| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৭১’রের পরাজিত শক্তিকে তোমরা ছেড়ে দিলে কেন? কেন হানাদার পাক-বাহিণীদের মত তাদের তোমরা মেরে ফেললে না? এ প্রশ্নের জবাব অনেকের কাছেই খুজে ছিলাম। যুদ্ধ করেছিল লক্ষ্য যোদ্ধা কেন বীর শ্রেষ্ঠ শুধু ৭জন? কেন নজরুলের লেখা কোন কবিতা আমাদের জাতীয় সংগীত হলো না। কেন জাতীয় পশুর নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কেন বাংলার বাঘ হলো না, তাহলে আমরা বাংলায় সমৃদ্ধ নই? যেহেতু অনেক বিষয়ে জাতীয় আছে। তাহলে, জাতীয় নর-পিচাশ কেন গোলাম আযম হলো না? কেন টেলিভিশনের কোন বাংলা নেই? কেন বাংলা একাডেমি? কেন ভাষা উন্নয়ন ও গবেষনা পরিষদ হলো না? তারা বাংলা ভাষা নিয়ে গবেষণা করবে, কিন্তু প্রষ্ঠিানের নাম ইংরেজী। কেন ঢাকা কলেজ যেখান থেকে আমি ¯œাতক করেছি। কেন গভর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল যেখানে আমি পড়েছি, কেন ঢাকা সিটি কলেজ? যেখান থেকে আমি করেছি উচ্চ-মাধ্যমিক। ভাষা’র জন্য লরেছে সবাই, ৫২-তে। কেন তবে আমরা শুধু কয়েক জনের নাম জানি। তাও যাদের নাম আমরা জানি তাদের একজনের উপর একটা প্রামাণ্যচিএ দেখেছি যা কখনও প্রকাশ করা হবে না, কারণ সে ছিল একজন পথচারী। কিন্ত তা নিয়ে আমি কোন তর্কের অবতারনা করতে চাই না। আমরা সাধারণ মানুষ অন্যকে বিশ্বাস করি এবং অনেস সময় ধরা খাই।
আমি বাংলাদেশের চাইতে মাত্র ৫মাসের ছোট। সৌভাগ্যক্রমে আমার কিছু মুক্তিযোদ্ধা বন্ধু আছে। যারা আমার চাইতে ১৫-২৫ বছরের বড়। তাদের একজন আমাকে এক আড্ডায় বলেছিল তোমরা ৫২ দেখোনি ৬৯ দেখোনি, দেখোনি ৭১, ৭৫। তোমাদের না আছে মানষিক মনবল না আছে শারিরক শক্তি। কিভাবে থাকবে, খেয়েছো ভেজাল, শিখেছো ভুল। শক্তির প্রমান করতে তাদের একজনের বয়স ৬৪/৬৫ যার সাথে আমি পান্জা লরে হেওে যাই। এবং তারা গর্বেও সাথে বলেছিল দেখলে এখনো আমাদের সেই শক্তি রয়েছে, আর একটা যুদ্ধের জন্য এখনও প্রস্তুত। সেই মুক্তিযোদ্ধা’র ২সন্তান। যারা তাঁর এই বৃদ্ধবয়েসে তাঁর সাথে নেই। আমরা কতটা স্বার্থপর! তাঁর নাম শফি। খোজ নিয়েছি তিনি সেই সন্দিপ থেকে বর্তমানে শাহাবাগে অবস্থান করছেন। আর একজন বিচ্ছু কাসেম নামে ৭১-এ পরিচিতি পেয়েছিল। এক হোন্ডায় বন্ধুর পিছনে বসে ২টি এলাকায় ১৫ টি গ্রেনেড ছুরে মেরেছিলেন অনেক হানাদার বাহিণীর সদস্যদের । তাঁেক প্রশ্ন করেছিলাম সাকা চৌধুরী সম্পর্কে। উত্তরে বলেছিলেন, তাকে হন্নে হয়ে খুজেছি পাইনি। পওে তার একটা জিপ গাড়ী ঐ সময়ে ২,০০০/- টাকায় বিক্রি কওে দিয়েছি। বলেই বললেন ভাই একথা কাউকে যেন না বলি। কারণ তখন বি. এন. পি ক্ষমতায়। তার পর বাড়ীতে ফিরে সকল অপরাধীদের যারা পাকিস্তানের দোসর হিসেবে কাজ করেছিল তাদের গাছের সাথে বেধে সমস্ত গ্রাম বাসীর রায় নিয়ে কাউকে ব্রাস ফায়ার করে কাউকে অপমান করে কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেড়েছে। তিনি যানতেন না তাঁর চাচাও ঐ পাকিস্তানের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। এর মাঝে তার চাচাকে নৌ-বাহীনির এক ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চাচী / চাচাতো ভাইরা ছুটে আসে তার কাছে। তিনি তখন তার কমান্ডারকে নিয়ে তার চাচাকে উদ্ধার করে আনেন। একথা বলতে বলতে তিনি কেদে ফেলেন, কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকেন, তারপর কান্না জরিত কন্ঠে বলেন ভাই ভুল করেছিলাম। কেন যে তখন তাকে বাচাতে গেলাম। আমি তখন বলেছিলাম, ভুল কেন? বললেন; ১৯৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট আমার ঘুম ভাঙ্গে আমার সেই চাচার চিৎকার শুনে। সে আমারই বাড়ীর সামনে এসে চিৎকার করে বলেছিল ঐ কাশু তোর ‘মুজীব্বারে’ মাইরা ফালাইছে। এবং সেই চাচা অট্টহাসিতে ফেটে পরে। তিনি তখন রান্নাঘর থেকে দা নিয়ে তারা চাচাকে দাবড়ীয়ে পুকুরে নামিয়েছিল এবং ২-আড়াই ঘন্টা সেখান থেকে উঠতে দেয়নি পরে স্থানীয় মুরুব্বীরা এসে তার সেই চাচাকে বাচান। মুরুব্বীরা বলেছিল, কাশেম আইন হাতে তুলে নিও না। তাই দুঃখ করে বললেন আমার মত অনেকেই হয়তো ভুল করেছিল তাই এসব রাজাকাররা এখনও বেচে আছে। আর বড়গুলাতো দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল।
তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যুদ্ধে কেন গিয়েছিলেন, বললেন তখন মাত্র ম্যাট্রিক দিয়েছি রক্তটগবগ করছিল সবার মত আমিও ট্রেনিংয়ে ইন্ডিায় যাই। তিনি বলেছেন, যার পেশা ছিল চুরি করা, যে কৃষক অন্নের জমিতে কাজ করতো, যে রিকশাওয়ালা অন্নের রিকশা চালাতো। যে মুজুর অন্নের হয়ে কাজ করতো। স্বাধীন দেশ হলে সে চোর কে আর চুরি করতে হবে না, সে কৃষকের আর অন্নের জমিতে চাষ করতে হবে না। যার নিজের একটুকরো জমি হবে খেয়ে-পড়ে শান্তিতে জীবন কাটবে সেই প্রত্যাশায়। কর্মসংস্থান হবে। মিল চলবে। যার মালিক হবে তারা। সেই প্রত্যাশায়। জিজ্ঞেস করলাম কি পেলেন কিছুই না। একটা সনদ। এখন এটা আইডি। যেটা দেখালে ট্রেনের ভাড়া দিতে হবে না। কোটায় হয়তো আমার সন্তান ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে। আপনারা কি খুশি। রেগে গিয়ে বললেন, আজকের এই দিন দেখার জন্য আমরা প্রানের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে যাইনি। যুদ্ধেগিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর ডাকে। যিনি ভালভাবে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। স্বপ্ন ভঙ্গ হয় যুদ্ধের পর যখন তিনি আমাদের বললেন তোমরা যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাও। স্বপ্ন সেই দিনই ভেঙ্গে গিয়েছিল। ফলে যে চুরি করতো সে আবার চুরিতে, যে বদমাসি করতো, যে অন্নের জমিতে, রিকশাওয়ালার আর নিজের রিকশা হলো না। শ্রমিক শ্রমিকই রয়ে গেল তাদের নিজস্ব কোন কলকারখানা হল না। একক মালিকানা তো চায়নি তারা। তবুও আশা ছাড়েননি। তাদের স্বপ্ন পুরোপুরি ভেঙ্গে যায় ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫। তার পর থেকে তারা আর স্বপ্ন দেখেন না। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভাই অনেকে যে বলে দেশটাকে কেউ বাকশাল বানাতে চায়। এই বাকশালটা কি? তিনি বললেন, এ জাতি মূর্খ্য। আপনি একটু জনপ্রিয় হোন তারপর যা বলবেন তাই জনগন নেবে। বললেন যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সকল আইনজ্ঞদের এক করে বলেছিলেন তোমরা এমন একটা আইন তৈরী করো যেখানে পার্লামেন্টের সদস্য হবেন সকলশ্রেণীর একজন প্রতিনিধি। যেমন কৃষকের প্রতিনিধি, শ্রমিকের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ির প্রতিনিধি, মোট কথা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতিনিধিরাই পার্লামেন্টে থাকবে। তাহলে সকল শ্রেণীর মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হবে যার নাম হবে বাকশাল। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমীক লীগ। আমরা ক’জনে জানি তা?? আমিও জানতাম না। এ নিয়ে কোন টক্্শোও হয় না। তাদের মধ্যে একজন আছেন যিনি অনেক সম্পদশালি। আমার ঐ ৬/৭ জন মুক্তি যোদ্ধা বন্ধুদের মাঝে সেও মাঝে মাঝে আসতো আমার অফিসে। কারো কম্পিইটারে কোন কাজ, প্রিন্ট করতে হবে। কেউ হয়তো কোন সেমিনাওে জোগদিতে ঢাকায় এসেছেন। কেউবা এসেছেন ছেলের কলেজে ভর্তির জন্য। তারা একদিন বললেন এইযে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান, এবং যে যুদ্ধকরে তার পাওনা নিজেই বুঝে নিয়েছেন। জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে। সরকার থেকে খুব অল্পমূল্যে ঢাকার এলিফ্যান্টরোডে। মগবাজারে এবং আরও অনেক স্থানে। সেই যোদ্ধা বলেছিলেন, আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। আমার দেশে যে শোনা ফলে, আমাদের এই দেশটাযে কত সম্পদশালী আমি বিশ্বাস করতাম এবং তখন উপলব্ধিও করেছিলাম যা আমার বাকি বন্ধুরা করতে পারেনি। তাই আমি তখন ডোবা, নালা, জঙ্গল কিনেছি সরকারের কাছথেকে। আজ আমার সম্পদের অভাব নেই। তার গ্রামের মানুষ তার কাছে এসে কখনও খালি হাতে ফিওে যায় না। গ্রামে স্কুল দিয়েছেন। ইত্যাদি।
তাদের একজনকে আজ ফোন করেছিলাম। ফোন ধরেই আমাকে বললেন, জানি কেন আপনি ফোন করেছেন। শফি শাহাবাগেই আছে। আর আমার মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। যেতে পারছি না শাহাবাগে। আরও বললেন বন্ধু আমি আপনাকে যে বলেছিলাম এযুগের তরুনদের দিয়ে কিছু হবেনা, আমি আমার কথা ফিরিয়ে নিলাম।
আমাদের এই ব্লগের আমার এক লেখার মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন দেশের তরুনরা যখন একটি সত্যের পথে আন্দোলন করছে, যখন আমার স্কুলের বন্ধু সুমন (অর্থহীন ব্যান্ড), ঠাকুর (আমেরিকায় বসবাসরত) জাগরনের গান লিখে মিউজিক ভিডিও করে ফেইস বুকে আপলোড করছে। যখন বিবেকের তারনায় মনের দুঃখ গুলো লিখছি তখন তার বিপরীত চিত্রও আছে, তখন কেউবা ভেলেন্টাইন পালন করবার জন্য ওয়েন্টিন হোটেলে রাত কাটাচ্ছে। ২টো টিভি চ্যানেলে লাইভ দেখাচ্ছে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ভেলেন্টাইন ডে পালন করছে গান শুনে ও অর্ধনগ্ন দেহ প্রদর্শণকারী নারীদের ফ্যাশন শো দেখে, কেউবা সামরিক বাহীনির ভেলেন্টাইন ডে কনসার্ট দেখছে।
ফাঁসি ফাঁিস ফাঁসি চাই রাজাকারের ফাঁসি চাই। এতো হলো যারা বাংলাদেশ কে ভালোবাসে। ৭১-এ বিস্বাস করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে লালন করে। আর যদি ইসলামের দৃষ্টিতে দেখি তাহলে তাদের শাস্তি হতো ভিন্ন মাত্রায় ঃ ‘মা’-‘বোনের’ সম্ভ্রমহানীর জন্য দেহ মাটিতে পুতে পাথর নিক্ষেপ। হত্যার জন্য প্রকাশ্য শীরচ্ছেদ।
যে যাই করুক। আমরা থাকবো সত্য ও ন্যায়ের সাথে। থাকবো বাংলামায়ের সাথে। জয় বাংলা।
©somewhere in net ltd.