নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আ মা ইয়াহইয়া

nothing can i write about myself..................

আ মা ইয়াহইয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি ভাস্কর্য এবং কতিপয় আমরা

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৩৭

সম্প্রতি সিলেটে একটি বিষয় নিয়ে হর জায়গায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি যদিও controversial তবু এই বিষয়ে আমার নিজস্ব চিন্তাধারা ব্যক্ত করার গরজ অনুভব করছি। শুরুতেই বলে রাখি, এখানে যা লিখা হবে তা আমার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তাধারা। লেখাটি পড়ে দয়া করে কেউ আমাকে ‘নাস্তিকদের দোসর’ খেতাবে ভূষিত করবেননা।





দেশের প্রথম ও অন্যতম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যাপিট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ হবে; এই নিয়েই যত সব তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা।কিছু লোক এই ভাস্কর্যটি যাতে না হয় সে জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। যারা মূলতঃ এর বিরোধিতা করছেন তাদের দাবি হলঃ ‘ইসলামে মূর্তি নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। কারণ মূর্তি স্থাপন ও মূর্তির পূঁজা ইসলামে হারাম’। আমিও মানি যে ইসলামে মূর্তি পূঁজা হারাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল অন্য জায়গায়। আচ্ছা এই পর্যন্ত কি আপনাদের মধ্যে কেউ কোথাও দেখেছেন যে, কোনো ভাস্কর্য এর সামনে কেউ পূঁজা/আর্চনা বা সিজদা করতে? কিংবা কেউ কি কখনো ভাস্কর্যের বেদিতে মোমবাতি জ্বালাতে বা এর উদ্দেশে মান্নত করতে দেখেছেন? উত্তরটা না-ই আসবে। তাহলে এই ভাস্কর্য বানাতে মূর্তি পূঁজার ভয় আসল কোথা থেকে? এইখানে আমি বরং আপনাদের বলব যে, আপনারা যদি এইসব বিষয়ের পেছনে না লেগে ঐ সব স্থানের দিকে আপনাদের নজর দিন যেখানে প্রতিনিয়তঃ শিরকের মত পাপ হচ্ছে অবলিলায়। কেন আপনারা কি ঐ সব মাজার কিংবা দরগাহ এর খোঁজ জানেন না যেখানে কুফর, শিরক এবং বেদয়াত এর মত জগণ্য পাপাচার হচ্ছে? এই গুলো ক্বোরআন-হাদীসের কোন ধারা অনুযায়ী বৈধ? এই গুলো প্রতিহত করার জন্য আওয়াজ তুলেননা কেন? এই ক্ষেত্রে আপনাদের কন্ঠ এত ক্ষীণ হয়ে আসে কেন? জানি আপনারা কখনো এর বিরুদ্ধে বজ্র কন্ঠে প্রতিবাদ করবেননা। এতে আপনাদের রুটি-রুজি কমে যেতে পারে। কেন, আপনারা কি এইসব শিরকী দরগাহ বা কবর পূঁজার আঁখড়া গুলো বগলের নিচে রেখে কিংবা এর ঠিক নাকের ডগায় বসে কোরান-হাদিসের দীক্ষা দিচ্ছেননা? নিজেরাই যেখানে ডুবে আছেন শিরকের মধ্যে আকন্ঠ, সেখানে অন্যদের বিষয় নিয়ে এত মাথা ব্যথা কেন আপনাদের? একটা ভাস্কর্য নির্মাণের চেয়ে কবর পূঁজা জগন্যতম পাপ নয় কি? আপনারা কি তাহলে Double standerd মেইন্টেন করেন? আপনাদেরই উদ্দেশে বোধ হয় কোন এক কবি লিখেছিলেনঃ “ ওহে ভজনালয়/ তোমার উপরে চড়ে ভণ্ড/ গাহে স্বার্থের জয়”।



আপনাদের বলছি, হ্যাঁ আপনাদেরই বলছি! আসুন Double standerd এর জীবন ছেড়ে দিয়ে, ভণ্ডামিকে ছুঁড়ে ফেলে, Full standerd জিবনের চিন্তা করি। সবাই ভাল থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৪৯

মোঃ খালেকুজ্জামান ফয়সাল বলেছেন: খুবই লজ্জাজনক.........

২| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১৯

নভোচারী বলেছেন: এখানে প্রথম কথা হল কোনটা অনুমোদিত আর কোনটা না। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিটাই আসল।

ইসলামে মূর্তি নির্মাণ নিষিদ্ধ ঠিক যেমন মাজার কেন্দ্রিক কাজ যেগুলো আমাদের দেশে হয় সেগুলো নিষিদ্ধ। এটা পরিষ্কার কথা। একটার বিরোধীতা করে অন্যটা নিয়ে কিছু না বলাটা অবশ্যই অন্যায়। তবে এই দুই বিষয়ের বিরোধীতাকে আপনি এক কাতারে নিয়ে আসলেন এটা ঠিক না। কারণ একটার প্রতিবাদ জোরেশোরে হচ্ছে না তাই বলে অন্যটার প্রতিবাদ করা যাবে না এটা অযৌক্তিক। আমার জানা মতে কোনো প্রকৃত আলেম উলামা মাজার বা মূর্তি কোনো কিছুর পক্ষে না। ভন্ড হলে ভিন্ন কথা।

মূর্তি নিষিদ্ধ হওয়ার জন্য একে কেন্দ্র করে পূজা হওয়া শর্ত না। মূর্তি জিনিসটাই নিষিদ্ধ। তুলনা হিসেবে বলতে পারি যে ধরুন কেউ বলল তার এই পরিমাণ মদ খেলে নেশা হয় না। যেহেতু মদের নেশার কারণে ক্ষতি হয় বলে হারাম করা হয়েছে আর তার যেহেতু এটুকুতে নেশা হয় না তাই সে খাবে। তাহলে এটা অযৌক্তিক কথা। কারণ মদ জিনিসটাই হারাম। এক ফোটা হোক আর আর এক বোতল হোক। তদ্রূপ মূর্তি ভাস্কর্য নির্মাণ হারাম। একে কেন্দ্র করে পূজা হোক বা না হোক। এটা শরীয়াহ এবং এই বক্তব্য স্পষ্ট।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.