| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সমাজে নারীরা অবহেলিত’ ‘নারীদের অধিকার কম’ ‘নারী নির্যাতন বেশি’ ‘মেয়েরাও মানুষ’ এই জাতীয় শিরোনাম সংবলিত লেখা প্রতিদিন পত্রিকার কোন না কোন পৃষ্ঠায় দেখা যায়। বিশেষ করে নারী বিষয়ক যে সংখ্যাগুলো যেমন প্রথম আলোর ‘নারীমঞ্চ’ এসব জায়গায় নারীদের লেখা কিছু পুরুষ বিদ্বেষী ফিচার থাকে যেখানে নারীদের যাবতীয় ব্যর্থতার জন্য ঢালাওভাবে সমাজের সব পুরুষদেরকে দোষারোপ করা হয়। সেসব লেখা পড়লে মনে হয় যেন পুরষরাই নারীদের যাবতীয় সম্ভাবনা এবং সমস্ত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে রেখেছে। ‘পুরুষতান্ত্রীক সমাজ’ এই দোহাই দিয়ে নারীরা তাদের লেখায়, তাদের বত্তৃতায়, সভা-সেমীনারে পুরুষদের প্রতি যে ঘৃনা এবং ক্ষোভের প্রকাশ করেন, সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন পুরুষ যদি নারীদের সম্পর্কে এরকম মনোভাব পোষণ করেন, আমার মনে হয় ঘন্টাখানিকের মধ্যে ওই পুরুষ বেচারীকে থানা থেকে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবেন। ওমুক প্রতিষ্ঠানে ‘নারী বলে তার চাকরী হয়নি’ আমার যুগে আমি এরকম কথা শুনিনি কোথাও। বরং সে ‘নারী বলেই তার চাকরী হয়েছে ওই পুরুষটার বদলে’ এরকম কথা শুনেছি অনেকবার। অনেকবার দেখেছি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একই পদের জন্য নারীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাও শিথীল রাখা হয়। এম এ পাশ করা একটা ছেলে নির্দ্বিধায় ইন্টারমিডিয়েট পাশ একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে, অথচ স্নাতক পাশ একটা মেয়ে কোন অবস্থাতেই তার চেয়ে কম শিক্ষিত একটা ছেলেকে বিয়ে করতে চাইবেন না। তারা মূলত নিজেরাই ছোট হয়ে থাকতে চান পুরুষদের কাছে।
একদিন বাসে দেখলাম একজন বয়স্ক লোক (পুরুষ) মহিলার সিটে বসে আছেন। বাসে অবশ্য কোন মহিলা যাত্রী দাড়ানো অবস্থায় ছিলেন না। সীটে বসা এক মহিলা অকারণেই বৃদ্ধ লোকটির সাথে ক্যাচর ম্যাচর শুরু করলেন। তর্কের বিষয়ঃ কেন আপনি মহিলা সিটে বসলেন, ইত্যাদি। আমি বুঝতে পারলাম বৃদ্ধ লোকটি অপমান বোধ করছেন। আমি কেবল বলতে যাচ্ছিলাম চাচা আপনি আমার সীটে বসেন, ঠিক এই মুহুর্তে মহিলাটি আচমকা বলে বসলেন- বাসের কন্ট্রাক্টর আইসা যখন ঘাড় ধইরা উঠায় দিবে তখন বুঝবেন মজা। বুঝুন অবস্থা !
পুরুষদের সীটে কোন মহিলা বসলে তাকে ঘাড় ধরে উঠিয়ে দেওয়াতো দুরের কথা, আপা আপনি উঠেন, এই কথাটুকু বলার সাহসও আমাদের কোন পুরুষের আছে কিনা আমার সন্দেহ। আমরা বরং কোন মহিলা বাসে উঠে দাড়িয়ে থাকলে তাদেরকে নিজেদের সীট ছেড়ে দিয়ে বসার জন্য অনুরোধ করি। বিনিময়ে তারা ধন্যবাদটুকুও দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না।
‘যৌতুক না পেয়ে নারী নির্যাতন’ পুরুষদের বিরুদ্ধে আরেক চিরন্তন অভিযোগ।
যৌতুকের কারণে যারা বউয়ের গায়ে হাত তোলে নিঃসন্দেহে তারা গুরুতর অপরাধী। শুধু নারী কেন, কোন শিক্ষিত সচেতন পুরুষও তাদের পছন্দ করেনা। কিন্তু কথা হচ্ছে মেয়ের বাবা মা কেন তাদের মেয়েটাকে যৌতুক ছাড়া বিয়ে দেওয়ার মত উপযুক্ত হিসেবে বড় করে তুলতে পারেননি। মেয়েটাও যখন বড় হচ্ছিল তখন তারও বুঝা উচিত ছিল আমাকে পড়াশোনা করে সাবলম্বী হতে হবে। অশিক্ষিত বা নাইন টেনে পড়া একটা মেয়ের বাবা মা যদি তাদের মেয়ের জন্য বিবিএ এমবিএ পাত্র খোজেন, তবে তো পাত্রের বাবাকে পুত্রের এমবিএ পড়ানোর টাকার খরচ যৌতুক হিসেবে দিতে হতেই পারে!
আমার তো মনে হয় প্রাপ্তবয়স্ক দুজন শিক্ষিত ছেলেমেয়ে যদি ভালোবেসে বিয়ে করে, সত্যিকার অর্থেই তারা একটি সুখের সংসার গড়ে তুলতে পারে। যৌতুকের মত নোংরা বিষয় নিয়ে তারা কখনো চিন্তাই করেনা। কিন্তু এই ভালোবাসার স্বাধীনতাও তো নাই আমাদের এই হতোভাগা সমাজে। সম্ভবত বেশিরভাগ মেয়ের বাবা মায়ের ধারণা তাদের মেয়েটা যেই ছেলের সাথে প্রেম করে সে একটা বখাটে ছেলে। যে করে হোক ওই বখাটের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাতে হবে। প্রয়োজনে তাকে মারধর করে তার স্কুল-কলেজ যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। তারা এটুকুও বুঝতে চান না তাদের মেয়ে তার সমস্ত হৃদয় দিয়ে যেই ছেলেটাকে ভালোবাসে, আদৌ সে ওই ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ভালো থাকতে পারবে কিনা। সে অবশ্য ভালো থাক আর না থাক বাবা মায়ের আদেশ সে অক্ষরে অক্ষরেই পালন করে। কোন অবস্থাতেই ছেলেটার সাথে আর যোগযোগ করেনা। ওদিকে ছেলেটা হঠাৎ প্রেমিকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। দিনরাত শুধু ‘কেন’ শব্দটা তার মাথার ভেতর নাচতে থাকে। কেন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে? যে কোন মূল্যে মেয়ের কাছ থেকে এই প্রশ্নের উত্তর সে পেতে চায়। অতপর: দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোন একদিন হয়তো তার প্রাণপ্রিয় মানুষটিকে সে রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে দেখে দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাড়িয়ে আকুলী বিকুলী করতে থাকে ভালোবাসা ফিরে পাওয়ার জন্য। ছেলেটি কাঁদতে চায়, হাত ধরতে চায় মেয়েটির। মেয়েটি হয়তো প্রত্যাখান করে ছেলেটিকে। অস্বীকার করে সম্পর্ক, ভূলে যায় প্রতিশ্র“তি।
দুর থেকে পথচারীরা তাদের কথা শুনতে পাননা, দেখতে পাননা তাদের অতীত। তারা দেখেন একটি মেয়ের পিছনে দৌড়াচ্ছে একটি ছেলে। ইভটিজিং করছে মেয়েটিকে। তারা একত্রিত হয়ে ধরে ফেলেন ছেলেটিকে। সাংবাদিক এসে ছবি তুলে বখাটে ছেলেটির। ইভটিজিং এর অপবাদে মৃত্যু হয় একটি ভালোবাসার। একটি স্বপ্নের।
পূণশ্চঃ ইভটিজিং আইনের প্রতি আমি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সম্ভবত ভালোবাসতে চাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা পূরণে ব্যর্থ হয়েই অনেকে উত্ত্যক্ত করে মেয়েদেরকে। আবার এদেশের অনেক শিক্ষিত ছেলেরাও অপরিচিত কোন মেয়ের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেনা। এদের অনেকে ইভটিজিং এর ভয়ে মেয়েদের সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছে। তাই মূলত কি কি ধরনের আচরণে ইভটিজিং হতে পারে এর কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রচার করা হয়তো বিশেষভাবে প্রয়োজন।
রবিউল করিম বাবু,
[email protected]
01943679956
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৪৩
রবিউল করিম বাবু বলেছেন: লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো