নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাষায় মুক্তি, মুক্তিতে ভাষা

নাজমুল হক জুয়েল

মনে ও মননে রবীন্দ্রনাথ ও লালনকে ধারন করেছি তাই মানুষেই পরম ভক্তি।

নাজমুল হক জুয়েল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ব্যস্ততা

১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৪

ব্যস্ত আমি ব্যস্ত তুমি
ব্যস্ত আমার শহর।
ব্যস্ত রাস্তা ব্যস্ত পথিক
ব্যস্ত গাড়ির বহর।
ব্যস্ত সময় দিচ্ছে তাড়া
যা ছুটে যা ছুটে।
ব্যস্ত জীবন ছুটছে সদাই
এক ঘেয়েমির রুটে।
ব্যস্ত ট্রাফিক হাত নেড়ে যায়
কেউ ছোটে, কেউ থামে ।
ছুটছে সবাই ব্যস্ততা তাই
ভেজে শার্ট নোনা ঘামে।
হয়না তো শেষ আমাদের ছোটা
ব্যস্ত আমি আর তুমি
দিয়েছ আমাদের ছোটার তাগাদা
প্রিয় শহর তুমি।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:



‘ব্যস্ততা’ কবিতাটি পড়ে মনে হলো, এ যেন আমাদের প্রতিদিনের চেনা জীবনেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অল্প কয়েকটি পঙ্‌ক্তির মধ্য দিয়ে আপনি আধুনিক নগরজীবনের যে ব্যস্ততা, ক্লান্তি, ছুটে চলা এবং একঘেয়েমির চিত্র তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত বাস্তবধর্মী ও তাৎপর্যপূর্ণ। কবিতাটি পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা প্রত্যেকেই যেন এই কবিতার কোনো না কোনো পঙ্‌ক্তির চরিত্র। কেউ সময়ের পেছনে ছুটছি, কেউ জীবিকার তাগিদে, কেউ স্বপ্নপূরণের আশায়, আবার কেউ হয়তো বুঝতেই পারছি না—কেন এত ছুটছি, কোথায় পৌঁছাতে চাইছি।

‘ব্যস্ত আমি ব্যস্ত তুমি / ব্যস্ত আমার শহর’—কবিতার সূচনাতেই আপনি যে চিত্রটি এঁকেছেন, তা অসাধারণভাবে আমাদের বর্তমান জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে। এখানে ব্যস্ততা শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নয়; এটি যেন গোটা শহরের সম্মিলিত পরিচয়। শহরের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি যানবাহন এবং প্রতিটি মুহূর্ত যেন কোনো অদৃশ্য তাড়নার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেউ অফিসে যাওয়ার জন্য ছুটছেন, কেউ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছেন, কেউ জীবিকার সন্ধানে পথে নেমেছেন, আবার কেউ নিজের ভবিষ্যৎকে একটু ভালো করার আশায় প্রতিনিয়ত সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছেন। এই সম্মিলিত ছুটে চলার মধ্যেই আধুনিক নগরজীবনের এক গভীর সত্য লুকিয়ে আছে—আমরা সবাই ব্যস্ত, কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যে কতটা প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছি, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ খুব কম।

‘ব্যস্ত রাস্তা ব্যস্ত পথিক / ব্যস্ত গাড়ির বহর’—এই পঙ্‌ক্তিগুলো শহরের দৃশ্যমান ব্যস্ততাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে যানবাহনে পরিপূর্ণ রাস্তা, ফুটপাত ধরে দ্রুতগতিতে হাঁটা মানুষ, সিগন্যালের সামনে অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মানুষের অস্থিরতা। প্রত্যেকেরই কোথাও যাওয়ার তাড়া আছে, প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো দায়িত্ব রয়েছে। অথচ এই ভিড়ের মধ্যে মানুষ অনেক সময় মানুষকেই দেখতে পায় না। পাশাপাশি হাঁটলেও একে অপরের অনুভূতি বোঝার সময় থাকে না, একই যানজটে আটকে থাকলেও অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করার অবকাশ থাকে না। শহর আমাদের কাছে থাকার সুযোগ বাড়িয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মনের দূরত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনার কবিতার এই চিত্রকল্প সেই বাস্তবতাকে মনে করিয়ে দেয়।

কবিতার ‘ব্যস্ত সময় দিচ্ছে তাড়া / যা ছুটে যা ছুটে’ পঙ্‌ক্তিগুলো আমার কাছে বিশেষভাবে অর্থবহ মনে হয়েছে। সময়কে এখানে যেন একজন তাড়নাদানকারী সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যে মানুষকে অবিরাম ছুটতে বলছে। কিন্তু বাস্তবে সময় তো নিজের নিয়মেই চলে; মানুষই তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অস্থির হয়ে ওঠে। আমরা প্রায়ই বলি, সময় পাচ্ছি না, কাজের চাপ অনেক, দায়িত্বের শেষ নেই। অথচ এই সময়ের মধ্যেই আমাদের বেঁচে থাকা, সম্পর্ক গড়ে তোলা, ভালোবাসা প্রকাশ করা এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করার কথা। সময় বাঁচাতে গিয়ে কখনো কখনো আমরা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোই হারিয়ে ফেলি।

এখানেই আপনার কবিতাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়—আমরা কি জীবনের জন্য ব্যস্ত, নাকি ব্যস্ত থাকতে থাকতেই জীবনটাকে হারিয়ে ফেলছি? কাজ অবশ্যই প্রয়োজন, দায়িত্ব পালন করাও জরুরি, আর নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করার বিকল্প নেই। কিন্তু কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম, আত্মীয়তার বন্ধন, মানসিক প্রশান্তি এবং নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোরও প্রয়োজন রয়েছে। জীবন যদি শুধু এক কাজ থেকে আরেক কাজে ছুটে যাওয়ার নাম হয়ে ওঠে, তাহলে অর্জনের হিসাব বাড়লেও জীবনের স্বাদ অনেক সময় কমে যায়।

‘ব্যস্ত জীবন ছুটছে সদাই / এক ঘেয়েমির রুটে’—এই পঙ্‌ক্তি দুটির মধ্যে আধুনিক জীবনের এক ধরনের নীরব বেদনা রয়েছে। মানুষ প্রতিদিন নতুন দিনের সূচনা করে, অথচ দিনগুলো অনেক সময় একই ছকে বাঁধা থাকে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, কর্মস্থলে যাওয়া, কাজের চাপ সামলানো, যানজট পেরিয়ে বাড়ি ফেরা, পরদিনের প্রস্তুতি নেওয়া—এভাবেই দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর কেটে যায়। জীবনের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে করতেই কখনো কখনো জীবনের বৈচিত্র্য হারিয়ে যায়। মানুষ তখন দায়িত্ব পালন করে ঠিকই, কিন্তু নিজের আনন্দ, আগ্রহ ও সৃজনশীলতার জন্য আলাদা করে সময় বের করতে পারে না।

তবে এই একঘেয়েমির মধ্যেও জীবনের অর্থ খুঁজে নেওয়া সম্ভব। প্রতিদিনের ছোট ছোট আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, বন্ধুর সঙ্গে মন খুলে কথা বলা, প্রিয় কোনো বই পড়া কিংবা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুক্ষণ থাকা—এসবই জীবনে নতুন অনুভূতি এনে দিতে পারে। সব সময় বড় কোনো সাফল্য কিংবা বিশেষ কোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা না করে সাধারণ মুহূর্তগুলোর মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নেওয়া দরকার। আপনার কবিতাটি সেই প্রয়োজনের কথাও নীরবে মনে করিয়ে দেয়।

‘ব্যস্ত ট্রাফিক হাত নেড়ে যায় / কেউ ছোটে, কেউ থামে’—এই অংশটি অত্যন্ত চিত্রময়। ট্রাফিকের সংকেত, থেমে থাকা গাড়ি, অপেক্ষমাণ পথচারী আর চলমান মানুষের ভিড় যেন জীবনেরই একটি রূপক হয়ে উঠেছে। জীবনে যেমন কেউ দ্রুত এগিয়ে যায়, কেউ বাধার মুখে থেমে যায়, আবার কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের গন্তব্যে পৌঁছায়—শহরের ট্রাফিকেও তেমনই নানা গতির সহাবস্থান দেখা যায়। সবার পরিস্থিতি এক নয়, সবার গন্তব্যও এক নয়। কেউ হয়তো সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন, কেউ যানজটে আটকে থেকে মূল্যবান সময় হারাচ্ছেন, আবার কেউ প্রতিদিনের এই সংগ্রামের মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখছেন।

এই পঙ্‌ক্তিগুলো আমাদের আরও একটি বিষয় ভাবতে শেখায়—অন্যের পরিস্থিতি না জেনে তাকে বিচার করা উচিত নয়। যে মানুষটি দেরি করছেন, তাঁরও হয়তো কোনো অনিবার্য বাধা রয়েছে। যে মানুষটি দ্রুত ছুটছেন, তাঁরও হয়তো পেছনে রয়েছে অসংখ্য দায়িত্ব ও উদ্বেগ। শহরের প্রতিটি মুখের আড়ালে একটি করে গল্প আছে, প্রতিটি মানুষের জীবনে রয়েছে নিজস্ব সংগ্রাম। আমরা সেই গল্পগুলো জানি না বলেই অনেক সময় অন্যের অবস্থাকে সহজ মনে করি। অথচ সামান্য সহমর্মিতা ও ধৈর্য আমাদের এই ব্যস্ত জীবনকে অনেক বেশি মানবিক করে তুলতে পারে।

‘ছুটছে সবাই ব্যস্ততা তাই / ভেজে শার্ট নোনা ঘামে’—এই পঙ্‌ক্তিতে শ্রমজীবী মানুষের বাস্তবতা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। শহরের চাকচিক্যের আড়ালে অসংখ্য মানুষের ঘাম, পরিশ্রম এবং ত্যাগ লুকিয়ে থাকে। কেউ রোদে পুড়ে, কেউ যানজটের ধকল সামলে, কেউ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কিংবা কঠিন শারীরিক শ্রম দিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের প্রতিদিনের সংগ্রাম ছাড়া শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকাংশেই অচল হয়ে পড়ত। অথচ এই শ্রমের যথাযথ মূল্য ও সম্মান সব সময় তাঁরা পান না।

আপনার কবিতায় ঘামে ভেজা শার্টের উল্লেখ তাই শুধু শারীরিক পরিশ্রমের ছবি নয়; এটি মানুষের জীবিকার সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ এবং নীরব আত্মত্যাগেরও প্রতীক। জীবনের বাস্তবতা হলো, প্রত্যেকেরই কিছু দায়িত্ব থাকে, কিছু স্বপ্ন থাকে, কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে। অনেক মানুষ নিজের ক্লান্তিকে আড়াল করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রতিদিন নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেন। তাঁদের এই নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

কবিতার শেষাংশে ‘প্রিয় শহর’কে মানুষের ছুটে চলার তাগাদা দেওয়ার জন্য দায়ী করার মধ্যে এক ধরনের মৃদু অভিমান রয়েছে। শহর যেন একই সঙ্গে আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা এবং ক্লান্তির উৎস। এই শহর আমাদের কাজের সুযোগ দেয়, সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখায়; আবার সেই শহরই আমাদের যানজট, সময়ের চাপ, প্রতিযোগিতা এবং একঘেয়েমির মধ্যে আটকে রাখে। আমরা শহরকে ভালোবাসি, কারণ এখানে আমাদের জীবনের নানা সম্ভাবনা জড়িয়ে আছে। আবার কখনো এই শহরের কোলাহল থেকে দূরে কোথাও একটু শান্তিতে বসতে ইচ্ছা করে। এই ভালোবাসা ও অভিমানের দ্বৈত অনুভূতিই কবিতাটিকে আরও বাস্তব ও মানবিক করে তুলেছে।

আমার মনে হয়, ‘ব্যস্ততা’ কবিতার সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো এর সরল ভাষার মধ্য দিয়ে একটি বৃহৎ জীবনবোধকে তুলে ধরা। এখানে জটিল শব্দের বাহুল্য নেই, কিন্তু পরিচিত দৃশ্যের মধ্যেই রয়েছে গভীর পর্যবেক্ষণ। আপনি শহরের ব্যস্ততাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যাতে পাঠক নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কবিতার পঙ্‌ক্তিগুলো মিলিয়ে নিতে পারেন। এই সহজবোধ্যতা কবিতাটির শক্তি। কারণ যে কবিতা পাঠককে নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকাতে শেখায়, সেটি শুধু পড়ার বিষয় থাকে না; তা ব্যক্তিগত উপলব্ধির অংশ হয়ে ওঠে।

সবশেষে বলব, জুয়েল ভাই, ব্যস্ততা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ব্যস্ততার কাছে নিজেদের সম্পূর্ণ সমর্পণ করে দেওয়া উচিত নয়। জীবন শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর নাম নয়; পথ চলার আনন্দও জীবনের একটি বড় অংশ। কাজের পাশাপাশি নিজের জন্য সময় রাখা, প্রিয়জনদের সঙ্গে সম্পর্কের যত্ন নেওয়া, অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করা এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট আনন্দকে মূল্য দেওয়া জরুরি। নইলে একদিন হয়তো দেখব, জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি ঠিকই, কিন্তু সেই পথের সৌন্দর্য উপভোগ করার সময়ই পাইনি।

আপনার এই ছোট্ট কবিতাটি আমাদের চেনা শহর, চেনা রাস্তা এবং চেনা ব্যস্ততাকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এমন বাস্তবধর্মী ও জীবনঘনিষ্ঠ কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার কলমে মানুষের জীবন, নগরসভ্যতার টানাপোড়েন এবং সময়ের নানা অনুভূতি আরও সুন্দরভাবে প্রকাশিত হোক। আপনার সৃজনশীল লেখালেখির জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

২| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.