নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সম্পদহীনদের জন্য শিক্ষাই সম্পদ

চাঁদগাজী

শিক্ষা, টেকনোলোজী, সামাজিক অর্থনীতি ও রাজনীতি জাতিকে এগিয়ে নেবে।

চাঁদগাজী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সম্যক জ্ঞান না থাকলে, বড় বড় সিদ্ধান্তে ভুল হয়ে যায়

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৭



২০০১ সালের ২০ শে জানুয়ারী ছিল হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের শেষদিন; সেই বছর ৮ই জানুয়ারী, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ততকালীন ইসরায়েলী প্রাইম মিনিষ্টার ইয়াহুদ বারাক ও পিএলও চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাতকে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী, ২ রাষ্ট্র-সমাধান মেনে, প্যালেষ্টাইনের স্বাধীন ঘোষনা করার জন্য অনুরোধ করার জন্য একটি চুক্তিতে সই করতে বলেন; শর্ত হলো, পিএলও ইসরায়েলের বিপক্ষে অস্ত্র না ধরার নিশ্চয়তা দেবে, ও অসলো চুক্তি মেনে চলবে। ৩ নেতার তত্বাবধানে নতুন চুক্তি হবে; চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েল 'শান্তির বিনিময়ে' তার দখল করা ভুমি ফেরত দেবে, আমেরিকা রিফিউজীদের জন্য ঘরবাড়ী তোলার খরচ দেবে। সেই বছর ফেব্রুয়ারী মাসে ইসরায়েলে ভোট ছিল, প্রাইম মিনিষ্টার ইয়াহুদ বারাক 'ভুমির বদলে শান্তি' ফর্মুলায় দেশের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষের সমর্থন নিয়ে ভোটে যাচ্ছেন; স্বাধীন প্যালেষ্টাইন চুক্তিতে সাইন হলে, ইয়াহুদ বারাক আবারো ভোট পাবে।

কিন্তু ইয়াসীর আরাফাত বেঁকে বসলেন, উনার শর্ত: ফিলিস্তিনী রিফিউজীদের নিজগ্রামে ফেরত যেতে দিতে হবে, ও যেরুসালেমকে বিভক্ত করা যাবে না। ক্লিনটন ও বারাক যুক্তি দেখালেন যে, ঐসব গ্রামে গেলে, ২ দেশের মাঝে "হাজারো পকেট" সৃষ্টি হবে, দেশের সীমানা ঠিক রাখা যাবে না; ওয়েষ্ট-ব্যাংক বরাবর দেশের শতকরা ৪৫ ভাগ ভুমি হবে ফিলিস্তিনীদের; ঘরবাড়ী তৈরি করে দেবে আমেরিকা। যেরুসালেম নতুন করে ভাগ করার দরকার নেই, উহা ভাগ করাই আছে।

সেই বছর, ইসরায়েলের ভোটে, প্রাইম মিনিষ্টার ইয়াহুদ বারাকের বিপরিতে ভোট করছিলেন এরিয়েল শ্যারণ; শ্যারণ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ১ জন ইসরায়েলী জীবিত থাকতে ১ ইন্চি ভুমিও ফিলিস্তিনীদের দেয়া যাবে না; এই ভুমি ফিলিস্তিনীদের দিয়েছেন আল্লাহ; ইসরায়েলীরা ইহার রক্ষাকারী। এই অবস্হার মাঝেও প্রাইম মিনিষ্টার ইয়াহুদ বারাক শতকরা ৬০ ভাগ মানুষকে 'ভুমির বদলে শান্তির' পক্ষে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

চুক্তিতে সাইন হলে, কিছুদিনের মাঝেই প্যালেষ্টাইন স্বাধীন হয়ে যেতো, ইহুদ বারাক ভোট পেয়ে প্রাইম মিনিষ্টার হয়ে যেতন; তিনি ফিলিস্তিনীদের সর্বপ্রকার সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু ইয়াসীর আরাফাত রিফিউজীদের নিজ গ্রামে ফেরত যাবার ব্যাপারে অনড়। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন জানতেন যে, নতুন প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশ কোনভাবেই ফিলিস্তিনিদের সাপোর্ট করবে না। হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার ৩ দিন আগে আবার কথা বললেন চেয়ারম্যান ইয়াসীর আরাফাতের সাথে; আরাফাত অনড়। বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউস ছাড়লেন, সেই বছর ইসরেয়েলী ভোটে ইয়াহুদ বারাক পরাস্ত হন; প্যালেষ্টাইন বলতে কোন রিপাবলিক আজো নেই।

মন্তব্য ৪১ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৪১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

সামিউল ইসলাম বাবু বলেছেন: দেখুন আপনি এটা কিভাবে বলেন?

ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ইসরায়েল অবৈধ ভাবে আছে। আর, তারা নিরিহ মানুষের সাথে কি আচরণ করছে, অন্ধ (বিবেকহীন )ব্যতিত সবাই তা দেখছে।

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


ফিলিস্তিনী পরিবারের জমি ছিলো, বাড়ী ছিলো, ভেঁড়া ছিলো, ব্যবসা ছিলো; কিন্তু ফিলিস্তিন নামে দেশ ছিলো না; যখন ফিলিস্তিনে ১ম বারের মতো স্বাধীন দেশ হচ্ছিল, উহা ছিলো বৃটিশ কলোনী; কলোনী থেকে ২টি রিপাবলিক হওয়ার কথা ছিলো; ফিলিস্তিনীদের পক্ষ থেকে কেহ ১৯৪৮ সালের মে মাসের ১৪ তারিখে, জাতি সংঘে গিয়ে সাইন করে দেশ বুঝে নেয়নি, তারা বয়কট করেছে। বৃটিশের আগে, ৮০০ বছর উহা ছিলো অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রদেশ।

২| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩১

শাহিন-৯৯ বলেছেন:


বিরাট একখানা ইতিহাস পড়লুম।

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার জন্য অবশ্যই নতুন ও বড় হওয়ার কথা; ঘটনা আসলেই বিরাট ও গুরুত্বপুর্ণ

৩| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

আপেক্ষিক মানুষ বলেছেন: ইয়াসির আরাফাতের ভুল ছিল, সব থেকে বেশি ভুল ছিল হামাসের। হামাসের নেতারা কখনো বাস্তবধর্মী চিন্তা করে না। যতটুকু জায়গায় ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত ততটুকু জায়গা প্যালেস্টাইন কখনো পাবে না এটা কেন তাদের মগজে ঢুকে না বুঝিনা। এইসব বোকামির জন্য শুধু শুধু হাজার হাজার মানুষের রক্ত ঝরছে। ইসরাইল আর প্যলেস্টাইনের সমঝোতা হবে প্যালেস্টাইনের জন্য আশির্বাদ। যেই সুযোগ তারা একবার হারিয়েছে তা আবার হারানো তাদের জন্য উচিৎ হবে না। যতদূর জানি ওদের মধ্যে আবার শান্তি চুক্তি কথা চলছে আমেরিকার সহায়তায়।

তবে ইসরাইল কতৃক বর্তমান প্যালেস্টাইনের নতুন করে ভূমি দখলে আপনার মতামত কি?

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:


হামাস জংগি সংগঠন, ওদের পক্ষে রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না।

শান্তিচুক্তি করতে করতে ৭০ বছর কেটে গেছে; ১৯৯৩ সালে, '২-দেশ সমাধান' প্রিনসিপলে অসলো চুক্তি হয়েছিলো; সেই সুযোগ চলে গেছে। এখন ইসরায়েলে উগ্রপন্হীরা ক্ষমতায়, তারা এখন '১ দেশ' (শুধু ইসরেয়েল) প্রিনসিপলে কাজ করছে; ইহাতে ট্রাম্পের সায় আছে।

৪| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮

শাহিন-৯৯ বলেছেন:


ইয়াসির আরাফাত ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জেরুজালেম ভাগ করার বিপক্ষে ছিলেন। আপনি যা সহজে মেনে নিতে পারেন অনেকে তা পারে না কারণ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে সমাজে বাস করে কেউ অতি বুদ্ধি নিয়ে। জেরুযালেম শহর মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্র শহর বা স্থান। ইয়াসির আরাফাত চাইলেই হয়ে যেত তেমন না উনার স্থানীয় মুসলিমদের মনোভার নিয়েই এগুতে হয়েছিল।

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


ধর্মীয় দিক থেকে ভাবলে, যেরুসালেম খৃষ্টানদের এককভাবে হওয়ার কথা; ঐ শহরের উপকন্ঠে নবী ঈশা (আ: ) জন্মেছেন, সেই শহরে উনাকে হত্যা করা হয়েছে।

৫| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপেক্ষিক মানুষ বলেছেন: লেখক বলেছেন:


হামাস জংগি সংগঠন, ওদের পক্ষে রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না।


হামাসের জঙ্গি স্বভাব আছে যেমন আতসবাজি ছোড়াছুড়ি, কিন্তু প্যালেস্টাইনে কোন হামলা হলে ডাক্তার, এম্বুলেন্স নিয়ে আগে হামাস এগিয়ে আসে।

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:০২

চাঁদগাজী বলেছেন:


হামাস গাজা চালায়, ওদের বেতন আসে ইরানীদের দেয়া ডলার থেকে, ওরা দেশ, জাতি ইত্যাদি বুঝে না; ওরা চায়, ইসরায়েল ধ্বংস হোক, যা ঘটার সম্ভাবনা নেই।

৬| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:০৪

আপেক্ষিক মানুষ বলেছেন: শাহিন-৯৯ বলেছেন:


ইয়াসির আরাফাত ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জেরুজালেম ভাগ করার বিপক্ষে ছিলেন। আপনি যা সহজে মেনে নিতে পারেন অনেকে তা পারে না কারণ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে সমাজে বাস করে কেউ অতি বুদ্ধি নিয়ে। জেরুযালেম শহর মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্র শহর বা স্থান। ইয়াসির আরাফাত চাইলেই হয়ে যেত তেমন না উনার স্থানীয় মুসলিমদের মনোভার নিয়েই এগুতে হয়েছিল।


জেরুজালেম শুধু মুসলিমদের একার পবিত্র স্থান না, মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান তিন ধর্মের পবিত্র স্থান। অতএব সবারই অধিকার থাকা উচিৎ। বাংলাদেশে কাবা ঘর নেই, মুহাম্মদ (সঃ) জন্মেনি তাই বলে কি ইসলাম বাংলাদেশে থেমে আছে? বরং সৌদির মানুষের বাংলাদেশের মানুষদের থেকে বেশি খারাপ। যেখান হাজার হাজার মানুষ/শিশুর রক্তে ভেসে যাচ্ছে সেখানে এখনো মানুষ জেরুজালেম নিয়ে পরে আছে। সমঝোতা যদি হত তাহলে আমার মনে হয় ইসরাইল প্যালেস্টাইনের মুসলিমদের জেরুজালেমে উপাসনায় কোন বাধা দিত না। কিন্তু প্যালেস্টাইনের মানুষ পরে আছে সেই উক্তিতে যে মরে যাব তবুও বাপ-দাদার ভিটে ছাড়ব না।

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:১০

চাঁদগাজী বলেছেন:



যেরুসালেমে সবাই যেতে পারেন; মক্কা ও মদীনায় মুসলীম ব্যতিত বাকীদের প্রবেশ নিষেধ; ইহা ভয়ংকর মানবতা-বিরোদী সিদ্ধান্ত।

৭| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:১৯

আমিই মুসাফির বলেছেন: আপেক্ষিক চাদ্গাজী ইতিহাস পড়েন।আম্নেগো আক্কেল এহনো হাটুর নীচে।

২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:২৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


বই আছে, পড়েন, বুঝেন; জাতি আপনার থেকে উপকৃত হবেন।

৮| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:২৪

নাসির ইয়ামান বলেছেন: রিপাবলিকান সিস্টেম ইসলামবিরোধী,তাই রিপাবলিকরা মানুষের শান্তি বয়ে আনতে পারে না!

আর মক্কা মদিনায় বিধর্মীদের প্রবেশের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তের বোধহয় আপনার নিকট হতে মানবতা শেখার দরকার হবে না!

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১:১৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


সুইডেন, কানাডা, নরওয়ের লোকেরা ইসলাম পন্হী, সেজন্য সেখানে শান্তি আছে; পাকিস্তানীরা ইসলামের পন্হী সেইজন্য সেখানে শান্তি আছে।

বিশ্বের মানুষ এখন নিজের লব্ধজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করছেন; আপনার মতো লোকজন জল্লাদ গোলাম আজমের মানবতা প্রতিষ্ঠিত করছেন।

৯| ২৭ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১১:৫৮

আপেক্ষিক মানুষ বলেছেন: আমার হঠাৎ করে একটা কৌতুহল জাগল জানি না জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে কিনা, আপনি কি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন টরেন নাকি? জানি আপনি ধর্মে বিশ্বাসী নন, কিন্তু অনেকেই আছে ধর্মে বিশ্বাসী নন কিন্তু সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন।

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:



হ্যাঁ, আমি সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মে বিশ্বাসী।

ব্লগে, প্রশ্নফাঁস জেনারেশন ধর্মের নামে এটাসেটা লিখে চালিয়ে দেয়; এরা সামান্য নিউটনের গতির সুত্র দেখেও লিখতে পারে না, সৃষ্টিকর্তা নিয়ে কি লিখছে এরা?

১০| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১:৫৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধ কিয়ামত পর্যন্ত চলবে, বলা যায়না কিয়ামত সম্ভবত ইসরায়েল ফিলিস্তিন হতে শুরু হতে পারে অথবা বাংলাদেশ থেকে নির্ঘাত!!!

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


এটম বোমার আঘাতে যদি বিশ্বের বেশীরভাগ মানুষ নিশ্চিহ্ন না হয়, তা'হলে মানব জাতি কিয়ামত দেখবে না; ফিলিস্তিনকে দেশ করবে ইসরায়েল।

১১| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ২:০৬

আপেক্ষিক মানুষ বলেছেন: লেখক বলেছেন:



হ্যাঁ, আমি সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মে বিশ্বাসী।

ব্লগে, প্রশ্নফাঁস জেনারেশন ধর্মের নামে এটাসেটা লিখে চালিয়ে দেয়; এরা সামান্য নিউটনের গতির সুত্র দেখেও লিখতে পারে না, সৃষ্টিকর্তা নিয়ে কি লিখছে এরা?


অসাধারণ উত্তর দিয়েছেন। এমন কোন উত্তরই আশা করছিলাম। আপনাকে স্যালুট, আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেল।

বাই দ্যা ওয়ে আমিও প্রশ্নফাঁশ জেনারেশনের সদস্য, কিন্তু আমি ধর্ম নিয়ে লিখতে সাহস পাই না।

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৩৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


ধর্ম লম্বা বিষয়, ইহার ইটিহাস ৬০০০ বছরের বেশী; ইহা নিয়ে লিখতে হলে, লজিক, ইতিহাস, ভুগোল, অর্থনীতি, সোস্যাল সায়েন্স, বিজ্ঞান ও ফিলোসফি'তে জ্ঞান দরকার।

১২| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৪:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
পোষ্ট টি পাঠে আমার মনে পরে মসজিদ আল কিবলাতাইন (দুই কিবলার মসজিদ)
নামে সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত ইতিহাসখ্যাত মসজিদটির কথা ।

ঐ মসজিদে নামাজ পড়ার সময় মুহাম্মদ (সা) এর কাছে কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশের ওহি আসে। নামাজ আদায়ের দিকনির্দেশকে কিবলা বলা হয় বলে আমরা সকলে জানি । ‘মসজিদ আল কিবলাতাইনে’ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নামাজ আদায়ের মাঝামাঝি সময়ে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে।

হযরত মুহাম্মদ (সা) মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর। হিজরতের দ্বিতীয় বছরের রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। গবেষকদের মতে, কিবলা পরিবর্তনের দিন হজরত মুহাম্মদ (সা) এই মসজিদে জোহর কারো কারো মতে আসর নামাজ আদায় করছিলেন। জেরুজালেম নগরীর বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদমুখি হয়ে নামাজ আদায় করছিলেন তিনি। দুই রাকাত নামাজ শেষ করেছেন। ঠিক এমন সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে হজরত জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নির্দেশ আসে কিবলা পরিবর্তনের। রাসূল (সা)-কে মক্কা নগরীর পবিত্র কাবামুখি হয়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ জানিয়ে দেন হজরত জিবরাইল (আ)। এই নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে রাসূল (সা) নামাজের মধ্যেই কিবলা পরিবর্তন করেন। সাথে সাথে পরিবর্তন করেন তার পেছনে নামাজ আদায় করতে থাকা সাহাবিরা।

কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ ঘটনাটি উল্লেখ আছে সূরা বাকারার ১৪৪ নম্বর আয়াতে। সেখানে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল হারামের (কাবা শরীফের) দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, (এ ধর্মগ্রন্থ) তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নেই।’

দীর্ঘদিন এই মসজিদে দু’টি মিহরাব বা ইমামের দাঁড়ানোর স্থান ছিল। যার একটি বায়তুল মুকাদ্দাসমুখি, অন্যটি ছিল কাবাঘরমুখি। পরে মসজিদটি ব্যাপক সংস্কার করা হয়। এ সময় কাবামুখি মিহরাবটি রাখা হয়। অন্যটি ভেঙে ফেলা হয়। ইহুদিরা সাধারণত কিবলা হিসেবে জেরুজালেমের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন করে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্যতা দান করেন।

এত কিছু পরিস্কার দিক নির্দেশনা থাকার পরেও জেরুজালেম নিয়ে এত রক্তারক্তি কেন , বিষয়টির সুরাহাতো সেই হীজরী দ্বিতীয় সালেই হয়ে গেছে । মুসলমানদের সর্বাত্মক দৃষ্টি ভঙ্গি কি হবে তা আল্লাহ ও তাঁর রসুল দিয়ে দিয়েছেন পরিস্কার ভাবে । এ ঘটনা ও বিধান হতে কি হওয়া উচিত আর কি না হওয়া উচিত সে সম্পর্কে বোদ্ধাদের জন্য অনেক ভাবনার বিষয় আছে ।


২৮ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:০০

চাঁদগাজী বলেছেন:



ড: আলী সাহেব, ৬২২ খ্রিস্টাব্দে যেরুসালেম ছিল বায়জান্টাইনদের হাতে; তখনও কোন মুসলাম ওখানে ছিলো না; ওখানে কি করে মসজিদ ছিলো?

৬৩৭ সালে, খলিফা ওমরের (রা: ) সময়ে জেরুসালেম মুসলমানদের হাতে আসে; তখন সেখানে মসজিদ করা হয়! তা'হলে ৬২২ সালে "বায়তুল মুকাদ্দাস " মসজিদ নিয়ে কেন কথা হচ্ছে?

১৩| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:০২

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম। মন্তব্যসহ।
নিজের দেশের বাইরে কোনো খবরই রাখি না।

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৩২

চাঁদগাজী বলেছেন:


১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল দেশ হওয়ার কথা ছিলো, আরবেরা জাতি সংঘ থেকে দেশ না নিয়ে, যুদ্ধ করে, পুরো ফিলিস্তিনে ১ দেশ করতে গিয়ে পরাজিত হয়ে, দেশ হারায়েছে।

১৪| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:২৪

নূর আলম হিরণ বলেছেন: আপনার বই লেখার কতদূর?

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:২৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ; কাল থেকে শুরু।

১৫| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক নিয়ে আলোকপাত করেছেন। এ বিষয়টি আমার মনে আছে। তখন ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের রাজনীতি নিয়ে খুব গভীরের পলিটিক্স বুঝতাম না। তবে কেন যেন মনে হয়েছিল ইয়াসির আরাফাত যদি প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের এই সমযোতা মেনে না নিলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি জনগনকে অনেক মূল্য দিতে হবে। বাস্তবে হলোও তাই। এর কিছুদেনর মধ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে বসলো বিপজ্জনক দু'জন নেতা। ইয়াসির আরাফাতও কিছুদিন পর মারা গেলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী পঞ্চাশ বছরেও স্বাধীন ফিলিস্তিন হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। গত দুই দশকে ইসরায়েল তাদের পায়ের খুঁটি অনেক শক্ত করে ফেলেছে। এছাড়া তাদের কুটনৈতিক সফলতা আর মুসলিমদের ইরান-সৌদি, সুন্নি-শিয়া বিরোধ ইসরায়েলের পক্ষে গেছে।

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:১২

চাঁদগাজী বলেছেন:


৫২ বছরের কষ্টজনক অবস্হান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ এসেছিল ২০০১ সালে; ইয়াহুদ বারাকই একমাত্র ইসরায়েলী প্রাইম মিনিষ্টার যিনি 'ভুমির বদলে শান্তি'র পক্ষে থেকে প্যালেষ্টাইনের স্বাধীনতায় স্বাক্ষর করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন; তিনি শান্তি এনে ইতিহাসে নাম লিখাতে চেয়েছিলেন।

১৬| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:১৩

হাসান রাজু বলেছেন: "এটম বোমার আঘাতে যদি বিশ্বের বেশীরভাগ মানুষ নিশ্চিহ্ন না হয়, তা'হলে মানব জাতি কিয়ামত দেখবে না;।"

-দিলেন তো বিশ্বাস ভাইঙ্গা । আপনার এই অন্ধ মুরিদ আজ থেকে কিয়ামত না বরং এটম বোমাই বিশ্বাস করবে। ইহা এক আজব সাগরেদ ঝুঠাইছেন। একটা পোস্টে বেশ নিরিহ একটা সতর্কীকরণ মন্তব্য করেছিলাম। মন্তব্যকারিদের জ্ঞাতার্থে বলেছিলাম লেখক একজন অন্ধ চাঁদগাজী ভক্ত। কিছুক্ষণ পর দেখি মন্তব্যখানা গায়েব। এইব্যাক্তি আপনার থেকে ব্লগিং শিখেনি। মুরিদদের দেখবেন সব সময় পীরের ব্যাপারে সবসময় ক্ষ্যাপা থাকে। উনি ও এমনই।

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


এটম বোমা যদি মানব সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে, সেটাই মানুষের জন্য হবে কেয়ামত। এর বাহিরে, যত কিছু বলা হচ্ছে কেয়ামত সম্পরকে, সেগুলো মানুষ কখনো দেখবে না।

ব্লগে, ব্লগারেরা একে অন্যের সাথে ভাবের আদানপ্দান করে থাকে সব সময়।

১৭| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৯

আদিল ইবনে সোলায়মান বলেছেন: মন্তব্য করতে আসলাম এবং করলামও

২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৪৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


ভালো কাজ করেছেন। আমি কিন্তু পরে আপনাকে ইসরায়েল/প্যালেষ্টাইনের উপর প্রশ্ন করবো।

১৮| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ৬২২ খৃস্টাদ্ধে সেখানে কোন মসজিদের অস্তিস্ত না থাকলেও কেন বায়তুল মুকাদ্দেস মসজিদকে এখানে টেনে আনা হযেছে বলে প্রশ্ন রাখা হয়েছে । আমার মন্তব্যটি একটু মনযোগ দিয়ে পাঠ করলে এর অন্তর্নিহিত শানেনযুল বুঝতে পারতেন । সে সময় মসজিদের অবস্থান না থাকলেও সে সময়ে নামাজের কিবলার কথা উঠলে তার সাথে বাতুল মুকাদ্দেসের সাথে মসজিদ প্রসঙ্গটি এসে যায় ।
উল্লেখ্য য নীচে দেখানো সোনালি গম্বুজের চমৎকার মসজিদটি চোখে পড়লেই অনেকে মনে করেন মসজিদুল আকসা বুঝি ওটাই।

কিংবা কেউ কেউ বাইতুল মুকাদ্দাস বলতে মসজিদুল আকসাকেই বুঝেন্। সোনালী গম্বুজের মসজিদ আর মসজিদুল আকসা যে এক নয়, কিংবা বাইতুল মুকাদ্দাস বলতে আসলে কী বোঝায়, ইহুদী খ্রিস্টান ও মুসলিম সকলের কাছে কেন পবিত্র এই বাইতুল মুকাদ্দাস তা নিয়ে এখানে দু একটি কথা বিস্তারিতভাবে বলতেই হলো ।

জেরুজালেম নগরীকে ঘিরে তিন ধর্মেরই সহস্রাধিক বছরের ধর্মীয় ইতিহাস রয়েছে। জেরুজালেমকে হিব্রুতে বলা হয় ‘ইয়ারুশালেইম’ বা ‘শান্তির শহর’। মধ্যপ্রাচ্যের জুদিয়া পাহাড়ি এলাকার মালভূমিতে ভূমধ্যসাগর আর মৃত সাগরের মাঝে এ শহরের অবস্থান। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়েরই দাবী- জেরুজালেম তাদের রাজধানী।

মসজিদ আল আকসা ইসলামের প্রথম কিবলা ছিল এবং এটি ইসলাম অনুসারীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে সকল সময়েই গন্য ছিল ও এখনো আছে । এটি মক্কায় মসজিদ আল হারামের নির্মানের ৪০ বছর পর নির্মিত হয়েছিল। মসজিদ আল আকসার নির্মান কাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে , কিছু পণ্ডিত ও ইতিহাসবিদ ধারনা করেন যে মসজিদ আল আকসা নবী আদম (।) দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং অন্যান্যরা মনে করেন যে এটি নবী ইবরাহীম (আ) এর সময় নির্মিত হয়েছিল । ইসলামের আভির্বাবের পর এটি পুনর্নির্মাণ, সংস্কার ও সম্প্রসারিত হয়েছে।

নবী ইবরাহীম (আ।) এর সময় , তাঁর পুত্র নবী ইসহাক (আ) ও নাতি নবী ইয়াকুবের (আ) কাছে উপাসনার জন্য একটি সুপরিচিত স্থান ছিল। যখন নবী ইয়াকুবের পুত্র নবী ইউসুফ (আ) মিশরের রাজ ক্ষমতার উচ্চ বলয়ে অবস্থান লাভ করেছিলেন, তখন তিনি তাঁর পরিবারকে তাঁর সাথে যোগ দিতে এবং প্যালেস্তাইনীদেরকে দারিদ্রের করাল গ্রাস হতে মুক্তি দিতে বলেছিলেন। বাইবেলের সূত্রে জানা যায় যে তার পিতা নবী ইয়াকুব (আ) এবং নবী ইউসুফের ভাইবোন এবং তাদের ৩৩ জন সন্তান ছিলেন [আদিপুস্তকের বই Book of Genesis] । সে সময় মসজিদ আল আকসা (“Beteyel” or “House of God” "বেটেল" বা "ঈশ্বরের ঘর" নামেও পরিচিত ছিল ) । নবী ইয়াকুবের বংশধরদের মধ্যে যখন কেউই আর অবশিষ্ট ছিল না তখন এই সুখী ও পবিত্র স্থানটির যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় অধিবাসীদের উপর (যারা নবী ইবরাহীম (আ) এর অনুসারী ছিল, এরাই হলো কথিত ফিলিস্তিনি।

ইস্রায়েলীয়রা ভাল একটি জাগতিক জীবনযাপন করার নিমিত্ত স্বেচ্ছায় মিশরে দেশান্তরিত হয়েছিল এবং প্রায় চার শতাব্দী ধরে মিশরীয় শাসকদের একান্ত আনুগত্যাধীন জীবন যাপন করছিল । তাদের ঐ নতজানু ক্রিতদাসের জীবন কেবলমাত্র তখনই শেষ হয় যখন নবী মুসা (আ) তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশে ফেরাউন এর কবল হতে মুক্ত করেছিলেন। যাহোক, ইস্রায়েলীয়রা ফিলিস্তিনে ফিরে আসার জন্য আল্লাহর আদেশ প্রত্যাখ্যান করে এবং ৪০ বছর ধরে সিনাই মরুভূমিতে বাস করে কাটিয়ে দেয়। সেখানে পরে একটি নতুন প্রজন্মের আভির্বাবের কারণে এ অবস্থার অবসান হয় , আর এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে নবী দাউদ (আ), অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যিনি তার অনুসারী ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্ব দেন।

নবী দাউদ (আঃ) ফিলিস্তিনের অংশে তাঁর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং জেরুজালেম নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তাঁর পুত্র নবী সুলাইমান (আ) স্থানীয় আদিবাসীদের সহায়তায় মসজিদ আল আকসা পুনর্গঠন করেন এবং এর পাশে তিনি রাজকীয় প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। নবী সুলাইমানের( আ) মৃত্যুর পর, তাঁর দুই পুত্র নীজেদের মধ্যে রাজ্য ভাগ করে নেয় এবং দুই রাজ্যের জন্য দুটি পৃথক রাজধানীও করে নেয় । এই রাজ্যগুলিরও অস্তিত্ব ছিল খুবই স্বল্পকালীন মাত্র প্রায় দুইশত বছর - এই রাজবংশের জেরুজালেম অংশের শেষ রাজা প্রায় ৫৮৬/৫৮৭ খৃষ্টপুর্বে ব্যাবিলনীয়দের (রাজা নবূখদ্নিৎসরের নেতৃত্বাধীন) আক্রমন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতাচুত্য হয় ।

বাবিলীয়রা যেরূজালেমের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের অল্পসময় পরে, মসজিদ আল আকসা আবার ধ্বংস হয়ে যায় ।
পরবর্তীতে পারসিয়ানরা বাবিলীয়দের উৎখাত করে এবং উপসনার স্থান হিসেবে আল মসজিদ আল আকসা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছিল , কিন্তু তার পরেও মালিকানায় বহুবার হাত পরিবর্তন হয়েছিল এবং মসজিদ আল আকসা ধ্বংস, পুননির্মান এবং আবার ধ্বংস প্রক্রিয়া চলছিলই । জানা যায় প্রায় শতাদ্বিকাল এটা রোমানদের দখলে থাকাকালীন সময়ে ৭০ খৃষ্টাব্দে রোমানদের দ্বারাই আবারো একবার ধংস প্রাপ্ত হয় ।

প্রায় ৩১৫-৩২৫ খৃষ্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন যখন খ্রিস্টান ধর্মে দিক্ষিত হন তখন সেখানে বসবাসকারী ইহুদি সহ রোমানরা মসজিদ আল আকসাটিকে কোন শ্রদ্ধা করত না এবং তারা এর পবিত্রতাও রক্ষা করতনা আর সেখানে কোন উপসনাও করত না। মসজিদ আল আকসা সাইটটি সেসময় শহরের নাগরিকদের বর্জ্য নিরসনের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীতে ৬২২ খৃষ্টাদ্ব পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতৃক এই আশীর্বাদিত স্থানটির আধ্যাত্মিকতা পুনরুজ্জীবিত না হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছর ধরে মসজিদ আল আকসার অবস্থার ঐ রকমই ছিল । সেসময় পর্যন্ত স্থানটি ব্যতিত মসজিদটির কোন উপস্থিতিই সেখানে ছিলনা , রাসুলিল্লাহ ( সা) শুধু স্থানটির আধ্যাত্মিকতা পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন । তবে তাঁর মহান সঙ্গী হযরত উমর ইবনে আল খাত্তাব (রাঃ) শহরটিকে তাদের হাত হতে মুক্ত করেছিলেন।

যাহোক, জেরুযালেম যে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে বহবিধ শাসক ও ধর্ম আনুসারীদের অধিনে ছিল তার ইতিহাস কমবেশি সকলেই জানেন । জেরুযালেম নগরীর দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এ নগরী অন্তত দুবার ধ্বংস হয়, ২৩ বার অধিকৃত হয়, ৫২ বার আক্রমণ করা হয় আর উদ্ধার করা হয় ৪৪ বার!

আমার মন্তব্যটিতে এর ইতিহাস টানা হয়নি, টানা হয়নি এর অস্তিত্বের কথা ,শুধু এর গুরত্বের হ্রাস বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টানা হয়েছিল এর বর্তমান আপেক্ষিপ গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য ।আমার পুর্বকৃত মন্তব্যের সঠিক অর্থ অনুধাবনের জন্য একে আরো একটু মনযোগ দিয়ে পাঠ করার অনুরোধ থাকল । আমি কোন পোষ্টের উপরে কোন সুংপিং কমেন্ট সাধারনত করিনা । একটি পোষ্ট পাঠে আমার অনেক সময় লেগে যায় , ব্লগের কোন পোষ্ট পাঠ করে তার উপর সুইপিং কোন কমেন্ট করার মানসিকতা আমি ধারন করিনা। ভাল লাগা একটি পোষ্ট পাঠ করে এর আগে পিছের বিষয়গুলি অনুধবান ও তাদের যতার্থতা বুঝতেই অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায় । তার পরেও বলব আমার জানার ও বুঝার পরিধি খুবই সীমিত , যতটুকুও আবার বুঝতে পারি সঠিকভাবে তা প্রকাশের ক্ষমতা রাখিনা ।তবে ব্লগে বিজ্ঞজনদের মুল্যবান লেখা আমাকে বিষয় ভিত্তিক পড়াশুনা করতে উৎসাহ যোগায়, জানার পরিধিকে বিস্তৃত করে । তাই নীজ মতের সাথে না মিললেও তাঁদের লেখাকে ভালভাবে পাঠ করে যথাযথ ও বিষয়ভিত্তিক ভাবে বিনয় সহকারে একটু মুল্যায়নের চেষ্টা করি মাত্র ।

ধন্যবাদ উপরের প্রতি মন্তব্যের জন্য ।


২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমি জানি না, হযরত মোহাম্মদ (স: )'এঁর আগে কেহ মুসলমান ছিলেন কিনা!

১৯| ২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৩১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ভাল প্রশ্ন রেখেছেন । আমি যতটুকু জানি তা হলো ইসলাম ধর্ম অনুসারিগন মুসলমান হিসাবেই এখনকার বিশ্বে পরিচিত । তবে মুসলমান শব্দটি মুলত যুক্ত ইসলাম ধর্মের সাথেই । তবে এ ক্ষেত্রে বলা যায় যে ইসলাম শব্দটি এসেছে আরবি س-ل-م শব্দটি হতে; যার দু'টি অর্থঃ ১. শান্তি ২. স্রষ্টার নিকট আত্মসমর্পণ করা। সংক্ষেপে, ইসলাম হলো শান্তি (প্রতিষ্ঠা)'র উদ্দেশ্যে এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর (আল্লাহ)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করা।

অনেকের ধারণা যে, মুহাম্মদ হলেন এই ধর্মের প্রবর্তক। তবে তিনি এই ধর্মের প্রবর্তক নন, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসূল (পয়গম্বর)। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে তিনি এই ধর্ম পুনঃপ্রচার করেন।ইসলামের দৃষ্টিতে ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মাবলম্বীরাই ইব্রাহিমের শিক্ষার ঐতিহ্য পরম্পরা। উভয় ধর্মাবলম্বীকে কুরআনে "আহলে কিতাব" বলে সম্বোধন করা হয়েছে । কুরআনের সূরা আলে ইমরানে আহবান করা হয়েছে,
"তুমি (মুহাম্মদ) বল, হে কিতাবীগণ, এসো সেই কথায় যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এক; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদত না করি। কোনো কিছুকেই তাঁর শরিক না করি। এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য হিসেবে গ্রহণ না করি। যদি তাঁরা মূখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা স্বাক্ষী থাক; অবশ্যই আমরা মুসলিম।"

ইহুদি ও খ্রীষ্টান ধর্ম দুটির গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয়ের উল্লেখ কুরআনেও রয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রয়েছে পার্থক্য। ইসলামি বিশ্বাসানুসারে এই দুই ধর্মের পন্ডিতগণ তাদের নিকট প্রদত্ত আল্লাহ্-এর বাণীর অর্থগত ও নানাবিধ বিকৃতসাধন করেছেন। ইহুদিগণ তৌরাতকে (তোরাহ) ও খৃস্টানগণ ইনজিলকে নতুন বাইবেল বলে থাকেন।

যাহোক, মুসলমান শব্দটি মুলত এক আল্লাহতে বিশ্বাসীদের বুঝানোর সমার্থক । তাই এক আল্লাহতে বিশ্বাসী সকল যুগের মানুষই মুসলমান বৈকি । তারা তাদের সময়কার নীজ নীজ উপসনালয়ে গিয়ে উপসনা করতেন , সেই উপসনালয়ের কোনটি গীর্জা, কোনটি সিনাগগ ও কোনটি মসজিদ নামে এখনকার যুগে অভিহিত , মুলত সেগুলির সবগুলিই উপসনাগার । যাহোক, মোহাম্মদ ( সা) এর পুর্বেকার সময়ে আল্লাহ প্রেরিত নবি রাসুলদের অনুসারী ও এক আল্লাতে বিশ্বাসীদেরকে মুসলমান বলে অভিহিত করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমাদের ইসলামী পন্ডিতগনই ভাল ব্যখ্যা বিশ্লেষন দিতে পারবেন ।তাদের যুক্তিগ্রাহ্য কথা মনে নিতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয় ।দেখা যাক এ বিষয়ে তাঁরা কি বলেন ।


২৮ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৩৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


অবশ্যই আপনি ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা করেন, এবং বিবিধ যুক্তি আনছেন। ইতিহাস অনুসারে, বাইবেল আল্লহাের বাণী নয়, বরং ইহা যীশুর (ঈশা (আ: ) ) বাণী ও বক্তব্যসমুহের সংগ্রহ।

বাইবেল সম্পর্কে: যেহেতু বাইবেল ঈশা নবীর (আ: )'এর বাণী, এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন উনার ১২ জন শিষ্য, লেখায় ১২টি ধারা ছিলো; সবকিছু একইভাবে লেখা সম্ভবপর ছিলো না; সেজন্য অনেক কিছু একবারে সঠিকভাবে মিলেনি।

২০| ২৯ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:১৬

হাসান রাজু বলেছেন: বাইবেল সম্পর্কে: যেহেতু বাইবেল ঈশা নবীর (আ: )'এর বাণী, এবং সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন উনার ১২ জন শিষ্য, লেখায় ১২টি ধারা ছিলো; সবকিছু একইভাবে লেখা সম্ভবপর ছিলো না; সেজন্য অনেক কিছু একবারে সঠিকভাবে মিলেনি।

এতোটুকু বুঝতে পারলেই হল।

২১| ৩০ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৪৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
প্যালেস্টাইন স্বাধীন হবার কোন সম্ভাবনা নেই। উহারা কম বুঝে। আমাদের প্রশ্নফাস জেনারেশনের মতো।

৩০ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


ইসরায়েলের ব্যাপারে ওদের সঠিক নীতি নেই, ভংকরভাবে নিজেরা বিভক্ত হয়ে গেছে: পিএলও ও হামাস

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.