নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

" পবিত্র মাহে রমজান ও রোযাদার " - আল কোরআন ও হাদীসের আলোকে রোযা, রোযার ফজিলত ও রোযাদারের মর্যাদা। (ঈমান ও আমল - ১৬)।

২০ শে এপ্রিল, ২০২২ দুপুর ১:০৫


ছবি - mybdtips.com

পবিত্র রমজান মাস - রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাস। এই মাস মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহপাকের এক বিশেষ অনুকম্পা ও নিয়ামাতের মাস। অধিক পরিমাণে আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব অর্জন ও নেকি লাভ সম্ভব এ মাসে। আর তাই আমাদের সকলকে রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে যেন কাজে লাগানো যায়, সে প্রচেষ্টা চালানো উচিত। কেননা - এ মাস আমলের মাস, ইবাদতের মাস।

মানুষের এক জীবনে যা যা দরকার, তার সবই সাজানো রয়েছে আল কোরআন ও হাদীসের পরতে পরতে। সুস্থ সুন্দর সুখী পরিতৃপ্ত জীবনের জন্যে যা প্রয়োজন, আল কোরআনের পাতায় পাতায় ও হাদীস শরীফে রয়েছে তারই দিক-নির্দেশনা।পবিত্র মাস রমযানের ফজিলত, গুরুত্ব ও রোযাদারের মর্যাদা সম্পর্কেও আল কোরআন ও হাদীসে রয়েছে নানা দিকনির্দেশনা । আসুন পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে মাহে রমজানের, রোযাদারের মূল্য- মর্যাদা-করণীয় কাজের ফলাফল সম্পর্কে জানি -


ছবি - latestly.com

রোযার সম্পর্কিত আল কোরআনের নির্দেশাবলী


১। রোজা সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ।(সূরা বাকারা- আয়াত - ১৮৩)।

"হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার"।

২। রমজানের রোজা সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ ফরজ তবে শরীয়তসম্মত কারনে তা পরেও পালন করার বিধান আছে এবং আছে কাযা ও কাফফারারও বিধান ।(সূরা বাকারা- আয়াত - ১৮৪)।

" সিয়াম (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যারা রোযা রাখার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রোযা রাখতে চায় না (যারা রোযা রাখতে অক্ষম), তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। পরন্তু যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তোমরা রোযা রাখ, তাহলে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণপ্রসূ,যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পার।"।

৩। রমযান মাস কুরআন নাযিলের মাস। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।।(সূরা বাকারা- আয়াত - ১৮৫)।

"রমাজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে এবং কেউ অসুস্থ্য থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্যে কষ্টকর তা চান না, এজন্যে যে তোমাদের সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।"।

৪। সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে ।(সূরা বাকারা- আয়াত - ১৮৭)।

"সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে । তারা তোমাদের পোষাকস্বরুপ এবং তোমরাও তাদের পোষাকস্বরুপ। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা নিজদের সাথে খিয়নত কর ছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন। কাজেই এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কালোরেখা থেকে উষার সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রকাশ না হয় । তারপর রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ে না । এভাবে আল্লাহ তার আয়াতসমূহ মানুষদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।"।


ছবি - rupayon.com

রমজান ও রোযাদারের সম্পর্কিত হাদীসের উপদেশাবলী -

রমযানের ফজিলত

১। রমজান মাসের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, " রমজান- বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোযা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে (মহা কল্যাণ থেকে) বঞ্চিত হলো"। (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস নং - ৬৮৩)।

২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত," রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস উপস্থিত। এটা এক অত্যন্ত বারাকতময় মাস। আল্লাহ তা’য়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি সাওম ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে শয়তানকে আটক রাখা হয়। আল্লাহর জন্যে এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে লোক এ রাত্রির মহা কল্যাণ লাভ হতে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই বঞ্চিত ব্যক্তি। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং - ২১০৬)।

রোযার প্রতিদান আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজেই দিবেন এবং বিনা হিসাবে দিবেন

১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন," মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোযা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে"।( মুসলিম শরীফ, হাদীস নং - ১১৫১)।

২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,"আল্লাহ তাআলা বলেন, রোযা আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব। কেয়ামতের দিন রোযাদারদের জন্য একটি বিশেষ পানির হাউজ থাকবে, যেখানে রোযাদার ব্যতীত অন্য কারো আগমন ঘটবে না"।(মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং - ৮১১৫)।

৩। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত," রাসূলুল্লাহ(সাঃ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি সায়িম (রোজাদার)। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চেয়েও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন যে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে। (সহীহ বুখারী শরীফ, হাদীস নং - ১৯০৪)।


ছবি - channelionline.com

আল্লাহ তাআলা রোযাদারকে কেয়ামতের দিন পানি পান করাবেন

১। হযরত আবু মুসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, "আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজের উপর অবধারিত করে নিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জণ্য গ্রীষ্মকালে (রোযার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন"।(মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং - ১০৩৯)।

রোযা হল জান্নাত লাভের পথ

১। হযরত হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, "আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বুকের সাথে মিলিয়ে নিলাম। তারপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোযা রাখবে, পরে তার মৃত্যু হয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করে তারপর তার মৃত্যু হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ২৩৩২৪)।

২। হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগমন করে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বলেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই। আমি পুনরায় তার নিকট এসে একই কথা বললাম। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ"।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ২২১৪৯ এবং সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং - ২৫৩০)।

রোযাদারগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে ‘রাইয়ান’ নামক বিশেষ দরজা দিয়ে

১। হযরত সাহল বিন সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, "জান্নাতের একটি দরজা আছে, একে রাইয়ান বলা হয়, এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র সায়িম (রোযাদার) ব্যক্তিই জান্নাত প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহবান করা হবে সায়িমগণ কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সকল সায়িম ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতঃপর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করেবে না।(সহীহ বুখারী শরীফ, হাদীস নং - ১৮৯৬, সহীহ মুসলিম শরীফ , হাদীস নং - ১১৫২)।

২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,"প্রত্যেক প্রকারের নেক আমলকারীর জন্য জান্নাতে একটি করে বিশেষ দরজা থাকবে, যার যে আমলের প্রতি অধিক অনুরাগ ছিল তাকে সে দরজা দিয়ে আহবান করা হবে। রোযাদারদের জন্যও একটি বিশেষ দরজা থাকবে, যা দিয়ে তাদেরকে ডাকা হবে, তার নাম হবে ‘রাইয়ান’। আবু বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এমন কেউ কি হবেন, যাকে সকল দরজা থেকে আহবান করা হবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি আশা রাখি তুমিও তাদের একজন হবে"।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ৯৮০০)।

রোযা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল ও দুর্গ

১। হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,"আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন- রোযা হল ঢাল। বান্দা এর দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রোযা আমার জন্য আর আমিই এর পুরস্কার দিব।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ১৪৬৬৯)।

২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত," রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ কোনোদিন সিয়াম পালন করলে তার মুখ থেকে যেন অশ্লীল কথা বের না হয়। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়ায় প্ররোচিত করতে চায় সে যেন বলে, আমি সায়িম (রোযাদার)।(সহীহ বুখারী শরীফ, হাদীস নং - ১৮৯৪, সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং - ১১৫১)।

৩। উসমান ইবনে আবিল আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,"রোযা হল জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল, যুদ্ধক্ষেত্রে তোমাদের (শত্রুর আঘাত হতে রক্ষাকারী) ঢালের মত।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ১৬২৭৮এবং সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং - ১৬৩৯)।

রোযা কিয়ামতের দিন রোযাকারীর জন্য সুপারিশ করবে

১। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-"রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে"।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ৬৬২৬)।

রোযাদারের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়

১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে"।(সহীহ বুখারী, হাদীস নং - ৩৮ এবং সহীহ মুসলিম হাদীস নং -৭৬০)।

২। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,"আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর রমযানের রোযা ফরয করেছেন, আর আমি কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ তারাবীহ’র নামাযকে সুন্নত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম ও কিয়াম আদায় করবে, সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে যেদিন সে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্যভূমিষ্ঠ হয়েছিল"।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-১৬৬০)।

রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত

১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন , "সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়"।(সহীহ বুখারী, হাদীস নং - ১৯০৪)।

রোযাদারের জন্য আনন্দের মুহূর্ত

১। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে আনন্দিত হবে। এক. যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারের কারণে আনন্দ পায়। দুই. যখন সে তার রবের সাথে মিলিত হবে তখন তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন সে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, আর তিনি তাকে পুরস্কার দিবেন, তখন সে আনন্দিত হবে"।( বুখারী শরীফ , হাদীস নং - ১৯০৪)।

রোযাদারগণ পরকালে সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত থাকবে

১। হযরত আমর ইবনে মুররা আলজুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত,"এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি একথার সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং অবশ্যই আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযান মাসের সিয়াম ও কিয়াম (তারাবীহসহ অন্যান্য নফল) আদায় করি তাহলে আমি কাদের দলভুক্ত হব? তিনি বললেন, সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত হবে"।(মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং ২৫)।

রোযাদারের দুআ কবুল হয়

১। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-"ইফতারের সময় রোযাদার যখন দুআ করে, তখন তার দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (অর্থাৎ তার দুআ কবুল হয়)"।(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং - ১৭৫৩)।

২। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,"তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ তাদের দুআ কবুল করা হয়) ন্যায়পরায়ন শাসকের দুআ, রোযাদার ব্যক্তির দুআ ইফতারের সময় পর্যন্ত ও মজলুমের দুআ। তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য সব আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, আমার ইয্যতের কসম! বিলম্বে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব"।(সুনানে তিরমিযী, হাদীসনং - ৩৫৯৮)।


রোযা মানুষের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়

১। হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "সবরের মাসের (রমযান মাস) রোযা এবং প্রতি মাসের তিন দিনের (আইয়্যামে বীয) রোযা অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়"।(মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং - ১০৫৭)।


ছবি - eshoallahorpothe.wordpress.com

রোযা আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম

১। হযরত আবু উমামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কোনো আমলের আদেশ করুন। তিনি বললেন, "তুমি রোযা রাখ, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই। আমি পুনরায় বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কোনো নেক আমলের কথা বলুন, তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর কোনো সমতুল্য কিছু নেই"।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ২২১৪০)।

২। হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন কোনো আমলের আদেশ করুন, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা তার তুলনা হয় না"।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং - ২২১৪১)।


মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে রমজানের রহমত-বরকত-মাগফেরাত নসীব করুন এবং রোযার পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি সবগুলি রোযা যথাযথভাবে পালন করার তওফিক দান করুন। তওফিক দান করুণ আল কোরআন এবং হাদীসের আলোকে জীবন গড়ার


তথ্যসূত্র - আল কোরআন,হাদীস।
==================================================================

পূর্ববর্তী পোস্ট -

ঈমান ও আমল - ১৫ Click This Link
"পবিত্র মাস মাহে রমজান "- রহমত-বরকত-মাগফেরাতের এই মাসে কিছু আমলের অভ্যাস আমাদের সকলেরই করা উচিত।
ঈমান ও আমল - ১৪ Click This Link
" পবিত্র মাহে রমজান " - মাহে রমজানের ঐতিহাসিক পটভূমি , গুরুত্ব ও মর্যাদা ।
ঈমান ও আমল - ১৩ Click This Link
" পবিত্র মাস রজব " - রজব মাসের ফজিলত এবং আমল (করণীয়) ও বর্জনীয় ।
ঈমান ও আমল - ১২ Click This Link
" দোয়া " কি এবং কেন ? কাদের জন্য দোয়া শুধু ধোঁয়া বা কাদের দোয়া কবুল হয়না ?
ঈমান ও আমল - ১১ Click This Link
" পবিত্র ও সম্মানিত মাস মহরম " - হিজরি সনের প্রথম মাস এবং পবিত্র আশুরা ।ইসলামে আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং আশুরার দিনে করণীয় ও বর্জনীয় ।
ঈমান ও আমল -১০ Click This Link
("পবিত্র মাস জিলহাজ্জ"-জিলহাজ্জের প্রথম দশ দিন মুসলমানদের নিকট বছরের সেরা দশদিন-ঈমান ও আমলের জন্য)।
ঈমান ও আমল - ৯ Click This Link
(" শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা " - যা সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব হাসিলে সাহায্য করে। পবিত্র রমজানের পর যা সকল মুসলমানেরই রাখা উচিত)।
ঈমান ও আমল - ৮ Click This Link
(আজ পবিত্র " লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত "। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলমানদের করণীয় ।)
ঈমান ও আমল - ৭ Click This Link
("যাকাত " ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ । যা আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির ও প্রতিশ্রুতি দেয়)।
ঈমান ও আমল - ৬ Click This Link
("রোযা" ইসলামের তৃতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ । যার বিনিময় বা প্রতিদান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন নিজেই দিবেন)।
ঈমান ও আমল - ৫ Click This Link
(" নামাজ " ইসলামের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ । যা মুসলিম-অমুসলিমের মাঝে পার্থক্যকারী সূচক হিসাবে বিবেচিত এবং মুসলমান মাত্রই দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে)।
ঈমান ও আমল - ৪ Click This Link
("ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ"- যার শুরুটা কালেমা বা ঈমানে। যা শুধু মুখে বলা নয়,অন্তরে বিশ্বাস ও কর্মে পরিণত করার বিষয়)।
ঈমান ও আমল - ৩ Click This Link
(তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব )।
ঈমান ও আমল - ২ Click This Link
("শুক্রবার - পবিত্র জুমা"- মুসলমানদের জন্য এক মর্যাদা ও ফজিলত পূর্ণ দিন এবং জুমার দিনের কতিপয় আমল )।
ঈমান ও আমল - ১ Click This Link
(যেসব আমলে মানুষের অভাব দূর হয় ও জীবন সুখের)।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে এপ্রিল, ২০২২ দুপুর ১:১৩

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: আমরা বাংলাদেশিরা রমজান মাসে খারাপ কাজ করার জন্য মুখে থাকি যেমন সারা বছরের ব্যবসার রমজান মাসে করতে চাই।

২০ শে এপ্রিল, ২০২২ দুপুর ১:৪৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: বলেছেন: ধন্যবাদ সৈয়দ মশিউর রহমান ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

আমরা বাংলাদেশিরা রমজান মাসে খারাপ কাজ করার জন্য মুখে থাকি যেমন সারা বছরের ব্যবসার রমজান মাসে করতে চাই।

যদিও ইসলামের শিক্ষা তা নয় তবে এ আমাদের লোভী মানষিকতার বহিঃপ্রকাশ কারন, আমরা এমন একটা সংস্কৃতি (অন্যকে ঠকিয়ে নিজের ফায়দা হাসিল) জন্মের পর থেকেই আমাদের পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রে দেখে আসছি।আর তাই যখনই আমাদের কারো কাছেও এরকম সুযোগ আসে তখন তা আমরা ন্যায়-অন্যায় ভূলে ঝাপিয়ে পড়ি সেখানে যেখানে আমরা কিছুটা লাভের আশা দেখি।

আর এ দায় আমাদের ধর্মের নয়।

২| ২০ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:১৩

একজন নিষ্ঠাবান বলেছেন: রমজান মাস আমাদের জন্য একটা সুয়োগ।

২০ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:২৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ একজন নিষ্ঠাবান ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

রমজান মাস আমাদের জন্য একটা সুয়োগ।

- জি ভাইজান, ইবাদতের জন্য মুসলমানদের রমজান মাস এক বিশেষ সুযোগের মাস ।আমাদের সবারই উচিত এ মাসে বেশী বেশী ইবাদত ও আমলের চেষ্টা করা।

৩| ২০ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: দুষ্টলোকদের কাছে সব মাসই সমান। তাদের কাজই হলো- নোংরামী করা। করবেই। তাই কোনো কথা নেই। ওদের শুধু সাইজ করতে হবে।

২০ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:৩৯

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।


দুষ্টলোকদের কাছে সব মাসই সমান। তাদের কাজই হলো- নোংরামী করা। করবেই। তাই কোনো কথা নেই। ওদের শুধু সাইজ করতে হবে।

- এটা আপনি ঠিকই বলেছেন রাজিব ভাই , চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী বা দুষ্টলোকদের কাছে সবই সমান। তবে এটাও ঠিক যে, কাউকে বিচারের (সাইজ করার ) ভার স্রষ্টা আমাকে -আপনাকে দেননি। আমাদের সবাইকে যার যার কৃতকর্মের জন্য একদিন জবাবদিহী করতে হবে তার আগে অবশ্য সবারই সুযোগ আছে ভাল হয়ে যাবার ।

আর তাই আমাদের এতটুকুই বলার আছে , " মানুষ - তুমি ভাল হয়ে যাও সময় থাকতে " ,সাইজ করবে তিনিই যিনি তাকে সৃজন করেছেন ।

৪| ২০ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:২৭

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: উপকারী পোষ্ট

২০ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:৪৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ মহাজাগতিক চিন্তা ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

উপকারী পোষ্ট

- ধন্যবাদ এবং শুকরিয়া।

৫| ২০ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ১১:৫৮

রাজীব নুর বলেছেন: তাহলে আপনি বলছেন, দুষ্টলোকদের আমি সাইজ করবো না । আল্লাহ করবেন?

২৪ শে এপ্রিল, ২০২২ সকাল ১১:৩৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই, আপনার প্রতি-মন্তব্যের জন্য।

তাহলে আপনি বলছেন, দুষ্টলোকদের আমি সাইজ করবো না । আল্লাহ করবেন?

- মানুষ হয়ে মানুষকে বিচারের ভার আল্লাহপাক মানুষকে দেননি, বিশেষ করে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন না করা কিংবা ছেড়ে দেয়ার জন্য। তবে দেশের প্রচলিত আইন-আদালত আছে দেশের প্রচলিত আইন ভংগকারীর বিচারের জন্য। তবে সে যাই হোক না কেন যে কোন অপরাধের বিচারের ভার ব্যক্তিগতভাবে কারোর হাতে নেই বা দেয়া হয়নি।দেশের আিন ভংগকারীর বিচার করবে প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক আর ধর্মীয় বিধি-বিধান না-মানার বিচার করবেন স্বয়ং আল্লাহ পাক।

কাজেই আপনার কাউকে বিচারে কোন সুযোগ :(( নেই ভাইজান।

৬| ২২ শে এপ্রিল, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:০৯

জটিল ভাই বলেছেন:
আমিন।

২৪ শে এপ্রিল, ২০২২ সকাল ১১:৪৪

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ জটিল ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য।

মহান আল্লাহপাক আমাদের সকলকে রোযার পবিত্রতা রক্ষার পাশাপশি সবগুলো রোযা রাখার তওফিক দান করুন - আমিন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.