| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের স্বপক্ষে কোরআন, হাদীসের বহু প্রমাণ ও পূর্বসূরীদের অনেক মন্তব্য রয়েছে :
তন্মধ্যে : আল্লাহ তা’আলার বাণী :
"وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آَيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا"(الأنفال : ২)
“আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে।” (আনফাল:২)
ويزيد الله الذين اهتدوا هدى. (مريم : ৭৬)
“আর যারা সঠিক পথে চলে আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন।” (মারইয়াম: ৭৬)
ويزداد الذين آمنوا إيمانا. (المدثر : ৩১)
“আর মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায়।” (আল-মুদ্দাসসির: ৩১)
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ. [الفتح: ৪]
“তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেছিলেন যেন তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি পায়।” (আল-ফাত্হ:৪)
الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَاناً وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. [آل عمران: ১৭৩]
“যাদেরকে মানুষেরা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয় লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর’। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’!” (আলে-ইমরান:১৭৩)
এসব আয়াতসমূহে এটা বলা কি সম্ভব যে, ঈমানের বৃদ্ধি হচ্ছে ‘মুমান বিহি’ তথা যে যে বস্তুর উপর ঈমান আনা হয় তার বৃদ্ধির ভিত্তিতে ? তবে কোরআনে উল্লেখিত মানুষের কথা :
قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ. [آل عمران: ১৭৩].
“নিশ্চয় লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর।” (আলে-ইমরান:১৭৩)
এতে ঈমানের অতিরিক্ত কোন অংশ রয়েছে ? আর মুমিনদের অন্তরে সাকীনা নাযিল করার মধ্যেও কি ঈমানের অতিরিক্ত কোন অংশ বিদ্যমান আছে ? {যার উপর ঈমান আনতে হবে এবং যে কারণে ঈমান বৃদ্ধি পাবে} বস্তুত আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের অন্তরে সাকীনা নাযিল করেছেন তাদের হুদায়বিয়া থেকে ফেরার পথে, যেন তাদের আরো প্রশান্তি ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এর সমর্থন করে আল্লাহ তা’আলার বাণী :
هم للكفر يومئذ أقرب منهم للإيمان. (آل عمران : ১৬৭)
“সেদিন তারা কুফরীর বেশি কাছাকাছি ছিল তাদের ঈমানের তুলনায়।” (আলে-ইমরান: ১৬৭) {অতএব, প্রমাণিত হল, ‘মুমান বিহি’ তথা যেসব বস্তুর উপর ঈমান আনা হয়, তার বৃদ্ধির ফলে ঈমান বৃদ্ধি পায়, এ অভিমতটি বিশুদ্ধ নয়।}
আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন :
(وإذا ما أنزلت سورة فمنهم من يقول : أيكم زادته هذه إيماناً فأما الذين آمنوا فزادتهم إيماناً وهم يستبشرون. وأما الذين في قلوبهم مرض فزادتهم رجساً إلى رجسهم وماتوا وهو كافرون). (التوبة : ১২৪-১২৫)
“আর যখনই কোনো সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল’? অতএব যারা মুমিন, নিশ্চয় তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের অপবিত্রতার সাথে অপবিত্রতা বৃদ্ধি করে এবং তারা মারা যায় কাফির অবস্থায়।” (আত-ত্ওবা: ১২৪-১২৫)
ফকীহ আবুল লাইস - রাহিমাহুল্লাহ - তার তাফসীর গ্রন্থে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ফজল ও আবুল কাসেম সাবাযী। তারা বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন ফারেস বিন মারদুইয়াহ। তিনি বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ফজল বিন আবেদ। তিনি বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ঈসা। তিনি বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আবু মুতী, হাম্মাদ বিন সালামার সূত্রে, সে আবিল মুহাজ্জাম সূত্রে, সে আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু থেকে। তিনি বলেন,
جاء وفد ثقيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالوا : يا رسول الله، الإيمان يزيد وينقص ؟ فقال : لا، الإيمان مكمل في القلب، زيادته كفر، ونقصانه شرك .
“সাকীফের একটি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কি বাড়ে ও হ্রাস পায় ? তিনি বললেন, “না, ঈমান অন্তরে পরিপূর্ণ। ঈমানের বৃদ্ধি কুফরি আর হ্রাস শিরক।”
আমাদের উস্তাদ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীরকে -রাহিমাহুল্লাহ- এ হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল? তিনি উত্তর দেন, আবু লাইস থেকে আবু মুতী পর্যন্ত সনদ অজ্ঞাত, প্রসিদ্ধ ইতিহাসের কোনো কিতাবে তাদের সম্পর্কে জানা যায় না। আর আবু মুতী, সে হচ্ছে : আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা আল-বালখি, তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবেন মায়ীন, আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস, বোখারি, আবু দাউদ, নাসায়ী, আবু হাতেম রাযি, আবু হাতেম মুহাম্মদ বিন হাব্বান আল-বসতি, উকাইলি, ইবনে আদি, দারা কুতনি প্রমুখ। আর আবু হুরায়রা -রাদিআল্লাহ আনহু- থেকে বর্ণনাকারী আবুল মুহাজ্জাম, কাতেবদের থেকে তার নামে বিকৃতি হয়েছে, তার প্রকৃত নাম ইয়াজীদ বিন সুফিয়ান। তাকেও একাধিক মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন। শুবা বিন হাজ্জাজ তাকে পরিত্যাগ করেছেন। নাসায়ি বলেছেন, তাকে পরিত্যাগ করা হয়েছে। শুবা তাকে হাদিস রচনার দোষে অভিযুক্ত করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন,
لو أعطوه فلسين لحدثهم سبعين حديثاً !
“যদি তারা তাকে দু’টি মুদ্রা দেয়, তবে সে তাদেরকে সত্তুরটি হাদিস বর্ণনা করবে।”!!
নারীদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকল ও দীনের ব্যাপারে ত্র“টিসম্পন্ন আখ্যায়িত করেছেন। ,
তিনি আরো বলেন,
لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين .
“তোমাদের কেউ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা ও সমস্ত মানুষ থেকে অধিক প্রিয় হবো।”
উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈমানের অপূর্ণতা দূর করা। এর আরো উদাহরণ রয়েছে।
আর ঈমানের শাখা-প্রশাখার হাদিস, সুপারিশের হাদিস, এবং যার অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান রয়েছে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে, ইত্যাদি হাদিস তো রয়েছেই। এরপরেও কিভাবে বলা হয় : আসমানবাসী ও যমীনবাসীদের ঈমান সমান ?! আর তাদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে ঈমান ব্যতীত অন্য কারণে।
এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের বাণীও অনেক :
যেমন, আবু দারদা -রাদিআল্লাহু আনহুর- বাণী :
من فقه العبد أن يتعاهد إيمانه وما نقص منه، ومن فقه العبد أن يعلم أيزداد هو أم ينتقص.
“বান্দার বুদ্ধির পরিচয় যে, নিজ ঈমান এবং তা থেকে যা হ্রাস পেয়েছে তা দেখা-শোনা করা। বান্দার আরো বুদ্ধির পরিচয় যে, ঈমান বৃদ্ধি পাচ্ছে না কমছে তা জানা।”
ওমর রাদিআল্লাহু আনহু তার সাথীদের বলতেন,
هلموا نزدد إيماناً، فيذكرون الله تعالى عز وجل.
“আস, আমরা ঈমান বৃদ্ধি করি, অতঃপর তারা আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত হয়ে যেতেন।”
ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু দোয়ার সময় বলতেন,
اللهم زدنا إيماناً ويقيناً وفقهاً .
“হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ঈমান, এক্বীন ও দীনের বুঝ বৃদ্ধি করে দাও।”
মুয়ায বিন জাবাল রাদিআল্লাহু আনহু জনৈক ব্যক্তিকে বলতেন,
اجلس بنا نؤمن ساعة.
‘আমাদের সাথে বস, সামান্য সময় আমরা ঈমান গ্রহণ করি।’
আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা থেকেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।
আ¤মার ইবনে ইয়াসির রাদিআল্লাহু আনহু থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন,
ثلاث من كن فيه فقد استكمل الإيمان : إنصاف من نفسه ، والإنفاق من إقتار ، وبذل السلام للعالم. ذكره البخاري رحمه الله في صحيحه .
“তিনটি স্বভাব, যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমান পূর্ণ করল : নিজের পক্ষ থেকে ইনসাফ করা, অভাব সত্ত্ব্ওে দান করা এবং আলেমদের জন্য সালাম ব্যয় করা।” এটা বোখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার সহিহতে উল্লেখ করেছেন।
এ পরিমাণই যথেষ্ট, আর তাওফীক একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
ঈমানের উপর আমলের আত্ফের বিষয়, যা উভয়ের মাঝে বৈপরীত্বের দাবিদার; অতএব, আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হবে না, নীতির ব্যাখ্যা:
এতে সন্দেহ নেই যে, ঈমান কখনো আমল ও ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা উল্লেখ করা হয়। কখনো আমলে সালেহের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। আবার কখনো ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। মুক্তভাবে যে ঈমান উল্লেখ করা হয়, তার সাথে আমল জরুরি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إنما المؤمنون الذين إذا ذكر الله وجلت قلوبهم الآية .
“মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়।” (আনফাল : ২)
إنما المؤمنون الذين آمنوا بالله ورسوله ثم لم يرتابوا الآية .
“মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি।” (হুজুরাত : ১৫)
ولو كانوا يؤمنون بالله والنبي وما أنزل إليه ما اتخذوهم أولياء .
“আর যদি তারা আল্লাহ ও নবীর প্রতি এবং যা তার নিকট নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান রাখত, তবে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না।” (মায়েদা : ৮১)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن، الحديث.
“ব্যভিচারী ব্যভিচার করে না যখন সে ব্যভিচার করে, মুমিন অবস্থায়।”
لا تؤمنوا حتى تحابوا.
“তোমরা ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে মুহব্বত কর।”
من غشنا فليس منا.
“যে আমাদের ধোঁকা দিল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
من حمل علينا السلاح فليس منا .
“যে আমাদের উপর অস্ত্র ধারণ করল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
{এসব আয়াত ও হাদিসে ঈমানের সাথে আমল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে}
যারা বলেছে : ليس منا “আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” অর্থ আমাদের মত নয়! তাদের কথা সঠিক ব্যাখ্যার ধারে-কাছেও নেই। আফসোস, তাহলে যে ধোঁকা দেয় না, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের মত!
আর যখন ঈমানের উপর আমলে সালেহকে আত্ফ (সংযুক্ত) করা হয়, জেনে রাখা ভাল যে, এক বস্তুর উপর অপর বস্তুর আত্ফ, মাতূফ ও মাতূফ আলাইহি (অর্থাৎ যাকে সংযুক্ত করা হয় এবং যার সাথে সংযুক্ত করা হয়) উভয়ের মাঝে বৈপরীত্বের দাবিদার, তবে যে হুকুম তাদের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে উভয়ে অংশিদার। বৈপরীত্বের কয়েকটি স্তর :
সবচেয়ে বড় স্তর : দুইটি বস্তুই বিপরীত হওয়া। একটি বস্তু হুবহু অপরটি হবে না, তার অংশ হবে না, এবং উভয়ের মাঝে ওৎপ্রোত কোনো সম্পর্কও থাকবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
خلق السماوات والأرض وجعل الظلمات والنور./ وأنزل التوراة والإنجيل .
“যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীন এবং সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো।” (আনআম :১) “এবং নাযিল করেছেন তাওরাত ও ইনজীল ।” (আলে-ইমরান:৩)
{এখানে আসমান ও যমীন, অন্ধকার ও আলো একটি আরেকটির হুবহু সত্বা, অথবা অংশ, কিংবা উভয়ের মাঝে ওৎপ্রোত সম্পর্কও নেই।} এ ধরণের আত্ফ সাধারণত: বেশী হয়।
দ্বিতীয় স্তর : মাতূফ ও মাতূফ আলাইহির মাঝে ওৎপ্রোত সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
ولا تلبسوا الحق بالباطل وتكتموا الحق وأنتم تعلمون.
“আর তোমরা হককে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে হককে গোপন করো না।” (বাকারা : ৪২)
وأطيعوا الله وأطيعوا الرسول.
“আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের।” (মায়েদা : ৯২)
{এখানে বাতিলের সাথে হক মিশ্রিতি করা ও হক গোপন করা এবং আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যের মধ্যে ওৎপ্রোত সম্পর্ক বিদ্যমান।}
তৃতীয় স্তর : বস্তুর অংশকে বস্তুর উপর আত্ফ করা।
যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى .
“তোমরা সালাতসমূহ ও মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত কর।” (বাকারা : ২৩৮)
من كان عدوا لله وملائكته ورسله وجبريل وميكال ،
“যে শত্র“ হবে আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রাসূলগণের, জিবরীলের ও মীকাঈলের।” (বাকারা : ৯৮)
وإذ أخذنا من النبيين ميثاقهم ومنك .
“আর স্মরণ কর, যখন আমি অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম নবীদের থেকে এবং তোমার থেকে।” (আহযাব : ৭)
এ ধরণের আত্ফের দু’টি অবস্থা :
এক : দ্বিতীয় বস্তু প্রথম বস্তুর অন্তর্ভুক্ত থাকে, সে হিসেবে দ্বিতীয় বস্তু দুইবার উল্লেখ হয়।
দুই : দ্বিতীয় বস্তুকে প্রথম বস্তুর উপর আত্ফের দাবি হচ্ছে, দ্বিতীয় বস্তু এখানে প্রথম বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও পৃথক উল্লেখ করার সময় তার অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন ফকির-মিসকিন الفقراء) و (المساكين ও অনুরূপ শব্দসমূহে এরূপই বলা হয়েছে। একত্র ও পৃথক উল্লেখ করার সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ করে।
চতুর্থ : বিশেষণের বৈপরীত্বের কারণেও একটি বস্তু অপর বস্তুর উপর আত্ফ করা হয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
غافر الذنب وقابل التوب .
“তিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবূলকারী।” (গাফের / মুমিন : ৩)
আরবী কবিতায় শুধু শব্দের ভিন্নতার কারণেও আত্ফ হয়েছে। যেমন,
فألفى قولها كذبا ومينا
“সে তার প্রতিশ্র“তিকে মিথ্যা এবং মিথ্যাই পেল।” {كذبا ও مينا শব্দদ্বয়ের একই অর্থ, অর্থাৎ মিথ্যা। শুধু শাব্দিক পার্থক্যের কারণে আত্ফ করা হয়েছে।}
কারো কারো ধারণা কুরআনের মধ্যে অনুরূপ আত্ফ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجاً [المائدة:৪৮]
“তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরীআত ও স্পষ্ট পন্থা।” (মায়েদা : ৪৮) এ বিষয়ের আলোচনা যথাস্থানে সুপ্রসিদ্ধ।
এ প্রকারের কোন আত্ফ যদি বাক্যে ব্যাবহার হয়, আমরা দেখব : ঈমান তাতে কীভাবে উল্লেখ হয়েছে। অতঃপর আমরা যদি দেখি ঈমানের উল্লেখ মুক্তভাবে হয়েছে, তবে তা দ্বারা তাই উদ্দেশ্য হবে, البر, التقوى, الدين ও دين الإسلام দ্বারা যা উদ্দেশ্য হয়। শানে নুযূলে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল ? অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন :
)ليس البر أن تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب) البقرة: ১৭৭)
“ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে।” (বাকারা : ১৭৭)
মুহাম্মাদ বিন নাসর বলেছেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহীম। তিনি বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজীদ আল-মুকরি ও মালায়ি। তারা বলেন : আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন মাসউদি, কাসেমের সূত্রে। তিনি বলেন,
جاء رجل إلى أبي ذر رضي الله عنه، فسأله عن الإيمان؟ فقرأ : ليس البر أن تولوا وجوهكم إلى آخر الآية، فقال الرجل : ليس عن هذا سألتك، فقال : جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فسأله عن الذي سألتني عنه، فقرأ [عليه] الذي قرأت عليك، فقال له الذي قلت لي، فلما أبى أن يرضى، قال : إن المؤمن الذي إذا عمل الحسنه سرته ورجا ثوابها، وإذا عمل السيئة ساءته وخاف عقابها .
এক ব্যক্তি সাহাবি আবু যর রাদিআল্লাহু আনহুর নিকট এসে তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল ? তিনি তিলাওয়াত করলেন :
)ليس البر أن تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب) إلى آخر الآية، البقرة : ১৭৭)
পুরো আয়াত। লোকটি বলল, এ সম্পর্কে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেনি। তিনি বললেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করে তাঁকে সে সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করল যা তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করেছো। তিনি তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন, যা আমি তোমাকে তিলাওয়াত করে শোনালাম। সে তাকে তাই বলেছে, তুমি আমাকে যা বলেছ। সে যখন কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হচ্ছিল না। তিনি বললেন :
إن المؤمن الذي إذا عمل الحسنه سرته ورجا ثوابها، وإذا عمل السيئة ساءته وخاف عقابها .
“নিশ্চয় মুমিন ঐ ব্যক্তি, যখন সে নেক আমল করে, তা তাকে খুশি করে এবং সে তার সাওয়াবের আশা রাখে। আর যখন সে বদ আমল করে, তা তাকে বিষন্ন করে এবং সে তার শাস্তির ভয় করে।”
ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, পূর্বসূরীদের একটি জামাত এভাবেই উত্তর দিয়েছেন।
সহিহ গ্রন্থে রয়েছে, আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী :
آمركم بالإيمان بالله وحده، أتدرون ماالإيمان بالله؟ شهادة أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وأن تؤدوا الخمس من المغنم .
“ আমি তোমাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমানের নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জান আল্লাহর প্রতি ঈমান কি? সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা ও গণীমতের এক পঞ্চমাংশ তোমাদের আদায় করা।” আর জানা বিষয় যে, আল্লাহর প্রতি অন্তরের ঈমান ছাড়াই, এসব আমল ঈমান হিসেবে গন্য হবে, এটা কখনো হতে পারে না। কারণ, বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে, অন্তরের ঈমান অবশ্যই জরুরি। অতএব জানা গেল যে, এসব আমলের সাথে অন্তরের ঈমান, প্রকৃত ও পরিপূর্ণ ঈমান।
এর চেয়ে বড় দলীল আর কি হতে পারে যে, আমল ঈমান শব্দের অন্তর্ভুক্ত? কারণ, তিনি আমলের মাধ্যমেই ঈমানের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, অথচ তিনি বিশ্বাস উল্লেখ করেননি। কারণ, সবার জানা রয়েছে যে, এসব আমল অন্তরের বিশ্বাস ব্যতীত কোন ফায়দা দেবে না। ‘মুসনাদে’ রয়েছে, আনাস রাদিআল্লাহু আনহুর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
الإسلام علانية، والإيمان في القلب .
“ইসলাম প্রকাশ্য এবং ঈমান অন্তরে।”
ঈমান ও ইসলাম যে একটি অপরটির বিপরীত, এ হাদীসে তার প্রমাণ রয়েছে। এ অভিমতের স্বপক্ষে রয়েছে তাঁরই বাণী, যা ঈমান ও ইসলামের অর্থ সম্বলিত জিবরীলের প্রশ্নের হাদীসে বিদ্যমান। সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
هذا جبرائيل أتاكم يعلمكم دينكم .
“এ হচ্ছেন জিবরীল, তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে, তিনি তোমাদের কাছে এসেছেন।”
২|
০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ৯:৩৯
িক বলেছেন: very good
৩|
০৮ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৩৪
আড়িপাতা বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ৯:১৯
হুপফূলফরইভার বলেছেন: ইনফরমেটিভ পোস্ট। শোকেছে রেখে দিলাম পরে পরে নিব।
এই লন 'ডাবল ++'