নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য

মানুষ পথিক বেশে ঘুরছে দেশে দেশে একটু ছায়াতলে থমকে দাঁড়ায়, স্মৃতিটুকু রেখে শুধু একদিন তো চলে যায়।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামায়াতের দাপট, বিএনপির লজ্জা

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির বিজয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। ১৬ বছর আওয়ামী লীগের নিপীড়ন-নির্যাতনে তারা জনগণের বেশ সহানুভূতি পেয়েছিল। জামায়াতও ভালো করার সম্ভাবনা ছিল। কেননা তারাও নিপীড়িত ছিল, তবে তারা সরকার গঠন করতে পারত না; তাদের সেরকম সাংগঠনিক দক্ষতাও নেই।

গত ১৬ মাসে বিএনপির ভোট অনেকাংশে কমে গেছে। তাদের অপকর্ম মোটামুটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী পরশু (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তারা জোটগতভাবে হয়তো জিতবে, তবে একতরফাভাবে জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। তারা ক্ষমতায় এলে কী করবে, ক্ষমতায় না এসেই ট্রেলার দেখিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারও চোখে পড়ার মতো না।

জামায়াতও তাদের চরিত্র দেখিয়েছে। তবে তারা যেহেতু ধর্মীয় রাজনীতি করে, মোটামুটি ভালো জনসমর্থন পাবে। বিশেষ করে তাদের বেহেশতের ঠিকাদারি সহজ-সরল মানুষকে আকর্ষণ করবে। জামায়াত যেহেতু ‍তাত্ত্বিক রাজনীতি করে, লোকজন ভেতরে প্রবেশ না করে লেবাস দেখে পছন্দ করতে পারে। দেশের বেশিরভাগ মানুষের হেফাজত আর জামায়ায়াতে আদর্শিক পার্থক্য বোঝার মতো মগজ নেই।

এনসিপি, এবি পার্টি বা অন্যদের কথা বাদ রাখলাম। ওরা তো জামায়াতেরই জোটবদ্ধ। জাতীয় পার্টি বা জাসদ আওয়ামী লীগারদের ভোট পেতে পারত, তবে কেন্দ্র দখলের আধিক্য থাকলে তারা বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপি বা জামায়াতকেও ভোট দিতে পারে। যেহেতেু আওয়ামী নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত, বাঁচার জন্য হলেও এসব দলে ঢুকবে। আওয়ামী লীগের ভোট-ব্যাংক কম না। এনসিপি বা অন্যরা মিলে তার ১০ ভাগের একভাগও পাবে কি না সন্দেহ। বিএনপি বা জামায়াত যদি শুরু থেকে এসব ভোট টানার চেষ্টা করত, তাদের জন্য ভালোই হতো। হুজুগে পড়ে আওয়ামী নিপীড়ন চালিয়েছে, এখন যখন দেখছে দিশা পাচ্ছে না, তখন আওয়ামীদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।

বিএনপি-জামায়াত আগে জোটবদ্ধ ছিল, এখন প্রতিদ্বন্দ্বী। কারো এককভাবে সরকারে আসার সুযোগ হয়নি। যেই ক্ষমতায় যাক, সরকার চালানো সহজ হবে না মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। এছাড়া অসততা, দুর্নীতি তো আছেই। সেসব হিসাব অবশ্য পরে। আগে তো বিজয়ী হতে হবে।

তার আগে যদি পর্যালোচনা  কর‍া হয় কাকে সমর্থন দেওয়া উচিত? আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তো এখন স্থগিত, আম‍ার মনে হয় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে এক দড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে মরা উচিত। এত বছর ওরা কী রাজনীতি করল? কেন উল্লেখযোগ্য ক্যারিশমাটিক নেতা তৈরি করতে পারল না?

বিএনপির বড় নেতারা যখন পু‍ঁচকে ছেলেদের সাথে সমঝোতা করে চলেন, এরচেয়ে লজ্জার কিছু আছে? বিএনপির প্রতিষ্ঠা সেনানিবাসে হলেও এর বিকাশ তো রাজপথে। তো দলটা আজ এমনই দশা যে ওদের এখন পু‍ঁচকেদের সাথে লড়াই করতে হয়?

দলে যোগ্য লোক থাকলে এই দশা হতো না। যে জিয়াউর রহমান জামায়াতকে পুনর্জীবন দিয়েছিলেন, যে খালেদা জিয়া ওদের এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছেন- মাঠে টিকে থাকতে হলে তারেক রহমানকে এখন তাদের সাথে প্রাণপণে লড়াই করতে হয়।

খরগোশ আর কচ্ছপের ঘটনা মনে পড়ে। বিএনপি তো ভালোই আরাম করল গত ১৬ মাস, এখন না জানি শেষ পর্যন্ত কচ্ছপই জিতে যায়। জিতে গেলে সেটা লজ্জার ব্যাপার হবে। জনগণকেও দোষারোপ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের প্যানেল বিজয়ী হওয়া আমাদের বিব্রত করলেও বাস্তবতার জানান দেয়। বিশেষ করে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের অরাজকতা সবাইকে হতাশ করেছে। জনগণ তো আওয়ামী লীগকেও দেখল, বিএনপিকেও দেখল। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ঝোঁপ বুঝে কোপ মারলে মারতেও পারে।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৬

সূচরিতা সেন বলেছেন: ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের তিন চার মাসের ভিতরে নির্বাচন দিলে অনেকের আসল রূপ পাবলিক দেখতে পারতো না।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৮

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: সত্যিই তাই। জনগণ মোটামুটি এখন সচেতনভাবে বোঝার অবস্থানে আছে।

২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৭

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশী, তবে জামায়াতের জয় অসম্ভব নয়।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৯

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: জামাইয়ের কী হাল-হকিকত?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.