নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঠিকাদার আর নগর পিতাদের স্থায়ী আয়ের উৎসের হোক অবসান

০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৩


উপক্রমনিকা
দিন কয়েক আগে সামুর পাতায় প্রকাশিত ব্লগার অপু তানভীর এর লেখা ঢাকার মানুষের জীবন
লেখাটির উপর মন্তব্য লেখার সময় অনুভুত কিছু ভাবনা হতেই এই পোস্টের উদ্ভব ।

ঢাকার বুকে যখনই খরা কিংবা বর্ষা বাদল নামে
রাস্তার বুকে ফুটে ওঠে হাজার ক্ষত
ফাটল ধরা পাইপের বুক দিয়ে
উপচে পড়ে নাগরিক জীবনের অপমানের স্রোতধারা।

এই পানি তো কেবল পানি নয়
এ পানি অপচয়, অবহেলা, আর দুর্নীতির দলিল
জনমানুষের করের টাকায় গড়া স্বপ্ন
ডুবে যায় কাদার কুয়াশায় নীল।

চোখের সামনে যখন দেখি
রাস্তার ধারে জমে থাকা নোংরা জলেই
গোসল করে বস্তির শিশু
কেউ ধোয় বাসন, কেউ করে রান্নার আয়োজন
কে দায় নেবে তাদের অসুখের?
কে দিবে সুরক্ষা ঘোষনা তাদের জীবনের?

তারপর একদিন আসে শহরের বীর যোদ্ধারা
ঝলমলে ভেস্ট, বড় বড় ব্যানার, হাসিমাখা ছবি
সাময়িক ফিতা দিয়ে বেঁধে দেয় ক্ষত স্থান
ভেজাল ইট বালু সিমেন্ট রড আর পাইপ
কাজ শেষে পাওনা হিসাব তাদের থাকেনা বাকি।
কিন্তু কিছুদিন পরই
আবার সেই একই দৃশ্য
ফুটো পাইপ, ভাঙা রাস্তা, জমে থাকা হতাশা
আর ঢাকার নিঃশব্দ নাগরিক, অভ্যস্ত অসহায়তা।

এই কি নগরায়ণ?
এই কি উন্নয়ন?
যেখানে দুর্নীতি বাঁধ মজবুত
আর মানুষের জীবন ভাঙা পাইপের মতোই নড়বড়!
না, আর না
বন্ধ হোক এই পুরনো নাটকের রিহার্সাল
বন্ধ হোক তামাশা, বন্ধ হোক লুটের উৎসব
বন্ধ হোক স্থায়ী আয়ের উৎস নামের এই অভিশাপ।

আমরা চাই
একটা সৎ প্রতিশ্রুতির শহর
যেখানে ঠিকাদারের পকেট নয়
মানুষের স্বপ্ন হবে শক্তিশালী
যেখানে নগর পিতা হবেন সত্যিকারের অভিভাবক,
শুধু হবেন না প্রচারের নায়ক।

আসুন আমরা বলি একসাথে
এই শহর আমাদের,
আমরাই তার মালিক, আমরাই তার কণ্ঠ।
ঢাকার প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি পাইপ, প্রতি ফোঁটা পানির
জবাব চাই স্বচ্ছতায়, দায়িত্বে, ন্যায়বোধে।

আসুন যেখানেই দেখব এমন পানির ফুটা
সেখানেই টানিয়ে দিই পোস্টার
বন্ধ হোক ঠিকাদার আর নগর পিতার
স্থায়ী আয়ের উৎসের এই আচার ।
নগরবাসীর জন্য খুলুক নতুন এক অধ্যায়
যেখানে নাগরিকের অধিকারই
হবে সবচেয়ে বড় সম্পদের ভান্ডার ।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: এখন তো সিটি কর্পোরেশন স্বাধীন। তাহলে এখন কেন ভালো ভালো কাজ করছে না??

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মুল্যবান প্রশ্ন রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
দেখা যাক নগরপিতারা কি ভাবছেন ।

২| ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আসলে ঢাকায় পপুলেশন বেড়ে গিয়েছে । সব কিছু ঢাকা কে ঘিরেই হইতেসে । এখনই যদি বিকেন্দ্রীকরণ করা না যায় তবে নেক্সট কয়েক বছরের মাঝে ঢাকায় বড়ো ধরণের বিপর্যয় ঘটবে ।

নগরপিতা আর নগরনেতাদের পকেট ভারী না হলে কর্মী পালবে কি ভাবে ? সব কিছুর পিছনে ইভিল পলিটিক্স জড়িত ।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন অতি জরুরী ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর হতে প্রশাসনিক ও বানিজ্যিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন ।

ইভিল পলিটিক্সের বিষয়ে আপনার মন্তব্যের কথামালা নগরবাসীদের জনবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশে
ঢাকাসহ বড় বড় নগরে সড়ক মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্ত জনবিশ্বাস গড়ে উঠেছে;
এই প্রকল্পগুলো কেবল নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ায়, আর কিছু প্রভাবশালী নগরনেতা ও ঠিকাদারের পকেট
ভারী করে। এই বিশ্বাস পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। তবে কেবল অভিযোগ বা হতাশায় থেমে না থেকে আমাদের
প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সমাধান।

“কর্মী পালবে কীভাবে” এই যুক্তির সীমা নির্ধারণ প্রয়োজন। কর্মী দুই প্রকার, রাজনৈতিক আর উন্নয়ন প্রকল্পে
কর্মরত শ্রমিক । উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক অবশ্যই নিশ্চিত
করতে হবে, এ লক্ষ্যে প্রকল্প বাজেটে বাস্তবসম্মত মজুরী কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে ।সে সাথে ব্যক্তিগত
অবৈধ আয়কে রাজনৈতিক কর্মী বাহিনীর কর্মসংস্থানের অজুহাত বানানো নৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অগ্রহণযোগ্য
করে তুলতে হবে ।

রাজনৈতিক কর্মীর পকেট ভার নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রকল্প পরিকল্পনায় রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে হবে ।
বর্তমান বাস্তবতায় অনেক প্রকল্প প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয় বরং রাজনৈতিক লাভ, কমিশন ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের
সুবিধায় নেওয়া হয়।এর সমাধান হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন নগর উনন্য়ন কমিশন গঠন, প্রকল্প গ্রহণের
আগে জনশুনানি ও প্রযুক্তিগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

শুধু মুখেই স্বচ্ছতা নয়, দৃশ্যমান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ।শুধু কাগজে-কলমে অডিট নয়, দরকার প্রতিটি
রাস্তার জন্য ডিজিটাল প্রজেক্ট বোর্ড(ব্যয়, ঠিকাদার, সময়সীমা, দায়িত্বরত প্রকৌশলীর নাম) স্থাপন।
পরিস্কার ভাবে অংগভিত্তিক আর্থিক ও বাস্তব ( Financial and Physical) কাজের অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে।
সেই সাথে নাগরিকদের জন্য অনলাইন অভিযোগ ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা প্রচলন করা জরুরী।

একই রাস্তা বারবার খোঁড়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা এটি দুর্নীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ।রাস্তা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ
সব সংস্থার সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রয়োজন ।একবার রাস্তা করলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পুনরায় খোঁড়ায় কঠোর
নিষেধাজ্ঞা সেই সাথে দায়ী সংস্থাকে জরিমানা ও ব্ল্যাকলিস্টিং করার দিকটি নিশ্চিত করতে হবে ।

সবই ইভিল পলিটিক্স এই উপলব্ধি সত্য হলেও, নাগরিক নিরবতা দুর্নীতিকে আরও শক্তিশালী করে।এই উপলব্দি
অবসানের জন্য প্রয়োজন ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক নজরদারি কমিটি,পেশাজীবী, আলেম, শিক্ষক, সাংবাদিকদের
সমন্বিত সামাজিক চাপ।

ভোটের সময় উন্নয়ন নয়, জবাবদিহিকে প্রধান ইস্যু করা । তবে কথা হল আইন দিয়ে সব ঠিক হয় না, যদি নেতৃত্বের
নৈতিকতা না থাকে।তাই নগরনেতাদের জন্য নৈতিকতা ও পাবলিক গভর্ন্যান্স প্রশিক্ষণ প্রয়োজন , দুর্নীতির অভিযোগে
দলীয় ছাড় নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রচলন।

নগরের রাস্তা কেবল ইট-পাথরের নয় এটি রাষ্ট্রের নৈতিকতার প্রতিচ্ছবি।যেখানে উন্নয়ন মানেই যদি পকেট ভারী করা
হয়, সেখানে উন্নয়ন প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন থাকে না। ইভিল পলিটিক্সের মোকাবিলা করতে হলে চাই বুদ্ধি, প্রতিষ্ঠান,
নাগরিক চাপ ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়।এই পথ কঠিন, কিন্তু বিকল্পহীন । বর্তমানের জাতীয় নির্বাচনী ডামাঢোলে
ইভিল পলিটিক্সের মোকাবিলা করার জন্য জনসচেতনতা প্রয়োজন। এই জন সচেতনতা সৃজনের জন্যই মুলত এই
পোস্টের অবতারনা ।

আপনার মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.