| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছ্যাচড়া মার্কা আমার একটা কাজিন আছে যে অকারণে এসে গায়ে পড়ে সামান্য কথা বলে যে কাউকে ক্ষ্যাপাতে ওস্তাদ। বলতে পারেন এইটা তার একটা হবি।
তয় একদিন অনেকক্ষণ চেষ্টা তদবির করেও যখন আমাকে ক্ষ্যাপাতে পারলনা তখন বলতে লাগলোঃ আসলে আপনার শক্তি নাই এর লাগি কারো সাথে লাগ-বাজ করেননা।
ভাবলাম একে চাঁপা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে হবে। শুরু করলাম চাঁপা এক্সপ্রেস।
শোন, একবার এক লোক আমার সাথে গায়ে পড়ে এসে ঝগড়া শুরু করল। এক পর্যায়ে আমি ক্ষেপে গিয়ে তাকে দিলাম একটা ঘুষি। ঘুষির চোটে সে আকাশে উড়তে লাগল। উড়তে উড়তে এক পর্যায়ে সে আমার চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেলো।
আমিতো মহা টেনশনে পড়ে গেলাম।
বেটা কি তবে মারা পড়ল।
খাইছে মার্ডার কেইস!
আশপাশ দেখে নিলাম ভালোমতে। নাহ কেউ নেই। তাইলে স্বাক্ষি নেই, বাঁচা গেল।
-পরে?
-হ্যাঁ। একসপ্তাহ পরের ঘঠনা। হঠাত বিদেশি একটা নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে কল।
রিসিভ করতেই অপার থেকে দেড়হাত লম্বা একটা সালাম ভেসে আসল।
সালামের উত্তর দিয়ে, জিগাইলাম কে বলছেন?
-ভাই আমি গফুর।
-কোথা থেকে বলছেন?
-ভাই আমেরিকার টুইন-টাওয়ার থেকে।
আমেরিকার টুইন-টাওয়ার থেকে বলছে শুনে একটু স্বস্তি পাইলাম।
গফুর নামটা শুনে প্রথমে আমি মনে করেছিলাম, যে গফুরকে আমি ঘুষি মেরেছিলাম হেতি মনে হয় ভূত হয়ে এখন আমার অবস্থান জেনে নিচ্ছে ঘাড় মঠকানোর জন্যে।
এইবার জিগাইলাম আপনি কোন গফুর?
-ভাই ভূলে গেলেন? ওইযে আপনি আমাকে একসপ্তাহ আগে ঘুসি মারছিলেন, আমি সেই গফুর!
আমারতো পায়জামা গরম হওয়ার দশা
তবে কি ভূতটাই…………আমি ব্লা ব্লা করতে শুরু করলাম।
আমার ভাবনার রেশ কাটতে না কাটতেই সে শুরু করলো কাহিনী।
-ভাই আপনাকে যে কি দিয়ে ধন্যবাদ জানাই আমি তার ভাষা খুজে পাচ্ছিনা।
(মনে করলাম ঘাড় মটকানোর আগে আমার সাথে একটু ভাব জমাইতে চায় মনে হয়)
আমতা আমতা করে বলি কে কে কেন ধন্যবাদ দিতে চান?
-সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল আমেরিকাতে যাওয়ার। স্বাদ থাকলেও সাধ্য ছিলনা।
আপনার ঘুষির কল্যাণে আজ আমি আমেরিকার এক্কেবারে নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে আছি।
(নিশ্চিত হইলাম এইটা ঐ পাজি গফুরেরই ভূত)
ঐদিন আপনার থাপ্পড় খাওয়ার পরে আমি আকাশে ওড়া শুরু করলাম।
এক পর্যায়ে আমি জ্ঞানশুন্য হয়ে গেলাম।
হঠাত কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা লেগে আমার জ্ঞান ফিরে আসল।
নিজেকে আবিষ্কার করলাম ইয়া উঁচু একটা দালানের উপর।
চারদিকে চেয়ে দেখি আরে এইটাতো নিউইয়র্ক আর আমি দাঁড়িয়ে আছি এক্কেবারে টুইন-টাওয়ারের মাথার উপর।
ভাবলাম এত্ত বড় একটা খুশির খবর আপনাকে প্রথমে জানানো উচিত।
-তা তোমার আশেপাশে এত্ত চিল্লানি কিসের?
-আর বলবেননা আমেরিকার বলদরা মনে করছে আমি মনে হয় এলিয়েন, তাই আমাকে নিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলন করবে। বুশের বাইচ্চা ডাবল বুশ এসে একটু আগে আমার সাথে কুশল বিনিময় করে গেল। এই সুযোগে ভাবলাম একটু এলিয়েনগিরি দেখিয়ে ছাড়ি।
-কি করেছ তুমি?
-দিলাম বুশের পাছায় একটা লাথি!
-ওরে বাপরে!
-বললাম এইটা আমাদের দেশের রাজাকে প্রণাম করার নিয়ম। বেচারা বুশ পাছায় হাত বুলাইতে বুলাইতে আমাকে সহ ডায়াসের পাশে এসে দাঁড়িয়ে তার স্বরে কি যেন বলে যাচ্ছে আর আমি এ দিকে আপনার সাথে কথা বলছি। শোনেন ভাই আমাকে এখন থেকে আমেরিকার সরকার সম্মানী ভাতা দিবে বলে ঘোষনা করেছে। আমি নিয়ত করেছি আমার সম্মানীর প্রথম মাসের টাকা দিয়ে আপনাকে সম্মান জানাবো।
(এতক্ষণ পরে এইবার বুক ভরে একটা নিঃশ্বাস নিলাম।)
-ভাই পরে কি হইলো?
-হ্যাঁ এই ঘঠনার পর থেকে আমি আর রাগ করে কাউকে কিল-ঘুষি মারাতো দূরের কথা কারো সাথে রাগই করিনা।
-কেন?
-মারব তাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আর সে চলে যাবে বিনা ভিসায় আমেরিকা!
নিজের খাইয়া শক্তি বানাইয়া আরেকজনকে ঘুষি দিয়া আমেরিকা পাঠাব, আমি এত বড় হাতেমতাই হতে পারবনা
-ভাই আমারে একটা মারেননা প্লিজ।
-নাহ।
-মারেন প্লিজ!প্লিজ!! প্লিজ!!!
-এক ঘুষি দিয়া আমেরিকা পাঠাইয়া দিমু।(ভুল করে দিয়া দিলাম তাকে একটা ঘুষি। আমনি যা হবার তাই হল…………ঃ)
>>
>>
>>
>>
>>
>>
>>..............................তার নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরতে লাগলো![]()
০৯ ই মে, ২০১৩ দুপুর ২:৪৯
আ মা ইয়াহইয়া বলেছেন: চাঁপাতে একটু আধটু প্যাঁচলাগা কোনো গোনাহ না
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই মে, ২০১৩ সকাল ৮:২৪
কালোপরী বলেছেন: প্যাচ লাইগা গেল