নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সম্পদহীনদের জন্য শিক্ষাই সম্পদ

চাঁদগাজী

শিক্ষা, টেকনোলোজী, সামাজিক অর্থনীতি ও রাজনীতি জাতিকে এগিয়ে নেবে।

চাঁদগাজী › বিস্তারিত পোস্টঃ

যেভাবে দেশ চলছে, দেশে ঘাটতি বাজেটের দরকার নেই!

১৫ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৯:১২



** ঘাটতি বাজেটের দরকার হয়: আইনীভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারী খরচের (পেনশন, ওয়েলফেয়ার, স্কুল-কলজের খরচ, সরকারী স্হাপনার মেরামত) জন্য, উন্নয়ন ও ভর্তুকি দেয়ার জন্য; বাংলাদেশ সরকার এই ধরণের খরচ সঠিকভাবে করে না, উন্নয়নের অর্থনীতির কোন বৈশিষ্ঠ্য বাজেটে নেই। **

সরকার বিশালভাবে প্রচারমুখী হয়ে গেছে, এবারের বাজেটের জন্য তারা একটি শ্লোগানও বের করেছ; শ্লোগানটি হলো, "সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের"; সরকারের শ্লোগানের শেষাংশটা সঠিক আছে, "সময় এখন সরকারের"। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা (৫২৩১৯০,০০০০০০০ টাকা, নুরু সাহেবের মাথা ঘুরবে অনেকক্ষণ); এই সময়ে সরকারের আয় হবে, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ; আয় থেকে ব্যয় বেশী, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ, ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা; এই ঘাটতি পুরণের জন্য বিদেশী ব্যাংক ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে!

সরকারের আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, বাজেটও যদি ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকার মাঝে করা হয়, তা'হলে সরকারকে ঋণ নিয়ে হচ্ছে না; জনগণের টাকায় জনগণের দেশ চলবে, ঋণ কেন? জনগণ কি সরকারকে ঋণ নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন? বাংলাদেশ সরকার কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, সেটা কি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নাকি অর্থমন্ত্রী চাইলেই ঋণ নিতে পারবেন? ঋণের পরিমাণ পুর্বের থেকে নির্ধারিত থাকলে, ঘাটতির ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা কি সেই নির্ধারিত পরিমাণের ভেতরে, নাকি বেশী? বেশী হলে, পার্লামেন্টে তা পাশ করানো হবে কিনা? সরকারকে ঋণ নিতে হলে, পারলামেন্টে যে তা পাশ করাতে হয়, সেটা সরকার জানে কিনা?

আপনি যদি কোন বড় কর্পোরেশনের সিইও হয়ে থাকেন, আপনার কর্পোরেশন যদি ফাইন্যান্সিয়েলি সবল হয়ে থাকে, এবং আপনার কর্পো: যদি ব্যাংকের কাছে পরিচিত হয়ে থাকে, তখন আপনি যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চান, চাইলে ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে না; ব্যাংককে, আপনি কাগজপত্রে দেখাতে হবে যে, ঋণের টাকা বিনিয়োগের প্ল্যান আছে ( প্রজেক্ট প্ল্যান ), ফাইন্যান্সিয়েলি সেই বিনিয়োগ লাভবান হবে, সেই বিনিয়োগ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হবে, এবং তা নিদ্দিষ্ট সময়ের ভেতরে। দেশের বেলায় নিয়মটি ১০০ ভাগ প্রয়োজ্য। আমাদের অর্থমন্ত্রীর ভাষণে, কিংবা বাজেট ঘোষনায় কোন কোন খাতে ব্যয়ের জন্য ঋণ নেয়ার প্ল্যান করা হয়েছে? সেই সব খাত কতদিনে, সেই ঋণ শোধ করিবে, তার কোন প্ল্যান আছে কিনা? আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, ক্রিকেট কামাল সাহবের বাজেটে এই রকম কিছু নেই!

আমাদের মতো দেশে, ঘাটতি রেখে বাজেট করতে হয়, শুধু মাত্র খাদ্য কেনা, চাকুরী সৃষ্টির জন্য কলকারখানা করতে, কিংবা কৃষিতে ঋণ, কিংবা ভর্তুকি দেয়ার জন্য; খাদ্য কেনার জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ কম সুদে ঋণ দেয়; কৃষি বা কোন ভর্তুকির জন্য বিদেশী ব্যাংক ঋণ দেবে না; সেটা নেয়া যায়, দেশী ব্যাংক থেকে; তখন সরকারকে যথা সময়ে ঋণ শোধ করার নিশ্চয়তা দিতে হয়।

ক্রিকেট কামাল সাহেব, কিংবা শেখ হাসিনা বাজেটের ঘাটতি অংশ নিয়ে কথা বলেনি; কারণ, তারা বাজেটকে ব্যালেন্স করতে জানেন না; কোন কোন সেক্টরের কারণে ঘাততি হচ্ছে, সেটা সঠিভাবে নির্ণয় করতে পারেন না; ঘাটতির সেক্টরগুলোকে লাভজনক করার মতো দক্ষতা তাদের নেই। আসলে, যেই পরিমাণ আয় হবে( ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি ), সেই পরিমাণ টাকা ব্যয় করার মতো সংস্হা, বা জনবল কোনটাই তাদের নেই। আপনি নিজেই ভাবুন, আপনাকে যদি পরিকল্পনামন্ত্রী করা হয়, আপনার অধীনে যদি ১ বছরে, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়, যত পরিমাণ দক্ষ জনবল (সব মিনিষ্ট্রি মিলে) দরকার, তা'কি বাংলাদেশ সরকারের আছে? মোটেই নেই!

সরকার যদি দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, দেশে বেসরকারী ঋনের জন্য টাকা থাকে না, ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে পারে না; কিন্তু বাংলাদেশে সেই অবস্হা বিরাজ করছে না; মনে হয়, অনেক ব্যাংক 'অলস টাকা' নিয়ে বসে আছে, তারাই লবিং করে সরকারকে ঘাটতি বাজেট করাচ্ছে; ক্রিকেট কামাল সাহেব বাজেট করছেন না, আসলে ক্রিকেট খেলছেন! উনি চাপের মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ড থেকে রিজাইন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

মন্তব্য ২৯ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১০:১৭

মোঃ ইকবাল ২৭ বলেছেন: হুম, জানলাম।

১৫ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৯

চাঁদগাজী বলেছেন:

সংখ্যাগুলো মনে রাখেন, এবং সিউর থাকেন যে, বছরের শেষে, অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী কখনো পরিকল্পনা অনিযায়ী, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটী আয় করতে পারবে না, ও ব্যয়ও করতে পারবে না; আসলে, যেটা ঘাটতি দেখায়েছে, সেই পরিমাণ টাকা, বা বেশী ঋণ নেবে।

২| ১৫ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯

নতুন বলেছেন: যতবেশি ঠিকাদারী তত বেশি সরকারী দলের চামচাদের আয়.....

দেশের উন্নয়নের সাথে দলের জনগনের উন্নয়ন হবে.... এটাই আসল কথা....

১৫ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৪২

চাঁদগাজী বলেছেন:



দেশকে সরকার ও প্রশাসন অনেকটা নিজেদের বাজারে পরিণত করেছে; দেশের ব্যবসায়ীরাই পরোক্ষভাবে বাজেট প্রনয়ন করিয়ে নিচ্ছে; ওদের প্ল্যান আছে, ওরা কোথায় কি করবে, সরকারের লোকেরাই এখন ব্যবসায়ী

৩| ১৫ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৫৬

সাাজ্জাাদ বলেছেন: ঘাটতি কমিয়ে এনে লাভজনক করাটাই সরকারের সাফল্য।
রাষ্ট্রকে একটি বিজনেজ মডেলের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় সরকার অনেক বছর ধরে লোকসানে আছে।
কি হিসেবে তারা নিজেদের সফল দাবি করে?
আর লোণ নিয়ে দেশ আশা করি আমিও চালাতে পারব।

১৫ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


সরকারী ঋনের বিপরিতে সুদ ও আসলে মিলিয়ে বছরে দেনা অবশ্যই ২/৩ বিলিয়ন ডলারের বেশী; সেটা বাজেট থেকে যাচ্ছে; যেসব খাতের জন্য ঋণ নেয়া হয়েছে, সেখান থেকে আয় হচ্ছে কিনা, অর্থমন্ত্রীরা কখনো উল্লেখ করেনি।

সরকারী ঋণ ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছে চলে গেছে হয়তো।

৪| ১৫ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:০১

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: দেশে তো বরাবরই ঘাটতি বাজেট হয়। গত বাজেটের ৫১হাজার কোটি টাকা সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়। উন্নতি হবে ক্যামতে???


পুনশ্চঃ
"আমাদের দেশে কিছু লোক থাকে, যাদের কিছুই ভালো লাগে না। আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন, তারা কোনো কিছু ভালোখুঁজে পায় না। যখন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, সাধারণ মানুষের উন্নতি হয়, তখন তারা কোনো কিছুই ভালো দেখে না।"
.. PM শেখ হাসিনা

১৫ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি শিউর, ৫১ হাজার কোটি টাকা সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়? সংখ্যাটা ঠিক নয়! ৫১ হাজার কোটী টাকায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশী ডলার! শুধু সুদ হয়তো ১ বিলিয়নের কাছাকাছি হতে পারে, সেটা আমার অনুমান।

প্রাইম মিনিষ্টার বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নের অর্থৈিতি ও ফাইন্যান্স বুঝার কথা নয়; তবে, সিডিপি, মিডিপি, দেবব্রত ভট্টাচার্য্যরা ইডিওটিক ফাউল।

৫| ১৫ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:২০

রাজীব নুর বলেছেন: আজ প্রতিটা দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে বাজেট নিয়ে।

সব গুলো পত্রিকাতে চোখ বুলালাম। একটা পত্রিকায় লিখেছে, ''ধান কাটার লোক নেই'' মানে দেশে বেকার লোক কম- প্রধানমন্ত্রী।

১৫ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


ধান কাটার লোক নেই? দেশে বেকার আছে; অথচ, ধান কাটার লোক নেই, এটা একটি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস, শেখ হাসিনা সেটা বুঝবেন না; উনি সেটা বুঝলে, বাংগালীকে নৌকায় করে ভুমধ্য-সাগর পাড়ি দিতে হতো না; চাকুরীর আশায় গিয়ে বিদেশী জেলে থাকতে হতো না।

বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোতে বাজেট নিয়ে সঠিক মতো লেখার মতো ১ জন লোকও নেই

৬| ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আমার মনে হয়েছে দেশের জাতীয় বাজেটের মতো প্রতিটি পরিবারের ও একটি বাজেট ঘোষণা করা উচিত। সেই বাজেটে সারা বছরের আয় ব্যয়ের বিভিন্ন প্ল্যান পরিকল্পনা থাকবে। পরিবারের সদস্যদের সবার জবাবদিহিতা থাকবে। পরিবারের সবাইকে বাজেট সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ করে তুলতে হবে।

পরিবারের প্রতিটি টাকার সুষ্ঠু খরচ করতে হবে। কোন টাকা যেন আজেবাজে কাজে খরচ না হয়।

১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:২৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


সব পরিবারেরই বাজেট আছে; ইউরোপ আমেরিকায়, পরিবারের সদস্যরা নিজ পরিবারের বাজেট জানে; বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় না।

বাংলাদেশের পরিবারগুলোর উচিত, বাচ্চাদের বয়স ৭/৮ হলে, পরিবারের বিল ইত্যাদি পরিশোধ করার সময় তাদেরকে সম্পৃক্ত করা।

৭| ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:৪৫

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: এবারের বাজেটের জন্য তারা একটি শ্লোগানও বের করেছ; শ্লোগানটি হলো, "সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের"; সরকারের শ্লোগানের শেষাংশটা সঠিক আছে, "সময় এখন সরকারের"। কথাটা উপভোগ করলাম! :D

১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:২৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


ফাউলরা কাজের থেকে ভনিতা করে বেশী।

৮| ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫২

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: গত বাজেটের ৫১,৩৪০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল। বর্তমানে মাথাপিছু ঋণ ৬৭,৫০০টাকারও বেশী। টোটাল ঋণ কত বের করে নিন...


বাজেট নিয়ে আপনার জানা কম। সাধ্যের অতিরিক্ত লেখার চেষ্টা করছেন বোধহয়....

১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:২৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


৫১,৩৪০ কোটি টাকা সুদ + আসলের কিস্তি হতে পারে; শুধু সুদ যদি ৬ বিলিয়ন ডলারের উপরে হলে, আসল ঋণ হবে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি; বাংলাদেশের ঋণ এখনো ৪৫ বিলিয়ন, বা তার আশেপাশে আছে।

১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:৩৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমি বাজেট সম্পর্কে তেন গুরু নই; তবে, ক্রিকেট কামাল সাহেব, মুহিত ও সাইফুর রহমান অনেকটা সরকারের বাজার করার চাকর ছেলের মতো।

৯| ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:৪৩

ঢাবিয়ান বলেছেন: বাজেটের এত বিষদ জেনে আমাদের হবেটা কি ? বরাদ্দের সিংহভাগই যে লুটপাঠ হবে সেটা সবারই জানা আছে।

১৬ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৫:০৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাজেট যদি ঠিক মতো হয়, তারপরেও চুরি হবে; আমাদের জাতী ও বিশ্বের অবস্হা দেখলে বুঝা যায় যে, ঠিক মতো বাজেট করার মতো বাংগালী বাংলাদেশে নেই।

১০| ১৬ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৪:৪৯

বলেছেন: ইংরেজিতে একটা কথা ছিলো -- কাট ইউর কোট একরডিং টু ইউর ক্লথ ----

বাংলায় যাকে বলে "আয় বুঝে ব্যায়!!

বাজেট করার সময় আয় ও ব্যায়ের এই বিষয়টি এড়িয়ে গেলে তাতে সুস্পষ্ট গাফলা আছে বলা যায়।।।। আর তাই উন্নয়নশীল দেশের কিছু লোকের উন্নয়ন হাসিলের উদ্দেশ্য।।।

আপনার বিশ্লেষণ ভালো লাগলো সুপ্রিয় ব্লগার।।।

১৬ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৫:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


ব্যবসায়ীরা ব্যবসার মুলধন যোগাতে ঋন নেয়, ঋণের ক্যাপিটেল এর উপর লাভ করে মিলিওনিয়ার, বিলিওনিয়ার হয়; সেই রকম কিছু পারলে, ক্রিকেট কামাল সাহেব ঋণ নিক; অকারণে যারা ঋন নেয়, তাদের কিছুই হয় না।

১১| ১৬ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:৫২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বাজেটে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কয়েকটি কারণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বাড়ানোর জন্য শক্তিশালী কতগুলি প্রণোদনা রয়েছে। তবে সরকারি ব্যয় যখন সরকারি রাজস্ব প্রাপ্তিকে অতিক্রম করে, তখন এটি অবশ্যই একটি বাজেট ঘাটতি সৃষ্টি করে। ঘাটতি বাজেট প্রতি বছর জাতির জন্য একটি সার্বজনিন ঋণ যোগ করে তাতে কোন সন্দেহ নাই । তবে ঘাটতি বাজেট এবং ঋণ এর মধ্যে একটি পার্থক্য আছে। চলতি অর্থবছরের ব্যয় বহির্ভূত বাজেটে বিপুল ঘাটতি রয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতা বা ঘাটতির জন্য যে অর্থ যোগান দিতে হবে তাতো অবশ্যই ঋণ হয়ে যাবে।

ঘাটতি খরচ অবশ্য কোন দুর্ঘটনা নয়। উন্নত ও অনুন্নত প্রতিটি দেশের সরকারই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিটি অর্থবছরের বাজেটে এটি তৈরি করে। কারণ বলা হয়ে থাকে সরকারি ব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটায়। বলা হয়ে থাকে ঘাটতি বাজেট সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতির অংশ । এটা কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে , তাই ঘাটতি বাজেটে ব্যয় বাড়লে তা মানুষকে আরো টাকা দবে, যা প্রবৃদ্ধিকে আরও বৃদ্ধি করবে। বলা হয়ে থাকে কিছু কিছু ক্সেত্রে ট্যাক্স কেটে রাজস্ব প্রাপ্তি কমালেও তা অর্থনীতিকে সম্প্রসারিত করার অন্য একটি হাতিয়ারে পরিনত হবে ।

ডেফিসিট বাজেটের বিপরীতটা হতে পারে সংকোচনকারী আর্থিক নীতি। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা সুষম বাজেট অর্জনের জন্য রাজস্ব প্রাপ্তির চেয়ে কম ব্যয় করে। এ ধরনের সংকোচনমলক আর্থিক নীতি মুলত ট্যাক্স বৃদ্ধিমুলক কর্মসুচীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার অনেক কুফলও ভোগ করতে হতে পারে ।

ঘাটতি বাজেটের পক্ষ্যে আরো শক্তিশালী অনেক কারণ আছে। রাজনীতিবিদরা চাকরি সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে আরো ক্রমবর্ধমান করার জন্য মাঠে ময়দানে গলা ফাটিয়ে মুলত নীজেদের আখের গোছানোর জন্যই নির্বাচিত হন। এ জন্য ঘাটতি বাজেট তাদের জন্য খুবই প্রয়োজন, এটা বিবিধভাবে তাদেরকে সুবিধা দেয় বৈকি ।

ঘাটতি বাজেটের পক্ষে বিপক্ষে সকল দেশের সকারই অবশ্য বেশ উচ্চ কন্ঠ । বিত্তশালীদেশ আমেরিকার কথাই ধরা যাক । সেখানেও সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার এর জন্য দুই ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে। এই পেমেন্টগুলি প্রতি বছর প্রাপ্ত রাজস্বের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ।

মন্দা কাটানোর জন্যও অবশ্য সেখানে ঘাটতি বাজেট প্রয়োজন পরে । উদাহরণস্বরূপ, ২00৮ সালের মার্চ মাসে আর্থিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটানোর জন্য আমিরিকান কংগ্রেস ৭৮৭ বিলিয়ন ডলারের একটি অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজ পাস করে। সেটা বর্ধিত বেকারত্ব বেনিফিট এবং সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেওয়া হয়েছে ।বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারে না যে যুদ্ধগুলি মন্দা মোকাবেলার চেয়েও বেশি ঘাটতি বাজেট খরচ করে। ৯/১১-এ হামলার কারনে মহামন্দার চেয়েও বেশি ঘাটতি বাজেটের প্রযোজন পরেছে সেখানে। সন্ত্রাসের বিরোদ্বে যুদ্ধ সেখানকার সামরিক ব্যয়কে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।

শান্তিবাদী রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার অধীনেও ঘাটতি ব্যয় বেড়েছিল। ঘাটতি বাজেট খাতে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম ও কম যান না, তিনিও অফিসে এসেই প্রতি বছর ঋণ হিসাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন। ২০১৯ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটে ট্রাম তার প্রথম মেয়াদ শেষের দিকে ঋণের জন্য অতিরক্ত ৪.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করার পরিকল্পনা করেছেন। ২০১৭ সালের অর্থবছর শেষে ওবামার বাজেটে থাকা ২০.২৯ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের বুজা থেকে তা প্রায় ৩০% বেশী।

যাহোক, কথা হল হাতির ল্যাদা দেখে কোতাইলে গরীবের গোয়া ফাটা ছাড়া উপায় থাকবেনা । তাই বাংলাদেশকে সাবধানী ও কৌশলী হতে হবে , আয় বুঝে একান্ত প্রজয়োনীয় তথা ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা , কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা খাত সহ সামাজিক নিরাপত্তাখাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে অন্য সকল অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যায়কে লাগাম টেনে ধরতে হবে ।

ধন্যাবদ এ সময়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য । আজকে নিউজে দেখলাম সরকারের একজন গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি বলেছেন যে বাজেটের ক্রটিগুলি দুর করার সুযোগ এখনো আছে । বাজেটের উপর কামাল কিয়া কামাল ভাইদের মাকাল ফল মার্কা আলোচনার চেয়ে তাদেরকে একবার ব্লগে এসে বাজেটের উপর কোথায় ক্রুটি তা দেখে গেলে ভাল হয় ।

১৬ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৯:১০

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমেরিকার 'ওয়েলফেয়ার', সিনিয়র সিটিজেন ভাতা', ভেটেরান ভাতা' ভেটেরান চিকিৎসা', সরকারী চাকুরেদের পেনসন ' ও এরকম ৫/৬টা খরচ আইনের দ্বারা নির্ধারিত; আয় থাকুক বা না থাকুক, এগুলো দিতেই হবে! সেজন্য আয়ের থেকে ব্যয় বেশী, সেজন্য ঘাটতি। বাংলাদেশে ঘাটতি ( আইনীভাবে নির্ধারিত ব্যয়ের কারণে) হওয়ার কথা নয়; কারণ, বাংলাদেশে মাত্র পেনসনই একমাত্র খাত, যা ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারতো; কিন্তু পেনসনের পরিমাণ এত কম যে, উহা কখনো ঘাটতির সৃষ্টি করবে না।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীরা মানুষ "বড় অংকের বাজেট" শোনানোর জন্য এই হাউকাউ যোগ করে। ক্রিকেট কামাল সাহেব আয়ের থেকে প্রাপ্ত টাকা কখনো ১ বছরে খরচ করে শেষ করতে পারবে না।

১২| ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:১৭

গড়ল বলেছেন: ঋণ নিয়ে যদি শিক্ষা, স্বাস্থ, যোগাযোগ, অবকাঠামো আর জনসম্পদ তৈরীতে প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞান গবেষণায় (রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা বঙ্গবন্ধু নিয়ে নয়) বিনিয়োগ করে তাহলে পাঁচ বছর পর রিটার্ণ ভালো হবে এবং আয়ও বাড়বে।

১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


ঋণ নিতে হয়, যেই সেক্টর থেকে আয় হবে, বা জাতির দরকারী কাজে; যেমন, চাকুৈি সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্হ্য, হাউজিং'এর জন্য; কিন্তু ক্রিকেট কামাল সাহবে কিসের জন্য ঋণ নেবেন, এবং ঋণ ফেরত দেয়ার জন্য সেই ব্যবস্হা করেছেন কিনা জাতিকে জানানি; ঝাতি জানেন যে, উহাকে অদক্ষতার জন্য ক্রিকেট থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

১৩| ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ইউনাইটেড আরব আমিরাত কুয়েত কাতার এই সমস্ত দেশে কখনো বাজেটে ঘাটতি হয় না।

১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:০০

চাঁদগাজী বলেছেন:


ওদের বাজেটটা কি সেটাই আসল প্রশ্ন! ওরা তেল বিক্রয় করে অস্ত্র কিনে। কাতার একটু ভালো করেছিলো শুরুতে।

১৪| ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৪৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকার হোক আর অনির্বাচিত সরকার তাঁর মেয়াদকাল পাঁচ বছর। আর এই পাঁচ বছরে তাঁরা পাঁচ পাঁচটি বাজেট ঘোষণা করেন। এই পাঁচ বছরের পাঁচটি বাজেটের শুধু মাত্র একটি বাজেটে যদি দুর্নীতি না করেন, দুর্নীতি বন্ধ রাখেন তাহলে দেশ হয়তো চীন সিঙ্গাপুর হবে না তবে দেশ উন্নত হয়ে যাবে এটি নিশ্চিত।।

ইদানীং বিক্ষ্যাত কুক্ষ্যাত নেতা নেত্রীগণ কথায় কথায় বলেন বাংলাদেশ চীন সিঙ্গাপুর মালয়েশীয়া জাপান হয়ে যাবে !!! এটি তাদের নিতান্ত জোকার সুলভ আচড়নের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই না। বাংলাদেশ বাংলাদেশের মতো উন্নত হবে চীন সিঙ্গাপুর মালয়েশীয়া জাপান হবে না। ব্লগ পাঠকগণ কখনো কেউ শুনেছেন বলিভিয়ান নেতা নেত্রী বলেছেন আমরা আমেরিকা হয়ে যাবো !!!

১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমাদের মানুষ আশা করেন, ভালো জাতিগুলোর মতো আমাদের জাতিও ভালো হোক, মানুষ সুখী হোক! কিন্তু এরাই আবার ১৯৭৫ সালে ঘটনাকে 'ভালো' ঘটনা হিসেবে নিয়েছিলেন, মিলিটারীর শাসনকে ভালোবাসেন একই সময়ে; ফলে, আশা পুরণ হচ্ছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.