নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যা শুনি- যা দেখি - যা ভাবি - তা লিখতে ইচ্ছে করে ।

কিবরিয়া জাহিদ মামুন

শহুরে ফোকলোর

কিবরিয়া জাহিদ মামুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

শহুরে ফোকলোর

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮

এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স একজামের দিন পকেটে করে অতিরিক্ত ৬০০ ডলার কাশেম নিয়ে গেলাম । বাংলা টাকায় যার পরিমান দাড়ায় প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা । ক্যাশ কে কাশেম বলা শিখিয়েছিল হাতিরপুলের মোবাইল মাকের্টের এক ভাই । কাশেম বলতে, ক্যারি করতে তার নাকি সুবিধা হত ।

সারারাত টেনশন । লাইসেন্স পাব কি পাব না । সকালবেলা ঘুম থেকে উঠবা মাত্র দোয়া দরুদ পড়লাম । ঈমানে মোজাম্মেল আবার কেউ বর্তমান মোজাম্মেল সাহেব রে ভাববেন না দয়া করে । যিনি ৬৭ কোটি টাকার মেশিনে মুক্তিযোদ্ধারে ঢুকাইয়া রাজাকার বানিয়েছে ।

তারপর ঈমানে মোফাচ্ছেল । দোয়া কুনুত আয়াতুল কুরশি, দোয়া ইউনুস । দোয়া ইউনুস পড়ে মাছের পেটে নবী ইউনুস বেচে ছিল । আর আমার সামান্য ড্রাইভিং পাশ হবেনা । এইসব দোয়া দরুদ আর সাথে গোটা বিশেক সুরা আমার প্রয়াত আব্বা শিখিয়েছিলেন । চাকুতে যেমন ধার না দিলে ভোতা হয়ে যায় বা বাইরে ফেলায় রাখলে মরিচা পড়ে সেইরকম আমারো দোয়া দরুদ গুলো নিয়মিত না পড়াতে মরিচা পড়ে থাকে । তবে এমন বিশেষ বিপদের দিন গুলোতে এসব দোয়া দরুদের মরিচাও কাটে সাথে মুশকিলে আসান হয় । তবে প্যাচ খাইলে এসব দোয়া দরুদে কাজ হয়না । কাশেমের ব্যবহার ছাড়া মুসকিলে আসান হয়না ।


তো মুশকিলের নেই শেষ । মাঝে গাড়ীর এমন মুশকিলে ঠিক করাতে নিয়ে গিয়ে গেলাম গ্যারেজে । বেশ কিছু সময় বসে থাকতে হবে । কেননা সেখানে আমার আগে বেশ কয়েকটা গাড়ী ছিল । সেখানে পরিচয় হল আরব দেশের এক ভদ্রলোকের সাথে । জুম্মার নামাজ পড়ার সুবাদে ভদ্রলোকের খোমা আমার বিশেষ পরিচিত ছিল । তিনি জানতে চাইলেন আমি কোথা হইতে আগত ? আমি আমার সাকিন, ভায়া সব জানালাম ।

তিনি বললেন তুমি কি হিন্দু ?
আমি বল্লাম না । কেন বলতো ?
ভদ্রলোক বল্ল না শুনেছিলাম তোমাদের দেশে অনেক হিন্দু ।
বল্লাম হ্যা আছে । হিন্দু আছে । ক্রিচিয়ান আছে, বুদ্ধিষ্ট আছে । এথিস্ট আছে । সবাই মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করি । কিন্তু তারপরেও কিছু ধান্দাবাজ খারাপি করে ।

তবে তোমাদের মিডলইষ্টের কিছু দেশে অন্য ধর্মের মানুষদের তো মানুষ মনে করা হয়না । পাঠ্য পুস্তকে শেখানো হয় তারা ছোট জাত । লঘু দন্ডে তাদের কতল ও করা যায় ।

মামা একশ একশোতে ছিল পরে দেখলাম নামল । সাথে যোগ করে আরও বল্লাম আজকে জুম্মার নামাজে আমি তোমাকে দেখলাম মসজিদের দেয়ালে হেলান দিয়ে পা সামনে দিয়ে বসে আছো ।

ও বল্ল হ্যা আমি ওখানেই বসি । ওরে বল্লাম আমার দেশের মসজিদের দেয়ালে হেলান দিয়ে পা সামনে সোজা করে দিয়ে বসলে তুমি চপেটাঘাত বা তীব্র ভৎসনা খাবার সম্ভাবনা আছে । আমি আরও বল্লাম তোমরা তো নামাজের সিজদার সামনে দিয়েও হেটে যাও এখানে ? এইটা কি তোমরা মিডল ইষ্টেও যাও ?

ভদ্রলোক উওরে জানালেন হ্যা ।
বল্লাম - আমার দেশে এইটাতেও তুমি চপেটাঘাত বা তীব্র ভৎসনা খেতে পার ভদ্রলোক হাসলেন । আমাদের দেশের মসজিদের আদব বেশ কড়া । পরে আমাকে বললেন তুমি কি কোরআন পড়তে পার ?
উওরে বল্লাম না ।
সে বল্ল তাহলে সুরা জান ?

মেজাজটা সপ্তমে উঠল । হালায় কয় কি ? হুযুরের যে নিয়ত আমরো সেই নিয়ত । আমারে কি সেই পার্টি ভাবল ?
পরে সূরা হাশরের এক প্রস্থ বল্লাম সে একটু অবাক হল কোরআন শরীফ পড়া না জেনে আমি এমন সূরা জানি কি করে ?
বল্লাম ছোটবেলাতে আমার শ্রদ্ধেয় ও প্রয়াত পিতাজি পাছায় পিটিয়ে শিখিয়েছেন । তিনি ফজরের নামাজের পর এই সুরা পড়তেন । এরপর আমাদের এলাকার মসজিদের মুয়াজ্জিন ফজরের নামাজের পর তিনিও এই সুরা পড়তেন । মনের অজান্তে আমার মনে পড়ল প্রয়াত লতিফ হুযুরের কথা । ভাল মানুষ ছিলেন । ফজরের নামাজ লতিফ হুযুরই পড়াতেন মকবুল হুযুরের পরিবর্তে । মকবুল হুযুর দুরে থাকতেন তাই আসতে পারতেন না ।

এইবার আমি ওকে বল্লাম তুমি কি সুরা হাশর মুখস্ত বলতে পারবে ? বা তোমার কি কোরআন মুখস্থ ?
সে উওরে বল্ল না ।
আমি মনে মনে ভাবলাম দেশে শুনতাম মক্কার হাজী হজ্ব পায়না তারমানে ঘটনা সত্য । আর বাংলা জানলেই যে আমি জীবনানন্দ দাশের সব কবিতা বা শামসুর রহমানের সব কবিতা আমার মুখস্থ থাকবে, বিষয়টা যেমন তেমন না । তেমনি আরবী জানার মানে কোরআন শরীফ মুখস্থ থাকবে বিষয়টা তেমন না ।

পরে বল্লাম তোমাদের গোত্রের ভেতরে মারামরি গুলো কি আজও আছে ?
ও বল্ল সেটা কেমন ? ওর চেহারার দিকে তাকিয়ে মনে হল পাট নিচ্ছে ।
পরে বল্লাম - ধর তোমার ছাগল আমার গাছের পাতা খেয়েছে এইটা নিয়ে দশ বা পনের বছর ধরে মারামারি দুই গোত্রের । নবীজির আগে ও নবীজির পরেও ছিল এখনো কি আছে এই ধরনের মারামারি ?
ও হেসে দিয়ে বল্ল তুমি এইগুলো জানলা কি করে ?
এইবার আমি কাষ্ট হাসি দিলাম ।

ও বল্ল এই করেই তো আমরা শেষ হলাম ।
আমি বল্লাম খালি কি তোমরা ? আমরাও । আমাদের পাচ শতক জমির মামলা ৫০ বছর ধরে চলে । পার্টি শক্তিশালী হলে দুই পখ্খের দু চারজন পাচজন মারাও যায় ।

যাক গাড়ীর মাফলারের কাজ শেষ হবে হবে অবস্থা আমি বিদায় নেবার আগে বল্লাম বাংলাদেশে বেশির ভাগ মানুষ হিন্দু এই ইনফরমেশন তোমাকে দিল কে ?
ও বল্ল আমি শুনেছিলাম । আরও বল্ল তোমাদের কালচার অনেকখানি হিন্দুয়ানী সেটাও শুনেছিলাম ।

উওরে - বল্লাম নবীজীর আগেও অমুসলিমরা কাবা শরীফের চারিদিকে ঘুরত । এখন মুসলিমরা ঘোরে । মহরম কে পবিত্র মাস শুধু ইসলামেই ঘোষনা করা হয়নি এইটাও নবীজীর আগে সেখানকার বসবাসরত গোত্রের প্রধানরা মানত । এখন ইসলামে মানা হয় । ছাগল পাতা খেলে, যে তারা দশ বছর যুদ্ধ করত সেটা তারা মহরমে বন্ধ রাখত । এখন তাহলে ইসলাম ধর্মে এই নিয়ম গুলো যে এসছে তাহলে সেটাকে কি বলবা ?

যাক, মামা মনে হল আবার ব্রেক দিল ।
ব্রেক দিয়ে বলে তুমি কি ইথিস্ট ?
উওরে বল্লাম - বল্লাম না, তুমি মসজিদে হেলান দিয়ে পা সোজা করে বস ।
তখন মামা আবার সম্বিত ফিরে পেল ।

পরে ভদ্রলোক কে বল্লাম শোন এই দেশে আসবার আগে আমি শুনছিলাম আমেরিকা, ক্যানাডা তে ১০ মিনিট কারেন্ট গেলে নাকি কয়েকশো রেপ হয় । তো এই্খানে দুইদিন দেখলাম প্রায় তিনঘন্টা করে কারেন্ট ছিলনা । কারেন্ট আসবার পর পরেরদিনের বেশ কটা পত্রিকা ইন্টারনেটে চেক করলাম । সকালে দৌড়াতে বের হলাম । কফি শপে গেলাম । মানুষের চেহারাতে কোন উব্দেগ নেই । দুচিন্তার লেশ নেই । তো কিছু গল্প এম্নি বুচ্ছ ।

সিরিয়াস পরিবেশ কে হালকা করার জন্য বল্লাম শোন - আগে আমরা যেতাম তোমাদের দেশে কামলা দিতে । এখন তোমরা আসতেছো এইসব দেশে কামলা দিতে তাহলে আমরা যাব কই ?
উওরে ও বল্ল আমার তো সব ছিল বন্ধু । যুদ্ধ আমাকে রিফিউজি বানিয়েছে এই দেশে ।
মনে পড়ল আমার ফার্মগেটের সেই ফকিরের কথা । জ্যামের মাঝে আমার কাছে সাহায্য চাইলে বলেছিলাম আপনি ঢাকায় এসে সাহায্য চাচ্ছেন কেন?
উওরে ফকির বলেছিল নিজের পরিচিত এলাকায় ভিখ্খা করি কেমনে বাবা । আমার তো সোনার সংসার ছিল । এই নদী না হামাক পথে বসাইলো । দুই প্রান্তের দুইজন মানুষের গল্পের কত মিল ।


গাড়ীর কাজ শেষ হল । ভদ্রলোক কে বিদায় দিয়ে চলে এলাম ।
এখন সময় পেলে জুম্মার নামাজে কালে ভদ্রে গেলে, ভদ্রলোকের সাথে দেখা হলেই কুশলাদী জানতে চান ।
আমি আগ বাড়িয়ে বলি কাইফা হালুকা ?
তারপরে বলি ইয়া ইখোয়ানী আলা তুখলু হাংগামা বিল খইরা ।
প্রথমটা শুনে সে হাসে পরের টা শুনে বলে তোমার শব্দ গুলো এরাবিক কিন্তু ভাষা এরাবিক না ।




ঢাকাতে এমন মুশকিলে দোয়া দরুদ বেশি পড়তে হত । আবার সরকারী অফিসের বিষয় হলে দোয়া দরুদে কাজ হতনা সে খেত্রে তাহাজ্জুদ বা ফজর পড়তে হত । আবার মাঝে মাঝে সেটাও বিফলে যেত ।

ঢাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স একজাম দেবার আগে বিআরটিএর সামনে থেকে প্রফেসরস এর গাইডের মত বই কিনেছিলাম । জিগজ্যাগ ট্রেনিং, ব্যাকে এসে পার্কিং ট্রেনিং নিয়েছিলাম । রিটেন একজাম নিল সেটাতে পাশ করলাম । রোড সাইনের ইন্টারভিউ নিল সেটাতে পাশ করলাম । ব্যাকে এসে পার্কিং করলাম । দুপুরে বিআরটিএর বাবুরা খাওয়া শেষে জোহারের নমাজে গেল । ভাবলাম নমাজ পড়ে এলে মনটা নরম হবে । না নরম হলনা ।

কাশেম ছাড়া মানে ক্যাশ ছাড়া নো আলাপ । মমিন মোচলমানের দেশের এমন একপেরিয়েন্সের কারনে এখানে যেহেতু খেষ্টান, ইহুদী, নাসারা, ধর্মহীন মানুষের দেশ তাই বুক পকেটে ৬০০ ডলার কাশেম রাখতে বাধ্য হলাম । চাহিবা মাত্র দেওয়ার, দেওয়ার সামান্য পরিবেশ তৈরি হলেই বা সামান্য চোখ টিপি মারলেও যেন দেয়া যায় । কেননা বন্দুকের গুলি মিস হতে পারে কিন্তু লাইসেন্স মিস করা যাবেনা ।

হাইস্কুলে পড়বার সময় বুক পকেটে থাকত যত্ন করে রাখা চিঠি । চিঠিতে সামান্য মিল্লাত ঘামাচি পাউডার দেয়া থাকত যাতে সেই চিঠি থেকে যৎসামান্য গন্ধ বের হয় । যাক, সময়ের ফেরে কত কি বদলায় ।


একজাম নিতে এলেন ভদ্র মহিলা । তিনি ইংলিশে জানালেন তিনি আমার ইনসট্রাকটর তিনি আমার চালনা দেখবেন ভাল হলে পাশ করাবেন না হলে ফে আর ল পাশ । আমি ভদ্রমহিলার চেহারার দিকে তাকিয়ে মিশেল ফুকোর ডিসকোর্সে এনালাইসিস করছিলাম । আর বুক পকেটে ৬০০ ডলারের অবস্থানটা ঠিকঠাক আছে কিনা আবার পরখ করে দেখলাম ।

ওই যে, দেশের ভয় । হঠাৎ দেখলেন টাকাটা নাই । শুধু চা খেতে গেলেন দোকানে । তারপর পকেটে হাত দিয়ে দেখেন সর্বনাশ হয়ে গেছে । এমন ভয়ের পরিবেশেই আমাদের জন্ম বেড়ে উঠা । রাতে ভয় । দিনে ভয় । বাঘের ভয় । আর সবচেয়ে বড় ভয় মানুষের ভয় । মানুষের ভয় নিয়ে জাহাংগীর নগর বিশ্বাবদ্যালয়ের খুরশিদা ম্যাম ক্লাশে বলতেন পৃথিবীতে যত মানুষ বন্য হিস্র পশুর হাতে মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় মানুষের হাতে ।

এখানে মেয়েরা জিন্সের প্যান্টের পেছনের ছেড়া পকেটে আইফোন রেখে দিব্বি চলাফেরা করে । আর আমাদের দেশের মেয়েরা পার্টসে মোবাইল রাখে সেই পার্টসকেও চিলের মত ছো মেরে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী । এমন ছিনতাইয়ের সময় কত জন মারা যায়, পংগু হয় । চিলের মত ছো মেরে নিয়ে যাওয়া ছিনতাই কারী জানে না । আর সরকার বাহাদুর তো মদিনা সনদে সিংগাপুর হয়ে লস এন্জেলেসে ।

ভদ্রমহিলা আমাকে বললেন তুমি কি রেডি ?
উওরে হ্যা সন্মোধন করার পর গাড়ীর ড্রাইভিং সিটে বসলাম । তারপর তিনি আমাকে ডিরেকশন দিতে থাকলেন ।
ঢাকাতে মারজানা এমন ডিরেকশন দিত ওর আব্বুর সাদা গাড়ীটা চালানোর সময় । ওই আমাকে ঢাকার ড্রাইভিংয়ের হাতেখড়ি করিয়েছিল । আমি গাড়ীটার নাম দিয়েছিলাম ডেসপ্যারাডো । বেশির ভাগ দিন আমি চালিয়ে নিয়ে যেতাম অফিস থেকে । মারজানা পাশে বসে ডিরেকশন দিত ।
মারজানা অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে এলে বলেছিলাম আমার গাড়ী চালাবি ?
উওরে বলেছিল মাফ চাই । আর না বহুত চালাইছি ।

মহল্লার রাস্তা চালানো শেষে ভদ্রমহিলা আমাকে উঠালেন হাইওয়েতে । আমি আড় চোখে বার বার তার চেহারার দিকে তাকানোর চেস্টা করছিলাম । কোন ইশারা ইংগিত পাই কিনা । পাইবা মাত্র কাশেম হ্যান্ডওভার করবো ।

সব টেষ্ট শেষে ফিরে এলাম শুরুর পয়েন্টে ।
ইন্সট্রাকটর ভদ্রমহিলা বললেন ভুল করেছ কিছু !
আমার হুলকুম শুকায় গেল । আবার সেই ফুকোর এনালাইসিস । চেহারা, চোখ কোন ইশারা রেডি ৬০০ ডলার - কাশেম । এরচেয়ে কম কাশেমে সিংগাপুর হয়ে লসএন্জেলেসে মানুষ খুন হয় । আমি দশ বছর গাড়ী চালিয়েছি সিংগাপুর ভায়া লসএন্জেলেসে । সামনে ছিল ট্রাক । ডানে পাশে ছিল লেগুনা । বাম পাশে ছিল রিকশা । পেছনে ছিল মুড়ির টিন গলা ছিলা মুরগীর মত চামড়া ছিলা বাস । তোমরা এখানে বল সেডান কার । আমাকে বলত প্লাস্টিক । সেই প্লাস্টিক গাড়ীতে ফুলের টোকা পড়েনি । কোন মামলা খাইনি । দশ বছরে ।

মহিলা উৎরে দিলেন তুমি পাশ করেছ । ভিতরে গিয়ে এড্রেস কনফার্ম কর । দিগ বিজয়ী হাসি দিলাম । নার্ভাস নাইনটিতে ব্যাটসম্যানকে বোল্ড আউট করার মত লাফিয়ে উঠলাম । যেই মহিলার কাছে ট্রেনিং নিয়েছিলাম তাকে গিয়ে জানালাম । সে বল্ল তোমার হাসি দেখেই আমি বুঝেছি তুমি পাশ করেছ ।

অফিসের ভিতরে ঢুকবার আগ মুহুর্তে আবার বুক পকেটে হাত দিয়ে পরখ । হ্যা কাশেম ঠিক আছে । সিংগাপুর ভায়া লসএন্জলেসের ড্রাইভিং লাইসেন্স অফিসে সেবার গাড়ীর ব্যাংক নাম কর্তনের জন্য গেলাম । গাড়ীর ব্যাংক লোন শোধ হবার পর । ওয়েবসাইট ঘেটে সকল কাগজ ও এই ডিপামেন্টর প্রধান কে ? মোটামুটি সব তথ্য জেনে গিয়েছিলাম । আর সাথে ছিল দোয়া কালাম । দোয়া ইউনুস পড়ে বুকে ফু ।

টিনের চালার অফিসে ঢুকবা মাত্র ব্যস্তু বাবু কাগজে লিখছিলেন । বাবু কাঠের চেয়ারে বসা । চেয়ারে কোন টাওয়েল নেই । টাওয়েল না থাকায় বুঝলাম বড় বাবু না । তাকে গলা খাকারি, সালাম, কালাম দিয়ে প্রথমে এটেনসন নিলাম । তারপর বাবু মুখ তুলে তাকালেন । আসবার হেতু জানালাম । বাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে আমাকে নিয়ে বাইরে বারান্দায় এলেন ।
ইতিউতি তাকিয়ে বললেন নিজে করবেন না আমগো ধারে করাইবেন ?
উওরে বল্লাম নেজে করলে কি আর আপনাগো ধারে করলে কি খরচ ?

বাবু জানাল এইডা টেবিলের কাজ । টেবিলে টেবিলে স্যারগো ধারে সাইন লাগবে । আপনে করলে করান । আমারে দেলে হাজার পাচেক দেতে হইবে । কারন টেবিলের কাজ বুঝেন তো ।

আমি বল্লাম ডিরেক্টর হান্নান সাহেব কি আছেন এখনো এটার প্রধান ?
বাবু রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বল্ল স্যার কে চেনেন ?
উওরে বল্লাম ঢাহা ভার্সিটির জসিম উদ্দিন হলের বড় ভাই । ডাহা মিথ্যা । কিন্তু আমি জানি হান্নান কি পাশ এই বাবু জানেনা ।
বাবু বল্ল আগে বলবেন না । এত মোড়ান লাগে । লন দেহি আন্নের কাগজ ।
বাবু টেবিলে এসে বসে সব কাগজ দেখে সিরিয়াল টা ঠিক করে একটা স্টাপলার লাগিয়ে দিলেন ।
বাবুর কাজ এটাই ।

বল্লাম এখন কোথায় যাব ? বাবু বল্ল এত নম্বর রুমে যান ।
আমি বল্লাম হান্নান ভাইয়ের কাছে কখন যাব ?
বাবু বল্ল সবার শ্যাষে ।

উল্লেখিত রুমে গিয়ে সাইন করে সেখান থেকে আর এক রুমে সাইন সেরে শেষ জনাব হান্নান সাব ।
মনে মনে বল্লাম এইবার এইবার খুকুর চোখ খুল্ল ।
মন বলছে এইবার ঘুঘু তোমার বধিবে পরান । জনাব হান্নানের রুমের দরজায় । রুমে ঢুকবার আগে এক পরিচিত আমলা বন্ধুরে ফোন দিয়ে হেতু জানালাম । সে বল্ল সমস্যা হলে জানাস । সাহস বাড়ল । দোয়া ইউনুস পড়ে বুকে ফু দিয়ে ঢুকে পড়লাম হান্নান সাহেবের রুমে ।
সব সাইন করল । শেষ কাগজে সাইন করতে গিয়ে ভুল ধরল । আপনার ওয়াইফের সাইন এখানে হবে ওনি এক ইন্চি নীচে সাইন করেছে । ফুকো এনালাইসিস করে বুঝলাম নীচের বাবু জানিয়েছে ।

বল্লাম দেখুন এই সাইন আজকে গিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবেনা । আমার দিনটা মাটি হবে । ঢাকা থেকে প্লেনে ব্যাংকক যেতে লাগে তিনঘন্টা । মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে আটকায় গেলে তিনঘন্টাই লাগে । আপনি সাইনটা করে দিন । হান্নানের সাহেবের বক্তব্য এই গাড়ী বিক্রীর সময় এই সিগনেচার যিনি করেছেন তাকে আসতে হবে ।
উওরে বল্লাম ওনি সুস্থ আছেন আসতে পারবেন ।
মনে হল আমার উপরে রাজ্যের রাগ নিয়ে ফাইলে সাইন করলেন ।
নীচে এসে গাড়ী চেক করিয়ে ফিরবার সময় মনে হল নার্ভাস নাইনটিতে ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করলাম । কাশেম ছাড়া এই কাজ করা চাট্টি খানি কথা না ।


কাশেম চেক করে ঠিকানা মত গেলে মহিলা জানালেন তোমার এইটা কি সঠিক ঠিকানা । বল্লাম হ্যা । এই ঠিকানাতে আমরা লাইসেন্স পাঠিয়ে দেব । আপাতত এই কাগজে চালাতে পারবে । আবার সেই ফুকো এনালাইসিস কোন ইশারা, টেবিল ওয়ার্ক বাবদ কাশেম লাগবে । সেই ব্যস্ত বাবুর কপালে কালো দাগ ছিল । কাশেম চাইতে ছাড়ে নাই ।
মহিলাকে ধন্যবাদ জানালাম । মহিলা সেফ ড্রাইভিং বলে উইশ করল ।

সিংগাপুর ভায়া লসএন্জেলেসে ব্যাংক কর্তন কাজের বেশ কিছুদিন পর পত্রিকাতে দেখেছিলাম সেই হান্নান কট খেয়েছে । আর গাড়ী বিক্রীর সময় যেতে হয়নি । যদিও কাগজের এক ইন্চি নীচে যিনি সিগনেচার করেছিলেন তিনি সুস্থ ছিলেন ।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:২১

রাজীব নুর বলেছেন: লেখাটা আর একটু গুছিয়ে লিখুন।
খেয়াল রাখবেন পাঠক যেন পড়তে গিয়ে বিরক্ত না হয়।

২| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:৪৩

বিজন রয় বলেছেন: রাজীব নুর বিরক্ত হওয়ার কি আছে।

লিখতে লিখতে ঠিক হয়ে যাবে।

৩| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:১৯

বাকপ্রবাস বলেছেন: অর্ধেক পড়লাম ভালই লাগল। তবে বেশী বড় হলে কম পড়া হয়

৪| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৪৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আমার অবশ্য একটুও বিরক্ত লাগেনি। ভাল্লাগছে।

৫| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৭

ফয়সাল রকি বলেছেন: সবখানেই তো কাসেম ছাড়া কাজ করলেন! আপনি তো দেখি হেভি চালাক!!!
লেখায় +++

৬| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

ফয়সাল রকি বলেছেন: ভালোকথা, "ত্ত" (যেমন উত্তর) লিখতে গিয়ে "ও" (যেমন উওর) হয়ে যাচ্ছে, খেয়াল করুন।

৭| ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:১২

কিবরিয়া জাহিদ মামুন বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্য করবার জন্য ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.