নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবন ও সমাজ সম্পর্কে আমার ভাবনার ভিত্তি মূলত দর্শনশাস্ত্র, বিশেষত স্টোয়িক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তির উৎস। আমি একজন সেকুলার মানুষ—যিনি যুক্তি, মানবিকতা এবং বৈজ্ঞানিক

প্রগতি বিশ্বাস

মুক্ত পথিক

প্রগতি বিশ্বাস › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিশ্বাসের দেয়াল

২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

মানবজীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের অসামান্য অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের যেসব শাখা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত, সেগুলোকে আমরা সহজেই গ্রহণ করি। যেমন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা উপশমে আমাদের ওষুধই সেবন করতে হয়, কোনো মন্ত্র বা অলৌকিক উপায়ে তা সারে না এটি আমরা সবাই জানি ও মানি। আমরা প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে কথা বলছি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রলিং করছি, বিজ্ঞানের এই বাস্তব রূপগুলো নিয়ে আমাদের মনে কোনো সংশয় থাকে না।



বিপত্তি ঘটে বিজ্ঞানের সেই শাখাগুলোকে নিয়ে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি দৃশ্যমান বা অনুভূত হয় না, কিংবা যা মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আচরণের সাথে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির "জন্মগত লৈঙ্গিক পরিচয় (Sex) এবং তার মনস্তাত্ত্বিক জেন্ডার আইডেন্টিটি (Gender Identity)"-এর মধ্যকার অমিল বা রূপান্তরকামিতা বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত। অথচ, ব্যক্তিগত জীবনে এর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই বলে অনেকেই এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে, প্রচলিত কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস অনেক সময় বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্যের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর হলেও, কিছু ধর্মীয় ধারণা মতে তা মাত্র কয়েক হাজার বছর। আবার বিবর্তনবাদকে অস্বীকার করে মানুষের বর্তমান অবয়বকে আকস্মিক সৃষ্টি হিসেবে দাবি করা হয়; কোনো কোনো প্রাচীন বিশ্বাসে তো পৃথিবীকে সমতলও মনে করা হয়। তা সত্ত্বেও মানুষ এই ধারণাগুলোকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে অথবা রূপক অর্থে বিবেচনা করে এর যৌক্তিকতা খোঁজার চেষ্টা করে।

এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে সত্য অন্বেষণের শ্রমবিমুখতা, নিজের লালিত বিশ্বাসে আঘাত না পাওয়ার মানসিকতা এবং যেকোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে (Drill-down) দেখার অনীহা। এই অন্ধত্ব ব্যক্তিজীবনে কতটুকু লাভ বা ক্ষতি বয়ে আনে তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে; তবে বিশ্বাসের মোহে পড়ে যদি পরম সত্য ঢাকা পড়ে যায়, তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয় বা 'জ্ঞান বৈকল্য' ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! অন্ধ বিশ্বাসের কারণে যখন ব্যক্তি বা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সংঘাতের পথ পরিহার করে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সত্যানুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সচল রাখাই শ্রেয়।


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.