| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি বীরাঙ্গনাদের প্রাপ্য সম্মান ও সুবিধার চেয়ে অধিক সম্মান ও সুবিধা দেওয়ার পক্ষে। কোন কোন ব্যাপারে বিশেষকরে রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়েও বীরাঙ্গনাদেরকে অধিক গুরুত্ব দিলে আমি আরো সন্তষ্ট হই।
কিন্তু একটি ব্যাপারে আমার সামান্য দ্বিধা থেকে যাচ্ছে। তাঁদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে আমার মনে কেন যেন সামান্য আপত্তি অনুভব করি। মুক্তিযোদ্ধা বলতে আমি বুঝতে চাই, পরাধীন দেশে আমাদের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা এবং দেশবাসী অন্যান্যদেরকে তা অনুভব করানো বা স্বাধীনতার চেতনাকে সংগঠিত করা থেকে শুরু করে মুক্তির জন্য, দেশ স্বাধীন করার জন্য সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহন, সমর্থন, অন্যের সমর্থন আদায়, সহায়তা, রসদ জোগানো ইত্যাদি কাজে অংশগ্রহনকারীদেরকে।
আর যার বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে, পিতা-মাতা মরে এতিম ও অসহায় হয়েছেন, নারীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ইজ্জত হারিয়ে বীরাঙ্গনা হয়েছেন, বোমা বা গুলির আঘাতে অঙ্গ হারিয়েছেন, তাঁরা হলেন ক্ষতিগ্রস্থ্য, সীমাহীন ক্ষতিগ্রস্থ্য। কিন্তু তাঁরা কি মুক্তিযোদ্ধা? একজন মানুষ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন, আমরা তাঁকে আমাদের জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভুষিত করার জন্যই তাঁকে বলব তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধা’, বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তা না বলে আমরা তাকে আরো সম্মান দেখানোর জন্য যদি বলি, তিনি সমগ্র বিশ্বের মুক্তিযোদ্ধা, তাহলে একটু বেশি বলা হয়ে যায় না? বা অধিক সম্মান দেখাতে গিয়ে খানিকটা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁর সম্মান কি খানিকটা খাটো করে দিলাম না?
আমাকে কেউ ভুল বুঝবেনা না। আমি আমাদের স্বাধীনতার সুফল ভোগ করব আর তাতে সবচেয়ে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ্য তাদের ক্ষতি, তাদের কষ্টকে অস্বীকার করব এটা তো হতে পারে না। আমি আমাদের বীরাঙ্গনাদেরকে আরো অধিক মর্জাদার আসনে আসীন করতে ও দেখতে চাই। কিন্তু সাথে সাথে, ভবিষ্যতে এক কোটি বছর পরেও যেন কেউ তাঁদের দিকে বিন্দুমাত্র আঙ্গুল তুলে কোন দিন বলতে না পারে যে, বীরাঙ্গনাদের প্রতি প্রদর্শিত সম্মানের মধ্যে সামান্য মিথ্যা ছিল, সামান্য ভুল ছিল।
আমাদের বীরাঙ্গনারা সীমাহীন ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে যাঁরা যুদ্ধে অংশগ্রহন বা তার সহায়তা করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা এতে কারো কোন দ্বিমত অবশ্যই নেই, কিন্তু যারা সেভাবে নয় বরং যুদ্ধে অংশগ্রহন বা তার সহায়তা করা ছাড়া অন্য কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন, তাদেরকে কি মুক্তিযোদ্ধা না বললেই নয়। আমরা কি অন্য কোনভাবে, অন্য কোন নামে, আরো মর্যাদাপূর্ন অন্য কোন উপাধীতে ভূষীত করে তাদেরকে সম্মান দেখাতে পারি না? যেটা হতে পারে, ‘মিক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্থ্যা’ বা ‘মুক্তিক্ষত’ বা ‘মুক্তিক্ষতা’ বা ‘মুক্তি ভিকটিম’ বা আরো ভাল কিছু, আরো উচ্চ কিছু, আরো মর্জাদাপূর্ন কিছু।
আর এর সাথে সাথে তাঁদের জীবনের দায় ভারও আমাদেরকে নিতে হবে, এজাতিকে অবশ্যই অবশ্যই নিতে হবে। শুধুমাত্র একখানি সার্টিফিকেট ও দুটি টাকা বা একটি ছাতা, একখানি দানের শাড়ি নয়, তাঁদের সমগ্র জীবনের যাবতীয় দায়ীত্ব এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা। তাও শুধু বর্তমান থেকে নয়, সেই ৭১ থেকে আমৃত্যু এবং পরবর্তী প্রজন্মান্তর পর্যন্ত। এ দায় শুধু বিশেষ কোন সরকারের দায় নয়, এ দায় এ জাতির দায়, এ দায় আমাদের দায়।
সরকার কিছুটা হলেও শুরু করেছে, এজন্য অবশ্যই তাদেরকে সাধুবাদ জানাই এবং আমার উপরোক্ত দাবী সমূহ মেটানোর তাগিদও জানিয়ে রাখি। সাথে সাথে বীরাঙ্গনাদেরকে কি মুক্তিযোদ্ধাই বলা হবে, নাকি যথোপযুক্তি অন্য কোন খেতাব, সে ব্যাপারে একটু গভীর চিন্তা ভাবনার আবেদন রাখি।
১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:১৫
ইজাজআহমেদ বলেছেন: ধন্যবাদ @খেলাঘর ভাইকে। ১৯৭২ সালে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের প্রয়োজন ছিল, সরকার এখন যদি তা করতে পারে তাহলে কি আপনি তা করতে বারন করবেন?
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৯
খেলাঘর বলেছেন:
১৯৭২ সালে যাঁদর সাহায্য করার কথা ছিল শেখ সাহেবের, এতদিনে তাঁদের খবর নেয়া হচ্ছে!