নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপেক্ষা

নীল আকাশে পাখির ঝাক

একিউমেন

ভালো থাকবেন

একিউমেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

রিপোস্টঃ শায়খ আলবানী সাহেবের আসল রুপ [পর্ব-২]

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৫৬

পূর্বে প্রকাশিত লিখার পড়ের অংশঃশায়খ আলবানীর ভুল ত্রুতি গুলোর ফিহিরিস্তি



আরব,মধ্যপ্রাচ্য ও উপমহাদেশ সহ বিশ্বের বহু উলামাগন লিখেছেন। তিনি হাদীস যাচাই



বাছাইয়ে হাদীস শাস্ত্রের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ও তাদের প্রনীত মূলনীতির পরোয়া না করে নিজ



মতাদর্শকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করেছেন। একারণে বিচক্ষন উলামায়ে কেরামের নিকট



হাদীসের মান নির্ধারনে আলবানী সাহেবের গবেষনায় অনেক ক্ষেত্রে মতবিরোধ হয়েছে, এমন



কি হাদীস গবেষনার জগতের বিজ্ঞ উলামাগন আলবানী সাহেবের ভূলত্রুটি একত্র করে ৫০



টির অধিক পুস্তক রচনা করেছেন।তাম্মধ্যে



১। তানাফুজাতে আলবানী- গ্রন্থকারঃ- হাসান ইবনে আলী আস সাক্কাফ,



প্রকাশনায়ঃ-দারুল ইমাম বিন নবুবী- (উমাম- উর্দুন) এবং



২। তানবীহুল মুসলিম ইলা তাযাদ্দী আলবানী-গ্রন্থকারঃ- মাহমুদ সাইদ মামদুহ-



প্রকাশনায়ঃ মাকতাবা-আল ইমাম শাফী-(রিয়াদ-সৌদী)



বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য।আরবের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও বহু গ্রন্থের নির্ভরযোগ্য



গবেষক,আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা তার রচিত''আছারুল হাদিস''কিতাবের ৫১ নং



পৃষ্ঠায় লিখেন-''مع ان هذاالرجل ليس له من الشيوخ الا شيخ واحد من علماء حلب با لاجازت



لابالتلقي ولاخذ والمصاحبت والملازمت''অর্থ-'' এই ব্যক্তির[আলবানীর ] তো কোন শিক্ষক



নেই।সিরিয়ার হালবের জনৈক ব্যক্তি তাকে হাদিস চর্চার মাত্র অনুমতি দেন।তবে তার কাছেও



নিয়মিত লিখাপড়া করেন নি।''বিশ্ব বরেণ্য মুহাদ্দিস মাও.হাবিবুর রাহমান আযমী[রাহ]তার



গ্রন্থ''الالباني شذوذه و اخطاؤه ''[আলবানীর ভুলভ্রান্তি ও বিচিত্র মতবাদের দস্তান]-এ লিখেনঃ''



والله لا يعرف ما يعرف احد الطلبة الذين يشتغلون بدراسة الحديث في عامة مدارسنا''আল্লাহর



কসম সেই শায়খ আলবানী হাদিস সম্পর্কে এতটুকু জ্ঞান রাখেনা যতটুকু যা আমাদের



মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়নরত ছাত্ররা জানে।''মাও.হাবিবুর রাহমান আযমী[রাহ]তার গ্রন্থ''الالباني



شذوذه و اخطاؤه''৩ খন্ডে শায়খ আলবানীর জ্ঞানের পরিধি ও তার বিচিত্র মতবাদ দলিল ও



সত্য প্রমান সহকারে তুলে ধরেছেন। ২ খন্ডে বিভক্ত ১টি বই তানাফুজাতে আলবানী-



গ্রন্থকারঃ- হাসান ইবনে আলী আস সাক্কাফ,প্রকাশনায়ঃ-দারুল ইমাম বিন নবুবী- (উমাম-



উর্দুন) এতে লিখক শায়খ আলবানী যেসব ক্ষেত্রে ভুল করেছে তার একটা বিশাল তালিকা



দলিলসহ প্রদান করেছেন। তিনি অনেক সহীহ হাদীসকে যঈফ এবং যঈফ হাদীসকে সহীহ



বলেছেন।



প্রথমে আমরা দেখব নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব কিভাবে সহীহ হাদিসকে যঈফ বলেছেন ,



তার উদাহরন :



আবু হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত রাসুল (সাঃ) বলেনঃ- যখন তোমাদের কেহ রাত্রিতে নামাযের



জন্য দাড়ায়, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত ভাবে দুই রাকাতের মাধ্যেমে আপন নামাযকে শুরু করে।



হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ) স্বীয়গ্রন্থ সহীহ মুসলিম (১/৫৩২) পৃষ্টায় উল্লেখ করেন । এ



ছাড়াও আল ইহসান ফি তাকরিবে সহীহ ইবনে হিববান-(৬/৩৪০) আল মুসনাদ লিল ইমাম



আহমাদ ইবনে হাম্বল-(৯/১২৯) শরহুস সুন্নাহ লিল ইমাম বগবীতে (৪/১৭) উল্লেখ করা



হয়েছে।



হাদীসটিকে যুগ শ্রেষ্ট হাদীস গবেষকগন গবেষনার মাধ্যমে বিশুদ্ধ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।



তম্মেধ্যে উল্লেখ যোগ্য ,



আল্লামা শুয়াইব আরনাউত (রহঃ) মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ(১৫/৯৮)-



ইমাম বগবী (রহঃ) স্বীয় কিতাব শরহুস সুন্নাতে (৪/১৭)



হামজা আহমাদ যাইন (রহঃ) মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদে (৯/১২৯) বিশুদ্ধ হাদীস বলে



ঘোষনা করেছেন।



উল্লেখিত হাদীসটিকে আলবানী সাহেব স্বীয় কিতাব ‘‘যইফুজ জামে ও যিয়াদাহ’’ নামক গ্রন্থে



(১/২১৩-) উল্লেখ করে বলেন, হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ) এবং ইমাম আহমাদ (রহঃ)



আবু হুরাইরা (রাঃ) এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি (যঈফ) মর্জাদার দীক দিয়ে দুর্বল।



এবার আমরা দেখব নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব কিভাবে যঈফ হাদিসকে সহীহ বলেছেন ,



তার উদাহরন :



হযরত উমায়ের ইবনে সাইদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস তিনি বলেন তোমরা মোয়াবিয়া (রাঃ)



কে ভাল ভাবেই স্বরণ কর, কেন না আমি রাসুল (সাঃ) থেকে শুনেছি রাসুল (সাঃ) বলেছেন



হে আল্লাহ তুমি মোয়াবিয়াকে হেদায়েত দাও। (সুনানে তিরমিজি-৫/৬৪৫)



হাদীসটিকে আলবানী সাহেব সহীহ সাব্যস্হ করে স্বীয় কিতাব সহীহ সুনানে তিরমিজি



(৩/২৩২) তে উল্লেখ করেছেন। অথচ হাদীসটির সূত্রের উপর গবেষনার দ্বারা দেখা যায়



হাদীসটি মানগত ভাবে অত্যন্ত দুর্বল।



সূত্রের একজন রাবী-আমর ইবনে ওকেদ ইনার ব্যাপারে উলামাদের বক্তব্য,



১। হাফেজ ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন (মাতরুক) ইনি পরিত্যাজ্য।



(তাকরিব-আত তাহজীব-৪২৮পৃঃ)



২। ইমাম বুখারি ও তিরমিজি (রহঃ) বলেন (মুনকারুল হাদীস) ইনি এমন রাবী যাদের হাদীস



গ্রহন করা হয় না।



৩। আল্লামা মারওয়ান (রহঃ) বলেন (কাজ্জাব) মিথ্যাবাদী।



৪। ইমাম নাসায়ী,দারাকুতনী, এবং ইমাম বুবকানী (রহঃ) এনারা এই রাবীর ব্যাপারে একমত



হয়ে বলেন (মাতরুকুল হাদীস) ইনি এমন রাবী যাদের হাদীস পরিত্যাজ্য। (তাহজীবত



তাহজীব (৮/৯৮)



সূত্রের রাবী আমর ইবনে ওকেদ সম্পর্কে উল্লেখিত ইমামদের বক্তব্যের দ্বারা একথা সুস্পষ্ট



হল হাদীসটি কোন অর্থেই সহীহ হতে পারে না।



এমন কি আলবানী সাহেব এই রাবীকে দুর্বল সাব্যস্‌ত করে ওনার কিতাব ‘‘জয়ীফা’’ তে



(২/৩৪১) উল্লেখ করেছেন। স্বয়ং তিরমিজি (রহঃ) উল্লেখিত হাদীসটি (যঈফ) দুর্বল হিসেবে



ইংগীত করে স্বীয় কিতাব সুনানে তিরমিজিতে (৫/৬৪৫) বর্ণনার শেষে বলেন, আমর ইবনে



ওকেদ দুর্বল রাবীদের অন্‌তর ভুক্ত।



3. আলবানী সাহেব একই রাবীকে কখনও সিকাহ বা গ্রহনযোগ্য এবং অন্যসময় যঈফ বা



অগ্রহনযোগ্য বলেছেন। এ বিষয়টি ওনার গবেষনার জগতের ভূল ত্রুটির অন্যতম একটি অংশ



। উদাহরন স্বরুপ একটি ঘটনা নিম্নে তুলে ধরা হল।



আবু উমামা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন তোমরা মুমিন ব্যক্তির



অন্তদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাক, কেননা সে আল্লহ তা'লা নূরের দ্বারা দৃষ্টি করে থাকেন। (মুজামুল



আওসাত-৩/৪৪৫)



উল্লেখিত হাদীসটির সূত্রের এক জন রাবী হলেন আবু সালেহ আব্দুল্লহ ইবনে- সালেহ ।



হাদীসটি আলবানী সাহেবের মতাদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারনে তিনি আবু সালেহ



আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহকে দুর্বল আখ্যায়িত করে হাদীসটি অগ্রহনযোগ্য হিসাবে স্বীয় কিতাব



‘‘সিলসিলাতুল আহাদীস আজ যইফাতু মওযুয়া,, (৪/২৯৯) তে উল্লেখ করেছেন।



অথচ আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ-এই একই রাবীর মাধ্যমে ইমাম তিরমিজি (রহঃ)



স্বীয় কিতাব সুনানে তিরমিজিতে ইবনে মুররা (রাঃ)এর সূত্রে হাদীস উল্লেখ করেছেন রাসুল



(সাঃ) বলেন হুসাইন আমার থেকে আর আমি হুসাইনের থেকে-, যে ব্যক্তি হুসাইনকে



ভালবাসে সে আল্লাহ তা'লাকে ভালবাসে। হুসাইন আমার পরবর্তি-বংশধর।



সূনানে তিরমিজি-(৫/৬১৮)



হাদীসটিকে আলবানী সাহেব সহীহ হিসাবে স্বীয় কিতাব সিলসিলাতুল আহাদিস আস সহীহা



(৩/২২৯) তে উল্লেখ করেন। এবং বলেন হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট মানের আবু আব্দুল্লা ইবনে



সালেহ এর ব্যপারে দুর্বলতার যেই কথা রয়েছে তাহা কোন ক্ষতিকারক নয়।



উপরের উদাহরন দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম , একই রাবী আবু সালেহ আব্দুল্লাহ ইবনে



সালেহকে আলবানী সাহেব কখনও দুর্বল আবার কখনও গ্রহনযোগ্য প্রমানিত



করেছেন।তানাফুজাতে আলবানী- গ্রন্থকারঃ- হাসান ইবনে আলী আস সাক্কাফ ২য় খন্ডের



শেষে লিখেন''শায়খ আলবানীর স্ববিরোধী মতামত ও ভুলত্রুটির ফিরিস্তি লিখক[হাসান ইবনে



আলী আস সাক্কাফ]হাজার হাজার রয়েছে যা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে



ইনশাআল্লাহ।''এভাবে আরবের বিজ্ঞ আলেম শায়খ মাহমুদ সাঈদ মামদূহ প্রণীত ৬ ভলিয়মে



লিখিত বিশাল কিতাব''التعريف باوهام من قسم السنن الي صحيح و ضعيف''[আলবানী যে



সুনান-হাদিসের কিতাবকে সাহিহ ও জঈফ ২ ভাগে বিভক্ত করেছেন তার ভুলভ্রান্তির



পরিচয়]।শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সিদ্দীক আল গুমারী কতৃক প্রণীত-القول المقنع في الرد علي



الألباني المبتدع''[নতুন মতবাদের প্রবর্তক আলবানীর সন্তুষ্টজনক প্রতিউত্তর]। ইনশাল্লাহ পড়ের



পোস্টে আরও দলিল ও প্রমান পেশ করা হবে শায়খ নাছিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের ভুল



প্রসঙ্গে।তার বিরুদ্ধে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও উলামা গনের রেফারেঞ্চ সহ দলিল ভিত্তিক আলোচনা



ইনশাআল্লাহ দেওয়া হবে অপেক্ষা করুন।উল্লেক্ষ্য যে কথা গুলো আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থের



কারনে বলছি না উম্মাতকে তার কিছু ফিতনা হতে রক্ষার স্বার্থে ইখলাসের সাথে।আল্লাহ



আমাদের সবাইকে বোঝার জন্য তাওফিক দান ও হেদায়াত নাসীব করুক আমিন।[ চলবে] ।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৪৯

আমি ও মানুষ বলেছেন: tnx for information..

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.