নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিমান সাহেব

আমও গেল ছালাও গেল

বিমান সাহেব › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক দেশের এক মোটার গল্প

১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৮:৫৪

লোকটা ভীষণ মোটা। কার মতো যে বলি! এমনই মোটা তুলনা করার মতো আশপাশে কেউ নাই।



লোকটার একটা নামও ছিল, কিন্তু সেটা তার শরীরের বেড়ের ভিতর, ভুড়ির ভাঁজের মাঝে হারিয়ে গেছে। এখন কেউ আর তার অরিজিনাল নাম খুঁজে না, সেও বিষয়টা নিয়ে অতটা চিন্তিত না, খায়-দায়, দায়ে খায়। দুনিয়ার সব খাবারে তার দারুণ রুচি, গমেও রুচি, যমেও রুচি। সে যা খায় তাই শরীরে জমে যায়, এমনকি বাতাসও। তাই শরীরটাও যেন একটা বাতাসভর্তি নরম তুলতুলে গ্যাস বেলুন। সব ভালোই চলছিল, হাসপাতল যেতে হতো না। তবে কখনো কোনো ডাক্তারের সাথে যদি দৈবাৎ তার দেখা হয়ে যেতো ডাক্তার নিজেই একটা প্রেশার ট্যাবলেট খেয়ে নিতো।





কিন্তু কারো সুখ উপরওয়ালার বেশিদিন সহ্য হয় না। বিষয়টা বেশ দুশ্চিন্তার, উপরওয়ালার মতো পাওয়ার কেনো পাওয়ারলেস মানুষের সুখ সহ্য করবে না? কথা নেই বার্তা নেই, বিনা সিগনালে কঠিন ব্যামো দিয়ে দিলেন নাদুস-নুদুস লোকটাকে। রাজ্যের যত ডাক্তার কবিরাজ সবাই হার মানলো! এদিকে দিনে দিনে লোকটার অবস্থা ফুলে উঠছে। সত্যি সত্যি সে বেলুনের মতো ফুলে ফেঁপে উঠছে প্রতিদিন। এভাবে চলতে থাকলে একদিন ফুস করে ফেটে যাবে। সবাই যখন সবশেষে হার মানলো, তখন ‘সুখি মানুষের জামা’গল্পের সেই বিখ্যাত কবিরাজ এসে হাজির, ভালো করে দেখে বললেন, কঠিন ব্যামো! হাইড্রোজেন বোমা শুনেছো, হাইড্রোজেন ব্যামো শোনোনি। এরপর ওষুধের বোমাটা ছাড়লেন তিনি। সেই পুরোনো দাওয়াই। এমন একজন চিকন মানুষের টিশার্ট পড়াতে হবে তাকে যার ভুড়ি নাই, রক্তে কোলেস্টেরল নাই, ডায়াবেটিক নাই, প্রেশার থাকবে নরমাল। কেবলমাত্র ভুড়িবিহীন এমনই একজন চিকন মানুষের টিশার্ট পড়ালেই এই ব্যামো ঠিক হবে, মোটা আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মোটা লোকটার পরিবারের মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। এ আর এমনকি কী কাজ, একটা চিকন মানুষের টিশার্ট খুঁজে পেলেই হলো।





শুরু হলো খোঁজাখুঁজি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিষয়টাকে যতটা সিম্পল ভাবা হয়েছিল, বিষয়টা ততটা সিম্পল না। চিকন লোক খুঁজে পাওয়া আজকাল দারুণ কঠিন। চিকন মানুষ খোঁজার চেয়ে খড়ের গাদায় চিকন সূঁই খুঁজে পাওয়া সহজ। দুএকজন চিকন পাওয়া গেছে কিন্তু ভুড়ি আছে, অস্বাস্থ্যের লক্ষণ। দরিদ্র আফ্রিকানদের মতো পেটের জায়গা রসের হাঁড়ির মতো ছোট্ট একখানা ভুড়ি। আবার কয়েকজন পাওয়া গেছে যাদের ভুড়ি নাই কিন্তু তারা আবার চিকন না, দস্তুরমতো হস্তির মতো। নিয়মিত জিমে গিয়ে ভুড়ির মধ্যেই কয়েক পরতের পেশি বানিয়ে ফেলেছে।





এখন চিকন লোক কোথায় পায়, আর চিকন লোকের টিশার্টই বা কোথায় পায়? কেঁচো খুঁড়তে সাপ, আর চিকন খুঁজতে কালসাপ বেরিয়ে এলো। ফাস্টফুড, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন ফাই, ফ্রোজেন ফুড, প্যাকেট ফুড, মিট বল, নাগেট, কাটলেট, সচেজ, স্যান্ডউইচ, বার্গার, পিৎজা, চিজ, মেয়োনিজ, কাচ্চি ইত্যাদি এমনভাবে দেশ ছেয়ে গেছে, কেউ আর চিকন নেই। চারিদিকে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে এগুলো, গ্রাম শহর বন্দর অন্দর; কোথায় নেই? ট্রান্সফ্যাট, হাইড্রোজেনেটের ফ্যাটের প্রভাব। রীতিমতো মহাবিপদ। এতবড় একটা মুল্লুকে ভুড়িছাড়া কোনো চিকন লোক নাই? সবার কুড়ি না হতেই ভুড়ি। আর যদি ভুড়ি নাও থাকে রক্তে কোলেস্টেরল হাই। সবই ঠিকঠাক থাকলে দেখা গেলো তিনি আসলে ইনসুলিনের উপর আছেন।





সব আশা শেষ! আর কোন আশা নেই মোটা লোকটার জীবনে। বসে বসে সবাই খুব খারাপ কিছুর আশংকায় দিন কাটাচ্ছিলেন। কোনদিন ফেটে যাবে সেই দৃশ্য ধারণ করার জন্য, লাইভ সম্প্রচার করতে টিভি চ্যানেলগুলো বাসায় ভিড় করেছে। বিষয়টাকে তারা রীতিমতো নিজেদের ক্যারিয়ারে স্টেপ হিসেবে দেখছে, সামনে প্রমোশনের সময়। ঠিক এমনি একটি সন্ধ্যায় বাসার কলিংবেল টিপল যে লোকটা তার ভুড়ি নেই, সে যথার্থই চিকন, রক্তে কোলেস্টেরলও নেই, ইনসুলিনও নিতে হয় না তাকে। তার হাতের গেঞ্জিটি ছিল পুরোনো ছেঁড়া। এক টুকরা গামছা কোমড়ে পেছিয়ে যে লোকটা কলিংবেল টিপেছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। পরনের জন্য একটা জামা-কাপড় যদি পাওয়া যায়, বিক্রি করে দিলে একদিনের চাল-ডালের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।তারপর .।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।।।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.