নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবনটাকে নিজের মতো উপভোগ করার চেষ্টায়........

Asif Hasnat Himel

সাধারনের কোন কিছুর ভিতরেই অসাধারণ কিছু খোজার চেষ্ঠা করি

Asif Hasnat Himel › বিস্তারিত পোস্টঃ

অবাক তিনটি মৃত্যু !

০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ৯:২২

মৃত্যু -এক

বিখ্যাত গণিতবিদ রামানুজান যখন

ইংল্যান্ডে প্রথম গেলেন তখন এক ফাইভ

স্টার হোটেলে উঠলেন।

শুতে গিয়ে দেখেন বিছানার উপর

মোটে একটা কম্বল।

এদিকে বাইরে প্রচন্ড শীত।একবার

ভাবলেন ফোন করে আরো কম্বল চাইবেন।

কিন্তু পাছে ক্ষ্যাত ভাবে এই

ভেবে তিনি একটা কম্বল গায়ে দিয়েই

শুয়ে পড়লেন।বেশ কিছু দিন

এভাবে কাটানোর পর ঠান্ডা লেগে তার

হয়ে গেল নিউমোনিয়া,ব্রঙ্কাইটিস।

ডাক্তার জিজ্ঞেস করায়

তাকে খুলে বললেন সব।ডাক্তার

তো হেসেই খুন।তিনি বললেন,

“তুমি তো আসলেই একটা ক্ষ্যাত,ঐ সমস্ত

হোটেলে বিছানাটা এমন

ভাবে সাজানো থাকে ঠিক বালিশের

নিচ দিয়ে সটান ঢুকে পড়তে হয়

বিছানার ভিতরে।উপরের

কম্বলটাতো ফর শো!”

বি:দ্র:সবচেয়ে বড়

ট্র্যাজিডি হচ্ছে পরবর্তীকালে এই

নিউমোনিয়াতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যু -দুই

জীবনকালে পিথাগোরাসের

জনপ্রিয়তা ছিলো ব্যাপক।ক্রমশ

বৃদ্ধি পেতে থাকে পিথাগোরিয়ানদের

সংখ্যা যারা পরবর্তীকালে জ্ঞানচর্চা

মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

এতে করে রাজশক্তি চিন্তিত হয়ে ওঠে।

তারা মিথ্যা প্রচার শুরু করে।

এতে করে জনসাধারণ বিভ্রান্ত

হয়ে পড়ে।তারা পিথাগোরাসের

শিক্ষাকেন্দ্রে আক্রমণ করে বসে।

শিষ্যদের অনুরোধে পিথাগোরাস

পালিয়ে যান।এমন সময় তার

সামনে পরে কলাই জাতীয় শষ্যের

ক্ষেত।তিনি বিশ্বাস করতেন

কলাইয়েরও প্রাণ আছে।একটি জীবন্ত

কলাইয়ে পা দেওয়া মানে একটা জীবন

নষ্ট করা।নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও

তিনি কলাই ক্ষেতে পা রাখলেন না।

বিক্ষুদ্ধ জনতা সেই

সুযোগে তাকে নাগালের

মধ্যে পেয়ে তাঁকে হত্যা করলো।

তিনি নিজের জীবন দিয়ে নিজের

আদর্শকে রেখে গেলেন উঁচু করে।

মৃত্যু-তিন

জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে জাগতিক

নিঃসহায়তা জীবনানন্দ

দাসকে মানসিকভাবে কাবু করেছিল

এবং তাঁর জীবনস্পৃহা শূন্য

করে দিয়েছিল। মৃত্যুচিন্তা কবির

মাথায় দানা বেঁধেছিল। তিনি প্রায়ই

ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন।

তাঁর বন্ধুবান্ধবকেও এ ব্যাপারে বলতেন

।কাকতালীয়ভাবে ১৪ই অক্টোবর, ১৯৫৪

তারিখে কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম

দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীর মতে এ সময় দুই হাতে দুই

থোকা ডাব নিয়ে ট্রাম লাইন পার

হচ্ছিলেন কবি।ট্রামের

ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত

হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল

কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড়।

গুরুতরভাবে আহত জীবনানন্দের চিৎকার

শুনে ছুটে এসে নিকটস্থ চায়ের দোকানের

মালিক চূণীলাল

এবং অন্যান্যরা তাঁকে উদ্ধার করে।

ভর্তি করা হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত

হাসপাতালে। চিকিৎসক ও সেবিকাদের

সকল

প্রচেষ্টা বিফলে দিয়ে ২২শে অক্টোবর,

১৯৫৪ তারিখে রাত ১১টা ৩৫

মিনিটে কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত

হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। গত এক শত

বৎসরে ট্রাম দুর্ঘটনায় কোলকাতায়

মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র একটি। তিনি আর

কেউ নন, কবি জীবনানন্দ দাশ।।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.