| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এই লেখাটা কয়েকদিন আগে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে লিখেছিলাম। কিন্তু আমার ব্লগে কি এক সমস্যার কারণে লেখাটা প্রথম পাতায় প্রকাশ হচ্ছিল না। তাই আজকে আবারো দিলাম।
ছোটবেলায় ক্রিকেটকে আমি জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম বড়রা আমার সমবয়সী কাউকে যদি জিজ্ঞেস করতেন তুমি বড় হয়ে কি হবা? সবাই বলত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার। আমি বলতাম ক্রিকেটার হব। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে ব্যাট বল নিয়ে মাঠে পড়ে থাকতাম সারাদিন। তখন আমার বয়স ছিল ১৫/১৬। একদিন জানলাম সরকারীভাবে মোট ৫ জন করে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে অনুর্ধ ষোল বছর বয়সি ক্রিকেটারদের ঢাকায় পাঠানো হবে প্রশিক্ষনের জন্য। তবে এই এতো খেলোয়াড়দের মধ্যে কারা হবে সেই সৌভাগ্যবান পাঁচজন তা নির্ধারন করবেন জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক। আমাদের পঞ্চগড়ের সাধারন সম্পাদক ছিলেন সাইখুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি। যিনি মোটামোটি ফুটবল বুঝলেও ক্রিকেটে কত বলে এক ওভার হয় তাও ঠিকমতো বুঝতেননা! তো আমরা প্রশিক্ষনে যাওয়ার আশায় বাছাই পর্বে অনেকেই অংশ নিলাম। এই অনেকের মধ্যে ছয় সাতজন ছিলেন যারা পড়াশোনা শেষ করে চাকরী করেন বা বিয়েও করেছেন। অর্থ্যাৎ তাদের বয়স প্রায় চব্বিশ এর উপরে। উল্লেখ্য তারা ছিলেন সম্পাদক সাইখুল ইসলামের সূপরিচিত ও ঘনিষ্ট! বাছাই পর্ব শেষে ঘোষনা হলো অনুর্ধ ষোল প্রশিক্ষনে যাবে ওই বয়স্ক সাতজনের মধ্যে পাঁচজন!! আমরা মন খারাপ করে বাসায় চলে গেলাম। এরপরেও অনেকদিন আমি খেলার মধ্যে ছিলাম কিন্তু ওই সাইখুল ইসলামের মতো পক্ষপাতি বদ লোকদের কারনে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নটা আমার পুরণ হয়নি। স্বপ্ন পোড়ার দুঃখটা এখন ভুলে গেছি তবে দুঃখ লাগে টেষ্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৪ বছর পরেও এই দেশে এতো কম ক্রিকেটার কেন? কেন একজন ওপেনার দিনের পর দিন এতো বাজে খেলার পরেও তার বিকল্প খুজে পাওয়া যায়না? কেন শুধু স্বজনপ্রিতির কারণে অপদার্থ খেলোয়াড়দেরকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়না? শুধু বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে পারাটাই কি বিসিবির সফলতা? নিজেদের দল যে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মাথা নিচু করে দিচ্ছে এই চিন্তা কার? বিসিবি এবং সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব তৃণমুল পর্যায়ে ক্রিকেটকে সহযোগীতা করে ভালো খেলোয়াড় তৈরি করা। তা না হলে টেষ্ট ষ্টেটাস তো যাবেই ওয়ানডে আর টি টোয়েন্টি খেলার যোগ্যতাও থাকবেনা বাংলাদেশের!!
রবিউল করিম বাবু,
[email protected]
©somewhere in net ltd.