃষ্টির বিদ্যমানতা নশ্বর। একমাত্র অবিনশ্বর হলেন মহান রাব্বুল আলামীন। আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে এগুলোর অস্তিত্বও আছে কেবল আল্লাহর ইচ্ছায়। তিনি যদি চান তাহলে সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। সৃষ্টির নিজ ই্চ্ছায় বেঁচে থাকার কোন ক্ষমতা নেই। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁর অস্তিত্বের জন্য তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সর্বেসর্বা। বাকি সবই ধ্বংসশীল। তাহলে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বের বিপরীতে বাকি সকল সৃষ্টির অস্তিত্ব যেন নেই। এমন নয় কি? যেমন আখেরাতে হবে অগণিত বছর, যার কোন শেষ নেই, সেই হিসেবে আমাদের দুনিয়ার জীবন! এটা আখেরাতের দিনের তুলনায় কি? কোন ধর্তব্যতা আছে? হাজার কোটি, অফুরন্ত বছরের তুলনায় আমাদের ৭০/৮০ বা ১০০ বছরের জীবন কি উল্লেখযোগ্য? না নগণ্য? বলতে গেলে আখেরাতের দিনের তুলনায় যেন দুনিয়ার জীবনটা নেই। এই বিষয়টি বুঝে থাকলে অহদাতুল ওজুদ বুঝা সহজ হবে।

অহদাতুল ওজুদ এর অহদাতুন এর অর্থ হল একক। আর ওজুদ মানে হল বিদ্যমান। সুতরাং অহদাতুল ওজুদ অর্থ দাঁড়ায় এক সত্বার বিদ্যমানতা। যখন কোন সৃষ্টি ছিল না, তখন আল্লাহ ছিলেন, আবার যখন কিছুই থাকবে না, তখনও আল্লাহ তায়ালাই থাকবেন, সকল বস্তুই মরণশীল বা ধ্বংসশীল একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া। প্রতিটি বস্তুরই সূচনা আছে আবার সমাপ্তি আছে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার সূচনাও নাই আবার সমাপ্তিও নাই। সকল বস্তু যেকোন সময় নিস্প্রাণ হয়ে পড়তে পারে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কখনোই নিদ্রাও যান না, তন্ত্রায়ও আচ্ছন্ন হন না। অস্তিত্বহীন হবার প্রশ্নই উঠে না। তো যেই সত্তা সর্বদা ছিলেন, সর্বদা আছেন, সর্বদা থাকবেন, সর্বদাই যিনি সচল। এরকম সত্তার বিদ্যমানতাইতো মূলত বিদ্যমানতা। আর বাকিগুলো সবই ধ্বংসশীল। তাই সেই সবের এই ক্ষণিকের বিদ্যমানতা যেন মূলত অস্তিত্বহীন। আল্লাহ ছাড়া বাকি সবই অস্তিত্বহীন মনে করার নামই হল অহদাতুল ওজুদ। সকল কিছুকে আল্লাহ তায়ালার সামনে অস্তিত্বহীন মনে করার নাম যদি শিরক হয় তাহলে তাওহীদ কাকে বলে?

বর্তমান জমানার ভয়ংকর ফেতনা ইংরেজ সৃষ্ট কথিত আহলে হাদীস গ্রুপ যাদের মাধ্যমে আমরা দ্বীন পেয়েছি সেই সকল পিতৃতুল্য আমাদের আকাবীরদের মুশরিক বলার মত স্পর্ধা দেখাচ্ছে এই অহদাতুল ওজুদ বিষয়টিকে তুলে ধরে। অথচ এই নিগুঢ় তাৎপর্যময় এই জটিল বিষয়টির আসল অর্থটি বুঝতে অক্ষমতার কারণে ওরা ছড়াচ্ছে এই বিভ্রান্তি।

যেই হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর মত বিশ্ববরেণ্য বুযুর্গকেও ওরা মুশরিক বলতে দ্বিধা করেনি এই আহম্মক গোষ্ঠি, আসুন দেখি সেই তিনি অহদাতুল ওজুদ এর বিষয়ে কি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আশরাফ আলী থানবী রহঃ লিখিত “আত তাকাশশুফ” কিতাবে অহদাতুল ওজুদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেন-

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( قال الله عز و جل يؤذيني ابن آدم يسب الدهر وأنا الدهر بيدي الأمر أقلب الليل والنهار [صحيح البخارى-كتاب التفسير، باب تفسير سورة حم ( الجاثية ) ، رقم الحديث-4549، 5827 ، 5829 ، 7053 ]

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, আদম সন্তান জমানাকে মন্দ বলে আমাকে কষ্ট দেয়, অথচ জমানাতো আমিই। [অর্থাৎ] আমারই আয়ত্বে সকল কাজ। [যা জমানা ও কালের মাঝে সংঘটিত হয়]। রাত দিনকে [যা কাল সময়ের অংশ] আমিইতো পরিবর্তন করি। [যেদিকে মানুষ ঘটনাবলীকে সম্পৃক্ত করে। অতএব জমানাতো তার মধ্যকার যাবতীয় বিষয়সহ আমারই অধীন। তাই এসব কার্যকলাপ সবইতো আমারই। একে মন্দ বললেতো আমাকেই মন্দ বলা অবধারিত হয়। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৫৪৯,৭০৫৩,৫৮২৯,৫৮২৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬০০০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫২৭৬}

ইহা প্রকাশ্য ব্যাপার যে, আল্লাহ তায়ালা এবং জমানা বা সময় এক নয়। কিন্তু এক না হওয়া সত্বেও উপরোক্ত হাদীসে এক হওয়ার শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তত্ত্ববিদগণের দৃষ্টিতে এই ব্যাখ্যা হিসেসেই [হামাউস্ত] তথা “সবই তিনি” বলা হয়েছে।

এর বিশ্লেষণ হল-দুনিয়ার সমুদয় বস্তু নিজ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াসহ আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতাধীন। অতএব প্রকৃত ক্রিয়াশীল এবং স্ব-অস্তিত্বে অস্তিত্ববান শুধু আল্লাহ তায়ালা, আর সমুদয় বস্তু কিছুই নয়। তাই হাদীস দ্বারা সুফিয়ানে কিরামের উক্তি হামাউস্ত তথা সবই তিনি এর পোষকতা স্পষ্টরূপে বুঝে আসছে।

দুনিয়ার যাবতীয় জিনিস বাহ্যদৃষ্টিতে বিদ্যমান। কিন্তু মূলত কিছুই বিদ্যমান নেই। অর্থাৎ পূর্ণ সত্তা গুণে কিছুই গুণান্বিত নয়। এক আল্লাহ পাকের সত্তা ছাড়া। এই বিষয়টিকেই ‘হামাউস্ত’ তথা সবই তিনি শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

দৈনন্দিন কথাবার্তার ন্যায় এটাও একটি প্রচলিত বাক্য। যেরূপে কোন বিচারক কোন ফরিয়াদীকে বলে-“তুমি কি পুলিশে রিপোর্ট করেছো? কোন উকিলের সাথে পরামর্শ করিয়াছো?” সে বলে-“হুজুর! পুলিশ আর উকিল সবইতো আপনিই”। একথার দ্বারা অর্থ কিছুতেই এরূপ নয় যে, বিচারক, পুলিশ এবং উকিল সবই এক। তাদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। বরং অর্থ হল-পুলিশ, উকিল গণনার যোগ্য কোন বিষয় নয়, আপনিই এই বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তেমনি এখানেও বুঝে নিতে হবে, ‘হামাউস্ত’ তথা তিনিই সব অর্থ এই নয় যে, সব সৃষ্ট বস্তু আর তিনি এক। বরং এ কথার উদ্দেশ্য হল-সকল বস্তুর সত্তা গণনার অযোগ্য। শুধু আল্লাহর সত্তাই গণনার যোগ্য। অবশ্য আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছু বিদ্যমান, সত্তা সেগুলিরও আছে, কিন্তু সেগুলির সত্তা আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ সত্তার সামনে শুধু বাহ্যিক সত্তা। প্রকৃত ও পরিপূর্ণ সত্তা নয়।

এটার বিস্তারিত বিবরণ হল-প্রত্যেক গুণের দু’টি পর্যায় থাকে। একটি হল পূর্ণাঙ্গ, অপরটি অপূর্ণাঙ্গ। আর নিয়ম এই যে, পূর্ণাঙ্গের সামনে অপূর্ণ সর্বদা অস্তিত্বহীন মনে করা হয়। এটার দৃষ্টান্ত হয়-যেমন কোন নিম্ন আদালতের বিচারক এজলাসে বসে নিজ কর্তৃত্বের বাহাদুরী প্রদর্শন করছিল, এবং নিজের পদ-গৌরবে কোন লোককে কিছুই মনে করছিল না। হঠাৎ করে সেখানে দেশের বাশাহ পরিদর্শন করতে এজলাসে আসলেন। বাদশাহকে দেখামাত্রই চেতনা বিলুপ্ত প্রায় হয়ে তার সমস্ত বাগাড়ম্বর, গৌরব ও অহংকার তিরোহিত হয়ে গেল। এখন নিজের ক্ষমতাকে যখন বাদশাহের শাহী ক্ষমতার সামনে দেখে, তখন তার নিজের পদমর্যাদার কোন অস্তিত্বই কোথাও খুঁজে পায় না। পড়ি কি মরি অবস্থা। না কোন শব্দ বের হচ্ছে, না মাথা তুলিতে পারছে। এই সময় যদিও তার পদমর্যাদা বিলীন হয়নি। কিন্তু বিলুপ্তপ্রায় হয়েছে। এমনই বুঝতে হবে যে, জগতের জিনিস সমূহ সব কিছু যদিও বিদ্যমান, কেননা আল্লাহ তা’আলা এগুলোকে সত্তা দান করেছেন, কিন্তু আল্লাহ তা’আলার সত্তার সামনে ওগুলোর সত্তা অতিশয় অপূর্ণাঙ্গ, দুর্বল ও তুচ্ছ বটে। এ জন্য সৃষ্টির সত্তাকে আল্লাহ তা’আলার সত্তার সামনে যদিও বিলীন বলবো না, কিন্তু বিলীন সদৃশ্য নিশ্চয় বলবো। সুতরাং সৃষ্টি যখন বিলীন সদৃশ্য গণ্য হল, তখন গণনার যোগ্য সত্তা শুধু একটিই রয়ে গেল। অহদাতুর ওজুদের [একক সত্তা] অর্থ এটাই। কেননা এর শাব্দিক অর্থ সত্তা এক হওয়া। অতওব এক হওয়ার অর্থ অপর সত্তা থাকলেও না থাকার মত। এটাকেই একটু বাড়িয়ে ওহদাতুল ওজুদ বা একক সত্তা বলা হয়। মহান আল্লাহ তা’আলাকে জীবন্ত সদৃশ্য মনে কর। আর সমগ্র বিশ্ব ও সৃষ্টিকে মৃত সদৃশ্য মনে কর। যেমন মৃত লাশও এক পর্যায়ে সত্তার অধিকারী। কারণ দেহ তারও আছে। কিন্তু জীবিতদের তুলনায় সেই সত্তা গণনার যোগ্য নয়। কেননা মৃতের সত্তা অপূর্ণ, আর জীবিতদের সত্তা কামেল বা পূর্ণাঙ্গ। পূর্ণাঙ্গের সামনে অপূর্ণাঙ্গ একেবারেই দুর্বল ও অস্তিত্বহীন। এই বিষয়টিকে এলমী পর্যালোচনা ও তাৎপর্যের বিশ্লেষণে তাওহীদ বলা হয়, যা অর্জন করা কোন কামাল বা পূর্ণতা নয়। অহদাতুশ শুহুদের সারমর্মও এটাই। অর্থাৎ বাস্তাবে বহু সত্তা বিদ্যমান থাকলেও আল্লাহর পথের পথিক এক সত্তাকেই প্রত্যক্ষ করে। আর সকল সত্তা তার সামনে অস্তিত্বহীন বলে মনে হয়। যেমন পূর্ব বর্ণিত দৃষ্টান্তগুলোর দ্বারা পরিস্কারভাবে বুঝানো হয়েছে। আর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ শেখ সাদী রহঃ বর্ণনা করেছেন-

“রাত্রিকালে যে জোনাকী প্রদীপের ন্যায় জ্বলে, তাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, দিনের বেলা তুমি বাহিরে আস না কেন? জোনাকী চমৎকার জবাব দিল, আমিতো দিবানিশি মাঠে প্রান্তরেই থাকি, কিন্তু সূর্যের দীপ্তির সামনে আমার আলো প্রকাশ পায় না।

এরই নাম অহদাতুল ওজুদ। এতে কোন স্থানে শিরকের অর্থ আছে?

হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী(রহ) তার রচিত তা’লিমুদ্দীন কিতাবের দ্বিতীয় খন্ডে আরো পরিষ্কারভাবে ‘ওয়াহদাতুল অজুদ’কে ব্যাখ্যা করেছেনঃ

এটাতো প্রকাশ্য ব্যাপার যে, সমস্ত পূর্ণাঙ্গতা বা বৈশিষ্ট্য প্রকৃতপক্ষে একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্যই সুপ্রতিষ্ঠিত। আর সৃষ্টির কামালত বা গুণগুলো সবই অস্থায়ী। আল্লাহ পাকের দান ও হেফাযতের কারণে সমগ্র সৃষ্টিতে এটা বিদ্যমান। এধরণের সত্তাকে পরিভাষায় وجود ظلى বা “ছায়া সত্তা” বলা হয়। সাবধান! এখানে যিল্ল বা ছায়া দ্বারা কেউ এমন ধারণা যেন না করে যে, আল্লাহ তা’আলা দেহবিশিষ্ট সত্তা, আর এই জগত তার ছায়া। এখানে ছায়া শব্দ এই অর্থে বলা হয়েছে যে, যেমন লোকেরা বলে থাকে যে, “আমরা আপনার ছায়াতলে থাকি”। অর্থাৎ আপনার অনুগ্রহ ও আশ্রয়ে থাকি এবং আমাদের নিরাপত্তা ও সুখ-শান্তি আপনারই কৃপা দৃষ্টির বরকত। এরূপে আমাদের অস্তিত্ব আল্লাহ তা’আলার মেহেরবানীর দৌলতেই বিদ্যমান। এ জন্য এটাকে ছায়া অস্তিত্ব বলা হয়। অতএব, এ বিষয়টি নিশ্চিতরূপে প্রমাণিত হল যে, সৃষ্টির সত্তা প্রকৃত ও মৌল সত্তা নয়, অস্থায়ী ছায়া স্বরূপ। এখন যদি ছায়া সত্তাকে গণ্য করা না হয়, তবে একমাত্র প্রকৃত বা মূল সত্তার অস্তিত্বই প্রমাণিত হবে এবং সেই সত্তাকে একক সত্তা বলা যাবে। এটাই অহদাতুল ওজুদ। আর যদি কিছুটা গণ্য করা হয় যে, কিছু একটা তো আছে, একেবারে অস্তিত্বহীন তো নয়, যদিও নূরে হাকীকীর প্রবলতার কারণে কোন স্থানে আল্লাহ পথের পথিকের দৃষ্টিতে তা উদ্ভাসিত হচ্ছেনা, তবে এটা অহদাতুশ শুহুদ। এটার প্রকৃত দৃষ্টান্ত হল-চন্দ্রের আলো সূর্যের কিরণ থেকে আহরিত হয়। এখন যদি এই প্রতিবিম্বিত জ্যোতিকে আলো বলে গণ্য করা না হয়, তবে সূর্য দীপ্তিময় ও চন্দ্রকে অন্ধকার বলতে হবে। এটা অহদাতুল ওজুদের উদাহরণ। আর যদি চন্দ্রের আলোকেও আলো বলে গণ্য করা হয় এবং বলা হয় যে, তার কিছু প্রভাবতো আছে, যদিও সূর্যকিরণ প্রতিভাত হওয়ার সময় উহা একেবারেই নিষ্প্রভ হয়ে যায়। এটা অহদাতুশ শুহুদ তথা সব কিছুই আল্লাহ সত্তা বিদ্যমান সেটার স্বাক্ষ্য দেয়। মূলত অহদাতুশ শুহুদ ও অহদাতুল ওজুদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। দু’টোরই শেষ ফল এক।

“সব কিছুই আল্লাহ” এটা কি অহদাতুল ওজুদ?

নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক। সব কিছুকেই আল্লাহ বিশ্বাস করা অহদাতুল অজুদ নয় বলা যায় সব অহদাতশ শিরক এটাই চূড়ান্ত শিরক। “সব কিছুই আল্লাহ” এই ভ্রান্ত বাতিল অর্থটি আমাদের আকাবীরদের নয়, নির্বোধ কথিত আহলে হাদীসদের। আমাদের কথা হল সব কিছুতেই আল্লাহ যে স্রষ্টা এটি বুঝা যায়। সব কিছু আল্লাহ নয়, সব কিছুতে একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহর পরিচয় পাওয়া যায়।

আমরা যখন কোন বস্তু দেখি তখন যেমন বুঝতে পারি এর একজন নির্মাতা আছেন। তেমনি গোটা সৃষ্টিজগত আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, তো সৃষ্টি জগতের দিকে তাকালে এর সুনিপূণ স্রষ্টাকে মনে আসার নাম অহদাতুল ওজুদ। সেই সৃষ্টিটা আল্লাহ নয়, বরং সে বস্তুর স্রষ্টা আল্লাহ। সব সৃষ্টি আল্লাহ নয়, সব সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। বস্তু দেখার মাধ্যমে আমরা এর নির্মাতাকে কল্পনা করি, এখন যদি আমরা মাঝখান থেকে বস্তুটি বাদ দিয়ে কেবল নির্মাতার কথা কল্পনা করি তাহলে কি দাঁড়াল?

তেমনি যদি আমার কাছে সৃষ্টি বাদ দিয়ে সৃষ্টার কল্পনা চলে আসে সৃষ্টি দেখলেই। মাঝখান থেকে সৃষ্টির কথা মনেই থাকে না, অর্থাৎ সব সৃষ্টি দেখলে আল্লাহর মেহেরবানী, তার অনুগ্রহ, করূণার দৃষ্টি প্রতিভাত হয়, তখন সৃষ্টি নয়, আমাদের মূল নিবদ্ধতা হয়ে পরে স্রষ্টার দিকে, এরই নাম সকল সৃষ্টিতেই আল্লাহকে পাওয়া যায়। সব সৃষ্টিই আল্লাহ নয়, সব সৃষ্টিতেই আল্লাহ যে স্রষ্টা সেটা বুঝা যায়।

এই হল ওহদাতুল ওজুদ। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সবাই বলুনতো-এই ওহদাতুল ওজুদ কি সবাইকে স্রষ্টা বানানো? না সবাইকে বাতিল করে একমাত্র আল্লাহর অস্তিত্বকেই একমাত্র বাকি থাকে স্বীকার করে চূড়ান্ত পর্যায়ের তাওহীদ প্রকাশ! হায়রে গায়রে মুকাল্লিদ বা কথিত আহলে হাদীস! আল্লাহ তায়ালা কেমন করে অন্ধ করে দিলেন ওদের জ্ঞানের চোখকে। বুঝার দরজাকে।

আশা করি সাধারণ পাঠকদের এই বিষয়ে সন্দেহ দূরিভূত হবে এই প্রবন্ধটির মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আহলে হাদীস ফিতনা থেকে আমাদের দেশের সরলমনা মুসলমানদের হিফাযত করুন। আমীন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.